টিপস এন্ড ট্রিকস

পুরাতন পিসি বিক্রি করে দেওয়ার আগে যা যা করা উচিত

1

নতুন পিসি কেনার পর কিংবা বাসায় পুরাতন পিসি থাকলে অনেক সময় আমরা টাকা উসুল করার জন্য কিংবা বাসার জায়গা বা স্পেস খালি করার জন্য পুরোনো পিসি বিক্রি করে দেই। পুরোনো পিসি অনেক দিন ধরে ব্যবহার করায় ব্যাক্তিগত অনেক জিনিস, অ্যাপস এবং ফাইলস থাকার কারণে সরাসরি ক্রেতার হাতে তো আপনি পিসিতে দিয়ে দিতে পারেন না তাই পুরোনো পিসি বিক্রি করে দেবার আগে আপনাকে সাবধানের সাথে কয়েকটি কাজ করে নিতে হবে। আর আজ আমি এ বিষয়টি নিয়েই আপনাদের সাথে আলোচনা করবো।

পুরাতন পিসি বা ল্যাপটপ বিক্রি করে দেবার আগে প্রথমে নিশ্চিত হয়ে নিন পিসিতে কোনো প্রকার error আছে কিনা। হতে পারে সেটা হার্ডওয়্যার এরর কিংবা সফটওয়্যার সমস্যা। সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান সহজে করা গেলেও হার্ডওয়্যার সমস্যার সমাধান একটু ঝামেলাপূর্ণ কাজ বিশেষ করে সেটা যদি হয় ল্যাপটপ। যেমন আপনার ল্যাপটপের লাউড স্পিকারে সমস্যা। স্পিকার চেঞ্জ করা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ল্যাপটপটি বিক্রি করার সময় ক্রেতার সাথে সমস্যাটি নিয়ে খোলাখুলি ভাবে আলোচনা করে নিবেন যাতে পরবর্তীতে এটা নিয়ে কোনো দ্বন্দের সৃষ্টি না হয়। তারপর পিসি বা ল্যাপটপটির থেকে আপনার ব্যাক্তিগত সকল ফাইলসকে সরিয়ে নিতে হবে, ক্লিন ভাবে OS দিতে হবে এবং সর্বশেষে বাহ্যিকভাবে ডিভাইসকে পরিস্কার করে নিতে হবে। নিচে এই সকল বিষয়গুলো আমি সহজ ভাষায় আলোচনা করছি।

পিসির সমস্যার খোঁজ নিন

কথায় আছে, “যে ব্যক্তি নিজের সমালোচনা করতে পারে সে-ই সবথেকে বুদ্ধিমান।” আর পুরোনো পিসি বিক্রি করে দেবার পর যদি ক্রেতা পরবর্তীতে পিসির কোনো সমস্যা খুঁজে পায় সেটা বেশ বিব্রতকর হবে এবং অনেকসময় এই বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য পুরোনো পিসি বা ল্যাপটপ বিক্রি করার আগে ডিভাইসে কোনো সমস্যা আছে কিনা সেটা আগে নিশ্চিত হয়ে নিন। আপনার ডিভাইসে যদি কোনো সমস্যা থাকে তাহলে সে ব্যাপারে অবশ্যই আপনার জানার কথা।

যেমন USB পোর্ট কাজ না করা, মাইক্রোফোন পোর্টে ডির্স্টাব, ল্যাপটপ হাত থেকে পড়ে দিয়ে ট্যাপ খেয়ে যাওয়া, Webcam ঘোলাটে হয়ে যাওয়া, গ্রাফিক্স কার্ডের কুলিং ফ্যান সবসময় না ঘোরা ইত্যাদি অনেক রকমই টুকটাক সমস্যা থাকে পুরোনো পিসি বা ল্যাপটপে। এই সকল সমস্যা থাকলে আপনি প্রথমে চেষ্টা করুন এই সমস্যার সমাধানের জন্য। আর কোনো সমস্যার সমাধান করতে যদি বেশি খরচ হয় তাহলে বিক্রির সময় ক্রেতাকে সমস্যাটির ব্যাপারে অবগত করে দিন এবং বলে দিন ক্রেতাকে সমস্যাটি ঠিক করে নিতে। এক্ষেত্রে আপনাকে বিক্রির সময় পিসির দাম বেশ কমিয়ে ফেলতে হতে পারে। কারণ আপনি নিজেও অনেক সময় চাইবেন না অপেক্ষাকৃত বেশি পরিমাণ টাকা দিয়ে পুরোনো পিসি কিনতে যেটায় সমস্যা রয়েছে।

ব্যক্তিগত ডাটার ব্যাকআপ নিন

এবার পিসিতে আপনার সকল ব্যক্তিগত ডাটার ব্যাকআপ নিয়ে নিন। হতে পারে সেটা পিকচার, মুভি, সফটওয়্যার, ওয়ার্ড ফাইল, গেমস কিংবা যেকোনো কিছু। আপনি যদি নিজে থেকে আপনার ফাইলসগুলো এক এক করে আলাদা পিসিতে বা আলাদা স্টোরেজে ব্যাকআপ করে রাখতে পারেন তাহলে ভালো । তবে উইন্ডোজ কেও যদি ব্যাকআপ করে নিতে চান তাহলে একটি অপশন রয়েছে যেটার মাধ্যমে পুরো সিস্টেমকেই আপনি ব্যাকআপ করে নিয়ে আপনার নতুন পিসিতে দিয়ে দিতে পারবেন।

পুরো সিস্টেম মানে আপনার পুরোনো পিসির উইন্ডোজ ফাইলস সহ C ড্রাইভে যা যা আছে তার সব কিছুই। মানে আপনার যাবতীয় সফটওয়্যার ও অ্যাপসসহ সব কিছুকেই আপনি ব্যাকআপ করে নিতে পারবেন। হার্ডডিক্সের অনান্য সকল ফাইল আপনি নতুন পিসিতে কপি পেস্ট বা কাট পেস্ট করে নিতে পারলেও উইন্ডোজকে কিন্তু আপনি সাধারণ ভাবে কপি পেস্ট করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে আপনাকে এই সিস্টেম ব্যাকআপ প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করতে হবে। এবার দেখে নিন পুরো সিস্টেম কে কিভাবে ব্যাকআপ করবেন এবং রিস্টোর করবেন:

১) প্রথমে স্টার্ট বারের সার্চ বক্সে (Cortana Search) লিখুন Backup and Restore তাহলে Backup and Restore (Windows 7) অপশনটি আসবে এবং এখানে ক্লিক করুন।

২) এবার এখান থেকে বাম দিকের Create a system image অপশনে ক্লিক করুন।

৩) এবার ব্যাকআপ ফাইলকে কোথায় সেভ করবেন সেটা নির্বাচন করতে হবে। আপনি যদি নতুন হার্ডডিক্স পিসিতে লাগিয়ে রাখেন তাহলে On a hard disk ঘরে টিক দিয়ে আপনার ড্রাইভটি দেখিয়ে দিন। কিংবা আপনি যদি ল্যাপটপে থাকেন তাহলে একই Wifi নেটওর্য়াকের আন্ডারে থেকেও নতুন পিসির হার্ডডিক্সে WLAN এর মাধ্যমেও সেভ করে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে On a network location বক্সে টিক দিয়ে নেটওর্য়াক লোকেশনকে দেখিয়ে দিতে হবে।

৪) এবার সবকিছু ঠিকঠাক করা হয়ে গেলে Start backup বাটনে ক্লিক করুন। আপনার সিস্টেমের ব্যাকআপ হওয়া শুরু করবে। এক্ষেত্রে আপনি ব্যাকআপ হবার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে সব ধরণের কাজই করতে পারেন।

৫) ব্যাকআপ করা হয়ে গেলে আপনাকে System repair disk করার জন্য বলা হবে। এটা আপনি করে রাখতে পারেন যদি বুট নেবার সময় এই ব্যাকআপ ইমেজে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয় তাহলে। এ জন্য আপনার একটি blank ডিক্স লাগবে। ডিক্সে এই create a system repair disc এর মাধ্যমে recovery options গুলো দিয়ে রাখা হবে।

রিস্টোর:

এবার নতুন পিসিতে সিস্টেম ইমেজকে রিস্টোর করার পালা। নতুন পিসিতে আপনার হার্ডডিক্সটি বা পেনড্রাইভটি লাগান যেটায় পুরোনো পিসির সিস্টেম ইমেজের ব্যাকআপটি রেখেছেন। তারপর Windows এর সেটআপ ডিক্সটি পিসিতে প্রবেশ করান এবং বুটআপ করুন।

১) উইন্ডোজ সেটআপ পেজ থেকে Next বাটনে ক্লিক করুন।

২) এবার পরবর্তী উইন্ডোজ থেকে নিচের দিকে Repair your computer অপশনে ক্লিক করুন।

৩) Troubleshoot অপশনে ক্লিক করুন

৪) এখানে আপনি বেশ কয়েকটি অপশন পাবেন, এখান থেকে System Image Recovery অপশনে ক্লিক করুন

৫) টার্গেট OS সিলেক্ট করুন (এক্ষেত্রে এটা Windows 10)

পুরাতন পিসি

৬) Re-image youre computer উইন্ডোতে Use the latest available system image ঘরে টিক দিন এবং এখান থেকে আপনার ব্যাকআপকৃত ড্রাইভটিকে সিলেক্ট করে দিন। এবার Next বাটনে ক্লিক করে দিন।

পুরাতন পিসি

৭) এবার আপনি চাইলে নতুন কম্পিউটারকে এখান থেকে Format and repartition disks অপশনটি ব্যবহার করে পুরোপুরো ভাবে রিসেট করে নিতে পারেন। তবে সাবধানের সাথে এই কাজটি করবেন কারণ এতে নতুন পিসির বা যে পিসিতে ব্যাকআপ রিস্টোর করছেন যেটার হার্ডডিক্সকে রিসেট করা হবে তাই নতুন পিসিতে কোনো ফাইলস রাখলে সেটাও মুছে যাবে। এটা করতে না চাইলে বক্সে টিক না দিয়েই Next বাটনে ক্লিক করুন।

পুরাতন পিসি

৮) এবার Finish বাটনে ক্লিক করলে ব্যাকআপ রিস্টোরের কাজটি শুরু হয়ে যাবে।

পুরাতন পিসি

OS ক্লিনিং

পুরোনো পিসি থেকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলস এবং অপারেটিং সিস্টেমের ব্যাকআপ নিয়ে নেওয়া হলে এবার আপনার কাজ হলো পুরোনো পিসিকে সম্পূর্ণ ভাবে ফরম্যাট করে দেওয়া। যাতে ক্রেতার কাছে আপনার কোনো ডাটা চলে না যায়। এক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। প্রথমটি হচ্ছে নতুন করে উইন্ডোজ সেটআপ দিতে পারেন। অথবা নতুন উইন্ডোজ সেটআপের ঝামেলা এড়াতে চাইলে উইন্ডোজ ১০ থেকে আপনি পুরো পিসিকে রিসেট করে দিতে পারবেন। উইন্ডোজ সেটআপ করার জন্য আপনার কাছে উইন্ডোজের ডিক্স থাকতে হবে। কিভাবে উইন্ডোজ সেটআপ করবেন সেটা আমি এখানে উল্লেখ করছি না কারণ সেটা অনেকেই জানেন। উইন্ডোজ ১০ য়ে কিভাবে আপনি পুরো সিস্টেমকে রিসেট করবেন সেটা এখানে দেখিয়ে দিচ্ছি।

১) উইন্ডোজ ১০ এর Settings > Update & Security > Recovery অপশনে চলে যান

পুরাতন পিসি

২) Reset this PC সেকশন থেকে Get started বাটনে ক্লিক করুন।

পুরাতন পিসি

৩) এবার Choose an option উইন্ডো থেকে Remove everything অপশনে ক্লিক করুন

পুরাতন পিসি

৪) পরবর্তী উইন্ডোতে Remove files and clean the drive অপশনে ক্লিক করুন, এতে করে পিসিতে শুধুমাত্র উইন্ডোজের ফাইলসগুলো থাকবে এবং বাকি সকল ড্রাইভের সমস্ত ফাইলকে মুছে দেওয়া হবে এবং ড্রাইভগুলোকে ক্লিন করে দেওয়া হবে।

পুরাতন পিসি

৫) এবার ফাইনাল উইন্ডোতে Reset বাটনটি চাপুন, তাহলে পিসি রিসেট হতে শুরু করবে। আপনার পিসির গতির উপর রিসেট হতে কতক্ষণ লাগবে সেটা নির্ভর করবে।

পুরাতন পিসি

পিসি রিসেট হয়ে গেলে নতুন উইন্ডোজ ১০ এর কনফিগারেশন করার মতোই config উইন্ডো আপনার সামনে চলে আসবে। এখন আপনার উচিত নতুন করে কনফিগারেশন না করে এখন থেকেই পিসি বা ল্যাপটপটিতে পাওয়ার অফ করে দেওয়া। কারণ নতুন করে কনফিগারেশন যে ক্রেতা পিসিটি কিনবে তার করা উত্তম।

বাহ্যিক ক্লিনিং

এই জিনিসটি অপশনাল । আপনি যদি পিসির বা ল্যাপটপের নিয়মিত ভালো যত্ন নিয়ে থাকেন তাহলে বিক্রির আগে বাহ্যিক ভাবে ক্লিনিং করার দরকার হবে না। তবে ডেক্সটপের ক্ষেত্রে বিক্রি আগের আপনার CPU বক্সের ভেতরে একবার ওয়াশ করে নেওয়া উত্তম। CPU বক্সের ভেতরে আপনি যদি ওয়াশ করতে না পারেন কিংবা অভিজ্ঞতা না থাকলে সিপিইউ কে নিকটের কোনো পিসি সার্ভিস সেন্টার নিয়ে যান এবং সেখান থেকেই সিপিইউকে ওয়াশিং করে নিয়ে আসতে পারেন। এতে করে যে ডেক্সটপকে কিনবে সে পিসির CPU বক্স খুললে হতাশ হবে না। একই কথা ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও বলা চলে। সার্ভিস সেন্টার থেকে আপনি ল্যাপটপের আনাচে কানাচের ময়লাগুলোকেই সাফ করে দিয়ে আসতে পারেন।

পুরোনো পিসি বিক্রি করে দেবার আগে এই জিনিসগুলো ফলো করলে যার কাছে পিসি বিক্রি করবেন সেও উপকৃত হবে এবং আপনি নিজেও ব্যাক্তিগত ভাবে কোনো ডাটা লসের চিন্তা থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, পিসি রিসেট মারার আগে কিংবা নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম দেওয়ার আগে আপনার পিসির কোনো Two Factor অথেনটিকেশন অ্যাপ থাকলে সেটার থেকে অপশনটি তুলে নিতে ভূলবেন না কিন্তু। তা না হলে নতুন পিসিতেও আপনি অ্যাপে একসেস করতে পারবেন না। আর বিক্রির সময় পিসির মাদারবোর্ড ডিক্স এবং অনান্য দরকারি জিনিসপত্রগুলোও ক্রেতাকে দিতে দ্বিধাবোধ করবেন না যেন। এছাড়াও পুরোনো পিসি বিক্রি করার সময় আজকের পোষ্টে দেখানো বিষয়গুলোর বাইরেও যদি আপনি কোনো স্টেপ নিয়ে থাকেন তাহলে সেটা নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করে নিতে পারেন এবং সবাইকে এ ব্যাপারে জানিয়ে দিতে পারেন।

ফাহাদ
যান্ত্রিক এই শহরে, ভিডিও গেমসের উপর নিজের সুখ খুঁজে পাই। যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে! কম্পিউটারকে আমার মতো করে আপন করে নিন দেখবেন আপনার আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হবে না।

কম্পিউটার কে সুস্থ রাখার জন্য কিছু টিপস এন্ড ট্রিক্সস

Previous article

আপনার কি উইন্ডোজ আপডেট বন্ধ রাখা উচিৎ?

Next article

You may also like

1 Comment

  1. ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ এর মধ্যে পার্থক্য নিয়ে একটি আর্টিকেল চাই !

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *