WireBD

লটারি জেতা আপনার জন্য হতে পারে সবথেকে বড় দুর্ভাগ্য!

পৃথিবীর অন্যান্য প্রায় সকল মানুষের মতো আপনারো কি কখনো ইচ্ছা হয়েছে লটারি জেতার? আপনি কি লাইফে কয়েকবার হলেও ভেবে দেখেন নি যে, আপনি লটারি জিতলে কি কি করবেন? লটারি জিতলে আপনার লাইফ কি কি ভাবে চেঞ্জ হয়ে যাবে? আমরা সবাই ভেবেছি এই ব্যাপারে।

কিন্তু লটারি জেতা সবার ভাগ্যে থাকে না এবং যারা বড় কোন লটারি জিতে থাকে তাদেরকে আনঅফিসিয়ালি পৃথিবীর সবথেকে ভাগ্যবান ব্যাক্তিদের খাতায় নাম লিখিয়েই দেওয়া হয়। আপনি কি জানেন এখনো পর্যন্ত কারো জেতা সবথেকে বড় লটারিটি কি ছিলো? CNN Money এর তথ্য অনুযায়ী এই পর্যন্ত কারো জেতা সবথেকে বড় লটারিটি ছিলো ১.৫৮৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে, লটারি জেতা সবসময় একটি ভালো ব্যাপার নাও হতে পারে? এটা বললে কি আপনি বিশ্বাস করবেন যে, অনেক লটারি বিজয়ী ছিলেন যাদের কাছে লটারি জেতার ব্যাপারটি ছিলো একটি নিষ্ঠুর অভিশাপের মতো? আচ্ছা, আজকে যে ৫ জন ব্যাক্তিকে নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চলেছি, তাদের ব্যাপারে জানলে এবং বিশেষ করে লটারি জেতার পড়ে তাদের লাইফে কি কি হয়েছিলো তা জানলে হয়তো আপনি এই কথাটি বিশ্বাস করলেও করতে পারেন।

Doris Murray

৪২ বছর বয়সী খুবই সাধারন একজন মহিলা যার নাম Dorsi Murray, তিনি নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে ভাগ্যবান মহিলা বলে মনে করেছিলেন, যখন তিনি ২০০৭ সালে ৫ মিলিয়ন ডলারের জর্জিয়া লটারি জিতে যান। তার ভাষ্যমতে এই বিপুল পরিমান অর্থের সাহায্যে তিনি তার উত্তরাধিকারদের জন্য একটি ট্রাস্ট ফাণ্ড চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার ৫ মিলিয়ন ডলার প্রাইজ মানি নিয়ে মাত্র এক বছর কাটাতে পেরেছিলেন। এক বছর পরে তার এক্স বয়ফ্রেন্ড তার কাছে ফিরে আসে এবং তাদের সম্পর্কটি ফিক্স করার জন্য তাকে অনুরোধ করতে থাকে।

কিন্তু ৪২ বছর বয়সী Murray কোনভাবেই তার এক্স বয়ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক ফিক্স করা এবং তার সাথে নিজের প্রাইজ মানি শেয়ার করতে বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্টেড ছিলেন না। অবশেষে টাকার লোভে Murray এর এক্স বয়ফ্রেন্ড তাকে ছুরির সাহায্যে হত্যা করে। কয়েকদিনের মধ্যেই তার এক্স বয়ফ্রেন্ড তথা তার হত্যাকারীলে পুলিশ অ্যারেস্ট করে। কিন্তু সত্যিকারে এখানে কারোরই কোন লাভ হয়নি। এখানে শুধুই জীবন দিতে হয়েছে ৪২ বছর বয়সী একটি নির্দোষ মহিলার যিনি লটারি জিতে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছিলেন।

Jeffrey Dampier

৩৯ বছর বয়সী পুরুষ Jeffrey Dampier এর সাথেও অনেকটা এমনই হয়েছিলো। তবে দুঃখের ব্যাপারটি হচ্ছে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো তারই নিজের ফ্যামিলি মেম্বার। তিনি ১৯৯৬ সালে ২০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের লটারি জিতেছিলেন। তবে নিউজ অনুযায়ী তিনি তার প্রাইজ মানি নিয়ে স্বার্থপরের মতোও ব্যাবহার করেন নি। তিনি খুব আনন্দের সাথেই তার বন্ধুবান্ধব এবং ফ্যামিলি মেম্বারদের সাথে তার প্রাইজ শেয়ার করেছিলেন। কিন্তু Dampier এর শালী এবং তার বয়ফ্রেন্ড এটুকুতেই খুশি ছিল না। তারা প্রাইজের সবটাই চেয়েছিলো।

তাই তারা দুজন প্ল্যান করে Dampier কে কিডন্যাপ করে এবং তার মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করে। যদিও Dampier এর শালী এবং তার বয়ফ্রেন্ডকে কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশ অ্যারেস্ট করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়। কিন্তু শেষ হয়ে যায় লটারি বিজয়ী Dampier এর জীবন। এটিও আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরন যখন লটারি বিজয় আপনার জীবনে অভিশাপ হয়ে নেমে আসে এবং আপনার কাছের মানুষরাও অর্থের লোভে আপনার শত্রু হয়ে দাঁড়ায়।

Abraham Shakespeare

২০০৯ সালে ৪২ বছর বয়সী Shakespeare নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারেন নি যখন তিনি নিউজে দেখেন যে তিনি ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ফ্লোরিডা লটারি জিতেছেন। তিনি পেশায় ছিলেন একজন দিন-মজুর। তবে প্রাইজটি তিনি খুব বুঝে শুনেই খরচ করতে চেয়েছিলেন। তিনি লটারিতে জেতা টাকার থেকে প্রথমে একটি নিসান আল্টিমা গাড়ি এবং একটি রোলেক্স ঘড়ি ছাড়া আর এমন কিছুই কেনেন নি। নিউজ রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের লোকজন তাকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর কথা বলে এবং তাকে বিভিন্নভাবে হ্যারাজ করে তার টাকার কিছু অংশ পাওয়ার লোভে।

Shakespeare বলেন, ” আমি ভেবেছিলাম সকলেই আমার বন্ধু। কিন্তু লটারি জেতার পরে আমি বুঝেছি যে সবাই শুধুমাত্র আমার টাকা চায়।” এরপর হটাত করেই Shakespeare উধাও হয়ে যান এবং অনেকদিন পরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় একজনের বাসার পেছনের মাটির নিচে দাফন করা অবস্থায়। তদন্তের পরে জানা যায় যে, Shakespeare এর হত্যাকারী ছিলেন একজন মহিলা যে Shakespeare কে তার এই লটারির সমস্যা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়েছিলো এবং সেই সুত্রে তার সাথে বন্ধুত্ব করেছিলো। তার নাম ছিলো Dorcie Dee Dee More। এই মহিলা হত্যাকারীকে পড়ে পুলিশ অ্যারেস্ট করে এবং সে এখনো পর্যন্ত জেলেই তার জীবন কাটাচ্ছে।

Keith Gough

২০০৫ সালে Keith Gough প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরোর লটারি জিতে যান। তিনি লটারি জেতার পরপরই তার প্রাইজ মানি খরচ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম শুরু করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় ইনভেস্ট করতে থাকেন। তিনি তার প্রাইজ নিয়ে এতটাই উদাসীন ছিলেন যে, তিনি  প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরো হারান ইনভেস্টমেন্ট স্ক্যামের শিকার হয়ে। এছাড়াও তিনি আরো অনেকভাবে বিপুল পরিমান ইউরো খরচ করে ফেলেছিলেন। যেমন- তিনি অনেক রেস-এর ঘোড়া কিনেছিলেন, ফুটবল ক্লাব কিনেছিলেন এবং এমনকি মাদকদ্রব্যেও আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

অবশেষে খুব দ্রুতই যে তার সব সম্পদ তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন তাই নয়, বরং তিনি যা যা সম্পদ কিনেছিলেন সেগুলোও বিক্রি করে দিতে হয়েছিলো অর্থের অভাবে। যেমন তাকে তার কেনা রেস-এর ঘোড়াগুলো, তার BMW গাড়ি, তার ফুটবল ক্লাব সবকিছুই বিক্রি করে দিতে হয়েছিলো। অবশেষে তিনি একটি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং ডাক্তাররা তার মৃত্যুর কারন হিসেবে অর্থের অভার, অর্থ সম্পর্কিত সমস্যা এবং দুশ্চিন্তাকে দায়ী করেন। তার বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয় স্বজনরা সবাই শুধুমাত্র একটাই মন্তব্য করেছিলেন। তা হচ্ছে, “লটারি তাকে মেরে ফেলেছে”।

Billie Bob Harrel

লটারি ট্র্যাজেডিগুলোর মধ্যে Harrel এর ঘটনাটি সবথেকে দুঃখজনক। ১৯৯৭ সালে Harrel আকস্মিকভাবে টেক্সান লটারি জিতে পুরো ৩১ মিলিয়ন ইউএস ডলারের মালিক হয়ে যান। অন্যদের মতো তাকেও তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় স্বজন এবং অপরিচিত মানুষরাও ঘিরে ধরেছিলো তার অর্থের কিছুটা ভাগ পাওয়ার লোভে। তাদের থেকে বাঁচার জন্য Harrel তার ফোন নাম্বার এবং তার বাসাও চেঞ্জ করে ফেলেছিলেন। Harrel অনেকগুলো ফিন্যান্সিয়াল ডিসিশন নিয়েছিলেন যেগুলো ছিলো খুবই বোকামি এবং ধ্বংসাত্মক।

তাছাড়া লটারি জেতার পরপরই তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়ে দেন যা ছিলো তার জন্য আরো বড় একটি মানসিক ধাক্কা যার জন্য Harrel একেবারেই তৈরি ছিলেন না। লটারি জেতার প্রায় ২ বছর পরে যখন তার ব্যাংকে তখনো বিপুল পরিমান অর্থ অবশিষ্ট আছে তখন তিনি তার নিজের মাথায় পিস্তল ধরে নিজেকেই নিজে শুট করে আত্মহত্যা করেন। আর নিজেকে হত্যা করার আগে সুইসাইড নোটে তিনি লিখে যান, “লটারি জেতা ছিলো আমার লাইফের সবথেকে খারাপ ব্যাপার”।

শুধু এই পাঁচজন নয়, পৃথিবীতে আরো অনেক অনেক লটারি বিজয়ী আছেন যাদের কাছে লটারি জেতার ব্যাপারটা একটি সোনালি স্বপ্নের পরিবর্তে নিষ্ঠুর একটি দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়েছিল। হয়তো এইজন্যই এই প্রবাদটি চলে আসছে, “টাকা না থাকার এক জ্বালা, আর টাকা থাকার হাজার জ্বালা”। আপনার কি মনে হয়, আপনি যদি লটারি বিজয়ী হন তাহলে কি আপনি এসব প্রবলেমের সাথে ডিল করতে পারবেন? অথবা আপনি কি মনে করেন যে আপনি লটারি জিতলেও আপনার সাথে এসব হতে পারে? আপনি কি করতেন এই পাঁচজনের জায়গায় থাকলে? ইচ্ছা হলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।

আর হ্যা, ওয়্যারবিডির এই নতুন ভিন্নধর্মী লাইফস্টাইল আর্টিকেলগুলো আপনাদের কেমন লাগছে সেটাও অবশ্যই জানাবেন!

Source : The Infographiocs Show

সিয়াম একান্ত

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

10 comments

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!