WireBD

শাওমি মি ব্যান্ড ৩ রিভিউ : বেস্ট বাজেট ফিটনেস ব্যান্ড!

স্মার্ট ব্যান্ড বা ফিটনেস ব্যান্ড তৈরির জন্য বিশেষ করে দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোতে শাওমির বেশ পরিচিতি আছে। শাওমির মি ব্যান্ড সিরিজের প্রায় সবগুলো ডিভাইসই ছিলো বেশ সাকসেসফুল। বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার মার্কেটে ফিটনেস ব্যান্ড বা স্মার্ট ব্যান্ড বলতে মানুষ সাধারনত শাওমির মি ব্যান্ড সিরিজের ডিভাইসগুলোই বুঝে থাকে। শাওমির গত বছরের মি ব্যান্ড ২ এশিয়ার দেশগুলোতে বেশ ভালো সাড়া ফেলেছিলো এবং বিপুল পরিমান সেলও হয়েছিলো এর কম প্রাইস এবং বাজেট স্মার্ট ব্যান্ড হওয়া সত্ত্বেও এর ইম্প্রেসিভ ফিচারসগুলোর কারনে। তবে আজকে আলোচনা করতে চলেছি মি ব্যান্ড ৩ নিয়ে।

গত বছরের মি ব্যান্ড ২ এর সফলতার সুত্র ধরেই শাওমি এবছর রিলিজ করেছে তাদের মি ব্যান্ড সিরিজের পরবর্তী স্মার্ট ব্যান্ড এবং মি ব্যান্ড ২ এর আপগ্রেডেড ভারশন, মি ব্যান্ড ৩। শাওমির এই আপগ্রেডেড স্মার্ট ব্যান্ডটি আমি গত প্রায় ৭ দিন ধরে ব্যাবহার করেছি। আজকে এই ডিভাইসটি নিয়েই আলোচনা করতে চলেছি। মি ব্যান্ড ৩ এর সম্পূর্ণ একটি ডিটেইলড হ্যান্ডস অন রিভিউ দেওয়ার চেষ্টা করবো।

আর হ্যা, আমাদের মি ব্যান্ড ৩ স্মার্ট ব্যান্ডটি স্পনসর করেছে GearBest। মি ব্যান্ড ৩ সহ অন্যান্য স্মার্ট ব্যান্ডস এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং প্রোডাক্টস দেখতে বা কিনতে ভিজিট করতে পারেন তাদের ওয়েবসাইট এবং অফিশিয়াল GearBest Bangladesh ফেসবুক পেজ। GearBest থেকে মি ব্যান্ড ৩ কিনতে চাইলে অথবা প্রোডাক্ট পেজটি দেখতে চাইলে এখানে দেখতে পারেন।

বিল্ড কোয়ালিটি

শাওমির মি ব্যান্ড ডিভাইসগুলো সবসময়ই তাদের প্রাইসের তুলনায় অনেক বেশি প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটির হয়ে থাকে। সত্যি কথা বলতে, বাজেট স্মার্ট ব্যান্ডগুলোর মধ্যে সবথেকে ভালো বিল্ড কোয়ালিটির ডিভাইসগুলোই শাওমির মি ব্যান্ড। শাওমির প্রথম স্মার্ট ব্যান্ডটিতে কোন স্ক্রিনই ছিলো না। সম্পূর্ণ ব্যান্ডটিকেই কনট্রোল করতে হত এর কম্প্যানিয়ন অ্যাপের সাহায্যে। গত বছরের মি ব্যান্ড ২ তে তারা ছোট্ট একটি স্ক্রিন দিয়েছিলো যেটি টাচ-স্ক্রিন ছিলো না। এই ছোট্ট স্ক্রিনে টাইম, স্টেপস, হার্টরেট ইত্যাদি ছোট ছোট ইনফরমেশনগুলো চেক করা যেত। তবে সব মি ব্যান্ডেরই বিল্ড কোয়ালিটি ছিলো প্রশংসনীয়। এবারের মি ব্যান্ড ৩ এর বিল্ড কোয়ালিটি আগের দুটির থেকেও বেটার। মি ব্যান্ড ৩ তে আছে আগের তুলনায় আরেকটু বড় স্ক্রিন, যার পুরোটাই টাচ-স্ক্রিন। এছাড়া ব্যান্ডের নিচের দিকে গত বছরের মি ব্যান্ড ২ এর মতো একটি বাটনও আছে যেটিতে টাচ করে স্ক্রিন অন করা যায়। এছাড়া সম্পূর্ণ ইউআইতে নেভিগেট করার জন্য সরাসরি ছোট স্ক্রিনটিতে সোয়াইপ করাই যথেষ্ট।

শাওমি মি ব্যান্ড ৩

গত বছরের মি ব্যান্ড ২ ডিভাইসটিও আমি ব্যাবহার করেছি প্রায় ১ বছর ধরে। সত্যি কথা বলতে, মি ব্যান্ড ২ এর স্ক্রিনটিতে খুব সহজেই স্ক্র্যাচ পড়ে যেত যদি স্ক্রিন প্রোটেক্টর ব্যাবহার না করা হত। আর স্মার্ট ব্যান্ডে স্ক্রিন প্রটেক্টর সাধারনত কেউ ব্যাবহার করে না। তাই এটি ছিলো মি ব্যান্ড ২ এর অন্যতম একটি গুরুতর সমস্যা। তবে মি ব্যান্ড ৩ এর স্ক্রিনটি আগের মডেলের তুলনায় অনেক বেশি স্ক্র্যাচ রেসিস্ট্যান্ট বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। তার মানে এই না যে, এটির স্ক্রিনে কখনোই কোন স্ক্র্যাচ পড়বে না। আমি ৭ দিন ধরে ডিভাইসটি ব্যাবহার করেছি এবং এই কয়েকদিকে এটির স্ক্রিনে খুবই সামান্য কিছু স্ক্র্যাচ পড়েছে যেগুলো খালি চোখে নোটিসেবলও নয়, যেখানে আগের মি ব্যান্ড ২ তে ২-৩ দিনের মধ্যেই এমন স্ক্র্যাচ পড়ে গিয়েছিলো যেগুলো সহজেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো। তাই মি ব্যান্ড ৩ এর স্ক্রিনটি আমার কাছে বেশি ডিউরেবল মনে হয়েছে।

শাওমি মি ব্যান্ড ৩

তাছাড়া স্ক্রিনের আরেকটি ব্যাপার আমার কাছে ভালো লেগেছে। তা হচ্ছে, মি ব্যান্ড ৩ এর স্ক্রিনটি আগের মডেলের মতো একেবারে ফ্ল্যাট নয়। স্ক্রিনটি চারদিক থেকে কার্ভড করা (অনেকটা স্যামসাং এর ইনফিনিট ডিসপ্লের এজগুলোর মতো), যার ফলে স্ক্রিনে খুব স্মুথলি আঙ্গুল সোয়াইপ করা সম্ভব হয়। আরেকটা ভালো ব্যাপার হচ্ছে, মি ব্যান্ড ৩ তে যে স্ট্র্যাপ ব্যাবহার করা হয়েছে সেটি আগের মি ব্যান্ড ২ এর স্ট্র্যাপটির মতোই। এর ফলে আগের মি ব্যান্ড ২ এর স্ট্র্যাপটিতেই মি ব্যান্ড ৩ ব্যাবহার করা যাবে। এছাড়া মি ব্যান্ড ৩ এর চার্জার ক্যাবলটিও মি ব্যান্ড ২ এর মতোই। তাই একই চার্জার ব্যাবহার করে মি ব্যান্ড ২ এবং ৩ দুটিই চার্জ করা যাবে, যা যথেষ্ট কনভেনিয়েন্ট একটি ফিচার।

এছাড়া আরেকটি ভালো ব্যাপার হচ্ছে, গত বছরের মি ব্যান্ড ২ এর মতো এবছরের মি ব্যান্ড ৩ ও ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট। তবে শাওমি অফিশিয়ালি এটির কোন আইপি রেটিং অ্যানাউন্স করে নি। তবে নিশ্চিতভাবেই বৃষ্টির সময় বা আদ্র পরিবেশে এই ব্যান্ডটি ব্যাবহার করতে কোনরকম সমস্যাই হবে না। আমি এই ব্যান্ডটিকে প্রায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় পানিতে ডুবিয়ে রেখে দেখছি এবং কোনরকম কোন সমস্যা লক্ষ্য করিনি এখনো পর্যন্ত।


ডিসপ্লে এবং ফিচারস

মি ব্যান্ড ৩ তে যে ছোট্ট টাচস্ক্রিন ডিসপ্লেটি ব্যাবহার করা হয়েছে, সেটি একটি ০.৭৮ ইঞ্চির OLED ডিসপ্লে এবং এর রেজুলেশন ১২৮*৮০ পিক্সেল এবং এর ডিসপ্লে ডেনসিটি ১৯৩ পিপিআই যা গত বছরের মি ব্যান্ড ২ এর থেকে কিছুটা বেটার। এছাড়া OLED ডিসপ্লে হওয়ায় ডিসপ্লেটি ডিপ ব্ল্যাক এবং এর ওপরে লেটারগুলো এবং ডিজিটগুলো বেশ স্পষ্ট এবং ক্লিয়ার দেখা যায়। এছাড়া গত বছরের মি ব্যান্ড ২ এর তুলনায় এর ডিসপ্লেটি লক্ষণীয়ভাবে বেশি ব্রাইট এবং বাইরের আলোতে মি ব্যান্ড ২ এর তুলনায় বেটার ভিউইং এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারে।

আর এর সম্পূর্ণ ডিসপ্লেটি টাচস্ক্রিন হওয়ায়, ডিভাইসটির বিভিন্ন স্ক্রিন এবং ফাংশনসের মধ্যে নেভিগেট করা মি ব্যান্ড ২ এর ওয়ান বাটন নেভিগেশনের তুলনায় অনেক বেশি সহজ এবং নরমাল। তবে মি ব্যান্ড ৩ এ মি ব্যান্ড ২ এর মতো একটি বাটনও আছে, তবে সেটি স্ক্রিনের সাথে ব্লেন্ড করা এবং এই একটি বাটন ব্যাবহার করে বা বাটনে ট্যাপ করে স্ক্রিন অন করা, এভেইলেবল ফাংশনসগুলোর মধ্যে সুইচ করা, লং প্রেস করে ছোট ছোট বিভিন্ন অ্যাকশন পারফর্ম করা সম্ভব হয়, যেমন কোন ইনকামিং কল রিজেক্ট করা, হার্টরেট ট্র্যাকিং স্টার্ট করা, স্টপওয়াচ স্টার্ট করা ইত্যাদি।

শাওমি মি ব্যান্ড ৩

মি ব্যান্ড ২ তে যতগুলো ফিচারস ছিলো, তার সবগুলোই মি ব্যান্ড ৩ তেও থাকছে এবং সাথে আরও এক্সট্রা কিছু ফিচারসও আছে যেগুলো মি ব্যান্ড ২ তে ছিলো না। ত্রা মধ্যে একটি হচ্ছে ওয়েদার ইনফরমেশন। মি ব্যান্ড ৩ তে আপনাকে ডেট, টাইম ইত্যাদি ইনফরমেশনের সাথে সাথে আপনি যেখানে আছেন সেই জায়গার ওয়েদার ইনফরমেশনও দেখানো হয়। শুধুমাত্র তাপমাত্র নয়, বরং কখন বৃষ্টি হচ্ছে, কখন ঝড় হচ্ছে, কখন আকাশে মেঘ হচ্ছে এই ধরনের ইনফরমেশনগুলোর রিয়ালটাইম আপডেটও মি ব্যান্ড ৩ তে দেওয়া হয়। যদিও এর জন্য ব্যান্ডটিকে সবসময় আপনার ফোনে এর কম্প্যানিয়ন অ্যাপ MI Fit এর সাথে কানেক্টেড থাকতে হয়। এছাড়া মি ব্যান্ড ৩ এর আরেকটি ফিচারও আমার ভালো লেগেছে যেটি আগের মি ব্যান্ড ২ তেও ছিলো, তা হচ্ছে, ব্যান্ডটির স্ক্রিন অন করার জন্য প্রত্যেকবার বাটনে ট্যাপ করতে হয়না, বরং ব্যান্ডটি হাতে পরা অবস্থায় টাইম দেখার জন্য সাধারনভাবে হাত ওপরে তুললেই ডিসপ্লে অন হয়।

এছাড়া মি ব্যান্ড ২ এর মতো এটিও আপনার রিয়ালটাইম স্টেপ কাউন্ট করতে পারে এবং আপনি প্রত্যেকদিন কতটুকু হাটতে চান, সেই গোলটি সেট করে দিলে ঠিক তত স্টেপ কমপ্লিট হলে ব্যান্ডটি ভাইব্রেট করে Goal Completed নোটিফিকেশন দেয় এবং গোল কমপ্লিট হতে আর কত স্টেপ বাঁকি তা একটি ছোট প্রোগ্রেস বার দিয়েও প্রেজেন্ট করে, যা সত্যিই খুবই মোটিভেশনাল। ব্যান্ডটি রেগুলার ব্যাবহার করলে প্রত্যেকদিনই আপনার ইচ্ছা হবে স্টেপ কাউন্টারের প্রোগ্রেস বারটি যত দ্রুত সম্ভব কমপ্লিট করতে পারেন, ততই ভালো। আর এইজন্য আমার মতে, ডায়বেটিক আক্রান্ত রোগীদের জন্য অপরিহার্য একটি ডিভাইস হতে পারে এটি তারা ডেইলি কতটুকু হাটছেন তার হিসাব রাখতে চান।

শাওমি মি ব্যান্ড ৩

এছাড়া হার্টরেট ট্র্যাকিং,স্লিপ মনিটর এসব ফিচারসগুলোও বেশ কাজের। স্লিপ ট্র্যাকিং ফিচারটি মুলত মি ব্যান্ড ৩ এর মধ্যে আমার সবথেকে প্রিয় ফিচারসগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্লিপ ট্র্যাকিং এর জন্য আপনাকে আলাদা ভাবে ফিচারসটি অ্যাক্টিভ করে নিতে হবে না, বরং আপনি যখনি ব্যান্ডটি হাতে পড়ে ঘুমাবেন, তখনই এটি অটোমেটিক আপনার স্লিপ ট্র্যাক করবে। আপনি কখন ঘুমিয়েছেন, কতক্ষন লাইট স্লিপ পেয়েছেন, কতক্ষন ডিপ স্লিপ পেয়েছেন, কখন ঘুম থেকে জেগেছেন এইসব ধরনের খুঁটিনাটি ডেটা এটি ট্র্যাক করতে পারে, যদিও এমনটা মি ব্যান্ড ২ ও পারতো।


কম্প্যানিয়ন অ্যাপ

মি ব্যান্ড ৩ বা যেকোনো মি ব্যান্ড ডিভাইস নিয়ে কথা বলতে হলে, অবশ্যই এটির কম্প্যানিয়ন অ্যাপ, MI Fit নিয়ে কথা বলতে হয়। কারন, প্রথমত এই কম্প্যানিয়ন অ্যাপটি ছাড়া মি ব্যান্ড ডিভাইসগুলো সম্পূর্ণ ইউজলেস হয়ে যায় এবং দ্বিতীয়ত MI Fit অ্যাপটি আমার মতে ফিটনেস ব্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে সবথেকে ভালো, সবথেকে সহজ এবং সবথেকে বেশি ফিচার প্যাকড কম্প্যানিয়ন অ্যাপসগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অ্যাপ। মি ব্যান্ডটি সেটাপ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে ব্লুটুথের সাহায্যে আপনার ফোনে ইন্সটল করা MI Fit অ্যাপটির সাথে ব্যান্ডটিকে কানেক্ট করতে হবে। আর এই অ্যাপটিই মুলত সম্পূর্ণ ব্যান্ডটির একমাত্র কনট্রোল প্যানেল যেখানে আপনি এই ব্যান্ডটির সব ধরনের সেটিংস এবং ফিচারস কাস্টোমাইজ করতে পারবেন।

শাওমি মি ব্যান্ড ৩

এই কম্প্যানিয়ন অ্যাপটিতেই মুলত আপনাকে আপনার স্টেপ গোলস, আপনার ওয়েদার প্রোভাইডার, আপনার লোকেশন ইত্যাদি আগে থেকে সেট করে দিতে হবে। এখানে আপনি আপনার গত রাতের স্লিপ ডিটেইলস, গত এক সপ্তাহ থেকে এক মাসের স্লিপ ডিটেইলস ইত্যাদির রেকর্ড রাখতে পারবেন এবং সেগুলো কম্পেয়ার করতে পারবেন। এছাড়া আপনার রিসেন্ট সব হার্টবিট ট্র্যাকিং রেজাল্টগুলোও সব চেক করতে পারবেন। এছাড়া আরও অনেক এক্সট্রা ফিচারসও এখান থেকে অ্যাক্টিভ করতে পারবেন।

শাওমি মি ব্যান্ড ৩

যেমন- ইনকামিং কম রিমাইন্ডার, মেসেজ নোটিফিকেশন, অ্যাপ নোটিফিকেশনস, অ্যালার্ম সেটিংস এবং আরও অনেক কিছু। মি ব্যান্ড ৩ এর আরেকটি জিনিস আমার ভালো লেগেছে, তা হচ্ছে আপনি যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশন রিমাইন্ডার অ্যাক্টিভ করে রাখবেন, আপনার ব্যান্ডে শুধুমাত্র অ্যাপটির আইকন এবং ভাইব্রেশন নয়, বরং নোটিফিকেশনটির টেক্সট কন্টেন্টগুলোও দেখানো হবে ব্যান্ডে। যেমন কোন মেসেজ আসলে ব্যান্ডটির ছোট স্ক্রিনেই আপনি সেটা পড়ে ফেলতে পারবেন। তবে খারাপ ব্যাপারটি হচ্ছে, ব্যান্ডে বাংলা ফন্টের সাপোর্ট নেই। তাই শুধুমাত্র ইংলিশ ফন্টগুলোই এখানে পড়তে পারবেন।

শাওমি মি ব্যান্ড ৩

এছাড়া আপনি যদি Google Fit ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি চাইলে আপনার MI Fit কম্প্যানিয়ন অ্যাপটি আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের সাথে কানেক্ট করে নিতে পারবেন যাতে আপনার হার্টরেট এবং সকল স্টেপস ডাটা আপনার Google Fit অ্যাপের সাথে সিংক হয়ে যায়। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, আমি আমার গুগল অ্যাকাউন্টের সাথে কানেক্ট করেছিলাম MI Fit অ্যাপটি, তবে এখনো পর্যন্ত MI Fit এর কোন ডাটা Google Fit এর সাথে সিংক হতে দেখিনি। আমার যতদূর মনে হয় এটা Mi Fit এর একটি সফটওয়্যার বাগ হতে পারে।


ব্যাটারি লাইফ

ব্যাটারি লাইফ হচ্ছে ফিটনেস ব্যান্ড এবং স্মার্টওয়াচগুলোর সবথেকে ইম্পরট্যান্ট একটি ফ্যাক্টর যেটি ইউজাররা ডিভাইস কেনার সময় বিবেচনা করেন। ফিটনেস ব্যান্ডগুলোর ব্যাটারি লাইফ অবশ্যই ভালো হতে হবে। কারন, এটিকে নিশ্চই আপনি আপনার স্মার্টফোনের মতো প্রত্যেকদিন চার্জ দিতে চাইবেন না। তাছাড়া স্মার্টওয়াচগুলোর তুলনায় ফিটনেস ব্যান্ডগুলোর ব্যাটারি লাইফ সবসময়ই অনেকটা বেটার হয়ে থাকে। ঠিক এই কারনেই অনেকে ফুল ফিচারড স্মার্টওয়াচের তুলনায় ফিটনেস ব্যান্ডগুলোকে প্রিফার করে থাকেন।

মি ব্যান্ড ৩ এর ব্যাটারি লাইফও আমার পার্সোনাল এক্সপেরিয়েন্স অনুযায়ী যথেষ্ট ভালো এবং গত বছরের মি ব্যান্ড ২ এর তুলনায়ও আরও কিছুটা বেটার। এই ৭ দিনের মধ্যে আমি ব্যান্ডটিকে প্রায় ২ বার চার্জ দিয়েছি এবং কোনবারই একেবারে ০% ব্যাটারি লাইফে এনে চার্জ করিনি। এখানে উল্লেখ্য, ব্যান্ডটি আমি প্রায় সারাক্ষনই ব্যাবহার করেছি। ২ বারই ২০-২৫% চার্জ থাকা অবস্থায় চার্জ দিয়েছি। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মি ব্যান্ড ৩ একবার ফুল চার্জ দিলে প্রায় ৩ থেকে ৪ দিন লাস্ট করবে যদি আপনি সারাক্ষনই এটি ব্যাবহার করেন।

ডিজাইন, বিল্ড কোয়ালিটি, ফিচারস এবং ব্যাটারি লাইফ সবকিছু বিবেচনা করে আমি বলবো মি ব্যান্ড ২ এর একটি পারফেক্ট আপগ্রেড এই মি ব্যান্ড ৩। আপনি যদি কখনো ফিটনেস ব্যান্ড ব্যাবহার না করে থাকেন এবং নতুন একটি ফিটনেস ব্যান্ড কেনার কথা ভাবেন, তাহলে আমি বলবো মি ব্যান্ড ৩ ব্যাবহার করতে পারেন। কারন, মি ব্যান্ড ৩ এর এই ২৫০০ টাকা প্রাইস রেঞ্জে আপনি আর যতগুলোই ফিটনেস ব্যান্ড পাবেন, সেগুলোর থেকে নিশ্চিতভাবেই মি ব্যান্ড ৩ বেটার চয়েজ। আর যদি অলরেডি মি ব্যান্ড ২ ব্যাবহার করেন, তাহলে সত্যি কথা বলতে আমার মনে হয়না যে আপনার আর আপগ্রেড করার দরকার আছে। যদি ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটির জন্য নিতে চান, তাহলে সেটা আপনার ব্যাপার।

Feature Image Credit : Roman Arbuzov Via Shutterstock

সিয়াম একান্ত

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

8 comments

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!