উইন্ডোজ

উইন্ডোজ ৭ : এখনো কি উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করা নিরাপদ?

4
উইন্ডোজ ৭ : এখনো কি উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করা নিরাপদ?

আপনি অবশ্যই জানেন, উইন্ডোজ ৭ কতোটা জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। প্রথমে মানুষ উইন্ডোজ এক্সপি ছাড়তে পারছিলো না এখন উইন্ডোজ ৭ অনেকে ছাড়তে পারছে না। তবে সবকিছুর একটা শেষ রয়েছে, আর উইন্ডোজ ৭ এর অফিশিয়াল এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট ২০২০ এর জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখে শেষ হতে চলেছে! যেটা দেখতে না দেখতেই দিন শেষ হয়ে যাবে।

মানে আর ১ বছরও সময় নেই এর মধ্যে উইন্ডোজ ৭ অলমোস্ট অ্যাবানডানওয়্যারে পরিণত হয়ে যাবে (যদিও ২০২৩ পর্যন্ত পেইড সাপোর্ট পাওয়া যাবে)। তো এখন কোটিকোটি টাকার প্রশ্ন হচ্ছে, এখনো কি উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করা নিরাপদ? যদি সব কথার এক কথা দিয়ে উত্তর দেয়, “তো নাহ! এটা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকায় ভালো!” যদিও এর সাপোর্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু এক কথায় উত্তর দিতে চাইলে, “না!”

এখন অনেকেই বলবেন, এই পর্যন্ত এটাই বেস্ট অপারেটিং সিস্টেম, আপনি এখনো এইটাই ব্যবহার করে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাহলে আমি কেন এর বিপক্ষে কথা বলছি? — ওয়েল, এই সকল টপিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য সারা আর্টিকেল পরে রয়েছে। চলুন, কেন উইন্ডোজ ৭ ব্যাড আইডিয়া, কেন উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার শুরু করা উচিৎ, এবং উইন্ডোজের সাপোর্ট সাইকেল কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি টপিক গুলোর উপর আড্ডা জমানো যাক!

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট টাইম লাইন

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের যেকোনো ভার্সনের উইন্ডোজ মূলত ১০ বছরের সাপোর্ট পেয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রথম ৫ বছর হচ্ছে মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট; যেখানে ফিচার আপডেট, ডিজাইন আপডেট, ইউআই আপডেট, সিকিউরিটি আপডেট, বাগ ফিক্স — ইত্যাদি প্রদান করা হয়ে থাকে। আর সত্যি বলতে মাইক্রোসফট খুবই ভালো মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট প্রদান করে আর এটা তারা অ্যাক্টিভ ভাবেই হ্যান্ডেল করে থাকে।

মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট শেষ হওয়ার পরের ৫ বছরে এরা এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট প্রদান করে। যেখানে শুধু মাত্র বাগ ফিক্স এবং সিকিউরিটি আপডেট প্রদান করা হয়ে থাকে। নতুন কোন ফিচার বা ডিজাইন আপগ্রেড করা হয় না। উইন্ডোজ ৭ এর মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট ২০১৫তেই শেষ হয়ে যায় — যেহেতু এটা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অপারেটিং সিস্টেম তাই এর মেইনস্ট্রিম সাপোর্ট কিছুটা বাড়ানো হয়েছিলো। যাই হোক, জানুয়ারি ২০২০ এ এর এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট ও শেষ হতে চলেছে।

উইন্ডোজ ৭ = হ্যাকারদের মজা

আর মাত্র কয়েক মাস, তারপরে উইন্ডোজ ৭ ইউজ করা সত্যি অনেক রিস্কি ব্যাপার হয়ে যাবে। এমন কোন অপারেটিং সিস্টেম যেটার সিকিউরিটি আপডেট এবং বাগ ফিক্স বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেটা ব্যবহার করতে আমি কখনোই রেকোমেন্ড করবো না। হ্যাকার তো এটাই চায়, এরকম কম্পিউটারকেই হ্যাকার টার্গেট বানাবে আর যা ইচ্ছা ম্যালিসিয়াস কার্যক্রম চালাবে। এরকম অপারেটিং সিস্টেম তো হ্যাকারের কাছে স্বর্গ সমতুল্য।

এখনো উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করা সেফ, কিন্তু সেটা আর মোটেও কয়েক মাস পরে থাকবে না। ঠিক যখন থেকে এর সাপোর্ট শেষ হবে তখন থেকেই বাগ আর সিকিউরিটি ভালনেরাবিলিটি খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবে হ্যাকাররা। যেহেতু এখনো অনেক ইউজার উইন্ডোজ ৭ ই ব্যবহার করে এবং অবশ্যই এর সাপোর্ট শেষ হওয়ার পরেও করবে, তাই হ্যাকারের কাছে উইন্ডোজ ৭ স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত হতে পারে।

আরো তিন বছরের এক্সট্রা এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট

কাহিনী কিন্তু এখানেই শেষ নয়, যদিও ২০২০ থেকে এর এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু মাইক্রোসফট আরো তিন বছর এর পেইড এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট প্রদান করবে। মানে মোটামুটি ২০২৩ সাল পর্যন্ত এর সিকিউরিটি আপডেট গুলো রিলিজ করা হবে, কিন্তু আপনি এক্সট্রা টাকা পে না করলে সেটা ডাউনলোড করে অ্যাপ্লাই করে নিতে পারবেন না।

যদিও এই এক্সট্রা সময় দেওয়ার পেছনে অনেক কারণ ও রয়েছে। অনেক কোম্পানি এখনো পর্যন্ত উইন্ডোজ ৭ ব্যাবহার করে, তাদের সকল সফটওয়্যার বা কার্যক্রম সে অনুসারে সেট করা রয়েছে। আপনি হয়তো হোম কম্পিউটার কয়েক মিনিটের আলাদা অপারেটিং সিস্টেমে আপগ্রেড করে নিতে পারবেন, কিন্তু কোম্পানিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা মোটেও সেরকম ইজি নয়।

তাদের কোম্পানিতে অনেক কম্পিউটার রয়েছে, সেগুলোকে আপগ্রেড করতে সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বিজনেসে ডাউন টাইম মানেই অনেক টাকার লোকসান। তাছাড়া নতুন অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করলে কর্মচারীদের নতুন করে ট্রেইনিং প্রদান করতে হবে। হ্যাঁ, আপনি আর আমি হয়তো ভাবছি এটা আবার ব্যাপার হলো? উইন্ডোজের সকল অপারেটিং সিস্টেম একই প্রায়, একটা ইউজ করলে আরেকটা আরামে ইউজ করা যেতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করুণ এমন অনেক লোক রয়েছে যারা মুখস্ত করে কম্পিউটার ইউজ করে, তাদের সামনে “My Computer” এর জায়গায় “This PC” হয়ে গেলেই সব কেল্লাফতেহ!

তাছাড়া অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো হয়তো নতুন অপারেটিং সিস্টেমে ঠিকঠাক কাজই করবে না। হতে পারে ঐ সফটওয়্যার অনেক গরিবভাবে প্রোগ্রামিং করা বা হতে পারে আদিম যুগের সফটওয়্যার যেটা নতুন অপারেটিং সিস্টেমের যোগ্য নয়। তো কাজের সফটওয়্যার ব্যবহার না করা গেলে তো কোম্পানিদের লস! তাই এসকল কথা বিবেচনা করে উইন্ডোজ ৭ এ আরো তিন বছর এক্সট্রা সাপোর্ট দেওয়া হবে।

কিন্তু এই ৩ বছরের এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট মোটেও সস্তা নয়, আপনি কোন উইন্ডোজ এডিশন ইউজ করছেন সে অনুসারে আপনাকে প্রত্যেক বছরে ডাবল টাকা পে করতে হবে। যেমন- উইন্ডোজ ৭ প্রো এর ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৫০ ডলার, দ্বিতীয় বছরে ১০০ ডলার এবং তৃতীয় বছরে ২০০ ডলার পে করতে হবে এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট পাওয়ার জন্য। তাছাড়া উইন্ডোজ ৭ এন্টারপ্রাইজের ক্ষেত্রে প্রথম বছর ২৫ ডলার, দ্বিতীয় বছর ৫০ ডলার এবং তৃতীয় বছরের জন্য ১০০ ডলার পে করতে হবে।

এখন একটি কোম্পানিতে তো আর একটা কম্পিউটার থাকে না, আর এই প্রাইস কিন্তু মাথাপিছু কম্পিউটার হিসেবে — তো বুঝতেই পারছেন কতোটা ব্যয়বহুল। তারপরেও মাইক্রোসফট একটি রাস্তা খোলা রেখেছে, যাতে কোম্পানি গুলো কিছুটা সময় নিয়ে হলেও নতুন অপারেটিং সিস্টেমে আপগ্রেড করতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে তারা পে করে পুরাতন অপারেটিং সিস্টেমেই আপডেট পেতে পারবে।

এখনো কতোজন উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করছে?

আপনি বলবেন, “আরে ভাই, আমি তো ২০১৫ সাল থেকেই উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করতে শুরু করেছি!” — এখনো কি সত্যিই অনেকে উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে? — হ্যাঁ, এখনো মারাত্মক পরিমাণে বেশি ইউজার উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে। একটি অনলাইন ওয়েবসাইট Statcounter.com অনুসারে এখনো ~৩৫% টোটাল ইন্টারনেট ইউজার এখনো উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে। তারা আসলে ওয়েব ব্রাউজার থেকে ডাটা কালেক্ট করে, যে কোন কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। সে অনুসারে এই ডাটা তৈরি করেছে।

তাদের এই অ্যানালাইজ করা ডাটা অনুসারে ~৫৩% টোটাল ইন্টারনেট ইউজার উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করে বর্তমানে। তো বুঝতেই পারছেন, এখনো সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ উইন্ডোজ ৭ ইউজার। গত বছরের তুলনায় মাত্র ১০% ইউজার উইন্ডোজ ৭ থেকে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করেছে। তো বুঝতেই পারছেন, উইন্ডোজ ৭ সাপোর্ট অফ হয়ে যাওয়ার পরে এই তিন ভাগের এক ভাগ ইউজার কতোটা বেশি সিকিউরিটি রিস্কের মধ্যে পরে যাবে, হ্যাকার ভালনেরাবিলিটি খুঁজে পাওয়া মাত্রই অ্যাটাক দেবে এটা নিশ্চিত!

তাহলে আপনি কি করবেন?

লং স্টোরি শর্ট — আপনি যদি একজন হোম ইউজার হয়ে থাকেন, আমি কিন্তু ভাই কোন কারণই দেখেছি না উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড না করার। উইন্ডোজ ১০ সত্যিই অসাধারণ, এতে প্রত্যেক ৬ মাস পরপর নতুন ফিচার ইঙ্কলুড করা হয়, নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট এবং বাকি আপডেট গুলো প্রদান করা হয়। তাছাড়া আপনি যদি জেনুইন উইন্ডোজ ৭ ইউজার হয়ে থাকেন, তো এখনো পর্যন্ত অফিশিয়ালভাবে ফ্রি উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করতে পারবেন। যদিও মাইক্রোসফট সেটা বলে না, তারা এটা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু অনেক টেক আর্টিকেল থেকে জানতে পারলাম, এটা এখনো কাজ করে।

আপনি যদি এই লিংক থেকে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ ইন্সটলেশন মিডিয়া টুল ডাউনলোড করেন আর আপনার পুরাতন অপারেটিং সিস্টেম ওয়ালা পিসিতে উইন্ডোজ ১০ ইন্সটল করার সময় “Upgrade This PC Now” এটি নির্বাচন করেন, তাহলে আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করতে পারবেন। তাছাড়া উইন্ডোজ ১০ ফ্রিতে ইউজ করার সকল লেজিট মাধ্যম চেক করতে পারেন।

আমি জানি না, ঠিক কতো পর্যন্ত এই সিস্টেম গুলো কাজ করবে এবং আপনি ফ্রি উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করতে পারবেন, বাট যতোদিন কাজ করছে ততোদিন অবশ্যই আপনার ফ্রিতে আপগ্রেড করে ফেলা উচিৎ। যদি আপনি পুরাতন সিস্টেম ইউজ করেন, সেক্ষেত্রে এখন হয়তো নতুন কম্পিউটার কিনতে চাচ্ছেন না আরো ১ দুই এক বছর পরে নতুন কম্পিউটার কিনবেন, সেক্ষেত্রে ৫০ ডলার প্রদান করে উইন্ডোজ ৭ এর পেইড এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট গ্রহণ করতে পারেন, তারপরে আপনাকে অবশ্যই উইন্ডোজ ১০ এ ফিরে আসতে হবে। কেননা ৩ বছর এক্সট্রা থাকতে চাইলে মোটামুটি ৩৫০ ডলার খরচ হয়ে যাবে।

মাইক্রোসফট নিজেও চায়, আপনি তাদের নতুন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করুণ, কেননা এটাতেই তাদের বেস্ট বেনিফিটস রয়েছে। যতোবেশি ইউজার উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করবে ততোবেশি সফটওয়্যার ডেভেলপার তাদের নতুন সফটওয়্যার উইন্ডোজ ১০ এর জন্য ডেভেলপ করবে। এতে দিন শেষে মাইক্রোসফটেরই লাভ। তাই হয়তো তারা এখনো ফ্রি আপগ্রেড প্রদান করছে।

আর যেহেতু মাত্র কয়েক মাস পরে উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করা ব্যায়বহুল আর টাকা খরচ না করলে অনেক রিস্কি হয়ে যায়, তাই উইন্ডোজ ১০ ইউজ শুরু করে দেওয়াই বেটার হবে সকল দিক থেকে!

আশা করছি, আজকের টপিক আমি পরিস্কার করতে সক্ষম হয়েছি, আপনি মোটামুটি ধারণা পেয়ে গেছেন, কেন উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার ছেড়ে দেওয়ায় ভালো!


Image Credit: By photoschmidt/Shutterstock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

অলমোস্ট যেকোনো ওয়েবসাইটে ইউজ করুণ ডার্ক মোড [ওয়্যারবিডি কুইক ট্রিকস!]

Previous article

ইউআরএল শর্টেনার কি? Goo.gl, Bit.ly, TinyUrl, YouTu.be, FB.Me, T.Co — ব্যাখ্যা!

Next article

You may also like

4 Comments

  1. আমি নিজেই ৭ ইউজার আর অন্যকে কি বলবো?
    তবে আমার প্রয়োজনীয় অনেক টুল আর কাজ করবে না।
    এটাই কষ্ট।

  2. Windows 10 Best 🙂

  3. গেমার অথবা গ্রাফিক্স ডিজাইনার না হলে চোখ বন্ধ করে উইন্ডোজ কে বিদায় জানিয়ে লিনাক্স ভিত্তিক ডিস্ট্রো বেছে নেওয়া ভালো।

  4. Dual cpu diye ki korbo?

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *