বিজ্ঞানমহাকাশ

কিভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হলেন?

0
কিভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হলেন?

তো অবশেষে পাবলিশ হয়েই গেলো বহু কাঙ্ক্ষিত সর্ব-প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি। যদিও ছবিটি মারাত্মক দর্শনীয় ছিল না, কিন্তু ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের কোন অবজেক্ট ক্যামেরাবন্দী করা এতো সহজ কোন ব্যাপার নয়, সাথে ব্ল্যাক হোল হচ্ছে অদৃশ্য জিনিষ, যেখানে আলো ও গিয়ে আর ফিরে আসতে পারে না — তো কিভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হলেন?

ব্ল্যাক হোলের ইমেজ ক্যাপচার

ব্ল্যাক হোল অত্যন্ত ম্যাসিভ একটি অবজেক্ট, এর গ্রাভিটির টান এতোই বেশি প্রখর যে, লাইট পর্যন্ত পালিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে না। যেহেতু ব্ল্যাক হোল লাইট পর্যন্ত রিফ্লেক্ট করে না, তাই একে দেখতে পাওয়া অসম্ভব। তাই বহু বছর ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীগন এটাই ধারণা করেছিলেন, ব্ল্যাকহোলের ইমেজ ক্যাপচার করা প্রায় অসম্ভব, কিভাবে কোন কিছুর ইমেজ ক্যাপচার করা যেতে পারে যেটা থেকে আলো নির্গত হয় না?

যাইহোক, ব্যাপারটা শুরু হয় ছোট্ট একটি উদ্ভাবক টিম থেকে আর শেষ হয় টেলিস্কোপের মাধ্যমে এমন এক দুনিয়া দেখিয়ে যেটা পৃথিবীর আগে কেউই কখনোই চোখে দেখেনি। বর্তমানে একটি সিঙ্গেল টেলিস্কোপ কাজে লাগিয়ে কখনোই ব্ল্যাক হোলের ইমেজ ক্যাপচার করা সম্ভব নয়, কেননা ব্ল্যাক হোল মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত আর পৃথিবী থেকে দেখতে সেটা অনেক ক্ষুদ্র।

তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নতুন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যদি একটি টেলিস্কোপ ব্ল্যাক হোল ক্যাপচার না করতে পারে তাহলে ৮টি টেলিস্কোপ নিশ্চয় তা ক্যাপচার করতে পারবে! — আর এই সিদ্ধান্তে বিজ্ঞানীগন একেবারেই সঠিক ছিলেন। তারা ৮টি সিরিজ টেলিস্কোপ ব্যবহার করেন যেগুলো সম্পূর্ণ দুনিয়া জুড়ে বিস্তৃত। একত্রে এই টেলিস্কোপ গুলো এমনভাবে কাজ করছিল যাতে টেলিস্কোপটির সাইজ সম্পূর্ণ পৃথিবীর সমান। সকল টেলিস্কোপ গুলো মারাত্মক সঠিক এটমিক ক্লকের সাহায্যে একত্রে সিঙ্ক করে কাজ করছিল। — আর এই ৮টি সিরিজ টেলিস্কোপকে একত্রে নাম দেওয়া হয় Event Horizon Telescope!

এই টেলিস্কোপ নেটওয়ার্কটি একত্রে মিলে এক মারাত্মক শক্তিশালী টেলিস্কোপ তৈরি করে এবং ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ব্ল্যাক হোল ক্যাপচার করতে সক্ষম হয়।

আসলে আমাদের সামনে প্রদর্শিত ব্ল্যাক হোল ইমেজটি একটি সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল ছিল। এটা আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন গুন বেশি ম্যাসিভ ছিল, যেটা আলাদা ব্ল্যাক হোল গুলো থেকেও অনেক বেশি দৈত্যাকার সাইজের আর এটা Messier 87 নামক গ্যালাক্সিতে অবস্থিত। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে এটা একেবারেই আইনস্টাইনের General Theory of Relativity এর সাথে মিলে যায়।

এতদিন আমাদের কাছে ব্ল্যাক হোলের সুমিলেশন ছিল, ইলাস্ট্রেশন ছিল, সায়েন্স ফিকশন মুভিতে ব্ল্যাক হোল দেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমাদের কাছে রিয়াল ইমেজ রয়েছে।

ব্ল্যাক হোলের প্রকাশিত ইমেজে যে আলো দেখা যাচ্ছিলো সেটার নাম Accretion Disk — যখন আমাদের সূর্যের মতো কোন নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের অত্যন্ত কাছে চলে আসে তখন সেটা খণ্ডিত হয়ে যায় এবং ভেঙ্গে ব্ল্যাক হোলের চারিদিকে রিং তৈরি করে। ব্ল্যাক হোলের ফটোর মাঝখানে যে কালো অংশটি দেখতে পাচ্ছেন, মানে যেখানে লাইট নেই, আসলে সেটা ২৫ বিলিয়ন মাইল সমান বিস্তৃত বৃত্ত। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা যদিও এতদিন ব্ল্যাক হোল দেখেছিলাম না, বাট বিজ্ঞানীরা যেভাবে ভবিষৎবাণী করেছিলেন ব্ল্যাক হোল ঠিক তার সাথেই মিলে গেছে। বিশেষ করে তাদের তত্ত্বটি প্রমাণিত হয়েছে, Event Horizon নামক একটি কোণা রয়েছে যেখানে না আপনি ফিরে আসতে পারবেন, না এই দুনিয়ার সবচাইতে দ্রুত মহাকাশ যান ফিরতে পারবে, আর নাই বা এই ইউনিভার্সের সবচাইতে দ্রুততর জিনিষ আলো ফিরে আসতে পারবে।

ব্ল্যাক হোলের এই প্রথম ইমেজটি জাস্ট একটি সূচনা — বিজ্ঞানীগন তাদের টেলিস্কোপকে আরেকটি ব্ল্যাকহোলের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছে। যেটা আমাদের গ্যালাক্সিতেই অবস্থিত আর আমাদের পৃথিবী থেকে ২৫,০০০ আলোকবর্ষ দূরে, যার নাম Sagittarius A*। তবে এটা Messier 87 গ্যালাক্সির ব্ল্যাক হোল থেকে সাইজে অনেক ছোট।

ব্ল্যাক হোলের আঁকার ছোট, এরমানে সেটার ইমেজ ক্যাপচার করতে আরো কঠিন হবে। প্রথম ব্ল্যাক হোলের ইমেজটি ক্যাপচার করতে বিজ্ঞানীদের ২ বছর সময় লাগে এবং কয়েক পেটাবাইট পরিমাণ ডাটা হার্ড ড্রাইভে স্টোর করতে হয়। তবে এতে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে, যখন আমরা আরো একটি ব্ল্যাক হোলের ইমেজ দেখতে পাবো!


Feature Image Credit: Shutterstock.com

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

হুয়াওয়ে, ২০২০ সালের মধ্যে সর্ববৃহৎ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হতে চলেছে!

Previous article

ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জার কে শীঘ্রই একটি অ্যাপ বানিয়ে ফেলা হবে!

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *