বেস্ট উইন্ডোজ সফটওয়্যার

উইন্ডোজের জন্য ১০ টি বেস্ট সাউন্ড এডিটর সফটওয়্যার

2

আপনি যদি এই পোষ্টটি পড়ে থাকেন তাহলে চান্স রয়েছে আপনি অডিও এডিটিং সফটওয়্যারের খোঁজে রয়েছেন। হতে পারে সেটা কোনো ভিডিও টিমের জন্য, হতে পারে কোনো প্রজেক্টের অডিও এডিট করার জন্য কিংবা হতে পারে পারসোনাল কোনো কাজের জন্য। আবার নিজের স্মার্টফোনের জন্য কাস্টম রিংটোন তৈরি করতেও সাউন্ড এডিটর সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়। বর্তশানে কম্পিউটারের পাশাপাশি স্মার্টফোনেও সাউন্ড এডিটর সফটওয়্যার রয়েছে কিন্তু সেখানে কম্পিউটারের মতো প্রফেশনাল টুলস এবং ফিচার আপনি পাবেন না। কিন্তু আজ আমি স্মার্টফোনের ব্যাপারে কথা বলতে আসিনি, আজ এসেছি কম্পিউটারের জন্য ১০টি বেস্ট সাউন্ড এডিটর সফটওয়্যার নিয়ে।

পিসির জন্য অনেকগুলো সাউন্ড এডিটর সফটওয়্যার আপনি ইন্টারনেটে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। কিন্তু এক একটি সফটওয়্যারের এক এক রকম সুবিধা বা ফিচার রয়েছে, যেমন কোনো কোনো সাউন্ড এডিটিং সফটওয়্যার আপনি ফ্রিতেই পেয়ে যাবেন, কোনো কোনো সফটওয়্যারে এডিশনাল বিভিন্ন ফিচার রয়েছে, আবার কোনো কোনো সফটওয়্যার শুধুমাত্র একটি নিদির্ষ্ট অপারেটিং সিস্টেমে চলে। তো আমি আশা করবো আজকের পোষ্টটি আপনাকে আপনার জন্য সঠিক অডিও এডিটর সফটওয়্যারটি পিক করে নিতে সাহায্য করবে। চলুন ভূমিকায় আর কথা না বাড়িয়ে মূল পোষ্টে চলে যাই।

Adobe Audition

সাউন্ড এডিটিং সফটওয়্যারের কথা বললে সবার আগে নাম চলে আসে Adobe Audition এর। অনেকেই ভেবে থাকবেন Adobe মানেই গ্রাফিক্স এডিটিং সফটওয়্যার, কিন্তু এক্ষেত্রে তা নয়। সবথেকে বেস্ট অডিও এডিটিং যদি আপনি পেতে চান তাহলে আপনাকে Adobe Audition সফটওয়্যারে চলে আসতে হবে। এই সফটওয়্যারটিতে রয়েছে অডিও এডিটিং করার অনেকগুলো ফিচার, যেমন multi-track editing এবং mixing, এই ফিচারটি আপনি অন্য কোনো অডিও এডিটিং সফটওয়্যারে সাধারণত পাবেন না। এছাড়াও এতে রয়েছে এডোবি এর নিজস্ব “Auto Ducking” ফিচার যেটায় রয়েছে Adobe এর নিজস্ব AI ভিক্তিক “Adobe Sensei” টেকনোলজি যেটা নিজে থেকেই একটি অডিও ট্রাকের কোন স্থানে ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড কমিয়ে ভোকাল, স্পিচকে আরো ক্লিয়ার করতে পারবে।

অন্যদিকে আলাদা থার্ড পার্টি প্লাগ-ইন সার্পোট ছাড়াও সফটওয়্যারটিতে আপনি পাবেন এডোব এর নিজস্ব অনেক প্লাগ-ইনস।  বিভিন্ন প্রকার অডিও ফরম্যাট ছাড়াও Adobe Audition সফটওয়্যারটি Avi, Mp4, Mov, Flv ইত্যাদি ভিডিও ফরম্যাটও সার্পোট করবে। যারা যারা ভিডিওতে ভয়েসওভার করতে চান বা ভিডিও রিলেটেড অডিও এডিটিং করতে চান তাদের জন্য Adobe Audition অন্যতম সেরা চয়েজ হবে। সফটওয়্যারটির মন্দ দিক হিসেবে বলতে বলা যায় অডিও এডিটিংয়ে নতুন হলে আপনার কাছে Adobe Audition টি চালানো একটু কঠিন হবে, এছাড়া যারা মিউজিক প্রোডিউস করেন তাদের জন্য এই সফটওয়্যারটি উপযুক্ত নয়, আর এটি কিন্তু কোনো ফ্রি সফটওয়্যার নয়।

সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল সাইট

Logic Pro X

অডিও এডিটিং সফটওয়্যার সেক্টরে ম্যাকের জন্য বেস্ট অ্যাপ হচ্ছে Logic Pro X। মানে বুঝতেই পারছেন এটি একটি Mac only অ্যাপ। Logic Pro X তে আপনি Beginning এবং Professional দুটো ভাবেই অ্যাপকে ব্যবহার করতে পারবেন। মানে হলো অ্যাপটিতে অডিও এডিটিংয়ের সকল বেসিক ফিচার দেওয়া রয়েছে এবং একই সাথে আপনি প্রফেশনাল ভাবেও অ্যপটিকে ব্যবহার করতে পারবেন এর বিভিন্ন এডভান্স ফিচারের মাধ্যমে; এর মধ্যে একটি এডভান্স ফিচারের নাম হচ্ছে Smart Tempo যা একটি প্রজেক্টের বিভিন্ন অডিও ট্রাকের টাইমিংকে অটোমেটিক্যালি ম্যাচিং করতে পারবে।

এছাড়াও এতে রয়েছে Flex Time ফিচার যার মাধ্যমে আপনি একটি অডিও ট্রাকের একটি waveform এর একটি Single note কেও এডিট করতে পারবেন কোনো প্রকার ক্লিপ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝামেলা ছাড়াই। অন্যদিকে এতে রয়েছে অটোমেটিক্যালি chords কে apreggios তে কনভার্ট করার জন্য “arpeggiator” ফিচার। অ্যাপটি আগে থেকেই আপনি অনেক pre-recorded সাউন্ড পাবেন এবং পাবেন বিভিন্ন প্যাচ। অন্যদিকে প্রায় ৬০ গিগাবাইটের বেশি প্লাগ-ইনস আপনি Logic Pro X তে আলাদাভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। Wav, Aiff, Caf, Pcm, Alac, Aac, Mp3, Rex, Rcy সহ বিভিন্ন অডিও ফরম্যাট Logic Pro X সার্পোট করে।

সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

Audacity

আমাদের আজকের লিস্টের প্রথম ফ্রি সফটওয়্যার হলো  Audacity। আপনি এই অ্যাপের অবশ্যই আগে শুনে থাকবেন। এটি একটি ওপেন সোর্স এবং একই সাথে একটি ফ্রি সফটওয়্যার। আর এই অ্যাপটিকে আপনি ম্যাক, উইন্ডোজ সহ লিনাক্সেও ব্যবহার করতে পারবেন। ফ্রি হবার জন্য অডিও এডিটিং ক্ষেত্রে যেকেউই এই  Audacity দিয়ে তার অডিও এডিটিং এক্সপেরিয়েন্স শুরু করতে পারবেন।

ফ্রি হলেও অডিও এডিটিং এর সকল বেসিক ফিচার এতে রয়েছে, যেমন bass, treble, distortion, noise removal সহ রয়েছে beat finder, silence finder, sound finder সহ আরো বেশ কয়েকটি ফিচার। টুলের ব্যাপারে বলতে গেলেও এই ফ্রি অ্যাপে আপনি পাবেন time shift tool সহ বিভিন্ন থার্ড পার্টি এড-অনস। আর বিভিন্ন প্রকার অডিও ফরম্যাটের সার্পোট তো রয়েছেই।

অ্যাপটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

Reaper

আমাদের আজকের লিস্টের ৪র্থ স্থানে রয়েছে Reaper। সফটওয়্যারটি একই সাথে পাওয়ারফুল এবং অন্যদিকে ফিচার দিয়ে পরিপূর্ণ। Reaper এ রয়েছে মাল্টিপল ট্রাকসের জন্য সার্পোট, রয়েছে মাল্টি-চ্যানেল সার্পোট আর প্রতিটি ট্রাকে রয়েছে ৬৪টি চ্যানেলস এর সার্পোট। এছাড়াও এতে রয়েছে অডিও থেকে mono, stereo, multichannel audio files রেকর্ড করার ফিচার, রয়েছে একই সাথে মাল্টিপল ডিক্সস রেকর্ড করার সুবিধা। Reaper দিয়ে আপনি রিয়েল টাইম ইফেক্টস এপ্লাই করতে পারবেন। আর পারবেন MIDI প্লাগ ইন সহ যেকোনো থার্ড পার্টি প্লাগ ইন ব্যবহার করার সুযোগ।

সকল পপুলার ফাইল ফরম্যাটের পাশাপাশি Reaper বেশ কয়েকটি নন-পপুলার ফাইল ফরম্যাটও সার্পোট করে, এদের মধ্যে রয়েছে Acid, Aiff, Avi, Bwf, Cdda, Edl, Flac, Kar, Midi, Mogg, Mov, Mp3, Mpeg, Ogg vorbis, Ogg opus, Qt, Radar, Rex2, Syx, W64, Wav, Wavpack, Wmv সহ বিভিন্ন ফাইল ফরম্যাটের সার্পোট। এত সব ফিচারের সাথে সাথে পাবেন ইউজার ইন্টারফেস কাস্টমাইজ করার সুযোগ, মানে Reaper এর UI কে আপনি সম্পূর্ণ নিজের মতো করে কাস্টমাইজেশন করে নিতে পারবেন। সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

FL Studio

অডিও এডিটিং সফটওয়্যারের খোঁজে যদি আপনি থাকেন তাহলে FL Studio সফটওয়্যারে একবার ট্রাই করতে পারেন। এটি একটি প্রিমিয়াম অডিও এডিটিং অ্যাপ। FL Studio কে Martin Garrix, Porter Robinson ইত্যাদি তারকারও ব্যবহার করেছেন। এতে রয়েছে মাল্টি ট্রাক রেকডিং, time stretching এবং Pitch shifting এর মতো ফিচারস। এছাড়াও এতে রয়েছে একটি মিক্সার যেখানে আপনি chains, autmaiton, delay compensation এর মতো ফিচারগুলোকে পাবেন। সাথে সফটওয়্যারটি ইন্সটল করা মাত্রই আপনি প্রি-লোডেড ৮০টির বেশি প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে পারবেন।

VST standards এর সার্পোট সহ প্রায় যেকোনো থার্ড পার্টি প্লাগ-ইনস ও আপনি FL Studio তে ব্যবহার করতে পারবেন। FL Studio অ্যাপটিকে শুধুমাত্র মিউজিক আর্টিসদের উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে তাই অ্যাপটি হাতে গোনা কয়েকটি অডিও ফরম্যাট সার্পোট করবে, এদের মধ্যে রয়েছে Aiff, Ds, Dwp, Flac, Mid, Mp3, Ogg, Sf2, Speech, Syn, Xi এবং Wav ।

সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক

Ableton Live

বেস্ট অডিও এডিটিং সফটওয়্যারের লিস্টের ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে Ableton Live । ফিচারের কথা যদি বলি তাহলে এতে রয়েছে unlimted audio এবং MIDI tracks এর সার্পোট মানে আপনার প্রজেক্টে আপনি ইচ্ছেমত ট্রাকের লেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন কোনো টেনশন ছাড়াই। আর সাথে MIDI capture, 256 mono input and output channels এর সার্পোটও এর সাথে থাকছে। এছাড়াও সফটওয়্যারটি ইন্সটল করার সাথে সাথেই আপনি প্রায় ৭০ গিগাবাইট পর্যন্ত pre-recorded sounds স্যাম্পল ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন, সাথে পাবেন ১৫টি পর্যন্ত software instruments এবং ৪৬টি পর্যন্ত অডিও ইফেক্টস ব্যবহার করার সুযোগ।

তবে কেউ কেউ এর ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখিন হতে পারেন বিশেষ করে যারা আগে কখনো কোনো অডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করেননি। প্রিলোডেড সাউন্ড থাকলেও বিভিন্ন বেসিক ফিচার যেমন pitch correction এবং ইফেক্ট যোগ করার মতো ফিচার Ableton Live তে দেওয়া হয় নি। তবে Ableton Live সফটওয়্যারটি প্রায় সকল অডিও ফরম্যাট সার্পোট করে।

অ্যাপটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক

Cubase

আরেকটি প্রিমিয়াম অডিও এডিটিং সফটওয়্যার হচ্ছে Cubase। এটাকেও বেশ কয়েকটি তারকারা ব্যবহার করে থাকেন। এতে ফিচারের কথা বললে বলা যায় যে, Cubase য়ে রয়েছে Frequency Equalizer যেটার মাধ্যমে অডিও ট্রাকের বিভিন্ন স্থানে আপনি ফ্রিকোয়েন্সি এডিট করতে পারবেন, রয়েছে Auto-Pan Feature যার মাধ্যমে আপনার ট্রাকের বিভিন্ন ইফেক্টকে কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন। রয়েছে Audio-ins ফিচার যেটার মাধ্যমে আপনার অডিও ট্রাকে বিভিন্ন ফিল্টার এবং ইফেক্টের প্রয়োগ আপনি করতে পারবেন।

আর মজার ব্যাপার হলো আপনি Cubase য়ে কোনো প্লাগ-ইনস ব্যবহার করতে চান তাহলে সফটওয়্যারের Plugin Sentinel স্টার্টআপ হওয়ার সময় প্লাগ-ইনসগুলোকে স্ক্যান করে এর ভেলিডিটি যাচাই করে নেবে। আর অনান্য প্রিমিয়াম অডিও এডিটরের মতো এখানে আপনি পাবেন ফ্রিতে ট্রায়াল ব্যবহার করার সুযোগ। তবে Cubase সফটওয়্যারটি নতুন কারো জন্য নয়। যারা ইতিমধ্যেই অডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতা রাখেন তাদের জন্যই এটা।

সফটওয়্যারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক

Presonus Studio One

আমাদের আজকের লিস্টের অষ্টম স্থানে রয়েছে Presonus Studio One । আরেকটি প্রিমিয়াম অডিও এডিটিং সফটওয়্যার যেখানে পাবেন বিভিন্ন ফিচার তবে নতুনদের জন্য এই সফটওয়্যারটি নয়। কারণ নতুন যেকেউই প্রথমবার সফটওয়্যারটি চালু করার পর এর UI বা ইউজার ইন্টারফেস দেখে কনফিউজ হয়ে যেতে পারে যে কোন অপশনে কাজ কি! Presonus Studio One য়ে রয়েছে মাল্টিপল ট্রাক একই সাথে এডিট করার ফিচার সাথে পাবেন সফটওয়্যারের নিজস্ব Chord Track ফিচার যেটার মাধ্যমে আপনার অডিও প্রজেক্টের দ্রুত একটি প্রোটোটাইপ বানাতে পারবেন, যার মাধ্যমে সর্বশেষে অডিও প্রজেক্টটি শুনতে কেমন লাগবে সেটার প্রিভিউ আপনি শুনতে পারবেন।

এছাড়াও এতে রয়েছে Key modulation, chord subtitution সহ বিভিন্ন ফিচার। Studio One দিয়ে আপনি আপনার অডিও ট্রাকের chords দেরকে আইডেন্টিফাই করতে পারবেন এবং এমনকি ট্রাকের নিদিষ্ট chords কে ড্রাগ করে নিয়ে রেফারেন্স হিসেবেও এডিটিং করতে পারবেন। অন্যদিকে এতে রয়েছে beat quantizaiton এবং real-time stretching এর মতো ২০টির বেশি ফিচার। আগের সফটওয়্যারটির মতো এখানেও আপনি পাবেন প্লাগ-ইন স্ক্যানার।

সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল সাইট লিংক

Hindenburg Pro

অডিও এডিটিং সফটওয়্যারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম হচ্ছে Hindenburg Pro। এটি একটি ক্রস প্লাটফর্ম অডিও এডিটিং সফটওয়্যার যেটি উইন্ডোজ এবং ম্যাকওএস দুটিতেই কাজ করতে পারবে। বেসিক সকল ফিচার ছাড়াও এতে আপনি পাচ্ছেন মাল্টিট্রাক রেকডিং, ২৪ বিট অডিও ফাইলসের সার্পোট, বিভিন্ন ইফেক্টস, compressors, EQs, Loudness meter আর থার্ড পার্টি প্লাগ-ইনস ব্যবহার করার সুযোগ তো থাকছেই। অটোমেটিক EQ ফিচারের মাধ্যমে আপনি কোনো প্রকার twiking ছাড়াই আপনার অডিও ট্রাকের জন্য অটোমেটিক্যালি ভয়েস প্রোফাইল সেট করিয়ে নিতে পারবেন।

আর সকল প্রকার এডিটিং করার পর Hindenburg Pro দিয়ে আপনি আপনার অডিও প্রজেক্টকে বিভিন্ন ফরম্যাটে আউটপুট দিতে পারবেন যেমন mp3, aiff সহ Apple Lossless ফরম্যাটও Hindenburg Pro সফটওয়্যারটি সার্পোট করবে।

সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক

Ardour

আমাদের আজকেল লিস্টের একদম শেষে রয়েছে Ardour। যারা আগে কোনো অডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করেননি তাদের জন্য Ardour সফটওয়্যারটি Winamp অডিও প্লেয়ারের এডভান্স সংষ্করণের মতো মনে হতে পারে কারণ সফটওয়্যারটি ইউজার ইন্টারফেস অনেকটাই Winamp এর মতো। তবে Ardour এর প্রিমিয়াম সংষ্করণের পাশাপাশি রয়েছে সম্পূর্ণ ফ্রি ভার্সন যেটা বেসিক প্রয়োজনের খাতিরে যেকেউই ব্যবহার করতে পারবেন।

অডিও এডিটিং এর প্রায় সকল বেসিক ফিচারই রয়েছে এতে, ফিচারের পাশপাশি এতে রয়েছে বিভিন্ন এডিটিং টুলস যেমন cuts, crossfades, transposition, swing ইত্যাদি। আর এছাড়াও এতে পাবেন আনলিমিটেড আনডু এবং রিডু করার ফিচার মানে হচ্ছে আপনার মনে মতো করে অডিও প্রজেক্টে কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন । Ardour তে রয়েছে EQ, Automation, Faders, Monitors এর মতো বিভিন্ন মিক্সিং ফিচার। এগুলো ছাড়াও Ardour সফটওয়্যারটি শতাধিক থার্ড পার্টি প্লাগ-ইনস সার্পোট করে তাই ফিচারের কমতি হলে প্লাগ-ইনস তো রয়েছেই!

সফটওয়্যারটির অফিসিয়াল সাইট লিংক

এই ছিলো বর্তমানের সেরা ১০টি অডিও এডিটিং সফটওয়্যার। তবে মনে রাখা উচিত যে এগুলোর অধিকাংশই প্রিমিয়াম অডিও এডিটিং করার জন্য বানানো হয়েছে। আমাদের মতো যারা সাধারণ ইউজার রয়েছে যারা সাধারণ কাজের জন্য অডিও এডিটিং করতে চান তারা অন্য কোনো সফটওয়্যার দেখতে পারেন। যেমন Acoustica Basic Edition সফটওয়্যারের আপনি সকল বেসিক এডিটিং ফিচার “ফ্রিতেই” পাচ্ছেন, আবার আপনি যদি শুধু অডিও ফাইলসগুলোকে কেটে নিয়ে ছোট করতে চান মানে রিংটোন বানাতে চান তাহলে MP3 Cutter সফটওয়্যারকে ব্যবহার করতে পারেন।

আবার অনলাইনে অডিও এডিটিং করতে চাইলে Audio Joiner কে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু বেসিক দরকারের পাশাপাশি আপনি যদি অডিও এডিটিংয়ে প্রফেশনাল ভাবে ঢুকতে চান তাহলে AudioTool সফটওয়্যারটি দিয়ে শুরু করতে পারেন। আজকের পোষ্টটি এখানেই শেষ করছি, কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে নিজের কমেন্ট বক্সে চটপট করে ফেলতে পারেন। আগামীতে অন্য কোনো বিষয়ে টপ ১০ পোষ্ট নিয়ে আমি চলে আসবো। আল্লাহ হাফেজ।

ফাহাদ
যান্ত্রিক এই শহরে, ভিডিও গেমসের উপর নিজের সুখ খুঁজে পাই। যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে! কম্পিউটারকে আমার মতো করে আপন করে নিন দেখবেন আপনার আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হবে না।

ভয়েস মেসেজিং ফিচার এনেছে ইন্সটাগ্রাম

Previous article

ক্রেডিট কার্ড vs ডেবিট কার্ড : কোনটি আপনার জন্য পারফেক্ট?

Next article

You may also like

2 Comments

  1. ?

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *