বর্তমান তারিখ:26 June, 2019

হুয়াওয়ের কি দিন শেষ? হুয়াওয়ে ব্যান ব্যাখ্যা! — চলুন আলোচনা করা যাক!

হুয়াওয়ের কি দিন শেষ? হুয়াওয়ে ব্যান ব্যাখ্যা! — চলুন আলোচনা করা যাক!

ওয়েল, নিউজ মনে হয় নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই, কেননা দুইদিন যাবত যা চলছে তাতে সবাই জেনে যাওয়ার কথা হুয়াওয়ের ব্যান সম্পর্কে। ইউএস সরকার হুয়াওয়ের উপর ব্যান লাগিয়ে দিয়েছে এর মানে শুধু নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি নয়, অ্যামেরিকান যেকোনো কোম্পানি হুয়াওয়ের সাথে যেকোনো প্রকারের ডিল করতে পারবে না।

তো চলুন, বিস্তারিত আলোচনা করা যাক, বর্তমানে এই ব্যান সম্পর্কে আমরা কি জানি? এই ব্যান অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের উপরে কিভাবে প্রভাব ফেলতে পারে এবং হুয়াওয়ের সামনের কি অবস্থা দাঁড়াতে পারে, চলুন মোটামুটি সবকিছুই নিয়েই আলোচনা করা যাক!

হুয়াওয়ে ব্যান

হুয়াওয়ে আর ইউএস সরকারের ঝামেলা কিন্তু নতুন নয়, কয়েক মাস পূর্বে থেকেই এগুলো শোনা যাচ্ছিলো। তবে এই আওতায় হুয়াওয়ের আলাদা কোন প্রোডাক্ট অ্যাফেক্টেড ছিল না। ঝামেলা হয়েছিলো হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি নিয়ে, মানে বলতে পারেন মোবাইল টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে যেসকল ডিভাইজ এবং প্রযুক্তির প্রয়োজন পরে হুয়াওয়ে হচ্ছে সবচাইতে বড় নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি প্রভাইডার, এরা সম্পূর্ণ দুনিয়ায় মোবাইল অপারেটর গুলোকে তাদের নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি সাপ্লাই করে থাকে।

এখন কোন কারণে ইউএস সরকার মনে করছে হুয়াওয়ে তাদের নেটওয়ার্কিং সিস্টেমে ব্যাকডোর তৈরি করে রাখে এতে ইউএস ইউজারদের সকল ডাটা চায়নার কাছে সেন্ড করা হতে পারে। হুয়াওয়ের কাছে এই মুহূর্তে ৫জি নেটওয়ার্ক তৈরি করার সবচাইতে বেস্ট যন্ত্রপাতি লভ্য রয়েছে, হয়তো কয়েক মাস বা বছরের মধ্যেই ৫জি গোটা দুনিয়াতে বেশ সারা ফেলতে পারে।

এখন ৫জি কিন্তু ৩জি বা ৪জির মতো নয়, একে বিশেষ করে নানান ডিভাইজ গুলো কানেক্ট করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির প্রত্যেকটি ইলেকট্রনিক্স সাথে রাস্তার কার গুলো পর্যন্ত ৫জি নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড করানো হতে পারে। — এখন ধরুন হুয়াওয়ে নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি গুলোর মধ্যে কোন প্রকারের গোপন কন্ট্রোল লুকিয়ে রাখলো, সেক্ষেত্রে চায়নাতে বসে থেকেই সম্পূর্ণ ইউএস ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। প্রত্যেকটি কানেক্টেড থাকা ডিভাইজ গুলোকে ইচ্ছা মতো নাচানো যেতে পারে।

এখন এই ভয় করেই ইউএস সরকার হুয়াওয়ে নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি ইউএসএ তে ব্যবহার করার জন্য ব্যান লাগানো হয়। তবে এতে হুয়াওয়ের মোবাইল ডিভাইজ বা আলাদা ডিভাইজ গুলোর তেমন কোন সমস্যা হচ্ছিলো না। কিন্তু রিসেন্টলি ইউএস সরকার হুয়াওয়ে’কে এমন এক লিস্টে যুক্ত করে দিয়েছে যাতে অ্যামেরিকান কোন কোম্পানি হুয়াওয়ের সাথে আর ডিল করতে পারবে না, আর এতে হুয়াওয়ের ডিভাইজ গুলো এবং সম্পূর্ণ কোম্পানিটিকে পরতে হয়েছে বিশাল এক বিপদের মুখে।

ইউএস নির্ভর যেকোনো কোম্পানি হুয়াওয়েকে কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সাপ্লাই করতে পারবে না, বিশেষ করে সরকারের কাছে অনুমতি ব্যাতিত। আর এটা সত্যিই মারাত্মক এক সমস্যা। কেননা প্রত্যেকটি টেক কোম্পানি কোন না কোন ভাবে আলাদা কোন টেক কোম্পানির উপর নির্ভরশীল, হোক সেটা হার্ডওয়্যার সাপোর্ট বা সফটওয়্যার সাপোর্ট।

এই ব্যানে হুয়াওয়ের অবস্থা

হুয়াওয়ে নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি বিক্রি করার একমাত্র বৃহৎ কোম্পানি, কিন্তু মোবাইল ফোন বিক্রি করার দিক থেকেও কোম্পানিটি কিন্তু পিছিয়ে নয়, এরা সম্পূর্ণ দুনিয়ার মধ্যে ২য় নাম্বার পজিশনে আসে। হুয়াওয়ের স্মার্টফোন গুলো গুগল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম নির্ভরশীল। আর যেহেতু গুগল অ্যামেরিকান কোম্পানি তাই অবশ্যই সরকারের নির্দেশ মানতেই হবে গুগল কে।

ফলে হুয়াওয়ে সাথে সাথে গুগলের কাছে থেকে সাপোর্ট হারাবে। তবে এর মানে এটা নয় হুয়াওয়ে সম্পূর্ণ রুপে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতে পারবে না, জাস্ট গুগলের সাথে লাইসেন্স টার্ম গুলো কাজ করবে না, এতে হুয়াওয়ে যেভাবে তাদের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড প্রদান করতো সেভাবে সেটা আর সম্ভব হবে না। যেহেতু অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট তাই একে সবাই-ই ইউজ করতে পারবে, কিন্তু গুগলের কিছু সার্ভিস লভ্য থাকবে না।

ব্যান খেয়ে নেওয়ার সাথে সাথেই হুয়াওয়ের ফোন গুলোতে আর নতুন অ্যান্ড্রয়েড সিকিউরিটি আপডেট যেগুলো গুগল প্রদান করে তা বন্ধ হয়ে যাবে এবং ফিউচার হুয়াওয়ে ফোন গুলোতে গুগলের সার্ভিস যেমন গুগল প্লে স্টোর, জিমেইল, ইউটিউব অ্যাপ ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যাবে না।

এখন এর মানে হচ্ছে, সামনের হুয়াওয়ে ফোন গুলোতে গুগল সার্ভিস গুলো দেখতে পাওয়া যাবে না। আর বর্তমান ফোন গুলোর জন্য হুয়াওয়ের কাছে দুইটি অপশন রয়েছে। প্রথমত, জাস্ট ফোন গুলো কোন প্রকারের আপডেট প্রদান করা হবে না এতে গুগল সার্ভিস গুলোকে রান রাখা যাবে, আর দ্বিতীয়ত বর্তমান ফোন গুলোতে তারা আপডেট প্রদান করলে গুগল সার্ভিস গুলোর আক্সেস থাকবে না। — আর এই দুই সিদ্ধান্তই উপযুক্ত নয়।

এই ব্যাপারের উপরে হুয়াওয়ে অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট প্রদান করেছে, যেটা নিচে দেখতে পারেন।

এই স্টেটমেন্ট থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে বর্তমান ফোন গুলোতে হুয়াওয়ে সিকিউরিটি আপডেট প্রদান করবে, অ্যান্ড্রয়েড তাদের ব্যান করার পরেও ইউজারদের উপর তেমন ইফেক্ট আসবে না বলে হুয়াওয়ে নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু এখানেও থেকে যাচ্ছে বিশাল প্রশ্ন! — হুয়াওয়ে শুধু সিকিউরিটি আপডেটের কথা উল্লেখ্য করেছে কিন্তু ফিচার আপডেটের কথা উল্লেখ্য করেনি। এর মানে কি বর্তমান ফোন গুলো আর কোন ফিচার আপডেট পাবে না? আর এরা যে সিকিউরিটি আপডেটের কথা বলেছে সেটা প্রদান করবেও বা কিভাবে? গুগল সার্ভিস গুলোকে রিপ্লেস করবে কিভাবে? তাছাড়া নতুন ফোন গুলোর ক্ষেত্রে কি ঘটবে? সেগুলো কিভাবে রান করবে? — যাইহোক, আপাতত এগুলোর উত্তর মোটেও পরিষ্কার নয়।

হুয়াওয়ের সামনের পদক্ষেপ

চায়না তাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বেশ সচেতন, তাদের দেশে কোন হার্ডওয়্যার গুলো প্রবেশ করছে বা নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতিতে কোন টাইপের হার্ডওয়্যার ইউজ হচ্ছে এগুলো তারা সর্বদা মনিটর করে। নেটওয়ার্কিং একটি দেশের অনেক বড় জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপার, কেননা এতে করে অনেক রাজনৈতিক ব্যাপার গুলো লিক হতে পারে বা যুদ্ধ লেগে যেতে পারে।

ইউএস ও বলতে পারে এই ব্যাপারে চায়নাকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে, তারা ও তাদের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে তৎপর হচ্ছে। যদিও আমি রাজনীতি খুবই কম বুঝি তাই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাল থাকলে সেগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করবো, কেননা সেগুলোকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা করার মতো ক্ষমতা আমার নেই।

প্রথম ব্যানটি ছিল নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক জন্ত্রপাতির উপরে, মানে ৩জি, ৪জি, ৫জি টাওয়ার যন্ত্রপাতি গুলো কোন ইউএস মোবাইল ক্যারিয়ারের কাছে হুয়াওয়ে সেল করতে পারবে না। — মানে হুয়াওয়ে শুধু ইউএস মার্কেট হারাতো তাও কেবল নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি বিক্রি করার উপরে। যদিও দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশেই হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি সেল হয় তাই বিরাট কোন মাথা ব্যাথা নয় এটা হুয়াওয়ের মতো মারাত্মক বড় কোম্পানির কাছে।

কিন্তু ইউএস থেকে ব্ল্যাকলিস্টেড হয়ে যাওয়ার ফলে মেইন পেইনের শুরু হয়। যদিও আগেই বলেছি হুয়াওয়ে সম্পূর্ণ রুপে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার থেকে ব্যান হয়ে যায়নি, জাস্ট অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের উপরে যে গুগল সার্ভিস গুলো রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করা থেকে হুয়াওয়ে ব্যান হয়েছে।

হুয়াওয়ের কিন্তু অলরেডি এই টাইপের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন রয়েছে যেগুলোতে গুগল সার্ভিস গুলো নেই, এগুলো চায়না মার্কেটের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং বলতে পারেন এই চাইনিজ ভার্সন মারাত্মক জনপ্রিয়। চায়না মার্কেটের উদ্দেশ্যে তৈরি হুয়াওয়ে ফোন গুলোতে কোনই গুগল সার্ভিস নেই, তাদের নিজস্ব অ্যাপ স্টোর রয়েছে এবং নিজেরায় সিকিউরিটি আপডেট প্রদান করে। এর মানে গুগল সার্ভিস গুলো বাতিল করে দেওয়া মাত্রই হুয়াওয়ে জাস্ট হাওয়া হয়ে যাবে না!

কিন্তু গুগল সার্ভিস গুলো ব্যাতিত তাদের ফোন গুলোকে পশ্চিমা দেশ গুলোতে বা এশিয়ার আলাদা দেশ গুলোতে চালানো একটু চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে যেতে পারে। কেননা চায়না বাদে সকল দেশ গুলোই প্রায় গুগল সার্ভিস গুলোর উপরে মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল। গুগলের পাবলিক সার্ভিস গুলোর কথা বাদই দিলাম, গুগল ব্যাকগ্রাউন্ড সার্ভিস গুলোর উপরেও অ্যান্ড্রয়েড অনেকখানি নির্ভরশীল, যেমন- গুগল প্লে সার্ভিস, ব্যাকগ্রাউন্ড ম্যালওয়্যার স্ক্যানিং সার্ভিস, লোকেশন সার্ভিস ইত্যাদি।

আর এই সমস্ত ফিচার গুলো হুয়াওয়ের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইজ গুলো থেকে মিস হয়ে যাবে। এমনকি অনেক তৃতীয়পক্ষ অ্যাপ্লিকেশন যেগুলো ও হয়তো হুয়াওয়ের ফিউচার ডিভাইজ গুলোতে কাজ করবে না। অনেক অ্যাপ্লিকেশনই গুগল সার্ভিস গুলোর উপরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নির্ভরশীল। যেমন ধরুন বিকাশ অ্যাপ, যেটা গুগল প্লে সার্ভিসের সাথে ডাইরেক্ট কথা বলে জেনে নেয় আপনার ফোনটি রুট করা রয়েছে কিনা, আর সে অনুসারে কাজ করে। এর মানে এই টাইপের অ্যাপ গুলো যখন আপনার ফোনে গুগল সার্ভিস খুঁজে পাবে না, জাস্ট কাজ করা বন্ধ করে দেবে!

এখন এই সমস্যা গুলোকে ফিক্স করার জন্য হুয়াওয়ে ডেভেলপারদের গুগল প্লে সার্ভিস বা আলাদা সার্ভিস গুলোকে রিপ্লেস করে কোন কোড লিখতে হবে তারপরে ঐ অ্যাপ ডেভেলপারদের আবার হুয়াওয়ে ফোনের জন্য বিশেষ করে অ্যাপ ডেভেলপ করতে হবে, যেটা ঘটার সম্ভবনা অনেক অংশেই কম!

আবার গুগল প্লে স্টোরের অলটারনেটিভ কিছুই নেই বর্তমানে, হ্যাঁ অ্যামাজন অ্যাপ স্টোর রয়েছে খানিকটা বড় কিন্তু সেটাও যেহেতু অ্যামেরিকান কোম্পানি তাই হুয়াওয়ের কাছে তার ও কোন অপশন নেই। এখন হুয়াওয়েকে নিজস্ব অ্যাপ স্টোর বিল্ড করতে হবে যেটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।

এখন হুয়াওয়ে সম্পূর্ণ নিউ ডিজাইন করা অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে কথা বলছে, তারা অনেকখানি সেটাকে রেডি ও করে ফেলেছে বলে জানা যাচ্ছে, কিন্তু আমার মতে সেটাও হুয়াওয়েকে বেশ হেল্প করবে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু ম্যাটার এখানেই শেষ নয়, নিচের দিকে আরো আলোচনা রয়েছে এই ব্যাপারে।

আলাদা কোম্পানি গুলোর ব্যান

শুধু গুগল একা নয় সাথে মাইক্রোসফট, কোয়ালকম, ইনটেল ইত্যাদি কোম্পানি গুলো ও হুয়াওয়েকে ব্যান করেছে। এর মানে হুয়াওয়ের আলাদা বিজনেস যেমন, এদের নতুন ল্যাপটপ বিজনেস জাস্ট শুরু না হতেই শেষ। কেননা প্রসেসর আর অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া ল্যাপটপ গুলো চলবে ও বা কিভাবে?

তাছাড়া হুয়াওয়ের সার্ভার বিজনেস রয়েছে যেখানে ইনটেল হুয়াওয়ের সার্ভার গুলোর জন্য প্রসেসর সার্ভ করে আর সেটাও বিপদের মুখে। তবে মোবাইল ফোন প্রসেসরের জন্য হুয়াওয়েকে তেমন বেগ পেতে হবে না, কেননা খুব কম সংখ্যক কোম্পানি রয়েছে যারা নিজেদের মোবাইল প্রসেসর নিজেরায় তৈরি করে আর হুয়াওয়ে তাদের মধ্যে একজন। তাই মোবাইল প্রসেসরের জন্য হুয়াওয়েকে কোয়ালকমের উপর তেমন নির্ভরশীল হতে হবে না।

এই ব্যানের সলিউশন কোথায়?

ওয়েল, সামনে কি হবে এই ব্যাপারে এই মুহূর্তে কিছু গেস করা যাচ্ছে না, তবে ব্যাপারটি যদি বেশিরভাগ অংশেই রাজনৈতিক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে হতে পারে ব্যানটি ডিম্যান্ডের উপরে করা হয়েছে। হয়তো ইউএস সরকারের ডিম্যান্ড পুরন হয়ে গেলেই ব্যানটি তুলে নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে এই ব্যান জাস্ট অনেক দূরে এগিয়ে গেছে। এতে ইউএস এবং চায়নার মধ্যে কোল্ড ট্রেড ওয়ার শুরু হয়ে গেছে।

এখন যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে, আলাদা চাইনিজ স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি গুলো যেমন-  শাওমি, অপো, ভিভো সবাইকে ব্যান করা হতে পারে ইউএস থেকে, এতে ইউএস সরকারের ডিম্যান্ড হয়তো দ্রুত পুরন হতে পারে। আবার এমনটা নাও হতে পারে। কেননা এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে হুয়াওয়ের নেটওয়ার্কিং যন্ত্রপাতি নিয়ে মানে এখানে সম্পূর্ণ আলাদা সেক্টর নিয়ে গল্প করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আলাদা চাইনিজ ব্র্যান্ড গুলো এই খাতায় নাম লেখায় না।

তবে যদি এই ব্যান পার্মানেন্ট হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানি গুলোকে নিজেদের নিয়ে ভাবতে শুরু করতে হবে। হয়তো তারা নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপ করা শুরু করবে এবং নিজেদের হার্ডওয়্যার নিজেরায় তৈরি করতে শুরু করবে যাতে খুব কম তৃতীয়পক্ষ কোম্পানির উপর তাদের নির্ভরশীল হতে হয়। এভাবে হয়তো অ্যান্ড্রয়েডের অল্টারনেটিভ অপারেটিং সিস্টেম বাজারে বেরিয়ে আসবে, যেখানে হুয়াওয়ে অলরেডি এমন কিছুর উপর কাজ করছে।

আবার হতেই পারে এই ব্যান গুলো জাস্ট টেম্পোরারি আর বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ছাড়া হয়তো আর কিছুই নয়, এতে হয়তো আবার ব্যাপার গুলো আগের মতো ঠিক হয়ে যেতে পারে!

তো এই ব্যান থেকে যদি ভালো কিছু বেরিয়ে আসে সেটা হতে পারে মার্কেটে নতুন অপারেটিং সিস্টেম বেরিয়ে আসতে পারে যেটা অ্যান্ড্রয়েডকে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা রাখতে পারে। আর তাছাড়া এ থেকে সুখের কোন ব্যাপার অনুসরণ করতে পারছি না এই মুহূর্তে। সামনে এই পরিস্থিতি কোথায় গড়াবে সেটা নিয়ে বসে থাকা আর দেখতে থাকা ছাড়া এই মুহূর্তে কিছু বলার নেই। তবে আশা করছি, এই আলোচনা থেকে বেশ কিছু ব্যাপার হয়তো আপনি পরিষ্কার হয়েছেন।

তো দেখা যাক, এই ঠাণ্ডা যুদ্ধ কোনদিকে এগোয়, আর নতুন হুয়াওয়ে ফোন কেনার ক্ষেত্রে বলবো একটু অপেক্ষা করুণ, চারপাশের ধুলোবালি গুলো একটু পরিষ্কার হয়ে যাক, তারপরেই হয়তো কেনা ভালো হবে! আর হ্যাঁ, আপনার যে বন্ধুই এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চায় তাদের এই আর্টিকেল লিংকটি সেন্ড করতে পারেন। তাছাড়া আপনার যেকোনো মতামত নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock.com

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

9 Comments

  1. Salam Ratul Reply

    আর্টিকেলটি অনেক ভালো লেগেছে বিস্তারিত তথ্যে ভরপুর ছিল। মন খারাপও হয়েছে কারণ আমি নিজেও হুয়াওয়ে ইউজার। তাহমিদ বোরহান ভাইয়া আপনার জন্য সবসময় দোয়া করি ভাই আপনার সুস্থতা কামনা করে। আপনি ভালো থাকলে আমরাও নিত্যনতুন টেকনোলজির রস উপহার পাবো। ধন্যবাদ ভাই।

  2. RIPON Reply

    পোস্টটি নিশ্চয়ই “Tech Alter” এর ভিডিও অনুকরণে করা হয়েছে। কিন্তু পোস্টের কোথাও তার ক্রেডিট কিংবা সোর্স উল্ল্যেখ করা নেই।
    আমি তাহমিদ ভাইকে অনুরোধ করবো তিনি যেনো যথাযথভাবে সোর্স এবং ক্রেডিট উল্ল্যেখ করেন।

    1. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

      ক্রেডিট দিতে গেলে অনেকেই দিতে হবে, কেননা শুধু টেক অল্টার থেকেই নেওয়া হয়নি, আরো তথ্য যুক্ত করা রয়েছে!!

      BBC, Unbox Therapy, Tech Alter, The Guardian ETC

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *