বর্তমান তারিখ:17 August, 2019

গেম অব থ্রোনস নিয়ে ১৬টি অবাক করা তথ্য, যেগুলো আগে জানতেন না!

গেম অব থ্রোনস

চলছে বিশ্ব-বিখ্যাত ফ্যান্টাসি টিভি সিরিজ গেম অব থ্রোনস এর ফাইনাল সিজন। টানা নয় বছর পর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর এর যবনিকাপাত হবে! এই বিশ্ব-বিখ্যাত টিভি সিরিজকে নিয়ে এমনিতে উন্মাদনা আর মাতামাতির কোন সীমা নেই। সারা বিশ্ব টানটান উত্তেজনায় অপেক্ষা করছে সিংহাসনের ইদুর দৌড়ে শেষমেষ কে জিতবে আর কার পতন হবে!

এই ফাঁকে চলুন আমরা জেনে নেই এই টিভি সিরিজ নিয়ে কিছু মজার ট্রিভিয়া!

গেম অব থ্রোনস নিয়ে অবাক করা সকল তথ্য!

গেম অব থ্রোনস নিয়ে অবাক করা সকল তথ্য!

১। মজার হলেও সত্য যে গেম অব থ্রোনস এর কমপক্ষে ১৪ জন অভিনেতা-অভিনেত্রি আছেন যারা এর আগেও জে-কে রাউলিং এর অনবদ্য ফ্যান্টাসী মুভি-সিরিজ হ্যারি পটার এ অভিনয় করেছেন!এর মধ্যে  জুলিয়ান গ্লোবার (গ্রান্ডমেইস্টার পাইসেল/এরাগগ), ইয়ান হোয়াইট (জায়ান্টস/মাদাম অলিম্পে ম্যাক্সিম), সিয়ারান হাইন্ডস (এভেরফোর্থ ডাম্বেলডোর/ম্যান্স রাইডার),ডেভিড ব্রাডলি (ওয়াল্ডার ফ্রে/আর্গাস ফ্লিচ), মিশেল ফেয়ারলি (কেইটলিন স্টার্ক/হারমায়োনিজ মাদার) উল্লেখযোগ্য হিসেবে বলা যায়

২। গেম অব থ্রোনস এর ১ম সিজনে ড্রাগন মাদার ডেনেরিস টার্গেরিয়ানের সাথে খাল দ্রোগোর বিয়ে হবার সময় তাকে ঘোড়ার হৃদপিন্ড কাঁচা চিবিয়ে খেতে হয়েছিলো।দৃশ্যটা যথেস্ট উইয়ার্ড সিন হলেও জেনে অবাক হবেন যে ওইটা ছিলো ৩ পাউন্ড ওজনের গামি জেলো দিয়ে বানানো চকোলেট পুডিং!

৩। গেম অব থ্রোনস সিরিজে ডোথরাকিদের যে ডোথরাকি ভাষায় কথা বলতে দেখা যায় তা এই সিরিজের প্রয়োজনে আলাদা ভাবে বানানো হয়েছিলো। এই ভাষার শব্দ সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার! চিন্তা করা যায়, একটা টিভি-সিরিজের জন্যে আস্ত একটা ভাষারই জন্ম দেওয়া হয়েছে!

৪। গেম অব থ্রোনস ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী বাজেটের টিভি-সিরিজ  ও বটে। এর প্রত্যেকটি এপিসোদের জন্যে এভারেজ বাজেট থাকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার! যা ৫০ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশী টাকার সমান। শুধু সিজন ৭ এর প্রতি এপিসোড এর পেছনে খরছ হয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার করে! এবার ভাবুন তাহলে ৮ সিজনের মোট ৭৩টি এপিসোড বানাতে কত খরচ হয়েছে!

৫। সিরিজটি অন এয়ার হবার পর থেকেই এতটাই সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছিলো যে, নতুন নতুন বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের নাম এই টিভি সিরিজের ক্যারেক্টারদের নামে রাখা শুরু করেন। সবচেয়ে বেশী যে নামটি রাখা হয়েছিলো তা ছিল আরিয়া! তারপর আছে খালিসি। এছাড়া ট্রিরিয়ন ও থিওনের নাম ও রাখা হয়েছিলো। অবশ্য কেউ জফ্রি নামটি ব্যবহার করেছিলো কিনা তা জানা যায়নি!

৬। বিশ্বব্যাপি এই সিরিজের অসংখ্য ফ্যান থাকলে ও তুরস্কের সেনাবাহিনির সদস্যরা চাইলেও এই সিরিজের ফ্যান হতে পারেন না। দেখা তো বহু দুরের কথা।কারন তুরস্কের সেনাবাহিনির জন্যে এই সিরিজ দেখার উপরে রয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা!

৭। গেম অব থ্রোনস ফ্যানেরা অবশ্যই এই সিরিজের আয়রন থ্রোন এর সাথে পরিচিত! এই আয়রন থ্রোন বানাতে লেগে গিয়েছিলো ২ মাস এবং এতে নাকি আক্ষরিক অর্থেই প্রচুর সোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে!

৮। সানসা স্টার্ক চরিত্রে অভিনয় করা সোফি টার্নার সিরিজে দেখানো তার সাথের ডায়ারউলফকে (এগুলো আসলে সাইবেরিয়ান হাস্কি প্রজাতির কুকুর) বাস্তবেই পোষ মানিয়েছেন এবং সেটিকে তিনিই লালন পালন করেন!

৯। রব স্টার্ক এর চরিত্রে অভিনয় করা ট্যালিসা স্টার্ক বাস্তব জীবনে চার্লি চ্যাপলিনের নাতনি। তার নাম উনা চ্যাপলিন! সে হিসেবে বলা যায় বংশানুক্রমে তার একটা গৌরবময় লিগ্যাসি রয়েছে!

১০। সিরিজের ওয়ান অব দ্য বেস্ট ক্যারেক্টার ট্রিয়ন ল্যানিস্টার চরিত্রে রূপদানকারী পিটার ডিঙ্কলেজ বাস্তব জীবনে একজন ভেগান (নিরামীশাষী) সিরিজে তাকে যতবারই মাংস খেতে দেখা গিয়েছিলো তা আসলে মাংস ছিল না। এছাড়া তার বোনের চরিত্রে অভিনয় করা, সিরিজের অন্যতম ঘৃণিত ক্যারেক্টার সার্সি ল্যানিস্টার চরিত্রে রূপদান কারী লিনা হেইডি পিটার ডিঙ্কলেজের বাস্তব জীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু! সিরিজে লিনা হেইডিকে নেওয়া হয়েছিলো ও ডিঙ্কেলেজের অনুরোধেই!

১১। বেশুমার মারামারি আর রক্তারক্তির জন্যে বিখ্যাত গেম অব থ্রোনস সিরিজ। এর প্রত্যেক এপিসোডেই এভারেজে ৫টি করে চরিত্রের ভবলীলা সাঙ্গ হয়। প্রথম চার পর্বেই মারা যায় প্রায় ১৩৩টি চরিত্র! আর সিজন ৭ এর ৫ নাম্বার এপিসোড পর্যন্ত মোট পটল তোলার সংখ্যা ১,৯০,৫৬৬টি!

১২। সিরিজে ড্রাগন মাদার সহ ১০/১২ টাইটেল এর অধিকারী সাদাচুলো ডেনেরিস টার্গেরিয়ানের চরিত্রে অভিনয় করা এমিলিয়া ক্লার্ক এর চুল কিন্তু সাদা নয়। পুরো সিরিজটি তিনি অভিনয় করেছেন পরচুলা পরে! আর অন্যদিকে স্টার্ক লেডি সানসা চুলে কালার করিয়েছেন। তিনি বাস্তবে ব্লন্ডি বা সোনালী চুলের অধিকারী। সিরিজের জন্যে তাকে চুল লাল করতে হয়েছে!

১৩। গেম অব থ্রোনস সিরিজের নির্মাতারা যাতে এর কাহিনী/স্ক্রিপ্ট কোনভাবেই লিক না হয় এইজন্যে একাধিক ভুয়া স্ক্রিপ্ট বানিয়ে রাখতেন।শুধু তাই নয় স্টার্ক লেডি সোফি টার্নারকে ভুয়া স্ক্রিপ্ট দিয়ে রীতিমতো ভয় দেখানো হয়েছিলো টানা তিন সপ্তাহ। যে ভুয়া স্ক্রিপ্টে ছিল যে তার চরিত্রটি মারা যাবে।

১৪। সিরিজে নাইট ওয়াচে অন্ধ মেইস্টার এইমন টার্গেরিয়ান ক্যারেক্টারের রূপদানকারী প্রয়াত পিটার ভন বাস্তব জীবনেও অন্ধ ছিলেন।

১৫। এই সিরিজের পাইলট এপিসোডটি এতই বাজে হয়েছিলো যে এটি কখনো রিলিজই করা হয়নি!

১৬। গেম অব থ্রোনস হলো ইন্টারনেট দুনিয়ার একমাত্র জিনিস যা ইতিহাসের সবচেয়ে বেশীবার পাইরেটেড ভাবে ডাউনলোড করা হয়েছে!

তো এই ছিল গেম অব থ্রোনস নিয়ে ১৬ টি আকর্ষনীয় ট্রিভিয়া! আপনারা যারা এখনো এই টিভি-সিরিজটি দেখেন নি। চাইলেই দ্রুত দেখে নিতে পারেন। আপনার সময়টুকু বৃথা যাবেনা এই নিশ্চয়তা কিন্তু গেম অব থ্রোনস দেখার ব্যাপারে বলাই যায়।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images Credit: Shutterstock.com

মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!

8 Comments

  1. Salam Ratul Reply

    খুবই মজা পেলাম অনেক অজানা সত্য তথ্যগুলো। আমি ১ হতে ৭ সেসন পর্যন্ত সব দেখেছিলাম। কিন্তু ৮ সিজনটা দেখবো ইনশাআল্লাহ। ভালোই হলো জানতে পেরে। ধন্যবাদ তাহমিদ ভাইয়া।

  2. sahajahan alam bijoy Reply

    মারাত্মক কিছু ফ্যাক্ট জানলাম ব্রো…..?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *