১০টি বেস্ট রেজিস্ট্রি ক্লিনার সফটওয়্যার টুল! [২০১৯]

সহজ কথায় বলতে গেলে আপনার উইন্ডোজ রেজিস্ট্রির এন্ট্রিগুলোর থেকে outdated এন্ট্রিগুলোকে মুছে দেওয়ার কাজে Registry Cleaner সফটওয়্যারগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই সকল রেজিস্ট্রিগুলো আপনার পিসিতে কোনো প্রোগ্রাম আনইন্সটল করার সময় কিংবা অন্য কোনো Windows Services এর মাধ্যমে তৈরিকৃত হয়ে থাকে। আর আজকের পোষ্টে দেখানো সেরা ১০টি রেজিস্ট্রি ক্লিনারের মধ্যে যেকোনোটিকে আপনি ব্যবহার করে আপনার পিসির উইন্ডোজ রেজিস্ট্রিকে আপনি neat and clear রাখতে পারবেন।

আপনি যদি ইন্টারনেটে উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি ক্লিনার লিখে সার্চ দেন তাহলে বেশ অনেকগুলোই সফটওয়্যার আপনি পেয়ে যাবেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই থাকবে ফ্রি এবং কিছুকিছুকে আপনি পেইড হিসেবে খুঁজে পাবেন। ফ্রি রেজিস্ট্রি ক্লিনার দিয়েই আপনার কাজ হয়ে যাবে তবে ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে কেবল আপনি পেইড টুল ব্যবহার করতে পারেন। একটি রেজিস্ট্রি ক্লিনারের বেসিক টাস্ক হচ্ছে আপনার পিসির রেজিস্ট্রি এন্ট্রিকে আউটডেটেড এবং অব্যবহৃত রেজিস্ট্রিকে সার্চ করা এবং সেগুলোকে ডিলেট করা।

উল্লেখ্য যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম নিজে থেকে রেগুলারভাবে আপনার পিসির রেজিস্ট্রি ক্লিন করে না আর সেখানেই আসে এই রেজিস্ট্রি ক্লিনার টুলসগুলো। আপনার পিসিতে অতিরিক্ত পরিমাণের অকেজো রেজিস্ট্রি জমে গেলে সেটার কারণে পিসি স্লো হয়ে যেতে পারে, তাই অন্তত প্রতি ১৫দিনে একবার রেজিস্ট্রি চেকআপ করা উচিত। তবে রেজিস্ট্রি ক্লিন করার আগে সেগুলোর ব্যাকআপ নিয়ে রাখা উচিত, কারণ ক্লিন করার পর “যদি” কোনো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে যাতে সেটা রিস্ট্রোর করা যায় তাই। তো চলুন ভূমিকায় আর কথা না বাড়িয়ে দেখে নেই উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি ক্লিন করার সেরা ১০টি সফটওয়্যারগুলোকে:


CCleaner


এই সফটওয়্যারটি ইতিমধ্যেই অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। Piriform স্টুডিও এই ফ্রি টুলটি পিসির বেস্ট অপটিমাইজেশন সফটওয়্যার হিসেবে বলা যায়। টুলটিতে অনান্য ইউটিলিটির সাথে রয়েছে ইনবিল্ট রেজিস্ট্রি ক্লিনার যা দিয়ে অন্য যেকোনো রেজিস্ট্রি ক্লিনারের মতোই আপনার পিসির অব্যবহৃত এবং অকেজো রেজিস্ট্রিগুলোকে ক্লিন করে নিতে পারবে। এছাড়াও রেজিস্ট্রিগুলোকে ক্লিন করার আগে আপনি CCleaner দিয়ে রেজিস্ট্রিগুলোর ব্যাকআপও নিয়ে রাখতে পারবেন।

CCleaner টুলটি ফ্রি সংষ্করণের পাশপাশি পেইড ভার্সনেও আপনি পাবেন তবে ফ্রি সংষ্করণ দিয়েই আপনার কাজ হয়ে যাবার কথা। টুলটি পেইড ভার্সন “CCleaner Professinal” টিতে আপনি পাবেন অটোমেটিক ব্রাউজার ক্লিনিং, রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং prioity সার্পোট। এই অপশনগুলো যদি আপনার দরকার হয় তাহলে এর পেইড সংষ্করণটি কিনে নিতে পারেন আপনি। সিক্লিনার ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

Wise Registry Cleaner


ইউজার ইন্টারফেসের ডিজাইনের ব্যাপারে যদি কথা বলি তাহলে CCleaner এর চাইতে Wise Registry Cleaner কে আমি একধাপ এগিয়ে রাখবো, কারণ Wise Registry Cleaner এর UI বা Visual Appearance আমাদের প্রথম টুল CCleaner এর চাইতে বেশ সুন্দর।

কিন্তু একটি রেজিস্ট্রি ক্লিনারের ভিজুয়্যাল ডিজাইনের চাইতে তার ম্যানেজমেন্ট বেশি মেটার করবে। Wise Registry Cleaner টুলটিতে আপনি দুটি মোড পাবেন, একটি হচ্ছে ফার্স্ট স্ক্যান এবং আরেকটি হচ্ছে ডিপ স্ক্যান। তবে Wise Registry Cleaner এর একটি বিষয় আমার কাছে ভালো লেগেছে তা হলো রেজিস্ট্রি এররগুলোকে এটা ক্যাটাগরি আকারে আপনার সামনে উপস্থাপন করবে।

যেখানে CCleaner য়ে আপনি এররগুলোকে এক্সেল শীট আকারে পাবেন। আর Wise Registry Cleaner দিয়ে কোনো রেজিস্ট্রি ডিলেট করার সময় সেগুলোকে অটোমেটিক্যালি ব্যাকআপ করা হয়ে থাকবে। আর এখানে বোনাস হিসেবে পাবেন registry defrag অপশন। Wise Registry Cleaner কে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

Auslogics Registry Cleaner


Auslogics স্টুডিও ফ্রি রেজিস্ট্রি ক্লিনার রয়েছে আমাদের আজকের লিস্টের তৃতীয় স্থানে। এই টুলটি আপনার পিসির যাবতীয় অকেজো রেজিস্ট্রিকে ক্যাটাগরি আকারে লিস্ট হিসেবে উপস্থাপন করবে, এই লিস্ট থেকে যেগুলোকে আপনি ফিক্স করতে না চান সেগুলোর থেকে টিকচিহ্ন উঠিয়ে নিতে পারেন।

তবে এই টুলটির UI তেমন আকর্ষণীয় নয়, অনেকটাই CCleaner এর মতো সিম্পল এবং পরিপাটি। আর এই টুলটিও রেজিস্ট্রি ক্লিন করার আগে সেগুলোর ব্যাকআপ নিয়ে থাকে। তবে আপনি চাইলে এই অটোমেটিক ব্যাকআপ প্রসেসটি বন্ধ করে রাখতে পারেন। এছাড়াও ক্লিনকৃত রেজিস্ট্রিকে আপনি ফিরিয়েও আনতে পারবেন Rescue Center এর মাধ্যমে। Auslogics Registry Cleaner ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

Glarysoft Registry Repair


Glarysoft Registry Repair টুলটির একটি কাজের জিনিস। টুলটি চালু করা মাত্রই অটোমেটিক ভাবে আপনার পিসির রেজিস্ট্রি স্ক্যান করা শুরু করবে। আর রেজাল্টগুলোকেও আপনি ক্যাটাগরি আকারে দেখতে পারবেন। রেজিস্ট্রিগুলো ক্লিন করার আগে অটোমেটিক ব্যাকআপ করার অপশনও আপনি পেয়ে যাবেন। আর টুলটির দ্বারা রেজিস্ট্রির ক্লিন করার পরেও সেগুলোকে দরকার পড়লে রিস্ট্রোর করতে পারবেন। Glarysoft Registry Repair কে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

SlimCleaner Free


SlimCleaner রেজিস্ট্রি ক্লিনারের ফ্রি সংস্করণটি রয়েছে আজকের লিস্টের ৫ম স্থানে। SlimCleaner Free দিয়ে আপনি শুধুমাত্র রেজিস্ট্রি নয় বরং উইন্ডোজের প্রায় সকল প্রকারের ক্লিনিং কার্যক্রম করতে পারবেন। তবে শুরুর দিকে সবগুলো অপশন বক্সে টিক চিহ্ন দেওয়া থাকায় আপনাকে নিদির্ষ্ট করে সেটিং করে নিতে হবে।

যেমন ধরুণ আপনি শুধুমাত্র রেজিস্ট্রি ক্লিন করবেন, এখন আপনাকে অনান্য ট্যাবের সকল checkboxes থেকে টিক চিহ্নগুলো উঠিয়ে নিতে হবে। তবে একবার টিক দিলে বা উঠিয়ে নিলে পরবর্তীতে এটা আবার করার প্রয়োজন পড়বে না। SlimCleaner Free ডাউনলোড করুন এখানে ক্লিক করে।

Easy Cleaner


আমাদের আজকের লিস্টের সবথেকে মিনিমালিস্টিক গ্রাফিক্স UI এবং অপশন রয়েছে এই Easy Cleaner টুলটিতে। কারণ এই ছোট্ট টুলটিকে মাত্র একজন বানিয়েছেন, কোনো স্টুডিও নয়। আর বলা বাহুল্য যে টুলটির ভিজুয়্যাল আপডেট ২০০৫ সালের পর আর করা হয়নি।

তবে আউটডেটেড ডিজাইন থাকলেও টুলটি দিয়ে আপনি রেজিস্ট্রি ক্লিন করার পাশাপাশি Duplicate File খুঁজতে পারবেন, অদরকারী শর্টকার্টকে খুঁজে নিয়ে মুছতে পারবেন, Startup প্রোগ্রামগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, ব্রাউজারের cookies কে ডিলেট করতে পারবেন হিস্টোরিও ক্লিয়ার করতে পারবেন (যদিও এটা খোদ ব্রাউজার থেকেই করা যায়)। Easy Cleaner ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

Argente Registry Cleaner


আমার নিজের করা টেস্টে লিস্টের অনান্য সকল টুলসের চাইতে এই Argente Registry Cleaner টুলটি স্ক্যান করতে সবথেকে বেশি সময় নিয়েছিলো। এই টুলটিতে রয়েছে wizard ভিক্তিক ইন্টারফেস যেখানে আপনি স্ক্যান ক্যাটাগরিকে ম্যানুয়ালভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন অথবা অটোমেটিকও রাখতে পারবেন। টুলটির ডিজাইন ততটা চমৎকার নয় আবার Easy Cleaner এর মতো একদম সাধাসিধেও নয়।

Argente Registry Cleaner দিয়ে রেজিস্ট্রি একবার ক্লিন করার পর, পরবর্তী ক্লিন করার আগ পর্যন্ত আপনি ডিলেটকৃত রেজিস্ট্রিগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এই টুলটিতে রয়েছে অটোমেটিক ক্লিনিং অপশন। এছাড়াও টুলটির পোর্টেবল সংস্করণও রয়েছে। Argente Registry Cleaner টুলটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। আপনি চাইলে শুধুমাত্র রেজিস্ট্রি ক্লিনারটি অথবা পুরো Argente Utilities কে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

Eusing Free Registry Cleaner


এই টুলটির ব্যাপারে প্রথমেই যে বিষয়টি আপনি লক্ষ্য করবেন সেটা হচ্ছে এর নাম। এই টুলটির নাম বেশ অদ্ভুত। আর টুলটি দেখতেও তেমন সুন্দর ডিজাইনের নয়। আর এই টুলটি দিয়ে শুধুমাত্র রেজিস্ট্রি ক্লিন করা ছাড়া আর কোনো কাজ আপনি করতে পারবেন না।

কোথায় কোথায় স্ক্যান করবেন সেটাও আপনি সিলেক্ট করে দিতে পারবেন। আর একবার ক্লিন করার পর চাইলে আপনি একশনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারবেন মানে হলো আগের রেজিস্ট্রি ক্লিনিংকে রিস্টোর করতে পারবেন। Eusing Free Registry Cleaner কে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

WinUtilties Registry Cleaner


YL Software স্টুডিও নিজস্ব সিকুরিটি ক্লিনিং সুইট WinUtilities এর একটি পার্ট হচ্ছে WinUtilties Registry Cleaner। আপনি চাইলে সম্পূর্ণ suite টি ডাউনলোড করে নিতে পারেন কিংবা শুধুমাত্র রেজিস্ট্রি ক্লিনার অংশটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

এই টুলটি দিয়ে রেজিস্টি ক্লিন করার আগে আপনি রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন যাতে কোনো সমস্যা হলে ব্যাক আপ থেকে রেজিস্ট্রিগুলোকে রিস্টোর করা যায়। উল্লেখ্য যে একই স্টুডিও আরেকটি রেজিস্ট্রি ক্লিনার রয়েছে ScanMyReg যেটা একটি পেইড সফটওয়্যার। WinUtilties Registry Cleaner কে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

JetClean


আমাদের আজকের সেরা ১০টি উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি ক্লিনারের লিস্টের সর্বশেষ স্থানে রয়েছে JetClean টুলটি। টুলটি দিয়ে আপনি আপনার পিসির রেজিস্ট্রি পরিস্কার করার পাশপাশি উইন্ডোজ ক্লিন, অ্যাপস ক্লিন, শর্টকাট ক্লিন এবং র‌্যাম ক্লিনিও করে নিতে পারবেন। আর সফটওয়্যারটি সাধারণ সংষ্করণের পাশপাশি আপনি পোর্টেবল সংষ্করণটিও পাবেন। তাই ইন্সটলের ঝামেলা এড়িয়েও আপনি এই টুলটি আপনার পিসিতে ব্যবহার করতে পারবেন। JetClean টুলটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।


এই ছিলো উইন্ডোজ রেজিস্ট্রি ক্লিন করার জন্য সেরা ১০টি সফটওয়্যার বা টুলস। এই টুলসগুলোর সবগুলোই আপনার পিসির রেজিস্ট্রিকে neat ‍and clear রাখতে পারবে। তবে লিস্টের সবগুলো টুলই আপনি ফ্রিতে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। আর প্রতিটি টুলেরই রয়েছে নিজস্ব কিছু সুবিধা। যেমন কিছু কিছু টুলের আপনি পোর্টেবল সংষ্করণ পাবেন। আর আবারো বলছি যে রেজিস্ট্রি ক্লিন করার আগে অবশ্যই এগুলোর ব্যাকআপ নিয়ে রাখবেন।

পোষ্টটি আপনার কাজে আসলে অবশ্যই সোশাল মিডিয়াতে পোষ্টটির লিংক শেয়ার করে দিন যাতে আপনার বন্ধুরাও পোষ্টটি দেখতে পারে। আগামীতে টপ ১০ উইন্ডোজ সফটওয়্যারের আরেকটি পর্ব নিয়ে আমি ফাহাদ চলে আসবো WireBD তে!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Feature Image: Shutterstock

যান্ত্রিক এই শহরে, ভিডিও গেমসের উপর নিজের সুখ খুঁজে পাই। যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে! কম্পিউটারকে আমার মতো করে আপন করে নিন দেখবেন আপনার আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *