মোবাইলরিভিউ

গ্যালাক্সি এস ৭ হান্ডস অন রিভিউ, চরম ডিজাইন সাথে অত্যাধুনিক ফিচারস

0
গ্যালাক্সি এস ৭

গ্যালাক্সি এস ৭, চরম প্রতীক্ষার পরে আজ রাত বাংলাদেশ সময় ১২ঃ০৬ মিনিট এ মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বার্সেলোনাতে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এর প্যাকেট উন্মুক্ত করা হয়। আমি অনলাইন এ এই অনুষ্ঠানটির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। গ্যালাক্সি এস ৭ ডিভাইজটি একটি আদর্শ কাটা প্রান্ত (EDGE) এবং ধাতু ও কাঁচ এর সমন্বয়ে গঠিত। আমি দেখলাম যে গ্যালাক্সি এস ৭ ডিভাইজটি অনেকটাই আগের স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৬ এর মতো দেখতে। এবং আপনি যখন এটাতে দেখবেন তখন তাই ই মনে হবে।

কিন্তু এই ডিভাইজ টি গ্যালাক্সি এস ৬ এর চেয়ে অনেক আধুনিক এবং মানসম্পন্ন। এখানে আছে মাইক্রো এসডি কার্ড এর সমর্থন সুবিধা। যাতে আপনি অনেক ছবি, সিনেমা এবং গান সংরক্ষন করতে পারবেন। মাইক্রো এসডি কার্ড এর সমর্থন সুবিধা থাকার কারণে আপনাকে শুধু অধিক স্টোরেজ এর জন্য আলাদা মডেল এর বেশি দামী ফোন কিনতে হবে না।

গ্যালাক্সি এস ৭ আবারো একবার পানি প্রতিরোধী ক্ষমতা ফিরে নিয়ে আসলো। শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি জীবন এবং সামনের ও পেছনের উভয় ক্যামেরা এবং ফোনটির প্রসেসর আপনাকে দেবে মসৃণ অভিজ্ঞতা, এই বলে স্যামসাং কোম্পানিটি অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু আপনি এখনো এর ব্যাটারি নিজে থেকে খুলতে পারবেন না। মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বার্সেলোনাতে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এর প্যাকেট উন্মুক্ত করার আগে এখানে এলজি জি ৫ ফোনটি উদ্বোধন করা হয়। এই ফোনটিতে আপনি ব্যাটারি নিজে থেকে খুলতে পাড়ার সুবিধা পেতে পারেন।

গ্যালাক্সি এস ৭ হান্ডস অন রিভিউ

আপনি যদি এখন স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৬ এর ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় লক্ষ করেছেন যে এই ফোনটি বর্তমান প্রযুক্তির সাথে অনেক সাদৃশ্যপূর্ণ। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি যে গ্যালাক্সি এস ৬ তেমন নতুন কিছু দিতে পারেনি যেটা আগে থেকে স্মার্টফোন জগতে ছিল না। আপনি যদি গ্যালাক্সি এস ৬ এজ+ এর ও কথা বলেন তবে এই ফোনটি তেও আমরা বিশেষ নতুন কিছু লক্ষ করতে পাইনি। যদিও ফোনটি কয়েক মাস আগেই বাজারে উন্মুক্ত করা হয়। কি এখন যদি কথা বলা হয় স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ বা বড় পর্দার গ্যালাক্সি এস ৭ এজ নিয়ে, তবে আমি অঙ্গীকার করে বলতে পারি যে এই ফোনটি আপনার ব্যবহার এর অভিজ্ঞতা কে পালটে দেবে। আমি মনে করি ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি এবং স্টোরেজ বৃদ্ধি করন সুবিধা নিয়ে এই ফোনটি ২০১৬ সাল এর সেরা স্মার্টফোন হতে চলেছে। যেখানে স্টোরেজ বৃদ্ধি করন সুবিধার বিশাল ত্রুটি রয়েছে অ্যাপেল এর আইফোন এ।

স্যামসাং কে প্রতিবছরই এর ডিজাইন এবং ফিচার অভিন্নতার কারনে ভোগতে হয়। যেখানে আক্রমনাত্মক কোম্পানি গুলো যেমন Xiaomi এবং Huawei স্যামসাং এর ডিজাইন এবং ফিচার অভিন্নতার ফায়েদা উঠিয়ে এক চাটিয়ে ব্যবসা করে। কিন্তু এবার গ্যালাক্সি এস ৭ এবং বড় পর্দার গ্যালাক্সি এস ৭ এজ ভোক্তাগনদের আসল চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে বলে কোরিয়ান এই কোম্পানিটি আশা ব্যক্ত করেছে।

গ্যালাক্সি এস ৭ এবং গ্যালাক্সি এস ৭ এজ মার্চ মাসের ১১ তারিখ থেকে বাজারে পাওয়া যাবে। এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এর প্রি-অডার নেওয়া শুরু করা হবে। ফোনটির দাম স্যামসাং এখনও প্রকাশ করেনি। তবে একটি ডিল প্রকাশ করেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস ৭ এবং গ্যালাক্সি এস ৭ এজ ফোনটি ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ এর ভেতর যারা যারা ক্রয় করবেন তাদের এই ফোনটির সাথে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ডিভাইজ বিনা মুল্যে দেওয়া হবে। এই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ডিভাইজটি গ্যালাক্সি এস ৭ এবং গ্যালাক্সি এস ৭ এজ উভয় ডিভাইজকে সমর্থন করবে। তাছাড়া সাথে ৬ টি বিনামূল্যে গেম ও দেওয়া হবে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৭ এর বিস্তারিত ফিচার নিচে দেখুন

গ্যালাক্সি এস ৭ এর নতুন এবং উল্লেখযোগ্য ফিচার সমূহঃ

গ্যালাক্সি এস ৭

ছবিঃ সি-নেট

  • Android 6.0 Marshmallow সফটওয়্যার।
  • ৫.১ ইঞ্চি স্ক্রীন সাথে, ২,৫৬০x১,৪৪০ পিক্সেল রেজুলেসন।
  • ৩২ জিবি এবং ৬৪ জিবি ফোন স্টোরেজ, এটি দেশ ভিত্তিতে পাঠাবে স্যামসাং।
  • মাইক্রো এস-ডি এর জন্য আলাদা স্লট, যেখানে অতিরিক্ত ২০০ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ বাড়ানো যাবে।
  • ১২ মেগাপিক্সেলস ক্যামেরা। (নিচে এর ক্যামেরা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)।
  • পানি প্রতিরোধী।
  • ৩,০০০ mAh ব্যাটারি, (যেখানে গ্যালাক্সি এস ৬ এর ২,৫৫০ mAh ব্যাটারি ছিল)।
  • “অলওয়েজ অন ডিসপ্লে” যেটা ঘড়ি, ক্যালেন্ডার এবং ছবি প্রদর্শন করবে তাও আবার লক স্ক্রিন থেকেই।
  • কোয়ালকম স্নাপড্রাগন ৮২০ প্রসেসর।
  • সাথে থাকছে গেমিং এর জন্য উৎসর্গ করা ফিচার, স্ক্রীন রেকর্ড এবং do-not-disturb মুড এ ইঙ্কামিং নোটিফিকেশান ব্লক।
  • রঙঃ black onyx, gold platinum।

গ্যালাক্সি এস ৭ এর ১২ মেগাপিক্সেলস ক্যামেরা

গ্যালাক্সি এস ৭

ছবিঃ সি-নেট

গ্যালাক্সি এস ৭ এ ১২ মেগাপিক্সেলস ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। যেখানে গ্যালাক্সি এস ৬ এর মেইন সুটার টি ছিল ১৬ মেগাপিক্সেলস। যেখানে কম মেগাপিক্সেলস মানে কম রেজুলেসন এর ছবি। তবে সেন্সর এর আকার তারা অপরিবর্তিত রেখেছে। স্যামসাং এটি কি ভেবে করলো? তারা ১৬ মেগাপিক্সেলস থেকে ডাউনগ্রেড হয়ে ১২ মেগাপিক্সেলস ক্যামেরাতে কেনো ফিরে আসলো? তাদের কি হার্ডওয়্যার বাজেট এ কমতি পড়েছিলো?

মেগাপিক্সেলস এ কমতি নিয়ে আসলে ইমেজ এর রেজুলেসন কমে যায়। কিন্তু স্যামসাং বলেছে কম মেগাপিক্সেলস থাকলেও তারা প্রত্যেকটি পিক্সেলকে বড় করে স্থাপন করেছেন। এবং বেশি বড় পিক্সেল আরো বেশি লাইট ধারন করতে পারবে। গ্যালাক্সি এস ৭ ক্যামেরায় অধিকতর চৌরা aperture ব্যবহার করা হয়েছে। যেটি এস ৬ এর তুলনায় বেশি আলো ধারন করতে সক্ষম হবে।

গ্যালাক্সি এস ৭ এর ক্যামেরায় কি নতুন কোনো ট্রিক আছে?

হাঁ, আপনারা গ্যালাক্সি এস ৭ এর ক্যামেরা নিয়ে যতোটুকু ভেবেছেন এতোক্ষণ এ তার চেয়ে বেশি কিছুই আছে এর ক্যামেরাতে। বিশেষ করে ইনস্ট্যান্ট অটো-ফোকাস ফিচার। যাতে করে আপনি আরো স্বত:স্ফূর্ত মুহূর্ত গুলো ক্যামেরা বন্দী করতে পারবেন। আইফোন ৬ এস এর মতো ক্যামেরার ফোকাস নেওয়া পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে না।

তাছাড়াও স্যামসাং এর নতুন ফিচার থাকছে Motion ফটো। আইফোন এর লাইভ ফটোর কথা মনে আছে আপনার?

গ্যালাক্সি এস ৭ এর Motion ফটোঃ

এটি বিভিন্ন নড়াচড়া করা বস্তুর ফটো নিতে পারবে। যেমনঃ বাচ্চাদের, কুকুরদের অথবা কোনো বিচিত্রা অনুষ্ঠান এর। এটি ঠিক আইফোন এর লাইভ ফটোর মতো কাজ করে। এটি একটি ভিডিও এর কয়েক সেকেন্ড ক্যপচার করে, এবং Motion ফটো প্রদান করে। ফলে আপনার ফটো কয়েক সেকেন্ড এর জন্য জিবন্ত হয়ে ওঠে। Motion ফটো তোলার পর এটি গ্যালারীতে জমা হবে এবং এটি শেয়ার করা যাবে না। কিন্তু আপনি সেখান থেকে JPEG ফরম্যাট করে পছন্দের কিছু ক্যপচার শেয়ার করতে পারবেন। যদিও এই ফিচার পূর্বে  আইফোন এর লাইভ ফটোতে দেখা গেছে। তাই আমি আর বিশেষ বাড়িয়ে এই রিভিউ টিতে লিখছি না।

গ্যালাক্সি এস ৭ এর Motion panorama:

এটি নতুন এবং অসাধারণ একটি ফিচার। এখান আপনি panorama তেও Motion ফটো উঠাতে পারবেন। মনে করুন আপনি আপনার গ্রুপ এর সাথে panorama ফটো তুলছেন, তখন সবাই হাত নেড়ে হাই জানালেন তখন এই Motion panorama অনেক ভালো অভিজ্ঞতা দেবে আপনাকে। আপনি এই ফটো ভিডিও আকারে শেয়ার ও করতে পারবেন।

গ্যালাক্সি এস ৭ এর “অলওয়েজ অন ডিসপ্লে”, এটা কতটা ব্যাটারি ব্যবহার করবে?

গ্যালাক্সি এস ৭

ছবিঃ সি-নেট

গ্যালাক্সি এস ৭ পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে এক নতুন ফিচার এর সাথে টা হলো “অলওয়েজ অন ডিসপ্লে”। এতে ডিসপ্লে এর আলো চলে যাওয়ার পড়ে ও ঘড়ি, ক্যালেন্ডার এবং ছবি প্রদর্শন করবে। স্যামসাং মনে করে একটি সাধারন মানুষ দিনে ৫০-১০০ বার তার ফোন এর স্ক্রীন এর দিয়ে তাকায়, সময় নোটিফিকেশান ইত্যাদি জানার জন্য। তাই প্রতিবার যাতে বাটন চাপ দিয়ে লক স্ক্রীন সরিয়ে বা ডিসপ্লে আলো জ্বালিয়ে আপনাকে সময়, তারিখ কিংবা নোটিফিকেশান না দেখতে হয় তার জন্যই এই “অলওয়েজ অন ডিসপ্লে”।

স্যামসাং বলেছে এই “অলওয়েজ অন ডিসপ্লে” ফিচারটি ব্যাটারি জীবন থেকে ১% ব্যাটারি ব্যবহার করবে। যেখানে শুধু সময় জানার জন্য বারবার  লক স্ক্রীন সরিয়ে বা ডিসপ্লে আলো জ্বালিয়ে বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করা হতো। “অলওয়েজ অন ডিসপ্লে” ফিচারটি মাইক্রোসফট লুমিয়া (নোকিয়া লুমিয়া) ডিভাইজ গুলোতে দেখা যেতো।

গ্যালাক্সি এস ৭ এর সাথে অন্য ফোন গুলোর হার্ডওয়্যার তুলনাঃ

[table id=1 /]

ইংরেজি টেক ব্লগ

ছবিঃ সি-নেট

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

ক্লাউড কম্পিউটিং কি? ক্লাউড কম্পিউটিং এর বিস্তারিত জানুন

Previous article

অসংখ্য অ্যামেরিকান এই গ্রহ ত্যাগ করতে চায়

Next article

You may also like

Comments

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *