বর্তমান তারিখ:26 June, 2019

কুইক বিজ্ঞান [পর্ব-০১] : বৈদ্যুতিক তারে বসে থাকা পাখীরা কেন ইলেকট্রিক শক পায় না?

বৈদ্যুতিক তারে বসে থাকা পাখীরা কেন ইলেকট্রিক শক পায় না

ওয়েল, সিরিজের নাম থেকেই বুঝে যাওয়ার কথা এখানে কি টাইপ কন্টেন্ট পাবলিশ করা হবে! — দৈনন্দিন জীবনের অনেক প্রশ্ন থাকে যেগুলো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়, কিন্তু এর উত্তর গুলো জানতে ২ মিনিটের বেশি সময়ের প্রয়োজন নেই। এই সিরিজটি তেমনই সব জানতে আগ্রহী প্রশ্ন দ্বারা পরিপূর্ণ করা হবে! যেকোনো বয়সের বিজ্ঞান মনস্কদের জন্য এই সিরিজটি আদর্শ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে!

তো চলে আসি আজকের প্রথম কুইক বিজ্ঞান টপিকটি নিয়ে, ঝকঝকে দিনের বেলা মাথার উপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারের দিকে তাকালে প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায় সেখানে অনেক পাখী লাইন ধরে বসে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তারা লাইভ বৈদ্যুতিক তারে বসে থাকার পরেও কেন ইলেকট্রিক শক পায় না? যেখানে আমরা কোন লাইভ বৈদ্যুতিক তার ছোঁয়া মাত্র মারাত্মক পরিমাণে ইলেকট্রিক শক পাই, আর শকের পরিমাণ বেশি হলে মানুষ মারা পর্যন্ত যেতে পারে।

হাই ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারের সরাসরি স্পর্শে থাকার পরেও কেন পাখীরা মরে না? নিশ্চয় তাদের শরীর বিদ্যুৎ প্রুফ, রাইট? না, মোটেও তা নয়। এর সংক্ষিপ্ত উত্তরটি হচ্ছে, বিদ্যুৎ সর্বদা সু-পরিবাহী মাধ্যম দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিদ্যুৎ অনেকটা পানির মতো। ধরুন একটি ট্যাঙ্ক থেকে পানি বের হওয়ার জন্য দুইটি নল লাগানো রয়েছে, একটি নল একেবারেই পরিষ্কার আর আরেকটি নল একটু জ্যাম। দুইটি নলের মুখ খোলা থাকা সর্তেও পানি কিন্তু পরিষ্কার নল দিয়েই প্রবাহিত হবে, জ্যাম নলেও পানি আসবে কিছুটা বাট অত্যন্ত কম।

বৈদ্যুতিক তার কপার বা সিলভারের তৈরি হয়ে থাকে, আর কপার বা সিলভার পাখীর শরীরের চাইতে অনেকবেশি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। তাই তারের উপরে পাখী বসলেও বিদ্যুৎ পাখীর শরীরের মধ্যদিয়ে পরিবাহিত না হয়ে তার দিয়েই পরিবাহিত হয়, এতে পাখী ইলেকট্রিক শক পায় না।

পাখী ইলেকট্রিক শক না পাওয়ার আরেকটি কারণ

পাওয়ার লাইনের উপরে পাখী বসে থাকার সময় তারা একসাথে দুইটি তারে পা না রেখে জাস্ট একটি তারের উপর পা রাখে, এতে বৈদ্যুতিক সার্কিট পুরন হয় না, ফলে পাখী শক পায় না। বিদ্যুতের ধর্ম হচ্ছে, এটি হাই ভোল্টেজ থেকে লো ভোল্টেজের দিকে প্রবাহিত হয়। যেমন- পানি উঁচুস্তর থেকে নিম্নস্তরের দিকে প্রবাহিত হয়। পাখী বা যেকোনো প্রাণী যদি লাইভ বৈদ্যুতিক তার ছুঁয়ে ফেলে (যেখানে কারেন্ট হাই ভোল্টেজ থেকে লো ভোল্টেজের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে) এবং একই সাথে যদি মাটির সাথে ছুঁয়ে থাকা কোন বিদ্যুৎ পরিবাহী অবজেক্টকে স্পর্শ করে, তাহলে প্রাণীর শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে এবং বৈদ্যুতিক সার্কিটটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

এখন আপনি এতে ঠিক কতোটুকু শক পাবেন সেটা নির্ভর করে আপনার শরীরের অবস্থার উপরে, মানে শরীর কতোটুকু বিদ্যুৎ অ্যালাউ করবে তার উপরে। তাছাড়া এটা নির্ভর করে তারে কতোটা বৈদ্যুতিক পাওয়ার ছিল তার উপরে। এই জন্যই দেখবেন বাদুড় সচরাচর পাওয়ার লাইনে আঁটকে মরে থাকে। কেনোনা তাদের ডানা একসাথে দুইটি তার স্পর্শ করে। আপনি ও যদি গ্রাউন্ড অবজেক্টের স্পর্শে না থেকে লাইভ ইলেকট্রিক তার ছুঁয়ে ফেলেন, আপনি ও শখ পাবেন না (যদিও তত্ত্ব অনুসারে আপনি শক পাবেন না, কিন্তু এটা বাড়িতে করতে আমি আপনাকে প্রস্তাবিত করবো না!)



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock.com

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

One Comment

  1. Salam Ratul Reply

    খুব ভালো লেগেছে বিজ্ঞান সিরিজের নতুন আর্টিকেল। মজার তথ্য জানতে পারলাম। ধন্যবাদ ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *