লাইফ স্টাইলকল্পবিজ্ঞান

কি হতো যদি [পর্ব-১] : মানুষ অমর হলে কি হতো? ধরুন আর কেউ কখনোই মরবে না!

12
কি হতো যদি [পর্ব-১] : মানুষ অমর হলে কি হতো? - WiREBD

প্রত্যেকটি জীবের জন্য মৃত্যু সবচাইতে বড় সত্য, আপনাকে মরতে হবেই এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটা ওয়্যারবিডি’র একটি নতুন সিরিজ, যেখানে আপনি যেকোনো অদ্ভুদ প্রশ্নের উত্তর পাবেন। তো ধরুন, মানুষের বয়স ৩০ এ গিয়ে থেমে গেলো, সবাই একই বয়সের হয়ে গেলো আর কেউই কখনোই মরবে না, তাহলে কি হতো? আপনি কি কি করতেন? একজনকেই অনন্তকাল ধরে ভালোবাসতেন, নাকি আপনার ক্যারিয়ারের সর্বচ্চ কোঠা ছুঁয়ে ফেলতেন, নাকি সারা দুনিয়া ভ্রমন করে কাটাতেন বা পারি জমাতেন আলোকবর্ষ দূরের কোন প্ল্যানেটে?

যদিও পৃথিবী সকল অমর মানুষদের ধারন করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে বড় নয়, তারপরেও নিচে আমার মত অনুসারে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম, “কি হতো যদি মানুষ অমর হতো!”

মানুষ অমর হলে কি হতো?

মানুষ বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি না মরে সেক্ষেত্রে পৃথিবীতে জনসংখ্যা মারাত্মক আঁকারে বৃদ্ধি পেয়ে যেতো, যেটা আমাদের এই ছোট গ্রহ হ্যান্ডেল করতে পারতো না। যদি মানুষ শতশত বছর বাঁচতে আরম্ভ করে দেয় অবশ্যই আলাদা প্ল্যানেটে মানুষ পাঠিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকতো না। আমরা অলরেডি ৮ বিলিয়ন মানুষ রয়েছি এই গ্রহে যেটা অনেক দ্রুত দিগুন-তিনগুন হতে যেতো। আমাদের পৃথিবীর জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল রশদ অনেক দ্রুত শেষ হতে শুরু করতো।

সমাজ আর মানুষের জীবন ধারণের স্টাইল সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যেতো। কাউকে বিয়ে করে হাজার হাজার বছর তারসাথে ওয়াদা নিভিয়ে থাকা অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়াত। তাছাড়া কর্মক্ষেত্রেও বিশাল পার্থক্য দেখা দিত। ধরুন আপনি ৭০ বছরে জব ছেড়ে দিলেন, কিন্তু হয়তো আপনি আরো কয়েক হাজার বছর বেঁচে থাকবেন (কেউ মেরে ফেলা বা নিজে আত্মহত্যা না করা পর্যন্ত)! মানে আপনার রিটায়ার্ড হওয়ার কোন প্ল্যানই থাকবে না। আপনার হেলথ ইনস্যুরেন্স এর কোন প্রয়োজনই পরবে না।

হ্যাঁ, আপনি আপনার ক্যারিয়ারে লং টাইম প্রদান করতে পারবেন, আপনার কাজে পুরোপুরি মাস্টার হয়ে যেতে পারবেন, এতে অনেক উন্নতি সাধিত হবে ঠিকই। কিন্তু অপরদিকে আপনার জব পজিশনে আপনিই যদি শতশত বছর ধরে টিকে থাকেন সেক্ষেত্রে নতুন কেউ আর কোন জব পাবে না। আর সবচাইতে বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে, নতুন জন্মের উপরে বিশাল কন্ট্রোল নিয়ে আসা হবে। স্পেশাল পারমিশন ছাড়া আর কেউই বাচ্চা জন্ম দিতে পারবে না। বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য হয়তো স্পেশাল কোন বয়স লাগবে এবং হয়তো আলাদা লেভেলের হতে হবে।

নতুন জব পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে প্রত্যেকটি দিক থেকে অত্যন্ত বেশি মেধাবি হতে হবে, আপনাকে কয়েক হাজার প্রকারের টেস্ট দিতে হতে পারে। যদি হয়তো একটা টেস্ট ও ফেইল করে সেক্ষেত্রে অন্য কেউ সেই জব পেয়ে যাবে। আপনার কোন কাজ করার জায়গা হয়তো থাকবে না, কেননা প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে এবং আপনাকে হয়তো সারাজীবন মা-বাবার উপরে নির্ভর হয়ে থাকতে হবে। এতে অনেকের হতাশা বাড়বে ফলে আত্মহত্যা করতে পারে আবার অনেকেই ক্রাইমের সাথে জড়িত হয়ে যাবে এবং খুব খারাপি শুরু করে দেবে।

যেহেতু মানুষ অমর হয়ে যাবে আর আপনি কখনোই বার্ধক্যের কারণে আর মরবেন না, সুতরাং আপনার কাছে অগুনতি সময় চলে আসবে যেটা অনেকের কাছেই বোরিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। কেননা অত্যন্ত বেশি জনসংখ্যার কারণে আপনি অনেক সুযোগ সুবিধা থেকেই বঞ্চিত হবেন, কয়েকশত বছর পরে যে আবার সুযোগ সুবিধা ফিরে পাবেন এমন ও কোন সুযোগ থাকবে না, কেননা দিনের পর দিন ব্যাপার গুলো আরো কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে দাঁড়াবে।

পৃথিবীর ধ্বংস অনেক দ্রুতই নিশ্চিত হবে

তো বুঝতেই পারছেন, দিনের পর দিন অসুখী মানুষের দল ভারি হতেই থাকবে। যদিও বার্ধক্য ঠেকানোর জন্য সিলিকন ভ্যালিতে অনেক বায়্যোটেক অর্গানাইজেশন ঔষধ উন্নতি করার চেষ্টা করছে কিন্তু ব্যাস্তবিকভাবে আমরা নিজেরায় অমরত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম নয়।

দিনের পর দিন বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়নে জনসংখ্যা পৌঁছে যাবে, কিন্তু আমাদের প্ল্যানেট তো আর বড় হবে না। আবার অপরদিকে এখনো পর্যন্ত বাসযোগ্য একটাও গ্রহ খুঁজে পাওয়া যায়নি, খুঁজে পাওয়া গেলেও সেগুলো মারাত্মক পরিমাণ দূরে অবস্থিত তাই সেখানে দ্রুত পৌঁছানর জন্য টেকনোলোজিও প্রয়োজনীয় হবে। আর এগুলোর কোন কিছুই আমাদের কাছে নেই বর্তমানে। চিন্তা করে দেখুন, পৃথিবীতে বর্তমানেই অধিক জনসংখ্যার কারণে কতো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, সেখানে আর কেউ না মরলে আরো কতো বড় ঝামেলার তৈরি হয়ে যাবে!

তো বুঝতেই পারছেন, হঠাৎ করে মানুষের অমর হয়ে যাওয়ার আইডিয়া মোটেও সুবিধার নয়। জীবন অসীম পরিমাণে বড় হয়ে গেলে জীবনের উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যাবে অনেক অংশে, এক সময় বেঁচে থাকার উপর হয়তো বিরক্তি চলে আসবে। আর আপনি যদি বেঁচেই থাকেন তো সেক্ষেত্রে হয়তো বা পারি জমাতে হবে আলাদা কোন প্ল্যানেটে। কিন্তু আলাদা প্ল্যানেটে আপনার লাইফ কেমন হতে পারে? — এই প্রশ্নের উত্তরকে বাঁচিয়ে রাখলাম আরেকটি “কি হতো যদি” পর্বের জন্য!


Image: By Quick Shot/shutterstock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

নোড কি? নেটওয়ার্কিং এ কম্পিউটার নোডের গুরুত্ব কি? [বিস্তারিত!]

Previous article

৫টি সেরা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার : ঝামেলা বিহীন অনলাইন সিকিউরিটি!

Next article

You may also like

12 Comments

  1. it amazing

  2. otuloniyo bro

  3. Joss Thamid vai. sei akta series. thanks

    1. তাহলে তো সিরিজ চালাতেই হবে

  4. ভাই অসাধারণ কন্টেন্ট ছিল। ধন্যবাদ।

  5. Best read.

    1. থ্যাংকস ম্যান!

  6. wow??

  7. Just wow vai.

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *