WireBD

৫ টি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট যেগুলো বর্তমানে মৃত!

ইন্টারনেটে কোটি কোটি ডোমেইন নেম এবং সেগুলোর সাথে কোটি কোটি ওয়েবসাইট হোস্ট করা আছে। ইন্টারনেটে সব ওয়েবসাইট সবসময় একইরকম জনপ্রিয়তা পায় না। কিছু কিছু ওয়েবসাইট শুরুতেই অনেক বেশি জনপ্রিয়তা এবং অনেক বেশি ভিজিটর এবং ইউজারদের কাছ থেকে অনেক বেশি সাড়া পায়। আবার কিছু কিছু ওয়েবসাইট প্রথমদিকে খুব বেশি জনপ্রিয়তা না পেলেও কয়েক বছর পরে আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে।

আবার এই ধরনেরও অনেক ওয়েবসাইট  থাকে যেগুলো একসময় খুব বেশি জনপ্রিয়তা পেলেও সেটা স্থায়ী হয় না এবং আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে এবং হয়তো একদিন একেবারেই ডেড হয়ে যায়। হতে পারে মানুষ সেই ওয়েবসাইটটি আর ভিজিট করে না, হতে পারে প্রোফিট না পেয়ে ওয়েবসাইটটির মালিক সেটিকে বন্ধ করে দেয় বা সেল করে দেয়, এমন অনেক কারনেই কোন ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা বন্ধ না হয়ে গেলেও, সেটিঢ় আর কোন জনপ্রিয়তাই থাকে না। আজকে এমন ৫ টি ডেড ওয়েবসাইট নিয়েই আলোচনা করতে চলেছি।

GeoCities

এই ওয়েবসাইটটি ছিলো ইন্টারনেটের শুরু দিকের ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে একটি খুবই জনপ্রিয় ওয়েবসাইট, যেটি ছিলো একটি ফ্রি ওয়েব হোস্ট সার্ভিস। এই ওয়েবসাইটটির ইউজাররা চাইলে এখানে তাদের নিজেদের একটি কাস্টম ওয়েবপেইজ আপলোড করতে পারতো, যেখানে তারা তাদের ইচ্ছামত যেকোনো কন্টেন্ট আপলোড করতে পারতো (যতক্ষন কন্টেন্টটি তাদের গাইডলাইন মেনে চলত)। সেখানে নিজের আপলোড করা ওয়েবপেইজে ইউজাররা চাইলে নিজেদের কাস্টম html ফাইল আপলোড করতে পারতো অথবা কোন ইমেজ আপলোড করতে পারতো বা যেকোনো কিছু এবং সেগুলোকে ইন্টারনেট কানেক্টেড যেকারোর সাথে শেয়ার করতে পারতো (অনেকটা নিজের একটি ব্লগের মতো)।

ওয়েবসাইট

সাইটটির ডিজাইন এবং কন্টেন্টগুলো কোয়ালিটি খুবই নিম্নমানের ছিলো, কারন সেসময় ইন্টারনেট খুব বেশি অ্যাডভান্সড ছিলো না। এই ওয়েব সার্ভিসটি ১৯৯৯ সালে Yahoo কিনে নেয় এবং প্রায় ২০০৯ সাল পর্যন্ত Yahoo এটিকে বাঁচিয়ে রাখে। এরপর কেন  এটিকে বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, সেটা নিশ্চই বলার অপেক্ষা রাখে না। কারন তেমন সময় আর কেউই ওয়েবসাইট হোস্ট করার জন্য এটিকে ব্যবহার করবে না। তাই Yahoo ২০০৯ সালে এটিকে বন্ধ করে দেয়। তবে এখনো জাপানে এই ওয়েবসাইটটি চালু আছে GeoCities Japan নামে, তবে ২০১৯ সালে সেটিকেও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।


Digg

এই ওয়েবসাইটটি ছিলো Reddit এর মতো আরেকটি ফোরাম ধরনের ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটটি Reddit এর আগে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলো। এই ওয়েবসাইটটিতে ইউজাররা তাদের ইচ্ছামত যেকোনো কন্টেন্ট পাবলিশ করতে পারতো এবং অন্যান্য ইউজাররা সেটিতে ভোট করতে পারতো বা কমেন্ট করতে পারতো এবং শেয়ারও করতে পারতো। Reddit এ যেমন কোন কন্টেন্ট ভালো লাগলে সেটিতে আমরা Upvote করি, তেমনি এই ওয়েবসাইটটিতে কোন কন্টেন্ট ভালো লাগলে ইউজাররা Digg করতো এবং ভালো না লাগলে Burry করতো। ফোরাম সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট ছিল এটি।

ওয়েবসাইট

তবে এই ওয়েবসাইটটি যখন অনেক বেশি ইউজার পেয়েছিলো, তার কয়েক বছর পরে এই ওয়েবসাইটটির একটি মেজর রিডিজাইন করা হয় যেটি ইউজাররা একেবারেই পছন্দ করেনি। রিডিজাইনের পরে  এই সাইটটির অনেক এলিমেন্টস চেঞ্জ করে ফেলা হয়েছিলো যা কোন ইউজারই পছন্দ করেনি। তাই আস্তে আস্তে এই সোশ্যাল ওয়েবসাইটটি তার জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে এবং কয়েক বছরের মধ্যে একেবারেই ডেড হয়ে যায়। তবে এই সাইটটি এখনো লাইভ আছে। তবে বর্তমানে এটি আর কোন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বা ফোরাম নয়। বর্তমানে এটিতে বিভিন্ন ধরনের নিউজ এবং বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেল পাবলিশ করা হয় অন্যান্য যেকোনো ব্লগের মতোই। তবে একটি ব্লগ হিসেবেও এই সাইটটি আর কখনোই জনপ্রিয়তা পায়নি। এখন উল্লেখযোগ্য কোন ভিজিটরও পায় না এই ওয়েবসাইটটি।


MySpace

আপনি হয়তো এই ওয়েবসাইটটি নামে চিনে থাকবেন। ২০০৪-২০০৫ সালের দিকে এই ওয়েবসাইটটি ছিলো আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীর সবথেকে বড় অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না, তবে সেই সময় এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুকের মতোই জনপ্রিয় এবং বিশাল ছিলো। ডেভেলপড কান্ট্রিগুলোর প্রায় সবাই এই সোশ্যাল মিডিয়াতে অ্যাক্টিভ থাকতো, এখন যেমন ফেসবুকের ক্ষেত্রে দেখা যায়। বলতে পারেন MySpace ছিলো ২০০৫-২০০৫ সালের ফেসবুক। তবে যখন থেকেই ফেসবুক প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকেই MySpace এর জনপ্রিতা একটু একটু করে কমতে থাকে।

ওয়েবসাইট

ফেসবুক যতটা বেশি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে, MySpace এর জনপ্রিয়তা এবং ইউজার সংখ্যা ততই কমতে থাকে। কয়েক বছর আগে MySpace এর ইন্টারফেসের একটি বড় রিডিজাইন করা হয় বা মডার্ন রিডিজাইন করা হয় যাতে তারা তাদের হারানো  স্থানটি ফিরে পেতে পারে। তবে সেটা করেও তেমন কোন লাভ হয়নি। বর্তমানে এখনও MySpace ওয়েবসাইটটি চালু আছে। আপনি এখনো চাইলে সেখানে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারেন এবং সেটিকে অন্যান্য সব সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মতোই  ব্যবহার করতে পারেন। তবে বর্তমানে আর কেউই সেটা তেমন অ্যাক্টিভলি ব্যবহার করে না। বর্তমানে MySpace কে মৃতই বলা যায়।


AOL

আপনি হয়তো শুনে থাকবেন এই ওয়েবসাইটটির নাম। এটিকে একটি ওয়েবসাইট বললে ভুল হবে, বরং এটি একটি ইন্ডাস্ট্রি। আপনি হয়তো জানেন না যে AOL এর সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে America Online। এই  ওয়েবসাইটটি বা এর সার্ভিসগুলো এখন আর কেউ ব্যবহার না করলেও, ওয়েবসাইটটি এখনও আছে এবং প্রতিনিয়ত আপডেটও হয়। AOL প্রথমত অ্যামেরিকাতে ইন্টারনেট সার্ভিস সেল করতো বা সহজ কথায় বলতে হলে একটি বড় আইএসপি ছিলো। এছাড়া তাদের আরও অনেক ধরনেরই সার্ভিস ছিলো। তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় একটি সার্ভিস ছিলো AOL Instant Messenger। এটি ছিলো ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপের আগের সবথেকে জনপ্রিয় এবং সবথেকে বেশি ব্যবহার করা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ বা সহজ কথায় বলতে হলে চ্যাটিং অ্যাপ। তবে অন্যান্য মডার্ন মেসেঞ্জার অ্যাপগুলো চালু হওয়ার পর আস্তে আস্তে এটির জনপ্রিয়তা কমতে থাকে এবং এখন বলতে হলে আর কেউই ব্যবহার করে না এই AOL Messenger। যাইহোক, এই AOL এর সার্ভিসগুলো ছিলো অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ওয়েবসাইট

২০১৫ সালে AOL কে Verizon কিনে নেয় ৪.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বিনিময়ে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে, এই ডেড ইন্ডাস্ট্রিটির দাম ৪.৪ ইউএস ডলার কিভাবে হয়? আসলে বর্তমানে AOL এর সম্পূর্ণ ভ্যালু এর অধিকাংশ অংশ তাদের নিজেদের ইন্ডাস্ট্রি বা নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালু থেকে আসে না। বরং এই ভ্যালুটি আসে আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট এবং ইন্ডাস্ট্রি থেকে যেগুলো AOL এর মালিকানাধীন। এর মধ্যে কয়েকটি ওয়েবসাইট এবং সার্ভিস বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেমন- Huffington Post, TechCrunch এবং আরও কয়েকটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট।


Google Orkut

আপনি হয়তো শুনেছেন যে Google+ ওয়েবসাইটটি ২০১৯ সালে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গুগল। তবে আপনি হয়তো জানেন না যে Google+ এর আগেও গুগলের আরও একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ছিলো যার নাম ছিলো Google Orkut যা চালু হয়েছিলো প্রায় ১৩ বছর আগে। এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কটি মুলত গুগলের একজন Employee চালু করেছিলেন, যার নাম ছিলো Orkut। এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কটি যখন চালু ছিলো তখনও একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক হিসেবে খুব বেশি জনপ্রিয় ছিলো না। তবে যেহেতু গুগলের তৈরি একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ছিলো এটি, তাই এটির জনপ্রিয়তা আস্তে আস্তে বাড়ছিলো। কিছু সংখ্যক অ্যাক্টিভ ইউজারও পেয়েছিলো Google Orkut। তবে ট্রেডিশনাল সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর থেকে এটি ছিলো কিছুটা আলাদা। এখানে সব ইউজার প্রোফাইলই ছিলো পাবলিক।

ওয়েবসাইট

তবে এই Orkut ওয়েবসাইটটি ইন্ডিয়া এবং ব্রাজিলে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। তবে সেখানে এটির জনপ্রিয়তাও ২০১৪ সালের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় যখন গুগলের নতুন সোশ্যাল মিডিয়া Google+ এবং সর্বকালের সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তা এবং বিপুল পরিমান ইউজার পেতে শুরু করে। ২০১৪ সালেই গুগল Orkut এর সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং শুধুমাত্র Google+ নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ছিলো ৫ টি জনপ্রিয় ওয়েবসাইট যেগুলো বর্তমানে মৃত অথবা যেগুলোর জনপ্রিয়তা এখন আর একেবারেই নেই। শুধুমাত্রই এই পাঁচটিই নয়, এমন আরও অনেক ওয়েবসাইট আছে যেগুলো বর্তমানে মৃত। সেগুলো নিয়ে আগামীতে অন্য কোন আর্টিকেলে আলোচনা করা যাবে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটিও আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।

সিয়াম একান্ত

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

14 comments

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!