টিপস এন্ড ট্রিকসইন্টারনেটএডিটর পছন্দ

ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন : কোন ওয়েবসাইট কে ফাস্ট করার বেস্ট পদ্ধতি গুলো কি কি?

1
ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন : কোন ওয়েবসাইট কে ফাস্ট করার বেস্ট পদ্ধতি গুলো কি কি?

ওয়েল, আজ আমার সবচাইতে বড় গোপন তথ্য গুলো ফাঁস করতে চলেছি; যদিও ওয়্যারবিডি দুনিয়ার সবচাইতে ফাস্ট ওয়েবসাইট নয়, তবে দুনিয়ার ৬০% বাকি ওয়েবসাইট গুলো থেকে ওয়্যারবিডি বেশি ফাস্ট! কোন ওয়েবসাইট ফাস্ট লোডিং তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, কেননা শুধু গুগল নয় আপনার ইউজার’রাও ফাস্ট লোডিং ওয়েবসাইট পছন্দ করেন।

তবে ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন কোন প্লাগ অ্যান্ড প্লে করার মতো জিনিষ নয়। আপনাকে জানতে হবে ওয়েবসাইট তৈরি করা এবং সার্ভার থেকে ব্রাউজার পর্যন্ত সাইটটি কিভাবে এসে পৌছায়, তারপরেই আপনি ভালো ধারণা অর্জন করতে পারবেন। আমি ২০১২ সাল থেকে প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করে আসছি, আর এই যাত্রায় অনেক ওয়েবসাইট তৈরি করেছি যেগুলো আমাকে অনেক জ্ঞান অর্জন করাতে সাহায্য করেছি। আমি ওয়েবসাইট স্পিড বাড়ানো টেকনিক গুলো এখনো শিখছি, তবে এতোটুকু জ্ঞান অর্জিত হয়েই গেছে যা আপনার সাথে শেয়ার করা যেতে পারে।

হ্যাঁ, অনলাইনে অনেক টুল রয়েছে যেখানে আপনার ওয়েবসাইট স্পিড চেক করা যেতে পারে এবং টুলস গুলোতে স্পিড বাড়ানোর অনেক টিপস প্রদান করা হয়। সত্যি কথা বলতে রিয়াল লাইফের ব্যাপারটা একটু আলাদা হতে পারে। অনেক সময় টুলে ভালো স্কোর না করেও রিয়াল লাইফে অনেক ফাস্ট লোডিং পেজ তৈরি করা যেতে পারে। ওয়েবপেজ অপটিমাইজেশন করার অনেক টেকনিক রয়েছে এবং নানানভাবে সেগুলোকে করা যেতে পারে।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে থাকেন, সেটা আপনার জন্য সুবিধার, এতে অনেক সহজেই পেজ স্পিড বাড়ানো যেতে পারে। তবে আলাদা সফটওয়্যার ইউজ করলেও প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই অপটিমাইজেশন টিপস গুলো একই, শুধু অ্যাপ্লাই করার ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আলাদা হতে পারে। আপনি যখন কোয়ালিটি কন্টেন্ট জেনারেট করছেন, অবশ্যই এটাও করনীয় যাতে আপনার সাইট ফাস্ট লোডিং হয়। ওয়েবসাইট তৈরি করা আমার কাছে জাস্ট বিজনেস বা পেশা নয়, ওয়েবসাইট তৈরিতে ভালোবাসা রয়েছে, আর সেই জন্যই বেস্ট নলেজ টুকু প্রদান করেই ওয়েবসাইট তৈরি করতে ভালোবাসি।

ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন

ওয়েবমাস্টার টুলস বা ওয়েবপেজ স্পিড টেস্ট টুলস গুলোতে কোন ওয়েবসাইট স্পিড টেস্ট করার পরে কিছু ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন টিপস প্রদান করা হয়, যেগুলো বেশিরভাগই কনফিউজিং ব্যাপার, অনেক ইউজারদের কাছে। আপনার ওয়েবসাইট জাস্ট একটি জিনিষ নয়, এটাও মানুষের শরীরের মতো বা কোন ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের মতো, এতে অনেক ছোট বড় ব্যাপার রয়েছে যেগুলো একত্রে মিলে আপনার পেজটি সার্ভ করতে সাহায্য করে।

ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন

একটি পেজ ফাস্ট লোড হওয়ার পেছনে অনেক গুলো ব্যাপার কাজ করতে পারে, এর মধ্যে কোন একটির ত্রুটি হলে পেজ স্লো লোড হতে পারে। প্রথমত, আপনার ওয়েব হোস্টিং প্রভাইডার ফ্যাক্ট করে, তারপরে আপনার ওয়েবপেজ গুলো কতোটা অপটিমাইজেশন করা হয়েছে সেটা ম্যাটার করে, এরপরে ক্লায়েন্ট ইন্টারনেট কানেকশন কতোটা ফাস্ট সেটা নির্ভর করে, তারপরে ক্লায়েন্ট ডিভাইজটির স্পেসিফিকেশনও ম্যাটার করে। — এদের মধ্যে কোন একটিতে সমস্যা থাকলে ওয়েবপেজ লোড নিতে দেরি হবে, আর এটাই স্বাভাবিক!

হোস্টিং প্রোভাইডার নির্বাচন

যদিও পেজ লোডিং স্পিড বাড়াতে হোস্টিং খুব বেশি কিছু নয়, তারপরেও হোস্টিং আবার অনেক কিছুই! আপনি যদি নেক্সট লেভেল স্পিড চান, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করতে রেকমেন্ড করবো। পেজ কতো দ্রুত লোড হবে সেটা নির্ভর করে আপনার পেজটি কতো ভালো অপটিমাইজ করেছেন তার উপরে, কিন্তু আপনার সাইট কতদ্রুত পিং করা যাবে সেটা নির্ভর করে আপানার হোস্টিং প্রোভাইডারের উপর।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সাইটের রেসপন্স টাইম নির্ভর করে ওয়েব সার্ভারে উপরে। এখন সকলের নিশ্চয় ক্লাউডে টাকা ইনভেস্ট করার মতো সামর্থ্য নেই, কেননা ক্লাউড মোটেও সস্তা নয়। শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করেও ভালো পেজ স্পিড পাওয়া যেতে পারে। তবে ব্যাপারটি হচ্ছে অনেক শেয়ার্ড হোস্টিং কোম্পানি প্যাকেজ খরচ কমাতে একই সার্ভারে অনেক ওয়েবসাইট হোস্ট করে, ফলে সার্ভার অনেক স্লো রেসপন্স প্রদান করে। সাথে কমদামী ওয়েব হোস্টিং গুলোর সার্ভার পোর্ট ১০০ মেগাবিটের হয়ে থাকে, যেটা সিঙ্গেল ওয়েবসাইটের জন্য চলার মতো হলেও একই সার্ভারে শতাধিক সাইটের জন্য মোটেও ভালো পারফর্ম করবে না।

শেয়ার্ড হোস্টিং কেননার পূর্বে অবশ্যই কাস্টমার সাপোর্ট কথা বলে নিন, তাদের জিজ্ঞেস করুণ সার্ভারে কতো ব্যান্ডউইথ স্পিডের পোর্ট রয়েছে, এবং সার্ভারে ওভারলোডেড ওয়েবসাইট হোস্ট করা রয়েছে কিনা। জাস্ট সস্তা দাম দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। তাছাড়া অবশ্যই কেনার পরের সাপোর্ট ও ম্যাটার করে। শেয়ার্ড হোস্টিং এর জন্য আমি এক্সেলনোড রেকোমেন্ড করবো, এরা দেশীয় প্রভাইডার কিন্তু আমি এদের সার্ভিস সকলদিক থেকে ট্রায় করেছি, এখানে রিভিউটি দেখে নিতে পারেন। আর হ্যাঁ, অবশ্যই পূর্বে সাপোর্টে কথা বলে নেবেন, আপনার সকল প্রশ্নর উত্তর গুলো পরিষ্কার করবেন, তারপরেই কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

ExelNode Hosting: সাশ্রয়ী মূল্যের ডোমেইন/হোস্টিং সাথে ২৪/৭ সাপোর্ট! [রিভিউ]

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা আমি মাথায় রাখতে বলবো, আপনার সাইটের ট্র্যাফিক কোন লোকেশন থেকে বেশি আসে সেই লোকেশনে সার্ভার নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে ইউজারদের বেশি ফাস্ট পেজ ডাউনলোড স্পিড প্রদান করা সম্ভব হবে। যদি বাংলাদেশী বা ইন্ডিয়ান ভিজিটর বেশি থাকে আপনার সাইটে, সেক্ষেত্রে এশিয়া নির্ভর সার্ভার লোকেশন নিলে বেস্ট হবে। যদিও হোস্টিং কেনার সময় লোকেশনই এক একমাত্র ম্যাটার নয়, কেননা আপনাকে দাম, সাপোর্ট, বিশ্বাসযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয় গুলোর উপরও নজর রাখতে হয়।

নিয়মিত সাইট স্পিড টেস্ট করুণ

ফাস্ট সার্ভার আপনার সাইটটি দ্রুত কানেক্ট করতে সাহায্য করবে, কিন্তু পেজটি লোড নিতে কতো সময় লাগতে পারে সেটা নির্ভর করবে আপনার ওয়েবপেজের উপরে। একটি ফুল ফাংশনাল সাইট অত্যন্ত ফাস্ট তৈরি করা মুখের কথা নয়। একটি কমার্শিয়াল সাইটে অ্যাডস থাকে, নানান সোশ্যাল প্লাগইন ইউজ করা হয়, নানান উইজেট থাকে যেগুলোকে বাদ দেওয়া যায় না, কিন্তু এগুলোই বেশিরভাগ স্পিড স্লো করে থাকে।

ফাস্ট পেজের অনেক গুন রয়েছে, মাথায় রাখতে হবে সকলেই হাই স্পিড ব্রডব্যান্ড ইউজ করে না, তাই স্লো ইন্টারনেট কানেকশনের যাতে আপানার সাইট ভালো পারফর্ম করে সেটা লক্ষণীয়। ইন্টারনেটে বর্তমানে অর্ধেকেরও বেশি ট্র্যাফিক মোবাইল ডিভাইজ গুলো থেকে আসে (এই সংখ্যা আরো বাড়ছে), আর ফাস্ট পেজ লোডিং হলে মোবাইল ইউজার গুলোকে ধরে রাখতে পারবেন, না হলে পেজ লোডিং এর জ্বালায় অনেকেই সাইট ত্যাগ করতে বাধ্য হবে।

আপনি যদি Google Analytics টুল ব্যবহার করে থাকেন, সেক্ষেত্রে Site Speed নামক একটি ফিচার রয়েছে যেখানে আপনার সাইটের নানান পেজের লোডিং টাইমের উপরে ধ্যান রাখতে পারবেন। এটা ভেবে কখনোই ভুল করবেন না, আপনার হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড লাইনে আপনার সাইট দ্রুত লোড হয় তাই দুনিয়ার সবার কাছেই আপনার সাইট দ্রুত লোড হবে।

ওয়েবসাইট স্পিড টেস্ট করার জন্য আরো টুলস রয়েছে সেগুলো প্রত্যেকেই একে একে ইউজ করে দেখতে পারেন। যদিও কোন টুল থেকে আরেক টুলের রেজাল্ট আলাদা হতে পারে, কিন্তু আপনি মোটামুটি ভালো ধারণা অর্জন করতে পারবেন। PageSpeed Insights নামক গুগলের অফিশিয়াল টুলটি চেক করতে পারেন, যেখানে মোবাইল ও ডেক্সটপ থেকে আপনার সাইট কিরকম আচরণ করছে তা পরিমাপ করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার সাইট বিভিন্ন লোকেশন বিভিন্ন ডিভাইজ থেকে কি রকম পারফর্ম করছে সেটা চেক করতে Pingdom টুলটি বেশ কাজের প্রমাণিত হতে পারে।

পিংডম টুলটি ইউজ করে সাইটের ডিটেইলস রিপোর্ট পেয়ে যাবেন, আর মোটামুটি একটি ধারণা নিতে পারবেন ঠিক কোন কোন জিনিষ আপনার পেজকে স্লো করছিল। দুনিয়ার সকল লোকশন থেকে আপনার সাইট একই সময়ে হয়তো লোড নেবে না, এতে কোন রেজাল্ট থেকে ভেবে নেবেন না আপনার সাইট অনেক স্লো কাজ করছে। তবে মোটামুটি ভালো আইডিয়া পেতে পারবেন।

ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন এর জন্য পেজ সাইজ কমাতে হবে!

আপনার মতো আপনার সাইটও যদি টেক্সট নির্ভর হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে HTML সাইজ কমানোর কিছু নেই, তবে বিশেষ কমপ্রেশন ম্যাথড (gzip/deflate compression) ইউজ করে এর সাইজ কিছুটা কমিয়ে ইউজার ব্রাউজারে ডেলিভারি করা যেতে পারে। সার্ভার থেকে htaccess ফাইল মডিফাই করে gzip/deflate compression এনাবল করা যেতে পারে, যদি ওয়ার্ডপ্রেস ইউজ করেন সেক্ষেত্রে ক্যাশিং প্লাগিন থেকেও এই কমপ্রেশন এনাবল করা যায়। অথবা অনেক হোস্টিং প্রভাইডার পূর্বে থেকেই তাদের সার্ভারে এই কমপ্রেশন ম্যাথড এনাবল করে রাখে।

আপনি যদি এটি নিজে থেকে এনাবল না করতে পারেন, আপনার হোস্টিং প্রভাইডারের সাথে যোগাযোগ করুণ, তাদের টেক সাপোর্ট টিম থেকে আপনাকে করে দেবে (করে দেওয়ারই কথা!)। ওয়েবপেজের ফাইল সংখ্যা কমাতে হবে, যতো কম ফাইল ততো কম ডিএনএস লুকাপ এবং ততোদ্রুত ওয়েবপেজ! জানি একটি ফুল ওয়েবসাইটে না চাইলেও অনেক ফিচার রাখতে হয়, বিশেষ করে অ্যাডস যেটা না থাকলে ওয়েবসাইটটি রান করে রাখা সম্ভব হবে না। তবে এই অ্যাডস এবং আলাদা মার্কেটিং প্লাগইন গুলো আলাদা আলাদা সার্ভার ব্যবহার করে ফলে ব্রাউজারকে আলাদা আলাদা রিকোয়েস্ট পাঠাতে হয়, এতে পেজ লোডিং টাইম বেড়ে যায়।

যদি সম্ভব হয়, প্রত্যেক পেজে কম করে অ্যাডস ইউনিট ইউজ করুণ, সাথে শুধু কাজের উইজেট গুলো ইউজ করুণ। তাছাড়া খুঁজে বের করে দেখুন, কোন ফাইলটি বেশি সাইজের যদি সম্ভব হয় সেটার সাইজ কম্প্রেস করুণ। বেশি ফাইল সংখ্যা মানে বেশি HTTP রিকোয়েস্ট, তাছাড়া বড় ফাইল গুলো ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড নিতে বেশি সময় লাগে।

যদি সম্ভব হয়, ইমেজ সাইজ কমিয়ে ফেলুন!

ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন করার ক্ষেত্রে ইমেজ সাইজ কমিয়ে ফেলা বেশ দরকারি একটি ব্যাপার। আমি অনেকেই এই ভুলটি করতে দেখেছি এবং পূর্বে আমি নিজেও এই ভুল করতাম, সাইটে জাস্ট আন-কম্প্রেসড ইমেজ আপলোড করতাম। JPG ইমেজ গুলোকে ৭০-৭৫% পর্যন্ত কমপ্রেস করা যেতে পারে, এতে ৭০০ কেবি সাইজের ইমেজ ~১৫০ কেবি বানানো যেতে পারে খুব একটা কোয়ালিটি লস না করেই।

ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য ইমেজ অপটিমাইজেশন অনেক সহজ, কতিপয় প্লাগইন ইউজ করে সহজেই এই কাজটি করা যেতে পারে। তবে HTML সাইট গুলোর জন্য প্রসেসটি একটু ঝামেলার হতে পারে। আপনাকে সার্ভার ফোল্ডার থেকে ইমেজ গুলো ডাউনলোড করতে হবে, তারপরে কোন ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে ইমেজ গুলোকে কমপ্রেস করতে হবে, তারপরে আবার সার্ভারে ইমেজ গুলোকে আপলোড করতে হবে।

ইমেজ ফরম্যাট নির্বাচন করাটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ফটোর জন্য আমি JPG ফরম্যাট ইউজ করতে রেকমেন্ড করবো, আইকন ও ইলাস্ট্রেশনের জন্য PNG, GIF ফরম্যাট ব্যবহার করতে পারেন। টেস্ট করে দেখুন কোনটিতে কমপ্রেস করে সাইজ বেশি কমানো সম্ভব হচ্ছে এবং কম সাইজে বেশি ভালো কোয়ালিটি পাচ্ছেন, তারপরে সেই ইমেজ ফরম্যাটটি ইউজ করতে পারেন।

স্ক্রিপ্ট গুলো অপটিমাইজ করুণ

আপনার পেজে যদি অনেক এক্সটারনাল স্ক্রিপ্ট থাকে, যেমন- নতুন প্লাগইন, গুগল ফন্ট, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, উইজেট, ট্র্যাকিং কোড ইত্যাদি এতে অবশ্যই আপানার পেজটি স্লো লোড হবে। অবশ্যই আপনার অ্যাডস ড্যাশবোর্ড চেক করুণ সেখানে দেখুন কোন অ্যাড ইউনিটে কেমন ক্লিক হচ্ছে। যে ইউনিট গুলোটে একেবারেই ক্লিক আসে না, এক্ষুনি সেগুলোকে রিমুভ করে দিন, বিশ্বাস করুণ কম অ্যাডস ইউনিট আপানার পেজ স্পিড অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।

আপনার সাইট যতোই তৃতীয়পক্ষ সার্ভার লিংকে ভর্তি থাকবে আপনার ওয়েবপেজ ততোই স্লো লোড নেবে। প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা সার্ভার নতুন নতুন ডিএনএস লুকাপ তৈরি করবে এবং HTTP রিকোয়েস্ট বাড়াবে, সুতরাং যতোকম সংখ্যক এক্সটারনাল স্ক্রিপ্ট লোড করুণ। তাছাড়া ওয়ার্ডপ্রেসে প্লাগইন ইউজ সাইটের JavaScript, CSS কোডের সাইজ খানিকটা কমানো যেতে পারে। আলাদা ক্ষেত্রে জাস্ট গুগলের সাহায্য নিতে পারেন।

ব্রাউজার ক্যাশ ব্যবহার করুন

আপনার সাইট যদি অত্যন্ত বেশি ডাইন্যামিক হয়ে থাকে, সেটা আলাদা ব্যাপার তারপরেও ব্রাউজার ক্যাশ টেকনিক ইউজ করতে হবে। যখন ব্রাউজার ক্যাশ সিস্টেম ইউজ করা হবে ব্রাউজার স্ট্যাটিক কন্টেন্ট গুলো সার্ভারের কাছে বারবার রিকোয়েস্ট না করে লোকাল সিস্টেম থেকে লোড করবে। এতে একে সাইট যেমন ফাস্ট লোড নেবে, দ্বিতীয়ত সার্ভার ব্যান্ডউইথ বাঁচানো সম্ভব হবে।

অনেক স্ট্যাটিক ফাইল, যেমন আপনার সাইটের লোগো, সাইটের আইকন, সোশ্যাল মিডিয়া আইকন এগুলো প্রত্যেকটি পেজে একই থাকে, তাহলে বারবার কেন সার্ভার থেকে রিকোয়েস্ট করে লোড করা? — আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ইউজ করলে জাস্ট ক্যাশিং প্লাগইন থেকে ব্রাউজার ক্যাশ ফিচারটি এনাবল করতে পারবেন। আলাদা সিএমএস বা অ্যাপাচি সার্ভারের ক্ষেত্রে HTACCESS ফাইল মডিফাই করেও ব্রাউজার ক্যাশ অন করা যায়, জাস্ট গুগল করে দেখে নিন।

যদি কোন সিএমএস ব্যবহার করেন, যেমন- ওয়ার্ডপ্রেস — সেক্ষেত্রে সার্ভার লোড কমানোর জন্য পেজ ক্যাশ ফিচারটি ব্যবহার করতে পারেন। আসলে PHP স্ক্রিপ্ট গুলোতে আপনার সাইটের ওয়েবপেজ গুলো আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকে না, ক্লায়েন্ট থেকে রিকোয়েস্ট আসার পরে HTML পেজ জেনারেট হয়, মানে একই পেজ সার্ভারকে হয়তো দিনে কয়েক হাজার বার জেনারেট করতে হয়। বেস্ট হয় যদি পেজটি ক্যাশ করে রাখা হয় তারপরে বারবার পেজ জেনারেট না করে জাস্ট ক্যাশ ভার্সন সার্ভ করে সার্ভার লোড অনেক কমানো যেতে পারে।

কিছু টেকনিক মাথায় রাখুন!

পেজ সার্ভিং করার সময় কিছু টেকনিক মাথায় রাখলে পেজ ফাস্ট লোড করানো যেতে পারে এবং আরো বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলি করানো যেতে পারে। অনেক সময় কোন ওয়েবপেজকে আরো ফাস্ট করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পরতে পারে, কেননা আগেই বলেছি একটি ফুল ফাংশনাল সাইটে অনেক প্লাগইন ইউজ করতে হয়, যেগুলো বাদ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে পেজ স্পিড ফাস্ট না করতে পারলেও ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ঠিক রাখা যেতে পারে।

CSS এবং JAVAScript কোড গুলো পেজের রেন্ডার ব্লক করে, এরমানে CSS রেন্ডার না হওয়ার পূর্বে কোন কন্টেন্টই দেখতে পাওয়া যায় না, এক দিকে ব্রাউজারে সাইট লোডিং হতে থাকে, ব্যাকগ্রাউন্ডে CSS এবং JAVAScript রেন্ডার হয় আর ইউজারের কাছে ওয়েবপেজটি সাদা বা কালো হয়ে থাকে, পেজটি সম্পূর্ণ লোড হওয়ার পরে কিছু দেখতে পাওয়া যায়। এটা আরো বেশি মারাত্মক খারাপ, যখন ইউজার দেখবে পেজে কিছুই আসছে না, সাইটটি সাথে সাথে ত্যাগ করবে। তাই পেজকে এমন ভাবে সেটাপ করতে হবে যাতে CSS এবং JAVAScript এর পূর্বে HTML রেন্ডার হয়, এতে ইউজারের কাছে পেজটি সামান্য লোড হতেই সে ব্রাউজারে অন্তত কিছু দেখতে পাবে।

ওয়ার্ডপ্রেসে Render Blocking ঠিক করার জন্য প্লাগইন রয়েছে জাস্ট গুগল করে সঠিক সেটিংস গুলো খুঁজে বের করলেই সহজেই করতে পারবেন। তাছাড়া এই সিস্টেম যেকোনো ওয়েবসাইটে অ্যাপ্লাই করতে পারবেন, শুধু আপনার প্রয়োজন অনুসারে গুগল করে নিন!

সিডিএন ব্যবহার করুণ

কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বা সিডিএন ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল গুলোকে আপনার ট্র্যাফিকের কাছের লোকেশন থেকে সার্ভ করা যেতে পারে। এতে আপনার মেইন সার্ভারের উপর থেকে চাপ কমে যাবে এবং Image, CSS, JavaScripts, Media Files গুলোকে দ্রুত ডেলিভারি করা যেতে পারে।

সিডিএন নিয়ে এখানে বিস্তারিত আর্টিকেলটি পড়ে ফেলতে পারেন। সিডিএন কোম্পানি গুলো বিশেষ করে মিডিয়া স্টোরেজ এবং ব্যান্ডউইথ খরচ হিসেবে চার্জ করে থাকে, তবে এক্সট্রা লেভেলের স্পিড অর্জন করতে অবশ্যই পেইড সিডিএন ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া আপনি ক্লাউডফ্লেয়ারের ফ্রি সিডিএন ব্যবহার করেও অনেক সুবিধা পেতে পারবেন।

হাতে আরো অনেক টিপস রয়েছে যেগুলো আলাদা এক আর্টিকেলে শেয়ার করবো, এমনিতে দৈত্যাকার পোস্ট তৈরি হয়ে গেছে।

এক্সেলনোড — ডোমেইন/হোস্টিং কোম্পানিকে আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা এরকম আর্টিকেল গুলোকে স্পন্সর করে, ফলে নিয়মিত আপনাদের সামনে ফ্রি ওয়েবসাইট স্পিড অপটিমাইজেশন বা ক্লাউড কম্পিউটিং আর্টিকেল গুলো পোস্ট করা সম্ভব হয়! সাশ্রয়ী মূল্যে ডোমেইন/শেয়ার্ড হোস্টিং কেনার জন্য তাদের সাইট ভিজিট করতে পারেন, পূর্বে তাদের রিভিউটি পড়ে নিতে পারেন।

আর হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার যেকোনো প্রশ্ন নিচে ড্রপ করতে ভুলবেন না, যদি প্রশ্ন না করেন তাহলে নতুন কিছু শিখতে পারবেন কিভাবে? — এই পর্বটি ভালো লাগলে আমি আরো টেকনিক্যাল টার্মের সাথে পরবর্তী পর্বে হাজীর হবো। পোস্টটি শেয়ার করতে একদমই ভুলবেন না!


Feature Image Credit: Shutterstock.com

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

কুইক টেক [পর্ব-৮] : কিভাবে পুরাতন জিমেইল থেকে নতুন জিমেইলে ইমেইল গুলো মুভ করবেন?

Previous article

প্রক্সিমা সেন্টোরি সিস্টেমে সম্ভবত ২য় প্ল্যানেট খুঁজে পাওয়া গেছে!

Next article

You may also like

1 Comment

  1. অসাধারন লিখেছেন ভাই। আমি এই সাইটের নিয়মিত ভিজিটর। আপনার প্রত্যেকটা আর্টিকেল আমি পড়েছি।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *