গেম অব থ্রোনস সিজন ৮ এপিসোড ৩ : দ্যা লং নাইট — যা দেখলাম! [রিভিউ]

গেম অব থ্রোনস সিজন ৮ এপিসোড ৩ : দ্যা লং নাইট — যা দেখলাম! [রিভিউ]

সেকেন্ড এপিসোডের পরেই মোটামুটি আমরা সবাইই জানতাম এই এপিসোড হবে স্পেশাল। উইন্টারফেলের সন্তানেরা, ড্যানি আর তার আর্মিরা মুখোমুখি হবে এমন এক ভয়ংকর আর্মির, যারা কখনো ক্লান্ত হয় না, কখনো থামে না, এবং খোদ দুঃস্বপ্নেও মানুষ এমন শত্রুর মুখোমুখি হতে চাইবে না! তাই ব্যাটল অব উইন্টারফেলের জন্যে সবাইই মুখিয়ে ছিল পুরো সপ্তাহ।

এই পুরো সপ্তাহে আবার, নিজেদের জ্যোতিষী, প্রেডিক্টর, ব্রান এর মতো চোখ না উল্টিয়েই থার্ড আই রেভেন ভাবা কুতুবরা বসে ছিলো না।

তারা সারা সপ্তাহ বসে বসে সিটাডেলের কবিরাজদের মত এখান থেকে ওখান থেকে ঘেঁটেঘুঁটে-খেঁটেখুঁটে নিজেদের আজাইরা সময় নস্ট করে থিওরির পর থিওরি আর ভবিষ্যৎবাণী প্রসব করে গেছে পর্বতের মুশিকের মতো! সে সব বোদ্ধাদের কথা কতটুকু ফলেছে তা আমরা সবাই অলরেডি জানি এবং আমরা এও জানি যে এটা গেম অব থ্রোনস আকা গট!

সারপ্রাইজ মাদাফাকা বলে কখন কোনদিক দিয়ে আপনাকে সারপ্রাইজড করবে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না। যদিও গত সিজন গুলির ধারাবাহিকতায় আমরা সকলেই জানি গটে সারপ্রাইজড আমরা হবোই। এর মুখোমুখি আমাদের হতেই হবে, কিন্তু হাজার হাজার জ্যোতিষী আর বোদ্ধাদের মুখে চুনকালি দিয়ে এমন ভাবে সারপ্রাইজড হতে হবে তা কে ভেবেছিলো?

কেমন হয়েছে গেইম অব থ্রোনস এর তিন নাম্বার এপিসোড?

এক কথায় দুর্দান্ত!

সম্ভবত টিভি সিরিজ ইতিহাসের অসাধারণ এপিক ব্যাটল সিনের স্বাক্ষী হয়েছি! টানটান উত্তেজনায় পরিপুর্ণ এড্রেনালিন রাশকারী এই এপিসোড আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছিলো লর্ড অব দ্যা রিংস এর হেল্মস ডিপের সেই এপিক ব্যাটলের কথা! (কেউ আবার দুই স্পুন বেশী বুঝে ভাববেন না যে দুটোর মধ্যে তুলনা দিচ্ছি!) আর শেষের টুইস্ট ছিলো একেবারে হা করে দেওয়ার মতো।

যদি অনেক দর্শকই এটা মেনে নিতে পারেন নি! এদের মধ্যে আবার প্রেডিকশনকারী কুতুবদের সংখ্যাই বেশী!যারা নিজেদের বহুত বড় মাপের কুতুব মনে এইটা সেইটা নিয়ে জাজমেন্ট আর প্রেডিকশন করে গিয়েছিলো!এ ছাড়া মনে হয় না আর কারো খারাপ লেগেছে!যতটুকু প্রত্যাশা করেছি ঠিক ততটাই পেয়েছি।

চিত্রনাট্যের ল্যাকিংস ধরলে ধরা যায়। এখানে আমার ও মনে হয়েছে যে তারা খুবই তাড়াহুড়া করতেছে! মাত্র ছয় এপিসোডেই সিরিজের সমাপ্তি টানতে চাওয়া ও এর একটা বড় কারন। এইগুলা মেনে নিলে আমার মনে হয় ওভারঅল এইসিজনের এখন পর্যন্ত বেস্ট এপিসোড এটাই! এই এপিসোডে খুব বেশী মেজর ক্যারেক্টারের অন্তর্ধান হয়েছে এমনটা বলা যাবে না!

তবে এই এপিসোডের মাধ্যমে একটা বিষয়ই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে গেম অব থ্রোনস এর আসল খেলা এখন আয়রন থ্রোনস এর উপরেই ফোকাসড! সিরিজের নামকরনের স্বার্থকতার জন্যেই আগামি তিন এপিসোডের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে!এবং আরো একটি এপিক ব্যাটলের স্বাক্ষী হওয়াটা মোটামুটি নিশ্চিতই বলা চলে।কোন বিষয়ে একবার খুব বেশী পাবলিক হাইপ উঠে গেলে সেইটা সব মানুষের আশা পুরণ করতে পারবে না।এটাই হওয়া স্বাভাবিক।

মাঝেমধ্যে আবার হাইপ ওঠা কিছু জিনিস এত জঘন্য হয় তা বলার ও বাইরে। গতকাল গেইম অব থ্রোনস এর যে পর্বটা গেল তা ছিল টিভি সিরিজের ইতিহাসে সবচেয়ে এপিক সিন! অনেক অসাধারণ ছিল! এর পরেও অনেকের ভাল্লাগে নাই। যাদের ভাল্লাগে নাই এটা আসলে তাদের দোষ। তাদের এক্সপেক্টেশনের দোষ!আর তারা ভুলে যায় যে এটা গট!এখানে এন্ড গেম টাইপের মনের মত এন্ডিং চাইবেন আর পেয়ে যাবেন এটা ভাবাই তো বড় ভুল! এইজন্যেই কিছু পাবলিকের ডিমান্ডের শেষ নাই। এরা একটা এপিসোডে ভালুক দেখবে,জায়ান্ট দেখবে,তাও একটা দেখালে চলবে না, অনেকগুলো দেখাতে হবে, ঘোস্ট দেখবে।

পশুপাখির ভিতরে ব্র‍্যানকেও দেখতে চাইবে। আবার হোয়াইট ওয়াকার দের মাইরপিটও দেখবে। কিন্তু এরা ডাউনলোড করছে টরেন্ট থেকে। “বাজেট” নামের সোজা কথাটা এদের মোটা মাথায় ঢুকে না। খালি কমপ্লেইন আর কম্পলেইন! -_-এমনিতেই এই এপিসোডের জন্যে বাজেট ছিল প্রায় ১৫ মিলিয়ন,কোথাও কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে ২০ মিলিয়ন। জাস্ট ইমাজিন,একটা টিভি সিরিজের একটা এপিসোড বানাতেই ২০ মিলিয়ন খরছ করা হচ্ছে!অথচ এমনটা আগে কখনো কল্পনাই করা যেত না!

আর দিন শেষে সবাইই নিজের লাভ ক্ষতির হিসাব করবেইই। সেদিক দিয়ে নির্মাতারা চেস্টা করেছেন এই বাজেটের মধ্যে দর্শকদের বেস্ট ফিলিংস টা দেওয়ার জন্যে! গেইম অব থ্রোনস নিজেই টিভি সিরিজের ইতিহাস বদলে দেওয়া সিরিজ! এ ব্যাপারে কারো কোন সন্দেহ থাকার কথা না! আমরা ফ্যানেরাই আবার এই দিক দিয়ে একটা পালাবদলের স্বাক্ষী হওয়ার মত ভাগ্যবান ও বটে! অহো ডিরেকশন নিয়ে কিছু না বললে পুরো অন্যায় হয়ে যাবে!

ডিরেকশন আর মিউজিক যে একেবারে অন্য লেভেলের ছিল এতে কোন সন্দেহ নাই! এইধরনের এপিক ব্যাটলে যেরকম ডিরেকশন আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হওয়া চাই ঠিক সেরকমই পারফেক্ট হয়েছে! যেমন চিত্রায়ন তেমনই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক! বিশেষত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো গায়ের লোম খাড়া করিয়ের দেওয়ার মত মারাত্বক ছিলো। এইজন্যে ডিরেক্টর মিগুয়েল আর রামিন জাওয়াদিকে আলাদা করে ক্রেডিট দিতেই হবে!

তো সবকথার এক কথাই এই পর্ব যে একেবারে মাথা নষ্ট হইসে এতে কোন সন্দেহ নাই। টিভি সিরিজের ইতিহাসে এরকম কিছু আগে হয়ও নি। এটাকে এপ্রিসিয়েট করতেই হবে!এখন অপেক্ষা এপিসোড ফোর,আর আরেকটি সারপ্রাইজের!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images Credit: HBO

আরভিন আহমেদ
মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!