বিনোদন

গেম অব থ্রোনস : সিজন ৮, এপিসোড ৪, দ্যা লাস্ট অব দ্যা স্টার্কস [স্পয়লার রিভিউ!]

3
গেইম অব থ্রোনস : সিজন ৮, এপিসোড ৪, দ্যা লাস্ট অব দ্যা স্টার্কস

আজকের এই এপিসোডের রিভিউতে হিউজ হিউজ স্পয়লার রয়েছে। তাই আগে যদি এপিসোড ফোর দেখে না থাকেন তাহলে জলদি দেখে ফেলুন। নইলে স্পয়েল খেয়ে আনন্দ মাটি হয়ে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা আছে!

স্পয়লার এলার্ট…!

সম্পূর্ণ পোস্টটি স্পয়লারে একাকার, নতুন এপিসোড না দেখে থাকলে এখনই পড়া বন্ধ করুণ!

আগের এপিসোড তথা দ্যা লং নাইট এ উইন্টারফেলের ব্যাটলের কস্টসাধ্য জয়ের পর আমরা প্রিভিউতেই দেখছিলাম এই এপিসোডে একটা আফটার ওয়ার সেলিব্রেশন পাবো। যেরকম পেয়েছিলাম পুর্বেও! (রেড ওয়েডিওং দ্রষ্টব্য)

কিন্তু পাজি জনতা আবার এই আফটার ওয়ার সেলিব্রেশনে একটু ও সন্তুষ্ট হয়নি।সবার একটাই অভিযোগ, এইটা গট — AKA — গেম অব থ্রোনস নট কোরিয়ান ড্রামা!। কাজেই গট এর আফটার ওয়ারে হোর নিয়ে নাচানাচি নাই, বেশুমার ন্যুড সিন নাই, খালি কয়েকটা কুটনি বুড়ির দিকে ক্যামেরার ফোকাস আর ফোকাস, আর ছ্যাকা খাওয়ার সীন! কাজেই এই সেলিব্রেশন মানি না। এইজন্যে অনেকে এটাকে ওর্স্ট এপিসোড এভার বলে ঘোষনা দিয়েছেন।

‘ভাল্লাগে নাই’ আর ‘ন্যুডস লাভার’ অডিয়েন্সদের কথা থাক! ভাল্লাগেনাই গোত্রের দর্শকদের গত দুই সিজন ধরে কিছুই ভাল্লাগে না। আপনি আমি সবাই জানি,এদের যতই দেওয়া হোক এরা খালি খুঁত বের করবে!

আর মোর ন্যুডস গোত্রের লোকেদের কথা আর কি বলবো, তাদের সাথে সহমত। গট আগের মতন নাই। আগে যেখানে সব খুলে টুলে ডিটেইলস দেখাইতো সেখানে এখন মডেস্ট রূপ ধারণ করছে! 😀 তীব্র প্রতিবাদ জানানোর কোন ভাষাই নাই! 😛

আফটার ওয়ার সেলিব্রেশন মোটামুটি ভালই ছিল! গ্রেন্ড্রির লর্ড হওয়া, হাউন্ড এর এক পিথিবীসম উদাসীনতা, ব্রিয়ান আর ল্যানিস্টার ব্রাদারদের গেম অব ড্রিংকস, তারপর টরমুন্ডের ছ্যাকা খাওয়ার মুহুর্ত, যাকে বলে পুরাই এপিক! হাসতে হাসতে শেষ!

অবশ্যি ওয়াইল্ডিং ব্লাড টরমুন্ড বেশীক্ষন মন খারাপ করে থাকে নি। এক নর্দান মেয়ের ডাকে সে ছ্যাকা-ট্যাকার দুঃখে ভুলে গিয়েছে।

এই পর্যায়ে আমার মনে হলো আমরা যারা ছ্যাকা ট্যাকা খাই কান্নাকাটি করি, দেবদাস হয়ে যাই, তারা চাইলেই টরমুন্ডকে আদর্শ হিসেবে নিতেই পারি। কীভাবে ছ্যাকা খেয়ে দ্রুত রিকভার করা যায় এ ব্যাপারে জায়ান্টবেনস অনুপ্রেরনীয় আদর্শ হতেই পারেন! 😉

অবশ্য ছ্যাকা শুধু ওয়াইল্ডিং লিডার একাই খাননি, সদ্যা লর্ড হওয়া গেন্ড্রি খেয়েছেন, ব্রিয়ান ও বাদ যায় নি। বেচারির প্রেমই হইলো মাত্র দুইদিনের। অনেকটা আম-ফেসবুকারদের মতো আর কি! আজকে প্রেম, কাল ব্রেকআপ, পুওর ব্রিয়ান!

জন স্নো আগে কিছুই জানতো না। এখন যা জানে তা জনে জনে ছড়িয়ে বেড়ায়!

কথা গোপন রাখার ব্যাপারে মেয়েদের কসমের যে কোন মুল্য নাই এই এপিসোড আমাদের হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছে!

জন থেকে সানসা, সানসা থেকে ট্রিয়ন, ট্রিয়ন থেকে ভ্যারিস দ্যাান বুউউম! গুজব বুঝি এভাবেই ছড়ায়! এর মুল্য হয়তো সদ্যা পুত্র হারা বেচারা ড্যানিকে চুকাতে হতে পারে! :3

এদিকে সার্সি বুঝিয়ে দিল, কীভাবে সিংহাসনের খেলাটা চাতুর্যের সাথে খেলতে হয়! থার্ড এপিসোডে সকল ডেড,ওয়াকার নাইট কিং মরে সাফ হয়ে যাওয়ায় যে খুব ভাল হয়েছে তা বুঝলাম এই এপিসোডে এসে। ছলা-কলা,রাজনীতি আর কুটকৌশলের খেলা শেষমেষ জমে উঠতে যাচ্ছে!

আর লাস্ট ৩০ মিনিট? পুরাই এপিক রোলারকোস্টার ছিল। শকড হয়েছি! ড্যানি তার বাপের খাসিলত নিজের মধ্যে ধারণ করতে শুরু করছে যা ধারনাই করিনি। সামনে কিংসল্যান্ডিং এর উপরে কি অমানিশার ঘোর অপেক্ষা করতেছে কে জানে! তিন এপিসোড দেখা পর্যন্ত দুই নাম্বারটা বেস্ট ছিল নিথর থমথমে অবস্থার জন্য। বাট চার নাম্বার এপিসোড দেখার পরে একেবারে শকড। নেড স্টার্ক এর বিহেডিং সিনটাকে মনে করিয়ে দেওয়া, ম্যাড কুইন ড্যানির রিবর্ণ একেবারে অসাধারণ উপস্থাপনা ছিল!

তো আরো একটি দীর্ঘ সোমবারের জন্যে অপেক্ষা।সামনে কি হবে না হবে এ ব্যাপারে থিওরি কপচানো নিরর্থক তাই থিওরি কপচাবো না। তবে সামনের এপিসোডে ধামাকা টাইপের কিছুই আসছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত বলা যায়!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images: HBO

আরভিন আহমেদ
মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!

কেন ওয়্যারলেস চার্জিং টেক নিয়ে আপনার এতো উত্তেজিত হওয়া উচিৎ নয়!

Previous article

হুয়াওয়ে মেট ৩০ প্রো’তে যুগের সেরা ডিসপ্লে লাগানো থাকতে পারে!

Next article

You may also like

3 Comments

  1. জোস একটা রিভিউ পড়লাম ব্র। এপিসোড ১, ২ এর রিভিউ পাচ্ছি না কেন?

  2. ড্যানির জন্য খারাপ লাগছে । সে ইচ্ছা করলে নর্থে না গিয়ে কিংস ল্যান্ডিং আক্রমণ করতে পারত। তখনতো গোল্ডেন কোম্পানিও ছিল না, একদিনও টিকতে পারত কিনা সন্দেহ । যে নর্থের জন্য ড্যানি এত স্যাক্রিফাইস করলো, তাঁরা (বিশেষ করে সানসা) এখনও তাকে আউটসাইডার মনে করে। ড্যানি কিংস ল্যান্ডিং জয় করতে পারলেও মেবি পুরো শহরের নিচে ওয়াইল্ডফায়ার রয়েছে। ভ্যারিস ট্রিজনের জন্য নেক্সট এপিসোডে এক্সেকিউটেড হতে পারে।
    সে ক্যাপিটাল জ্বালিয়ে দিলেও তাকে ম্যাড কুইন বলা যায় না। সে তার আর্মি নিয়ে নর্থে না গেলে গেম অফ থ্রোনসই ওভার হয়ে যেত।

  3. কথা গোপন রাখার ব্যাপারে মেয়েদের কসমের যে কোন মুল্য নাই এই এপিসোড আমাদের হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছে!

    Now internet is full of this memes.

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *