বর্তমান তারিখ:18 August, 2019

Brave ব্রাউজার রিভিউ : বেস্ট প্রাইভেসি ফোকাসড ব্রাউজার!

আমাদের এই প্রযুক্তি নির্ভর জীবনের সবথেকে প্রয়োজনীয় ভার্চুয়াল টুলসগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ওয়েব ব্রাউজার। ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করার জন্য সবার প্রথমে দরকার ডিভাইস, ইন্টারনেট কানেকশন এবং তারপরেই দরকার ওয়েব ব্রাউজার। আমরা যতক্ষন কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোন ব্যাবহার করি, তার অধিকাংশ সময়ই আমরা ওয়েব ব্রাউজারে কাটিয়ে দেই। তাই প্রত্যেকটি ইন্টারনেট কানেক্টেড ডিভাইসে একটি ভালো এবং রিলায়েবল ওয়েব ব্রাউজার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

জনপ্রিয় এবং কমন ওয়েব ব্রাউজারগুলো যেমন- গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স, অপেরা ব্রাউজার এগুলো আমরা সবাই চিনি এবং ব্যাবহারও করে থাকি। তবে আজকে আলোচনা করতে চলেছি একটি অন্যধরনের, ডিসেন্টলি পপুলার এবং আমার একটি পার্সোনাল ফেভারিট ওয়েব ব্রাউজার নিয়ে যেটার নাম ব্রেভ (Brave) ব্রাউজার।

২০১৪ সালে মজিলার (Mozilla) সিইও Brandon Eich মজিলা থেকে পদত্যাগ করেন এবং Brave Softwares কোম্পানিটি তৈরি করেন। তার লক্ষ্য ছিলো এমন একটি ফাস্ট এবং রিলায়েবল এবং গেম-চেঞ্জিং ব্রাউজার তৈরি করা যেখানে ইউজারের প্রাইভেসিই হবে সবথেকে বড় প্রায়োরিটি। আর হ্যা, Brave ব্রাউজার একটি ওপেন-সোর্স প্রোজেক্ট।

ইউজার ইন্টারফেস

ইউজার ইন্টারফেস বা ডিজাইন হচ্ছে একটি ওয়েব ব্রাউজারের অন্যতম একটি ফিচার, যার কারনে আমরা কোন ব্রাউজার ব্যাবহার করি। ইউজার ইন্টারফেসের কথা বললে, এটা অধিকাংশ ইউজারের ব্যাক্তিগত অভ্যাসের ওপরে নির্ভর করে। অনেকের পছন্দ মাইক্রোসফট এজ এবং ফায়ারফক্সের মতো বক্সড ট্যাব ডিজাইন, আবার অনেকের পছন্দ গুগল ক্রোমের ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ। আবার অনেকে ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে মাথাই ঘামান না।

তবে Brave ব্রাউজার যেহেতু ক্রোমিয়াম নির্ভর ব্রাউজার, তাই এটির ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে গুগল ক্রোম এবং অন্যান্য অধিকাংশ ক্রোমিয়াম নির্ভর ব্রাউজারের মিল পাবেন। তবে অরিজিনাল গুগল ক্রোমের টাইটেল বার এবং ট্যাবস বারের তুলনায় Brave ব্রাউজারের টাইটেল বার এবং ট্যাবস বার ও ট্যাবস ওপেনিং/সুইচিং অনেক বেশি স্মুথ এবং রেসপনসিভ। এছাড়া ব্রাউজারের সেটিংস পেজ এবং ব্রাউজারের সব ধরনের সেটিংসও গুগল ক্রোম এবং সব ক্রোমিয়াম নির্ভর ব্রাউজারের মতোই।

ফিচারস

এখানেই মুলত গুগল ক্রোম ও অন্যান্য ক্রোমিয়াম বেজড ব্রাউজার এবং Brave ব্রাউজার আলাদা। Brave ব্রাউজারে আপনি এমন অনেক ইউনিক ফিচারস পাবেন যেগুলো আপনি অন্যান্য অধিকাংশ ক্রোমিয়াম ব্রাউজারে পাবেন না। ক্রোমিয়াম ব্রাউজার হওয়ায় গুগল অ্যাকাউন্টের সাহায্যে লগইন করে আপনি ক্লাউড সিংক, থিম সিংক, এক্সটেনশনস সিংক, পাসওয়ার্ড সিংক ইত্যাদি সব ফিচারসই পাবেন যেগুলো গুগল ক্রোমে আছে।

তাছাড়া ক্রোম ওয়েবস্টোরে এভেইলেবল প্রায় সব এক্সটেনশনস এবং অ্যাপস আপনি Brave ব্রাউজারে ব্যাবহার করতে পারবেন। এবার জানা যাক এসব টিপিক্যাল ফিচারস ছাড়া এক্সট্রা আরও কি কি ফিচার আছে Brave ব্রাউজারে।

ইনোভেটিভ অ্যাড-ব্লকার

অ্যাড ব্লকিং ফিচারটি বর্তমানে প্রায় সব মডার্ন ওয়েব ব্রাউজারেই আছে। তবে Brave ব্রাউজারে অ্যাড ব্লকারকে একটু অন্যভাবে ইমপ্লিমেন্ট করা হয়েছে। তার আগে বলে নেওয়া ভালো, Brave ব্রাউজারের ইনবিল্ট অ্যাডব্লকারটি শুধুমাত্র অ্যাডসই ব্লক করেনা, বরং একইসাথে থার্ড পার্টি ট্র্যাকারস এবং কুকিজও ব্লক করে যাতে কেউ আপনার ব্রাউজিং বিহেভিয়র ট্র্যাক না করতে পারে। এছাড়া বিল্ট ইন Sheild টুলটি কোন ওয়েবসাইটের রান করা যেকোনো আনওয়ান্টেড এবং ম্যালিশিয়াস স্ক্রিপ্টও ব্লক করবে যাতে আপনি ম্যালওয়্যার বা হ্যাকার বা ক্রিপ্টোজ্যাকিং এর শিকার না হন।

আর হ্যা, Brave ব্রাউজারে WireBD ভিজিট করার সময় অ্যাডব্লকারটি ডিজেবল করে রাখতে ভুলবেন না! ?

Brave রিওয়ার্ডস

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য অ্যাডব্লকার খুব একটা ভালো ব্যাপার নয়, কারন অ্যাডসই হচ্ছে বিভিন্ন ব্লগ এবং কন্টেন্ট রাইটারদের প্রধান আয়ের উৎস। আর অ্যাড ব্লক করলে কন্টেন্ট রাইটারদের রেভিনিউ জেনারেট হয়না অথবা রেভিনিউ লস হয়। তাই এখানে Brave Softwares কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও অনেক সুযোগ রেখেছে। আপনি যদি Brave Rewards প্রোগ্রামে জয়েন করেন, তাহলে আপনি অ্যাডব্লকার অ্যাক্টিভ থাকা অবস্থাতেও ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময় বিভিন্ন জায়গায় Brave এর নিজের কিছু টার্গেটেড অ্যাডস দেখতে পারবেন, যে অ্যাডসগুলো দেখে আপনি কিছু Brave Rewards বা Brave এর ভাষায় BAT কারেন্সি জমা করতে পারবেন।

এরপর আপনি অ্যাডব্লকার অ্যাক্টিভ করে কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় চাইলে এই BAT কারেন্সি ঐ ব্লগটি বা ওয়েবসাইটটির ওনার বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে Tips হিসেবে গিফট করতে পারবেন তাদেরকে সাপোর্ট করার জন্য।

হ্যা, এই BAT এর রিয়াল ভ্যালু আছে। Brave কারেন্সির 30 BAT এর মূল্য প্রায় ৪ ইউএস ডলারের সমান। এছাড়া আপনি চাইলে নিজেই ডলারের সাহায্যে BAT পারচেজ করে ক্রিয়েটরদের Tip দিতে পারবেন। তবে এই সম্পূর্ণ রিওয়ার্ড সিস্টেমটিই অপশনাল। রিওয়ার্ড সিস্টেমে আপনাকে জয়েন করতেই হবে এবং Brave এর অ্যাডস দেখতেই হবে এমন কোন বাধ্যতা নেই। তবে বাংলাদেশে Brave Rewards এ জয়েন করেও কোন লাভ নেই। কারন, বাংলাদেশে Brave এর কোন অ্যাড পার্টনার নেই, আর তাই অ্যাডস দেখে BAT জমা করারও সুযোগ নেই।

পারফরমেন্স

ক্রোমিয়াম ইঞ্জিনের ওপরে তৈরি হওয়ায়, স্পিডের দিক থেকে এটা একেবারেই গুগল ক্রোমের মতোই। তবে বিল্ট ইন অ্যাড-ব্লকার, ট্র্যাকার ব্লকার এবং স্ক্রিপ্ট ব্লকার থাকায় গুগল ক্রোমের তুলনায় প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটই Brave ব্রাউজারে একটু ফাস্ট লোড হয়। এটা অবাক হওয়ার কিছু নয়, কারন অ্যাড,ট্র্যাকার এবং স্ক্রিপ্ট ব্লক করলে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটই বেশ লাইটওয়েট হয়ে যায়। তাছাড়া আকাশ পাতাল তফাত না হলেও, Brave ব্রাউজার গুগল ক্রোম এবং অপেরা ব্রাউজারের তুলনায় অনেকটাই কম মেমরি/র‍্যাম ইউজ করে। আপনি যদি গুগল ক্রোমে অভ্যস্থ হয়ে থাকেন, তাহলে Brave ব্রাউজার আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে।

ডাউনলোড Brave Browser for Windows/Linux/Mac

Brave স্মার্টফোন ব্রাউজার

Brave ব্রাউজার শুধুমাত্র উইন্ডোজ, লিনাক্স এবং ম্যাক ওএস নয়, এটির ফ্রি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ভার্সনও আছে। Brave ব্রাউজারের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনটিও ক্রোমিয়াম বেজড। তবে আইওএস ভার্সনটি সাফারির রেন্ডারিং ইঞ্জিন ব্যাবহার করে। কারন আইওএস এর কোন থার্ড পার্টি ব্রাউজারই অ্যাপলের নিজস্ব রেন্ডারিং ইঞ্জিন ব্যাতীত অন্য কোন ইঞ্জিন ব্যাবহার করতে পারে না (টিপিক্যাল অ্যাপল লিমিটেশনস!)।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Brave এর স্মার্টফোন ব্রাউজারেও আপনি প্রায় সব ফিচারই পাবেন। যেমন অ্যাডব্লকার এবং অ্যাডিশনাল যতগুলো কন্টেন্ট ব্লকার আছে সবগুলো স্মার্টফোন ব্রাউজারেও এভেইলেবল। আর স্মার্টফোন ব্রাউজারটি ইউজার ইন্টারফেসটি একেবারেই গুগল ক্রোমের মতোই। এছাড়া আর তেমন স্পেশাল কিছু নেই Brave ব্রাউজারের স্মার্টফোন ভার্সনে। তবে আপনি যদি ডেস্কটপে Brave ব্রাউজার ব্যাবহার করেন, তাহলে স্মার্টফোনেও এটাই ব্যাবহার করতে পারেন।

ডাউনলোড Brave Browser for Android

এই ছিলো Brave ব্রাউজারের একটি শর্ট রিভিউ। এই আর্টিকেলটি কোনভাবেই কোন পেইড বা স্পনসরড আর্টিকেল নয়। শুধুমাত্র নিজের একটি পার্সোনাল ফেভারিট ওয়েব ব্রাউজার সম্পর্কে বলতে চেয়েছি। আপনার ফেভারিট ওয়েব ব্রাউজার কোনটি? কেন সেটা আপনার ভালো লাগে? নিচে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন। এছাড়া অন্য কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই জানাবেন। 

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

10 Comments

  1. Lucky Khan Reply

    bro. This browser is much more like the original google chrome. Btw its more than google chrome. Thanks for sharing bro..

  2. Zubayer Hossain Reply

    খুব ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট। অনেক কিছু শিখতে পারলাম আজকে। ধন্যবাদ। আর হ্যা, আপনার নেয়া স্ক্রিনশট গুলো একটু কেয়ারফুল ভাবে নেয়া উচিত। দেখুন আপনার পোস্ট এর ফার্স্ট ইমেজে ইউটিউব সার্চ উঠে আছে (bit*c lasagna)।

  3. Shams Reply

    I want a lightweight, fast and secured web browser for pc, laptop and Android. What is your suggestion ? What about your views about cm browser, uc browser, duckduckgo, kiwi browser, operamini, dolphin browser and firefox focus?

    1. সিয়াম একান্ত Post author Reply

      There you go-
      CM Browser seems okay, but not the best.
      I hate UC Browser so much.
      Duckduckgo is a search engine so far I know. I don’t know if they released their own Web Browser too.
      I’ve never used Kiwi Browser in my life.
      Opera Mini was great back in those Java Mobile days. But now I don’t use it that much. It has some serious bugs with webpage rendering and page scaling.
      Firefox focus is nice, fast and lightweight. I like it.
      In my opinion, “Via Browser” is the best fast and lightweight browser for Android.
      Thanks. 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *