বর্তমান তারিখ:23 July, 2019

In the Heart of the Sea (ইন দ্যা হার্ট অব দ্যা সী) – মুভি রিভিউ!

In the Heart of the Sea (ইন দ্যা হার্ট অব দ্যা সী) - মুভি রিভিউ!

৮২০ সাল… শিল্প বিপলবের জোয়ার বইছে ইউরোপে আর আমেরিকায়! শনৈ শনৈ কলকারখানা গড়ে উঠতেছে আর সড়ক বাতিগুলোতে তো আলো বেড়ে গেছে! বেড়ে গেছে জ্বালানির চাহিদা।

তখনো মাটির নিচে থেকে যে তেল পাওয়া যায় সে ধারণার সাথে মানবজাতি পরিচিত ছিল না। তেলের জন্যে ভরসা ছিল সমুদ্র। নির্দিষ্ট করে বললে নীল তিমি! নীল তিমির স্পার্ম ওয়েল দিয়ে শিল্প-বিপ্লবে মত্ত ইউরোপে জ্বলতো বাতি, চলতো কারখানা!

তাই এই তেলের চাহিদা ছিল তুংগে! আর সেই চাহিদা মেটানোর জন্যে সমুদ্রে  ভাসানো হতো জাহাজ। নীল সমুদ্রে তখন ভাসতো হাজার হাজার জাহাজ। যাদের একটাই উদ্দেশ্য! নীল তিমি শিকার করে তাদের শরীরের ভেতর থেকে তেল আরোহন করে চাহিদার জোগান দেওয়া!ইন দ্যা হার্ট অব দ্যা সী

মনিই এক জাহাজ এসেক্স বেরিয়েছিলো তিমির পেটের তেলের জন্যে। এই জন্যে তিমি খুজতে গিয়ে তারা এমন এক অবিশ্বাস্য বাস্তবতার সম্মুখীন হয় যা কেউ কল্পনা ও করেনি! ওয়েইন চেজ(ক্রিস হেমসওয়ার্থ) যে কিনা সবসময় একজন ক্যাপ্টেন হবার স্বপ্ন দেখে,কিন্তু জাহাজ মালিকদের স্বজনপ্রীতির কারনে ফার্স্ট মেট থাকতে হয়।

অন্যদিকে জাহাজ ক্যাপ্টেন পোলার্ড যে কিনা বাপের নামের জোরে ক্যাপ্টেন্সি পেয়ে বসে, তার সাথে ফার্স্ট মেট এর আইডেন্টিটি ক্রাইসিস শুরু হয়ে যা কিনা পরে এক ভয়ংকর সমুদ্র দানবের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার আর টিকে থাকার প্রানান্তকর রুদ্ধশাস লড়াইতে পরিণত হয়!

১৮৫০ সালে হারম্যান মেইলভিল নামের একজন উপন্যাসিক মবি ডিক নামের একটা বই লিখেন। বইটি রাতারাতি হৈচৈ ফেলে দেয়! এই বইটি সম্পর্কে নাথানিয়াল হথ্রোন বলেন,

It is an epic worthy of homer,It will be america’s epic.

দানবাকৃতির এক তিমিকে নিয়ে আবর্তিত এই বইটি সম্ভবত ছেলে বুড়ো প্রায় সবারই পড়া আছে।

বাংলাদেশের সেবা প্রকাশনী থেকে এর অনুবাদ ও বের হয়েছিলো অনেক আগে। এই মবি ডিক লেখা হয়েছিলো সত্য কাহিনির উপর উপজীব্য করে। আর মবিডিক এর রেফারেন্স নেওয়া ইন দ্যা হার্ট অব দ্যা সী উপন্যাস থেকেই বানানো হয়েছে এই মুভিটি! যেহেতু মুভিটি সত্য কাহিনী অবলম্বনে বানানো হয়েছে তাই আইএমডিবিতে আডভেঞ্চার এর পাশাপাশি বায়োগ্রাফিক মুভি হিসেবে ও ধরা হয়েছে!

মুভির সিনেমাটোগ্রাফি আর ভিএফএক্স নিয়ে কোন কথাই হবে না। স্পেশালী ভিএফএক্স! মুভির কলাকুশলীরা ভিএফএক্স এর পেছনে এত খাটাখাটি করেছেন যে, শুধুমাত্র এর জন্যেইই মুভিটা চোখ বন্ধ করে দেখ যায়।

চিত্রনাট্য খুবই সরল ছিল তবে ওই গ্রাফিক্স আর বিউটিফুল মেকিং এর জোরেই দুই ঘন্টা অয়নাসে কেটে যাবে!

এই ছবির জন্যে থর খ্যাত ক্রিস হেমসওয়ার্থ ৩০ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। তার মত লুতুপুতু ধরনের অভিনেতার এরকম ডেডিকেশন ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো। ক্রিস ছাড়া ও এই মুভিতে অভিনয় করেছেন ক্যাটেলিন স্টার্ক খ্যাত মিশেল ফেয়ারলি, পিকি ব্লাইন্ডার্স খ্যাত কিলিয়ান মার্ফি, স্পাইডারম্যান খ্যাত টম হল্যান্ড ও পারফিউমের সেই সুগন্ধি বিশেষজ্ঞ বেন উইশ!

আর মুভিটি পরিচালনা করেছেন রন হাওয়ার্ড এর মত বরেন্য গুণী পরিচালক। যদিও তার ক্যালিবারের ফিল্ম মেকিং না পেলেও আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট!

কনক্লুশনে বলতে গেলে, ইন দ্যা হার্ট অব দ্যা সী, একটি ভরপুর এডভেঞ্চার টাইপের মুভি। যাদের টম হ্যাংকস এর কাস্ট এওয়ে বা এডভেঞ্চার ধাঁচের মুভি পছন্দ করেন তাদের জন্যে মাস্ট ওয়াচ। আর বাকীদের জন্যে ওয়ান টাইম ওয়াচ বলতেই হবে!

আর হ্যা, যারা ইংরেজি কম বুঝেন বা আলাদা করে বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে দেখতে পছন্দ করেন, তারা বাংলা সাবটাইটেল দিয়েও দেখতে পারেন। ইন দ্যা হার্ট অব দ্যা সী এর বাংলা সাবটাইটেল ডাউনলোড করুন এখান থেকে।

বাংলা সাব-টাইটেল ডাউনলোড

আমরা পাইরেসিকে উৎসাহ দেই না বলে এখানে ডাউনলোড লিংক শেয়ার করতে পারছি না। তাই মুভি দেখতে চাইলে আপনাকে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে হবে! আশা অরি আপনাদের সবারই ভাল লাগবে। আর ওয়্যারবিডিতে মুভি রিভিউ এর ব্যাপারে আপনাদের মতামত জানাবেন, কারন এর উপরেই নির্ভর করছে সামনে আরো মুভি রিভিউ টিভিউ দেওয়া যায় কিনা!

হ্যাপি ওয়াচিং!


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Feaure Image: wall.alphacoders

মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!

7 Comments

  1. Golam Rabbani Reply

    সিরিজ টি কনটিনিউ করেন ব্র……… অ্যান্ড কিছু অ্যাডভাঞ্চার কমিডি মুভি সাজেস্ট করে। খুব বেশি পপুলার গুলো দেখে ফেলছি। তবে আপনার জানা মতে আনকমন বেস্ট কিছু শেয়ার করলে ভালো হতো। ধন্যবাদ।

  2. Estiak Ahmmed Soyeb Reply

    দারুন রিভিউ, মুভি রিভিউ চালিয়ে যান..।

  3. Byzid Bostami Reply

    মুভিটা মাত্রই শেষ করলাম। বলার ভাষা নেই। মারাত্মক। রিভিউ চালিয়ে যান ভাই।

  4. Rakib Reply

    মুভি রিভিউ কেমন দিয়েছেন সেটা বড় কথা নয়… কেমন মুভির রিভিউ দিচ্ছেন । সেটাই বড় কথা ।
    মাত্র ডাউনলোড করে শেষ করলাম ।
    ভিজিটরদের জন্য ডাউনলোড লিঙ্ক ঃ- [*Link Blocked]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *