বর্তমান তারিখ:20 September, 2019

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস : নতুন ফ্রি ব্যাটেল রয়্যাল গেম [রিভিউ]

বর্তমানে গেমসগুলোকে সাধারনত দুই ভাগে ভাগ করি আমরা। একটি হচ্ছে ব্যাটেল রয়্যাল গেম এবং আরেকটি হচ্ছে অন্যান্য গেমস। ব্যাটেল রয়্যাল গেমস খেলার ট্রেন্ড শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ গেমাররাই বর্তমানে ব্যাটেল রয়্যাল গেমসগুলোই বেশি খেলেন। ব্যাটেল রয়্যাল গেমস বর্তমানে কতটা জনপ্রিয়, তার একটি ভালো উদাহরন হচ্ছে সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন গেম, PUBG এবং Fortnite। বর্তমানে সারা দুনিয়ার সব গেমার কমিউনিটিই PUBG জ্বরে আক্রান্ত।

তবে সম্পূর্ণ ব্যাটেল রয়্যাল গেমসের প্রায় ৮০% মার্কেটই PUBG এবং Fortnite দখল করে রাখার পরেও আরো অনেক গেমস ডেভেলপার নতুন নতুন ব্যাটেল রয়্যাল গেমস রিলিজ করে যদিও অবশেষে দেখা যায় সেগুলো খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে না। তবে তেমনটা সবক্ষেত্রে নয়। যারা অনলাইন ব্যাটেল রয়্যাল গেমস খেলেন এবং এই সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন, তারা এতদিনে অবশ্যই নতুন একটি ব্যাটেল রয়্যাল গেমসের নাম শুনেছেন বা হয়তো খেলেও দেখেছেন, তা হচ্ছে অ্যাপেক্স লেজেন্ডস (Apex Legends)।

Respawn Entertainment এর ডেভেলপ করা এবং Electronic Arts এর পাবলিশ করা এই গেমটি পাবলিক রিলিজ হওয়ার ১ সপ্তাহ পরেই প্রায় ২৫ মিলিয়নেরও বেশি প্লেয়ার পেয়েছে এই ব্যাটেল রয়্যাল গেমটি। এছাড়া বাংলাদেশের গেমিং কমিউনিটির মধ্যেও হাইপ তৈরি করেছে এই নতুন ব্যাটেল রয়্যাল গেমটি। এর প্রধান কারন হচ্ছে, এটি একটি ফ্রি-টু প্লে অনলাইন গেম। অর্থাৎ যেকেউ এই গেমটি ডাউনলোড করতে পারেন এবং খেলতে পারেন।

এই গেমটি খেলার জন্য গেমটি পারচেজ করার দরকার পড়েনা বা কোন টাকা খরচ করার দরকার পড়ে না। এই গেমটি আমি রিলিজের পরের দিনই ডাউনলোড করেছিলাম এবং গত ১ সপ্তাহ ধরে কম-বেশি খেলেছি। যাইহোক, আজকে আমার এক্সপেরিয়েন্স থেকে অ্যাপেক্স লেজেন্ডস গেমটির একটি ফুল রিভিউ লেখার চেষ্টা করবো, যাতে যারা গেমটি খেলেন নি তবে খেলার ইচ্ছা আছে, তাদেরকে গেমটি সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দিতে পারি।


ইন্সটলেশন ও রিকয়্যারমেন্টস

যেকোনো গেমের জন্য ডাউনলোড এবং ইন্সটলেশন প্রোসেস সবথেকে ইম্পরট্যান্ট বিষয়গুলোর একটি। আগেই বলে নিই, এই গেমটি কোনমতেই একটি লো এন্ড গেম নয়। গেমটি স্মুথলি রান করার জন্য আপনার একটি ডেডিকেটেড এক্সটারনাল জিপিইউ অবশ্যই দরকার হবে। তাই আপনার যদি এক্সটারনাল হাই পারফরমেন্স জিপিইউ না থাকে, তাহলে গেমটি ইন্সটল করার চেষ্টাও করবেন না।

যেহেতু EA এর পাবলিশ করা গেম, তাই এই গেমটি ডাউনলোড করার জন্য আপনার EA এর DLC ক্লায়েন্ট, Origin প্রোগ্রাম এবং একটি Origin অ্যাকাউন্টের দরকার হবে। Steam এ গেমটি খোঁজার  ট্রাই করবেন না, কারন এই গেমটি Steam এ পাবলিশ করা হয়নি। Origin অ্যাকাউন্ট করে তারপর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে Origin এর উইন্ডোজ ক্লায়েন্ট ডাউনলোড করবেন এবং এর ক্লায়েন্টে আপনার অ্যাকাউন্ট লগইন করে সার্চ অপশনে Apex Legends টাইপ করে সার্চ করবেন। এরপর সার্চ রেজাল্ট থেকে গেমটি সিলেক্ট করে ডাউনলোড করবেন। ডাউনলোড করার পরে গেমটি নিজে থেকেই ইন্সটল হবে। গেমটির সাইজ প্রায় ১২ জিবির মতো।

গেমের রিকয়্যারমেন্টসগুলো নিচের চার্ট থেকে দেখে নিতে পারেন-

মিনিমামরিকমেন্ডেড
উইন্ডোজ ৭/৮/১০ (৬৪ বিট)উইন্ডোজ ১০ (৬৪ বিট)
কোরআই ৩- ৬৩০০- ৩.৮ গিগাহার্জকোরআই ৫- ৩৫৭০কে
৬ জিবি র‍্যাম৮ জিবি র‍্যাম
১ জিবি ভিডিও র‍্যাম৮ জিবি ভিডিও র‍্যাম
জিফোর্স জিটি ৬৪০ জিপিইউজিটিএক্স ৯৭০ জিপিইউ
২২ জিবি হার্ড ড্রাইভ স্পেস২২ জিবি হার্ড ড্রাইভ স্পেস

ব্যাটেল রয়্যাল

ব্যাটেল রয়্যাল গেম কিভাবে খেলতে হয়, এর রুলস কি কি এবং গেমপ্লে কেমন হয়, এসব আশা করি আপনি আগে থেকেই বেশ ভালোভাবেই জানেন। তাই ব্যাটেল রয়্যাল গেম কি সেটা নিয়ে কথা বলে আর সময় নষ্ট না করাই ভালো। তবুও সংক্ষিপ্ত করে বলি, যদি আপনি না জেনে থাকেন। ব্যাটেল রয়্যাল গেমগুলোতে আপনাকে এবং আপনার মতোই আরো ১০০ জন প্লেয়ারকে একটি ম্যাপের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় যেখানে প্রত্যেকের কাজই হচ্ছে বাকিদেরকে শুট করা বা মেরে ফেলা অথবা গেমের শেষ পর্যন্ত নিজে সারভাইভ করতে পারা।

এখানে বিভিন্ন ম্যাপ লোকেশনে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং হিলিং আইটেমস, আরমর, হেলমেট ইত্যাদি পাওয়া যায় যেগুলো আপনাকে এনিমিকে মারতে সাহায্য করে বা এনিমির আঘাত থেকে রক্ষা করে। কিছুক্ষন পরপরই প্লেয়েবল এরিয়া ছোট করা হয় যাতে প্রত্যেক প্লেয়ারই প্রত্যেকের মুখোমুখি হতে পারে এবং ফাইট করতে পারে। এভাবে গেমের শেষ পর্যন্ত যে বা যে স্কোয়াডটি বেঁচে থাকতে পারে তারাই ম্যাচটি জিতে যায়। অ্যাপেক্স লেজেন্ডস এর মেইন গেমপ্লে রুলসও এটাই। তবে এই গেমে কিছু নতুন ফিচারস আছে যেগুলো অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমগুলোতে নেই। সেগুলোই ছোট করে আলোচনা করছি।

স্কোয়াড রুলস

মুলত এখানেই অ্যাপেক্স লেজেন্ডস এবং অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমসগুলোর সবথেকে বড় পার্থক্য। প্রথমত, এই গেমটি আপনি কিছুতেই সোলো বা ডুয়ো মোডে খেলতে পারবেন না। এই গেমটির গেম মোড একটাই এবং সেটা হচ্ছে স্কোয়াড Vs স্কোয়াড। স্কোয়াডের কথা শুনেই আপনি ভাবছেন যে PUBG এর মতো ৪ জনের একটি স্কোয়াড। কিন্তু না, অ্যাপেক্স লেজেন্ডস এর স্কোয়াড ৪ জনের হয়না, বরং একটি স্কোয়াডে থাকে ৩ জন। আপনি ভাবতে পারেন যে PUBG এর মতো অটো ম্যাচিং অফ করে খেললে ২ জনেই বা ১ জনেই সোলো/ডুয়ো Vs স্কোয়াড ম্যাচ খেলতে পারবেন। কিন্তু না, এখানে অটো ম্যাচিং বা এই ধরনেরও কিছু নেই।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস

তাই হয় আপনাকে আপনার আরো দুইজন ফ্রেন্ডের সাথে স্কোয়াড ম্যাচ খেলতে হবে, অথবা আরো দুইজন র‍্যান্ডম অনলাইন প্লেয়ারের সাথে টিম আপ করে খেলতে হবে। যেকোনো ব্যাটেল রয়্যাল গেমে পরিচিত কোন প্লেয়ার না পেলে আমি সবসময় সোলো খেলতেই পছন্দ করি, তবে এই গেমটির অসাধারন টিম কমিউনিকেশন সিস্টেমের কারনে থ্রি প্লেয়ার স্কোয়াড গেমও আমার ভালো লেগেছে। এই গেমটি আসলেই স্কোয়াড গেম মোডের জন্যই তৈরি। এই ফ্যাক্টটি আপনি গেম খেলার প্রত্যেকটি মুহূর্তে টের পাবেন।

লেজেন্ডস

এটা অ্যাপেক্স লেজেন্ডস গেমটির অন্যতম একটি কি ফিচার। মুলত এই লেজেন্ড ফিচারটির জন্যই গেমটির নামের সাথে লেজেন্ডস ওয়ার্ডটি যোগ করা হয়েছে। আপনি এবং আপনার টিম মেম্বাররা কোন ম্যাচ স্টার্ট করার আগে নিজের ইচ্ছামত একটি লেজেন্ড বা অন্যান্য গেমের ভাষায় Hero সিলেক্ট করে নিতে পারবেন। গেমটিতে কয়েকটি লেজেন্ড আছে যেগুলো সিলেক্ট করতে পারবেন, আবার প্রত্যেকটি লেজেন্ডের আলাদা আলাদা নাম, অ্যাভাটার এবং আলাদা আলাদা স্পেশাল অ্যাবিলিটিও আছে যেগুলো আপনি গেমপ্লের সময় ব্যাবহার করতে পারবেন।

আপনি যে লেজেন্ডটি সিলেক্ট করবেন নিজের জন্য, গেমপ্লের মধ্যে সেই লেজেন্ডটির যে স্পেশাল অ্যাবিলিটি আছে, সেটাই আপনি ব্যাবহার করতে পারবেন ১০ সেকেন্ড পরপর। একেকটি লেজেন্ডের তিন ধরনের স্পেশাল অ্যাবিলিটি থাকে যেগুলো ব্যাবহার করতে পারবেন আপনি  তিনটি আলাদা আলাদা কিবোর্ড কি এর সাহায্যে।

উদাহরনসরুপ, PathFinder লেজেন্ডটির স্পেশাল অ্যাবিলিটি হচ্ছে এটি ১০ সেকেন্ড পরপর গ্র্যাপল ব্যাবহার করে রোপ-এর সাহায্যে অনেক দ্রুত পালিয়ে যেতে পারে। আবার Bangalore নামের লেজেন্ডটির স্পেশাল অ্যাবিলিটি হচ্ছে এটি ১০ সেকেন্ড পরপর চাইলে স্মোক বম্ব থ্রো করতে পারে এনিমির নজর এড়িয়ে যেতে। এসব লেজেন্ডদের স্পেশাল অ্যাবিলিটিগুলো আপনি গেমের মধ্যে নিজের ইচ্ছামত নিজের অ্যাডভান্টেজের জন্য ইউজ করতে পারবেন। শুধু আপনি না, আপনার টিমমেটরা এবং এনিমিরাও একইভাবে তাদের সিলেক্ট করা লেজেন্ডগুলোর স্পেশাল অ্যাবিলিটি ব্যাবহার করতে পারবে।

ম্যাপ

ব্যাটেল রয়্যাল গেমের আরেকটি ইম্পরট্যান্ট ম্যাটেরিয়াল হচ্ছে এর ম্যাপ। একটি ব্যাটেল রয়্যাল গেম কতটা ইন্টারেস্টিং হবে, কতটা কমপ্লিকেটেড হবে, কতটা ক্লোজ কাউন্টার ফাইট হবে তার অধিকাংশই নির্ভর করে গেমটির ম্যাপের ওপরে। অ্যাপেক্স লেজেন্ডসের ম্যাপটি মুলত একটি ফিউচারিস্টিক মরুভুমি বা ক্যানিয়ন। গেমের ভাষায় এই ম্যাপটির নাম “King’s Canyon”।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস

এই ম্যাপটিতে মিলিটারি বেস, এয়ার বেস থেকে শুরু করে সবুজ জঙ্গল, বাসা-বাড়ির কলোনি, নদী, পাহাড়-পর্বত সবকিছুই আছে। প্রত্যেকটি এরিয়ার লেআউট এমন করা হয়েছে, যেন সেগুলো ফিউচারের কোন হাই টেক এরিয়া। প্রত্যেকটি এরিয়াতেই বিভিন্ন ধরনের জিনিস আছে যেগুলো গেমপ্লেতে অ্যাডভান্টেজ দেয়। যেমন হোরিজন্টাল এবং ভার্টিক্যাল জিপলাইন, উচু টাওয়ার  ইত্যাদি। তাছাড়া অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমের মতো ম্যাপের আনাচে কানাচে অস্ত্র, হেলমেট, আরমর এবং অস্ত্রের অ্যাটাচমেন্টস, স্কোপস, বুলেটস, হিলিং আইটেম এগুলো তো থাকছেই।

অস্ত্র (Weapons)

আপনি যদি কখনো এই একই গেম ডেভেলপারের তৈরি TitanFall 2 গেমটি খেলে থাকেন, তাহলে আপনি ওই গেমটির সাথে অ্যাপেক্স লেজেন্ডস এর ওয়েপনগুলো এবং শুটিং মেকানিক্স এর অনেকটা মিল খুঁজে পাবেন। গেমটির শুটিং মেকানিক্স একেবারেই TitanFall 2 এর মতো এবং অন্যান্য অধিকাংশ ব্যাটেল রয়্যাল গেমের থেকে আলাদা। বিশেষ করে, ওয়েপনগুলোর ফায়ারিং সাউন্ড অত্যন্ত স্যাটিসফাইং। এই গেমের ওয়েপনগুলোর ফায়ারিং সাউন্ড কতটা স্যাটিসফাইং তা আপনি এই গেমটি অথবা TitanFall সিরিজের কোন গেম না খেললে বুঝবেন না।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস

তবে PUBG তে আপনি যেসব ওয়েপনের সাথে পরিচিত যেমন- AKM, M416, M24, KAR98K, AWM এসব কোন ওয়েপনই পাবেন না অ্যাপেক্স লেজেন্ডসে। বরং এই গেমে যেসব ওয়েপন পাবেন সেগুলোর নাম এবং চেহারা সবই ফিউচারিস্টিক। তাছাড়া ওয়েপনের স্কিন পেলে এবং স্কিন ইকুয়িপ করলে সেগুলো দেখতে আরো সুন্দর হয়। Assult Rifle, SMG, Sniper, DMR, LMG, Pistol, Shotgun এই সবধরনের ওয়েপনই আপনি এই গেমে পাবেন, তবে দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে কোন ওয়েপনের নামই আপনি আগে শোনেন নি কখনো। নতুন করে শিখতে হবে আপনাকে ওয়েপনগুলো সম্পর্কে।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস

প্রত্যেকটি ওয়েপনই তাদের উপযুক্ত এক্সটেনশনগুলোর সাহায্যে এক্সটেন্ড করা যায়। যেমন-  স্কোপস, এক্সটেন্ডেড ম্যাগাজিন, ব্যারেল স্ট্যাবিলাইজার ইত্যাদি। পয়েন্ট টু বি নোটেড, PUBG তে ShotGun যতটা ব্যাড, এই গেমে ShotGun ততটাই ভালো/পাওয়ারফুল। তাই কুইক টিপস- এই গেমে ভালো হতে চাইলে কখনোই ShotGun কে ইগনোর করবেন না!

আর এই গেমে ওয়েপনগুলোর আরেকটি ফিচার আমার ভালো লেগেছে। তা হচ্ছে, আপনি যেকোনো সময় আপনার ওয়েপনকে ADS  করতে পারবেন বা ওয়েপনে অ্যাটাচ করা স্কোপটি ওপেন করতে পারবেন। PUBG তে আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে, আপনার ক্যারেকটারটির পা মাটিতে না থাকলে আপনি ওয়েপনের স্কোপ ওপেন করে শুট করতে পারেন না।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস

তবে এই গেমে আপনি যেকোনো সময় আপনার ওয়েপনের স্কোপ ওপেন করে শুট করতে পারবেন। আপনি চাইলে জাম্প করে স্কোপ ওপেন করতে পারবেন, স্লাইড করার সময় স্কোপ ওপেন করতে পারবেন, অর্থাৎ যেকোনো সময়ই স্কোপ ওপেন করতে পারবেন। এটা যেকোনো ব্যাটেল রয়্যাল গেমের জন্য অনেক বড় একটি অ্যাডভান্টেজ।

গেমপ্লে

এবার আসি যেকোনো গেমের সবথেকে ইম্পরট্যান্ট পার্ট, অর্থাৎ গেমপ্লের বিষয়ে। ডিফল্ট ব্যাটেল রয়্যাল গেমগুলোর সব রুলসই আছে এই গেমে। তবে কিছু এক্সট্রা গেমপ্লে ফিচার আপনি এই গেমে পাবেন যেগুলো অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমে পাবেন না। তার মধ্যে অন্যতম একটি ফিচার/অ্যাডভান্টেজ হচ্ছে, এই গেমে আপনি যত উচু থেকেই জাম্প করুন না কেন, গ্রাউন্ডে পড়ার পরে আপনার একটুও ড্যামেজ হবে না বা আপনার হেলথ ১% ও কমে যাবে না। তাই আপনি লাইফ কমে যাওয়া বা নকআউট হওয়ার ভয়ে যেকোনো জায়গা থেকে নিচে জাম্প করতে ভয় পাবেন না। PUBG রিয়ালিস্টিক গেম হওয়ায়, PUBG তে এই সুবিধাটি নেই।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস

ম্যাপের বিভিন্ন জায়গায় বা বিভিন্ন বিল্ডিং এর ভেতরে, বিল্ডিং এর ছাঁদে আপনি বিভিন্ন ধরনের ওয়েপনস, ওয়েপনের ইকুইপমেন্টস, স্কোপস, হেলথ কিট, শিল্ড রিচারজার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের জিনিস পাবেন যেগুলোর সারভাইভ করার জন্য আপনার দরকার হবে। তবে, এই গেমে বিভিন্ন জায়গায় কিছু বড় বড় সাপ্লাই ক্রেটও পাবেন যেগুলোকে ওপেন করলে সেটার ভেতরেও বিভিন্ন ধরনের লুট পাবেন।

এই গেমটি স্কোয়াড বেসড গেম হওয়ায় নিজের টিমমেটদের সাথে কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং টিম বেজড ওয়ার্ক অনেক বেটার করা হয়েছে অন্যান্য ব্যাটেল রয়্যাল গেমের তুলনায়। এই গেমে টিম কমিউনিকেশনের জন্য অসাধারন একটি Ping ফিচার আছে যেটা স্কোয়াড ম্যাচের জন্য অত্যন্ত হেল্পফুল। আপনি যদি এমন কোন লুট খুঁজে পান যেটা আপনার নিজের দরকার নেই, তবে আপনার টিমমেটদের কারো দরকার হতে পারে, তাহলে আপনি সেটি পিকআপ না করে মাউস হুইল ক্লিক করে Ping করে রেখে দিতে পারবেন। এর ফলে ম্যাপে একটি পারমানেন্ট মার্কার ক্রিয়েট হবে আপনার টিমমেটদের জন্য যাতে তারা সেখানে এসে জিনিসটি পিকআপ করতে পারে।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস

এছাড়া আপনি ম্যাপের যেকোনো জায়গায় আপনার ওয়েপনের স্কোপ/আয়রন সাইট পয়েন্ট করেও Ping করতে পারবেন। Ping করলেই সেখানে কি আছে তা গেমের ইন-গেম ভয়েস অটোমেটিক আপনার টিমমেটদেরকে জানিয়ে দেবে। যেমন, আপনি সামনে এনিমি স্কোয়াড দেখলে সেদিনে যদি Ping করেন, তাহলে গেম আপনার টিমমেটদেরকে অটোমেটিক জানিয়ে দেবে যে সামনে এনিমি আছে এবং তাদেরকে শুট করার জন্য রেডি হতে হবে অথবা পালিয়ে যেতে হবে।

এই গেমটির আরেকটি ইম্পরট্যান্ট অ্যাডভান্টেজ হচ্ছে, আপনার টিমমেটকে এনিমি নক-ডাউন করে দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনি রিভাইভ তো করতে পারবেনই, তাছাড়া আপনার টিমমেট যদি ফুললি ডেডও হয়ে যায়, ডেড হওয়ার ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে চাইলে আপনি তার ক্রেটের সামনে গিয়ে তাকে রিস্পনও করাতে পারবেন। অর্থাৎ ফুললি ডেড টিমমেটকে আবার গেমে ফিরিয়েও আনতে পারবেন। যদিও সেক্ষেত্রে তারা যেখানে ডেড হয়েছে সেখানেই স্পন হবে না, গেমের নির্দিষ্ট কিছু কিছু রিস্পন পয়েন্ট আছে, সেখানে গিয়ে রিস্পন করাতে হবে।

এর ফলে গেমের লাস্ট সার্কেলেও অনেক স্কোয়াড বেঁচে থাকে এবং ইন্টেনসিভ ফাইট হয়। তাছাড়া এই গেমের মুভমেন্ট, ফায়ারিং সবকিছুই অন্যান্য অনেক ব্যাটেল রয়াল গেমসের তুলনায় কিছুটা ফাস্ট। তাই যারা ফাস্ট মুভমেন্টের গেমপ্লে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই গেমটি পারফেক্ট হতে পারে।

অ্যাপেক্স লেজেন্ডস


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

অনেকসময় সার্ভার ল্যাগস লক্ষ্য করা যায়, যেহেতু গেমটির সার্ভার এখনো পর্যন্ত PUBG বা Fortnite এর সার্ভারের মতো এত পাওয়ারফুল এবং অপটিমাইজড নয়। তবে আপকামিং আপডেটগুলোতে এই সব সার্ভার ইস্যু ফিক্স করে দেওয়া হবে। সার্ভার ল্যাগ ছাড়া অরিজিনাল গেমপ্লে অত্যন্ত অপটিমাইজড। PUBG এর তুলনায় ইনপুট লেটেন্সি, মাউস রেসপনসিভনেস, গেমপ্লে সবকিছুই অনেক বেশি অপটিমাইজড।

যদি নতুন ধরনের ফিউচারিস্টিক Sci-Fi ম্যাপে ইন্টেন্স ব্যাটেল রয়্যাল এক্সপেরিয়েন্স উপভোগ করতে চান, তাহলে অবশ্যই এই গেমটি খেলে দেখবেন! ফাস্ট গেমপ্লে, অসাধারন টিম কমিউনিকেশন, কুল ওয়েপন ডিজাইন, স্ট্যাটিসফাইং ফায়ারিং সাউন্ড, ফ্রি-টু প্লে, সবকিছু মিলিয়ে অসাধারন একটি প্যাকেজ এই গেমটি।

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

4 Comments

  1. Shimul Reply

    এইটাই তো চাচ্ছিলাম বস। সুন্দর রিভিউ। আমার corei3 8th gen কি চলবে এইটা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *