গেমিংকীভাবেফিচার পোস্ট

গেমিং পিসি বিল্ড করার আল্টিমেট গাইডলাইন

4
গেমিং পিসি

বর্তমানে আমাদের মতো আমজনতাদের জন্য গেমিং পিসি বিল্ড করা বেশ কনফিউজিং একটি ব্যাপার। কারণ এখন বাজারে অনেক ধরণের কম্পিউটার পার্টস পাওয়া যায়। কোন পার্টসটা আপনার গেমিং পিসি বিল্ড করার জন্য আসলেই দরকারি সেটা নির্ধারণ করাটাই বেশ কস্টকর। অনেকেই মনে করেন ভিন্ন ভিন্ন পার্টস একত্রে সেটআপ করা বেশি কস্টকর কিন্তু আসলে কোন পার্টসটা আপনার দরকার সেটাই নির্ধারণ করা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝামেলাদায়ক। আজকে কিভাবে আপনি নিজেই নিজের গেমিং পিসি বিল্ড করবেন সেটা সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করবো।

গেমিং পিসি বিল্ড করা আর একটি সাধারণ পিসি বিল্ড করা কিন্তু এক কথা নয়। গেমিং পিসি বিল্ড করার জন্য আমাদেরকে একটি কম্পিউটারের সকল পার্টসগুলোকে আলাদা আলাদা ভাবে নিজের শখ, চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে হয়।

সাধারণত আপনি যখন কোনো কম্পিউটার শপ থেকে পিসি কিনতে যান তখন সেখানে আগে থেকেই বিভিন্ন কনফিগারেশনের কম্পিউটার সিপিইউ সেট করা থাকে। এগুলো বিভিন্ন প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র‌্যাম ও দামের ভিক্তিকে শ্রেণীভুক্ত করা থাকে। এগুলো সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আপনি যদি না বুঝে দোকানে গিয়ে বলেন গেমিং পিসি কিনবেন তাহলে সেখানে প্রথমেই আপনাকে যে প্রশ্নটা করা হবে তা হলো “আপনার বাজেট কত?” । তারা (দোকানদার) আপনার বাজেট অনুযায়ী তাদের পছন্দমত একটি কনফিগারেশন আপনাকে রেকোমেন্ড করবে। তারপর কথার ছলে আপনাকে বোঝাবে যে আপনার বাজেট থেকে একটু বেশি দামে আরেকটু ভালো কনফিগারেশন পাওয়া যায় এবং সেটায় “অনেকগুলো” গেমস চলবে! ইত্যাদি ইত্যাদি!

কিন্তু আপনি নিজেই যখন নিজের জন্য গেমিং পিসি বিল্ড করবেন তখন আপনার চাহিদা, প্রয়োজন ও নিজের শখ অনুযায়ী পিসি পার্টস বেছে নিবেন এবং নিজেই নিজের গেমিং পিসি বিল্ড করতে পারবেন। এতে যেমন আপনার অর্থের “সৎ” ব্যবহার হবে ঠিক তেমনভাবেই পিসি থেকে বেষ্ট পারফরমেন্স আপনি পাবেন।  এছাড়াও পুরোনো পিসিতে যথাযথ আপগ্রেড করে নিয়েও আপনি মোটামুটি মানের গেমিং পিসি বিল্ড করে ফেলতে পারেন যা দিয়ে অন্তত দেড় দুই বছর আপনি গেমিং চালাতে পারবেন।

ভূমিকা এবং পরিকল্পনা

আজকের পোষ্টটি একদমই নতুন গেমিং পিসি বিল্ডিংয়ের উপর লক্ষ্য করে লেখা হয়েছে। সামনে গেমিং পিসি আপগ্রেডের উপর আমার আরেকটি পোষ্ট আসবে যেখানে আমি পুরোনো গেমিং পিসির আপগ্রেড নিয়ে কথা বলবো। আজ শুধুমাত্র নতুন গেমিং পিসি কেনার উপর লেখছি।

নতুন গেমিং পিসি কেনার আগে এবং বিল্ড করার আগে আপনাকে কয়েকটি বিষয়ে ভেবে নিতে হবে এবং পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত যা-ই বলেন সেটা আগে নিয়ে নিতে হবে। এগুলো হচ্ছে:

  • ১) উদ্দেশ্য:

গেমিং পিসি কেনার উপর কথা বলছি এখানে আবার উদ্দেশ্যে কি! আপনাদের অনেকেই হয়তো আমাকে এখন এই প্রশ্নটি করবেন। গেমিং পিসি কেনার আগে সর্বপ্রথমে যেটা নির্ধারণ করবেন সেটা হলো উদ্দেশ্য। গেমিং পিসি কেনার উদ্দেশ্য হচ্ছে গেমস খেলা এবং যথাযথ র‌্যাম থাকলে গেমিং পিসি দিয়ে আপনি মাল্টিমিডিয়া গ্রাফিক্স এডিটিংয়েও কাজ করে ফেলতে পারবেন। এখানে উদ্দেশ্য বলতে আমি বুঝিয়েছি কোন লক্ষ্যে আপনি গেমিং পিসি কিনবেন সেটা আগে ঠিক করুন।

যেমন নিজের বাসায় গেমস খেলার জন্য যদি গেমিং পিসি কিনবেন বলে ফিক্সড করেন তাহলে “Show-off” বা “লোক-দেখানো” জিনিসপাতির উপর টাকা পয়সা না খরচ করাই বেটার। যেমন সিপিইউ কেসিংয়ের কথাই বলি, কেসিং এর কাজ হলো আমাদের পিসি চালানোর মূল কম্পোনেন্টগুলোকে প্রটেক্ট করা। এজন্যই কম্পিউটারে কেসিং ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কেসিং বা কেস (case) কম দামি বা বেশি দামি যেটাই আপনি কিনেন না কেন এটা আপনার পিসি পারফরমেন্স বাড়াবেও না আবার কমাবেও না। এখন যদি “লোক-দেখানোর” জন্য বেশি দামদিয়ে RGB লাইটিংযুক্ত পিসি কেইস কিনেন তাহলে সেটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের ব্যাপার।

  • ২) গ্রাফিক্স কার্ড:

গেমিং পিসির জন্য আপনাকে সিপিইউ এর আগেই গ্রাফিক্স কার্ড বা জিপিইউ নিয়ে ভাবতে হবে। গেমিং পিসির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে গ্রাফিক্স কার্ড। আপনার গ্রাফিক্স কার্ডের উপরেই নিভর্র করে আপনাকে বাকি কম্পোনেন্টগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। বিশেষ করে মনে রাখবেন গেমিং পিসি বিল্ড করার সময় “GPU before CPU”। তাই আপনার বাজেটে গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য অবশ্যই আলাদা ভাবে একটি সেক্টর রেখে দিবেন। আপনার বাজেটের উপর সঠিক গ্রাফিক্স কার্ড ও সিপিইউ নির্বাচন করার জন্য নিচের সহজ ফমূর্লাটি মনে রাখলেই হবে:

  1. নিম্ন স্তরের প্রসেসর  < এর জন্য চাই > মধ্যম মানের গ্রাফিক্স কার্ড
  2. মধ্যম মানের প্রসেসর < এর জন্য চাই > মধ্য-উচ্চ মানের গ্রাফিক্স কার্ড
  3. উচ্চ মানের প্রসেসর < এর জন্য চাই > উচ্চ মানের গ্রাফিক্স কার্ড

এখানে নিম্ন স্তরের প্রসেসর বলতে কয়েক ধাপ আগের জেনারেশনের পুরতান প্রসেসরগুলোকে আমি বুঝাচ্ছি। বর্তমানে অষ্টম প্রজন্মের প্রসেসর বাজারে চলছে। এক্ষেত্রে ৪র্থ প্রজন্মের প্রসেসর কে নিম্নস্তরের প্রসেসর বলা যায়। প্রজন্মের ভেদাভেদেই পারফরমেন্সের আপ-ডাউন হয়ে থাকে এবং দামের মধ্যেও ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। আর তাই বাজারে আপনি ৪ হাজার টাকার কোর আই ৩ প্রসেসর পাবেন আবার একই সাথে ১৯ হাজার টাকারও কোর আই ৩ প্রসেসর পাবেন। পার্থক্য থাকবে প্রজন্মে।

  • ৩) ডিসপ্লে রেজুলেশন:

এবার আসি ডিসপ্লে রেজুলেশন নিয়ে। মানে মনিটর নিয়ে আরকি। বিশেষ করে আপনি যখন বাজেট গেমিং পিসি বিল্ড করবেন তখন ডিসপ্লে রেজুলেশন নিয়ে আপনাকে অবশ্যই ভাবতে হবে। একটি মধ্যম মানের গ্রাফিক্স কার্ড কখনোই 1080P রেজুলেশন ভালো মতো টানতে পারবে না আর 4K তো দূরের কথা। অনেকেই মনে করেন মনিটরের সাইজ বড় হলে পিসির পারফরমেন্স বেশি হয় (লোল) কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টো হয়। বড় সাইজের মনিটরে বড় সাইজের রেজুলেশন দেওয়া থাকে, আর এই বড় সাইজের রেজুলেশন টানার জন্য বা সহ্য করার আপনার “বড় সাইজের” মানে শক্তিশালি প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডের দরকার পড়বে।

যেমন জিটিএ ৫ গেমটি ডুয়াল কোর প্রসেসর, ৪ গিগাবাইট র‌্যাম এবং DDR5 ১ গিগাবাইট গ্রাফিক্স কার্ডের পিসিতে আপনি লো সেটিংস দিয়ে সুপার গতিতে খেলতে পারবেন। লো সেটিংস মানে শুধু গ্রাফিক্স সেটিংস সর্বনিম্ন নয়, রেজুলেশনও সর্বনিম্ন করে খেলতে হবে। লো সেটিংস দিয়ে 1080P রেজুলেশনে ওই কম্পিউটারে আপনি জিটিএ৫ খেলতে পারবেন না। তাই আমি বলবো যারা বাজেট গেমিং পিসি বানাবেন তারা 1080P রেজুলেশনের মনিটর না কেনাই শ্রেয়।

  • ৪) পাওয়ার সাপ্লাই:

একটি গেমিং পিসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পাওয়ার সাপ্লাই বা PSU । আর গেমিং পিসি বিল্ড করার সময় আমরা অনেক সময়ই এই PSU উপর তেমন গুরুত্ব আরোপ করি না। কারণ আমরা মনে করি PSU আমাদের পিসির পারফরমেন্স বৃদ্ধি করবে না। হ্যাঁ এটা সত্য বটে। তবে আপনার গ্রাফিক্স কার্ড ও কম্পিউটারের জন্য নুন্যতম কারেন্টের জন্যেও কিন্তু আমাদেরকে মোটামুটি মানের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের দরকার হবে। আর নুন্যতম মান কখনোই ভালো নয়। কারণ পারফরমেন্স বৃদ্ধি না করলেও PSU কিন্তু আপনার গেমিং পিসির চালিকা শক্তি মানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। তাই আপনার কম্পিউটারের সেইফটি এই পাওয়ার সাপ্লাইয়ের উপর নির্ভর করে থাকে ভেবে বাজেটে পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য একটু স্থান রেখে দিবেন।

আর পাওয়ার সাপ্লাই সবসময় আপনার CPU ও GPU এর উপর ভিক্তি করে কিনবেন। নতুন প্রজন্মের প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডগুলোতে ছোট ছোট সাইজের টেকনোলজি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎতে এগুলো আরো ছোট হবে, মানে হলো কম বিদ্যুৎতে বেশি পারফরমেন্স। তাই নতুন প্রজন্মের হাই ফাই পিসিতে কিন্তু তেমন আহামরি ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। তাই বিনা কারণে 850-1200 Watt PSU কেনা অনেকটাই বৃথা হবে।

  • ৫) এনভিডিয়া নাকি এএমডি?

ডিম আগে না মুরগি আগে(!) কথাটা যেমন চিরবিতর্কিত একটি সাবজেক্ট গেমিং জগতে Nvidia এবং AMD টপিকটাও হচ্ছে অনেকটা সেরকমই। কোন কোম্পানির গ্রাফিক্স কার্ড সবথেকে সেরা? এই প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর নেই। দুটি কোম্পানিই ভালো হবে দুটিরই নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। তবে এখানে একটা কথা বলা যায় তা হলো, বাজেট পিসির জন্য Radeon গ্রাফিক্স কার্ড ভালো হবে। কারণ নিম্নস্তরের এবং নিম্ন-মধ্য স্তরে Nvidia এর থেকে AMD কার্ডগুলো তুলনামূলক ভাবে ভালো পারফরমেন্স দিবে। তবে সাধ্যের মধ্যে থাকলে আপনি Nvidia কার্ডে চলে আসতে পারেন। এটা অনেকটা আইফোন আর স্যামসংয়ের মতো। স্যামসংয়ের স্মার্টফোন বাজেটের মধ্যে পাওয়া গেলেও আপনি কিন্তু আইফোনকে বাজেটের মধ্যে পাবেন না (সাধারণত)।

পার্টস কেনা

পরিকল্পনা এবং কোন কোন পার্টস কিনবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার পর এবার আমাদের কাজ হচ্ছে পার্টসগুলো কিনে ফেলা। আপনি চাইলে সকল পার্টস একই কম্পিউটার শপ থেকে কিনতে পারেন আর এক্ষেত্রে তারা আপনাকে টোটাল প্রাইজের উপর হালকা ডিসকাউন্টও দিতে পারে। আবার আপনি চাইলে পার্টসগুলোকে বিভিন্ন শপ থেকে বা সোর্স থেকে কিনে নিতে পারেন, এটা আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। নিচের গেমিং পিসি বিল্ড করার জন্য বাজেট অনুযায়ী সকল পার্টসগুলোকে সহজ ভাষায় আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি:

প্রসেসর

একটি সিস্টেমের ব্রেইন দিয়ে শুরু করা যাক। প্রথমে প্রসেসর কিনুন। কোন প্রসেসর কিনবেন সেটা ঠিক করুন আপনার বাজেটের সাইজ অনুসারে। বাজারে প্রসেসরে আপনি ক্লক স্পিড, কোরের সংখ্যা, মেগাহার্জ, গিগাহার্জ ইত্যাদি অনেক বিষয়ই দেখতে পাবেন। সবসময় মনে রাখবেন আপনার প্রসেসরে ক্লক স্পিড, কোরের সংখ্যা, মেগাহার্জ কিংবা গিগাহার্জ যত বেশি হবে প্রসেসরকে আপনাকে ততবেশি পারফরমেন্স দিতে পারবেন। এবং একই সাথে প্রসেসরের দামও বেশি হবে। আর মনে রাখতে হবে যে প্রজন্মের প্রসেসর আপনি কিনবেন সেটার সাথে তাল মিলিয়ে একই প্রজন্মের মাদারবোর্ডও আপনাকে কিনতে হবে। যেমন ৪র্থ প্রজন্মের প্রসেসরগুলো আপনি ২য় প্রজন্মের মাদারবোর্ডে ব্যবহার করতে পারবেন না।

  • (১) নিম্ন স্তরের বাজেট: নিম্ন স্তরের বাজেটে আমাদের উচিত ২টি কোরের মধ্যে প্রসেসর কেনা। এখন কথা হলো কোনটি কিনবেন? কারণ Core 2 Duo, Core 2 Quad, Core i3 এ সকল প্রসেসরগুলোতেই ২টি করে কোর থাকে। বাজেট একদমই কম হলে Core 2 Duo কিনে নিন, কোর ২ ডুয়ো প্রসেসর কেনার সময় অবশ্যই উচ্চতর ক্লক স্পিড দেখে কিনবেন। কারণ 3.00GHz আর 3.10GHz মানে দশমিক ১০ ক্লক স্পিডের মধ্যে পারফরমেন্সের পার্থক্য যে কত বেশি তা নিজে থেকে ব্যবহার না করলে বুঝবেন না। বাজেট একটু বেশি থাকলে Core 2 Quad য়ে চলে আসতে পারেন। আর Core i3 প্রসেসর কিনলে সবসময় এবং অবশ্যই যত পারেন লেটেস্ট প্রজন্মের কোর আই৩ কিনতে চেষ্টা করুন। যেমন আপনার বাজেটে ৪র্থ প্রজন্মের কোর আই ৩ কেনার সামর্থ্য থাকলে এটাই কিনে নিন, কমপ্রোমাইজ করে ৩ প্রজন্মের টা কিনবেন না।
  • (২) মধ্য স্তরের বাজেট: মধ্য স্তরের বাজেটে আমাদের উচিত ৪টি কোরের প্রসেসর কেনা। ৪টি কোরের প্রসেসরের মধ্যে রয়েছে Quad Core, Core i5, Core i7 প্রসেসরগুলো। একখানে কথা হচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের কোর আই ৫ থেকেই আপনি চারটি কোর পাবেন, অর্থাৎ 4th Gen এর আগের কোর আই ৫ প্রসেসরগুলোতে কিন্তু দুটি কোর দেওয়া থাকে। অন্যদিকে কোর আই ৭ এর কয়েকটি এক্সট্রিম হাই লেভেলের মডেলে ৬টি কোর থেকে শুরু করে বর্তমানে ১৮টি কোর পর্যন্ত দেওয়া থাকে। যাই হোক, মধ্য স্তরের বাজেটে বেস্ট বাজেট এবং পারফরমেন্স ব্যালেন্স আপনাকে Quad Core প্রসেসরটি দিতে পারবে। একটি কোয়াড কোর প্রসেসরকে সঠিক র‌্যাম আর গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে চালাতে পারলে আপনি এর থেকে কোর আই ৫ কিংবা আই ৭ এর মতো পারফরমেন্স পেতে পারবেন। এ জন্যই আই সিরিজ আসার আগে কোয়াড কোর আমাদের গেমিং বাজার কাঁপিয়ে ছিলো। মধ্যে দুঃখের বিষয় হচ্ছে বর্তমানে আপনি বাজারে নতুন কোয়াড কোর পাবেন না, সেকেন্ড হ্যান্ড হিসেবে কোয়াড কোর প্রসেসরটি পেলেও পেতে পারেন (সঠিক আমি বলতে পারছি না)। কোর আই ৫ প্রসেসর কিনলে অবশ্যই ৪র্থ প্রজন্মের কিংবা এর থেকে উচ্চতর প্রজন্মের কিনবেন। আর মধ্য বাজেটে কোর আই ৭ প্রসেসরে না যাওয়াটাই ভালো।
  • (৩) উচ্চস্তরের বাজেট: উচ্চস্তরের বাজেটে আপনি ৬টি কিংবা ৮টি কোরের প্রসেসরে চলে আসতে পারেন। এক্ষেত্রে Core i7 হচ্ছে আপনার জন্য বেষ্ট চয়েজ। কোর আই ৭ কেনার সময় আগে ঠিক করুন কত কোরের টা কিনবেন এবং তারপর বাজেট অনুযায়ী প্রজন্মটি ঠিক করে নিন। উচ্চস্তর বাজেটে ৬ষ্ঠ প্রজন্মের নিচে চলে যাওয়া উচিত হবে। আর বাজেটে থাকলে একেবারে অষ্টম প্রজন্মে চলে আসুন।
  • (৪) হাই ফাই বাজেট: হাই ফাই বাজেটে আপনার উচিত বর্তমানে বাজারের সবথেকে লেটেস্ট প্রজন্মের সবোর্চ্চ পারফরমেন্স সমৃদ্ধ প্রসেসরটি কিনে নেওয়া। এক্ষেত্রে আপনি কোর আই এক্সটিম সিরিজে চলে আসতে পারেন। Core X Series এর কোর আই ৯ (Core i9) প্রসেসরটি আপনার জন্য বেস্ট হবে। এবার আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করে নিন কত কোরের আই ৯ কিনবেন। বাজারে ১২, ১৪, ১৬ এবং ১৮ কোরের Core i9X প্রসেসর এখন পাওয়া যাচ্ছে।

মাদারবোর্ড

প্রসেসর কেনা হয়ে গেলে এবার মাদারবোর্ড কিনুন। মনে রাখবেন প্রসেসর, র‌্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড সহ প্রতিটি জিনিস এই মাদারবোর্ডের উপর থেকেই চলবে আর এ কারণেই একে “মাদার”-বোর্ড বলা হয়। প্রসেসর আর গ্রাফিক্স কার্ড উচ্চ কোয়ালিটির কিনে নিয়ে মাদারবোর্ডে এসে কমপ্রোমাইজ করলে চলবে না। নিম্ন, মধ্য এবং উচ্চস্তরের বাজেটে পছন্দসই মাদারবোর্ড বেছে নেবার সুযোগ থাকলেও হাই ফাই বাজেটে কিন্তু এটা থাকবে না। সেটা নিচে বিস্তারিত বলে দিচ্ছি:

  • (১) নিম্নস্তরের বাজেট: নিম্নস্তরের বাজেটে আপনার উচিত সর্বনিম্ন Intel H61 মাদারবোর্ডটি কেনা। দোকানদার আপনাকে 41 দেওয়ার জন্য রেকোমেন্ড করতে পারে কিন্তু 61 এর নিচে কখনোই যাওয়া উচিত নয় বিশেষ করে যখন গেমিং পিসি বানাচ্ছেন। 61 মাদারবোর্ডে পরবর্তীতে আপনি চাইলে কোর আই ৩ প্রসেসর আপগ্রেড করে লাগাতে পারবেন। নিম্নস্তরের বাজেটে আরেকটু সুবিধা পেতে 81 মাদারবোর্ডেও চলে আসতে পারেন, ৬১ এবং ৮১ এর মধ্যে পার্থক্য হলো ৮১ মাদারবোর্ডে বিল্ট ইন গ্রাফিক্সের পরিমাণ বেশি থাকে।
  • (২) মধ্যস্তরের বাজেট: মধ্যস্তরের বাজেটে আপনি H97 বা H110 মডেলগুলো কিনে নিতে পারেন। তবে বাজেটে থাকলে এর থেকেও উন্নত মডেলে চলে আসতে পারেন। তবে ৯৭ এর নিচের মডেলগুলোতে মধ্যস্তরের বাজেটে না যাওয়াটাই শ্রেয়।
  • (৩) উচ্চস্তরের বাজেট: এই বাজেটে সঠিক মাদারবোর্ড বেছে নেওয়াটা একটু ঝামেলাদায়ক। কারণ এখানে অনেককিছুর উপর সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাকে মাদারবোর্ডটি বেছে নিতে হবে। যেমন কতগুলো র‌্যাম স্টিক ব্যবহার করবেন, কতগুলো USB পোর্ট লাগবে, এবং প্রসেসর চিপসেট সার্পোটেরও একটি ব্যাপার রয়েছে। যেমন আপনি যদি ডিডিআর৪ র‌্যাম ব্যবহার করতে চান তাহলে DDR4 র‌্যাম সার্পোট করে এমন মাদারবোর্ড কিনতে হবে ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আপনি Gigabyte Z370P D3 মাদারবোর্ডটি নিয়ে নিতে পারেন। এতে ডিডিআর৪ র‌্যামের চারটি স্লট রয়েছে এবং এখানে সবোর্চ্চ ৬৪ গিগাবাইটের র‌্যাম আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। তাছাড়া উচ্চস্তরের বাজেটে DDR3 র‌্যাম ব্যবহার করার তো প্রশ্নই আসে না (লোল)!
  • (৪) হাই ফাই বাজেট: হাই ফাই বাজেটে আপনি যদি Core i9X প্রসেসরটি বেছে থাকেন তাহলে আপনাকে Core X সিরিজের মাদারবোর্ডও কিনে নিতে হবে। কারণ কোর আই ৯ এক্সট্রিম সিরিজের প্রসেসরটি অন্য কোনো মডেলের মাদারবোর্ডে সার্পোট করবে না।

গ্রাফিক্স কার্ড

একটি গেমিং পিসির জন্য গ্রাফিক্স কার্ডের ভূমিকা কত বেশি সেটা নতুন করে হয়তো আর বলতে হবে না। মাদারবোর্ড আর প্রসেসরের সাথে যদি খাপ খাইয়ে সঠিক মানের গ্রাফিক্স কার্ড আপনি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে পিসি থেকে সবোর্চ্চ পারফরমেন্স আপনি পাবেন। গ্রাফিক্স কার্ড কেনার সময় ১ জিবি, ২ জিবি সাইজের সাথে সাথে DDR3, DDR4, DDR5 ইত্যাদি জিনিসগুলোকেও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কারণ ২ গিগাবাইট DDR3 গ্রাফিক্সের চেয়ে ১ গিগাবাইট DDR5 গ্রাফিক্স কার্ড ভালো পারফরমেন্স দিবে।

  • (১) নিম্নস্তরের বাজেট: পোষ্টের ভূমিকা অংশে আমি বলেছি যে নিম্নস্তরের বাজেট নিম্নস্তরের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করলে চলবে না! চলবে কিন্তু পিসির পুরো পারফরমেন্স থেকে আপনি বঞ্চিত থাকবেন, তবে বাজেটের বাইরে গিয়ে তো আর কোনো কিছু করা সম্ভব নয়।  H61 মাদারবোর্ডে DDR5 গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা যায় তাই বর্তমানে বাজেটে না থাকলেও ৬ মাস কিংবা ১ বছর পর আপনি চাইলে  সরাসরি DDR5 গ্রাফিক্স কার্ডে আপগ্রেড করতে পারেন। তবে এখন যদি বাজেটের কারনে আপনাকে DDR3 গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে হয় তাহলে চেষ্টা করবেন ২ গিগাবাইটের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে। কারণ বর্তমানে এক গিগাবাইট গ্রাফিক্স কার্ডে তেমন কোনো গেমসই ভালো সেটিংয়ে খেলা যায় তার উপর সেটা যদি হয় DDR3 এর গ্রাফিক্স কার্ড! নিম্নস্তরে এনভিডিয়া গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা খুবই টাফ হবে কারণ এনভিডিয়ার কার্ড আপনি বাজেটে কুলাতে পারবেন না। আবার এনভিডিয়ার ৫১২ মেগাবাইটের গ্রাফিক্স ব্যবহার করতে যাবেন না যেন!
  • (২) মধ্যস্তরের বাজেট: মধ্যস্তরের বাজেটে DDR5 গ্রাফিক্স ছাড়া আর কোনো গ্রাফিক্সের কথা হবে না! আপনার বাজেট মতো DDR5 গ্রাফিক্স কিনে নিন। এক্ষেত্রে ১ গিগাবাইট DDR5 গ্রাফিক্স হলেও হয় তবে ২ গিগাবাইটের গ্রাফিক্স কার্ড হলে বেস্ট হবে। মধ্যস্তরের বাজেটে কোয়ালিটি পূর্ণ AMD গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করাটাই আমি ভালো বলে মনে করি। তবে শখ এবং বাজেটে থাকলে সরাসরি এনভিডিয়ায় চলে আসতে পারেন।
  • (৩) উচ্চস্তরের বাজেট: উচ্চস্তরের বাজেটে আমরা ২ গিগাবাইটের বেশি সাইজের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করবো এবং সেটা যে অবশ্যই DDR5 টাইপের হবে সেটা তো নতুন করে আর বলা লাগবে না। উচ্চস্তরের বাজেটে সঠিক গ্রাফিক্স কার্ড বেছে নেওয়া একটু ঝামেলাদায়ক কাজ। কারণ এখানে প্রসেসরের উপরে ভিক্তি করে গ্রাফিক্স কার্ড নিতে হবে। আপনি যদি উচ্চস্তরের বাজেটে কোর আই ৫ প্রসেসর নিয়ে থাকেন তাহলে ৩ থেকে ৪ গিগাবাইট গ্রাফিক্স কার্ডের সম্পূর্ণ পারফরমেন্স আপনি নাও পেতে পারেন। কিন্তু কোর আই ৭ প্রসেসর নিলে এই সমস্যাটি থাকবে না। প্রসেসর যদি কোর আই ৫ হয় তাহলে Nvidia GTX 700 সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ডগুলো আপনার জন্য সেরা হবে। এই সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে GTX 745 থেকে শুরু করে GTX TITAN Z পর্যন্ত! কোর আই ৭ প্রসেসর হলে আপনি লাফ দিয়ে GTX 900 এবং GTX 1000 সিরিজে চলে আসতে পারেন। তবে GTX 1000 সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর সম্পূর্ণ পারফরমেন্স বের করে নিতে হলে আপনার একটু হাই পারফরমেন্সের কোর আই ৭ প্রসেসর লাগবে।
  • (৪) হাই ফাই বাজেট: এই বাজেটে কোন গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে বলবো সেটা হয়তো আগেই বুঝতে পেরেছেন! হ্যাঁ আপনি হাই ফাই বাজেটে (core i9) সরাসরি GTX 2000 সিরিজে চলে আসুন। বাজেট অনুযায়ী GTX 2060, 2070, 2080 কিংবা 2080Ti কিনে নিতে পারেন। মনে রাখবেন কোর আই ৯ এবং জিটিএক্স ২০০০ সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড দিয়ে আগামী ৪/৫ বছর নিশ্চিন্তে কোনো ঝামেলা ছাড়াই 4K থেকে 1080P রেজুলেশনে গেমসের স্বাদ নিতে পারবেন আপনি।

র‌্যাম

যে বাজেটেই থাকুন না কেন ৪ গিগাবাইটের নিচের সাইজের কোনো র‌্যাম ভূলেও আপনার পিসিতে লাগবেন না। আর গেমিং পিসিতে তো ৬ গিগাবাইট র‌্যাম হচ্ছে এখন মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড। প্রসেসর আর গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে উপযুক্ত সাইজের র‌্যাম পিসিতে না লাগাতে পারলে অবশ্যই আপনি পারফরমেন্স ইস্যুতে ভুগবেন। আবার দরকারের বেশি র‌্যাম লাগালে অর্থের অপচয়ের সাথে সাথে র‌্যামেরও অপচয় হবে। বর্তমানে গেমিংয়ের জন্য সঠিক র‌্যাম কতটুকু সেটা নিয়ে আমার একটি পোষ্ট রয়েছে, সেটা দেখে আসতে পারেন এখানে ক্লিক করে।

নিম্নস্তরের বাজেটে ৪ গিগাবাইট থেকে ৬ গিগাবাইট র‌্যামের মধ্যে থাকা ভালো। আবার এখানে ৮ গিগাবাইট র‌্যাম লাগে না কারণ এই স্তরের প্রসেসরগুলো এবং গ্রাফিক্স কার্ডগুলো ৬ গিগাবাইটের বেশি র‌্যাম ব্যবহার করে না। আর নিম্নস্তরের বাজেটে ৮ গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করার মতো মাল্টিটাস্কিং আপনি করতে পারবেন না। তাই নিম্নস্তরের বাজেটে আপনি ৬ গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করুন (DDR3) ।

মধ্যস্তরের বাজেটে আপনি সরাসরি ৮ গিগাবাইট র‌্যামে চলে আসুন আর উচ্চস্তরের বাজেটে ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম হলে ভালো (DDR4) । অন্যদিকে হাই ফাই বাজেটে ৩২ গিগাবাইট র‌্যাম হলেই চলবে কারণ হেভি ডিউটি মাল্টি টাস্কিং করলেও আপনার ৬৪ গিগাবাইট র‌্যামের প্রয়োজন হবে না।

স্টোরেজ

আগে পিসিতে স্টোরেজ বলতে হার্ডডিক্সকে আমরা বুঝতাম কিন্তু বর্তমানে হার্ডডিক্সের থেকেও উচ্চগতির সলিড স্টেট ড্রাইভ বা SSD চলে আসায় এটা বলা যায় না। আর গেমিং পিসির জন্য SSD হচ্ছে বর্তমানে অন্যতম একটি দরকারি পার্টস। নিম্নস্তরের বাজেটের গেমিং পিসিতে সাধারণত SSD ব্যবহার করা হয় না কারণ এখানে বাজেট সংকট রয়েছে। তাই নিম্নস্তরে আপনার উচিত উন্নত কোয়ালিটি আর পারফরমেন্সের HDD বা হার্ডডিক্স ড্রাইভ ব্যবহার করা, কত গিগাবাইটের ব্যবহার করবেন সেটা আপনার প্রয়োজন অনুসারে সিলেক্ট করে নিন।

মধ্যস্তরের বাজেটে আপনি HDD এবং SSD দুটি একসাথেই ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে সবসময় মনে রাখবে যে উইন্ডোজ বা অপারেটিং সিস্টেমটি যাতে SSD তে দেওয়া থাকে।

উচ্চস্তরের বাজেটে আপনি বেশি বড় সাইজের SSD ব্যবহার করতে পারেন কিংবা বাজেট সংকট থাকলে HDD কেও ব্যবহার করতে পারেন। যেমন ২ টেরাবাইটে হার্ডডিক্স ব্যবহার করলেন আপনার সকল মুভি, ফাইলস, কালেক্টশন ইত্যাদির জন্য আর ৫১২ গিগাবাইটের SSD ব্যবহার করলে অপারেটিং সিস্টেম আর গেমস ইন্সটলের জন্য।

আর হাই ফাই বাজেটে HDD ব্যবহার করলে আপনারই লস! ২ টেরাবাইটের SSD লাগিয়ে নিন আর তারপরেও স্টোরেজে না কুলালে 5TB এর হার্ডডিক্স পরবর্তীতে লাগিয়ে নিতে পারেন।

পাওয়ার সাপ্লাই

নিম্ন কিংবা হাইফাই যে বাজেটেই আপনি থাকেন না কেন PSU কেনার সময় সবসময় আপনার কম্পিউটারের জন্য যথাযথ এবং গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়ার সাপ্লাই কিনতে চেষ্টা করবেন। মধ্য, উচ্চ এবং হাইফাই বাজেটে অবশ্যই ব্রান্ডের PSU ব্যবহার করবেন। নিম্নস্তরের বাজেটে পিসিতে সাধারণত 650W এর PSU হলেই চলে তবে নিম্নস্তরে চেষ্টা করবেন চাইনিজ PSU গুলো এড়িয়ে চলতে।

কুলিং সিস্টেম

গ্রাফিক্স কার্ডে এবং প্রসেসরে আগে থেকেই কুলিং সিস্টেম দেওয়া থাকে। তবে আমাদের উচিত নিজে থেকেই আরো বেশি কুলি সিস্টেম লাগানো। কারণ পিসি যত ঠান্ডা থাকবে ততই স্মুথ পারফরমেন্স আপনি পাবেন, বিশেষ করে যাদের বাসায় এসি নেই বা এসি ছাড়া রুমে গেমিং পিসি থাকলে অবশ্যই থার্ড পার্টি কুলিং সিস্টেম আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। আর উচ্চস্তরে কিংবা হাই ফাই স্তরে গ্রাফিক্স কার্ড এবং প্রসেসরকে আমরা ওভারক্লকিং করবো তাই সেখানে লিকুইড কুলিং সিস্টেম বা এর থেকেও উন্নত সিস্টেমের কুলিং ফিচার আমাদেরকে ব্যবহার করতে হবে।

বর্তমানে কুলিং সিস্টেম দুই ধরণের, Air এবং Liquid। এয়ার কুলিং সিস্টেম হচ্ছে বাজেট নির্ভর। এয়ার কুলিংয়ে ছোট বড় সাইজের ফ্যান ব্যবহৃত হয় বিধায় এতে খরচ কম, তবে ফ্যান পুরোনো হয়ে গেলে বা ময়লা জমে গেলে কিংবা একই সাথে ততোধিক ফ্যান ব্যবহার করলে চালানোর সময় বেশ শব্দ হবে। অন্যদিকে লিকুইড সিস্টেমে ফ্যান থাকে না বরং লিকুইড বা তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয় বিধায় এতে কোনো আলাদা শব্দ হয় না তবে এগুলো সেটআপ করা তুলনামুলক ভাবে কঠিন এবং এগুলো দামও বেশি।

কেইস

এবার কেইস কিনতে হবে। মনে রাখবেন আপনি কম্পিউটারে কি কি পার্টস দিয়েছেন সেটা কিন্তু বাইরে থেকে কেউই খেয়াল করবে না, যেটা খেয়াল করবে সেটা হলো পিসির কেইস (case) । কেসিং কেনার সময় উপরের কুলিং সিস্টেমটি মাথায় রাখতে হবে, যেমন কেসিংয়ে যদি এক্সট্রা ফ্যান লাগানো সিস্টেম না থাকে তাহলে কুলিং সিস্টেম সেটআপ করার সময় ফ্যান ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই পিসিতে এয়ার কুলিং সিস্টেমে কতগুলো ফ্যান ব্যবহার করবেন সেটার ভিক্তিতে কেইসটি সিলেক্ট করে নিন।

এছাড়াও উচ্চ এবং হাই ফাই স্তরের গ্রাফিক্স কার্ডগুলো অনান্য গ্রাফিক্স কার্ডের থেকে সাইজে একটু বড় হয়ে থাকে তাই এগুলো সাধারণ সাইজের কেসিংয়ে ফিট করা যায় না। তাই এগুলো ফিট হবার জন্য তুলনামূলক বড় সাইজের কেসিংয়ের দরকার হয়। এছাড়াও শখের বশে যদি কেসিংয়ে লাইটিং ফিচার এবং অনান্য ফিচার চান সেটাও আপনি লাগাতে পারেন আপনার খুশি। বাজারে নরমাল পিসির কেসিং ১৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে থাকে আর গেমিং কেসিংও আপনি এ বাজেটের আশেপাশেই পেয়ে যাবেন তবে এক্সট্রা ফিচার ও সাইজের কারণে কেসিংয়ের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

অনান্য পার্টস

এবার আপনি আপনার প্রয়োজন মাফিক অনান্য বিভিন্ন পার্টস পিসির জন্য নিয়ে নিতে পারেন, যেমন ডিভিডি ড্রাইভ, কিবোর্ড, মাউস, স্পিকার, মনিটর, চেয়ার টেবিল, হেডফোন ইত্যাদি। এগুলো নিয়ে আমাকে কিছু বলতে হবে না কারণ এগুলো আপনার প্রয়োজন এবং পছন্দ অনুযায়ী কিনতে হবে। যেমন আপনার যদি স্পিকার দরকার না হয় তাহলে স্পিকার না কিনে হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা ছোট মনিটরে খেলতে ভালো না লাগলে বাজেটে থাকলে বড় সাইজের মনিটর কিনতে পারেন। জাস্ট পিসির পারফরমেন্সের উপর মনিটর সিলেক্ট করলেই চলবে (যেটা পোষ্টের ভূমিকায় আমি বলে দিয়েছি)।

সকল পার্টসকে লাগানো

একটি গেমিং পিসি বিল্ড করার জন্য সকল পার্টস কেনা হয়ে গেলে এবার শুধু এগুলোকে সঠিক ভাবে লাগানো বাকি রয়েছে। এখানে একটি কথা বলতে হয় সেটা হচ্ছে আপনি যদি পিসি হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা এবং জ্ঞান রাখেন এবং কম্পিউটার পার্টস কিভাবে সঠিক ভাবে লাগাতে হয় সে ব্যাপারে জ্ঞান থাকলে আপনি নিজে নিজেই মাদারবোর্ডে র‌্যাম, প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, কেসিংয়ে মাদারবোর্ড লাগনো, পাওয়ার সাপ্লাই লাগানো, বিভিন্ন জ্যাককে সঠিকভাবে সেটআপ করা ইত্যাদি সবই নিজে থেকেই করতে পারবেন। তবে ধারণা এবং জ্ঞান না থাকলে এগুলো নিজে থেকে করতে যাবেন না। একটি কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টারে কিংবা শপে আপনার সিপিইউ কেনার সকল পার্টসগুলোকে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে এগুলোকে লাগিয়ে নিয়ে আসুন। এক্ষেত্রে সার্ভিস সেন্টারে আপনাকে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে (যেটা স্থান ভেদে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে)।

উপসংহার

এভাবেই একটি গেমিং পিসি আপনি স্টেপ বাই স্টেপ আপনার নিজের বাজেট অনুযায়ী প্রয়োজনমতো সেটআপ করে নিতে পারেন। নিম্ন বাজেটের গেমিং পিসিতে আপনি কম রেজুলেশন দিয়ে গ্রাফিক্স সেটিংস লো করে নিয়ে বর্তমান গেমসগুলো খেলতে পারেন। তবে মোটামুটি রেজুলেশন এবং মোটামুটি গ্রাফিক্সে গেমসগুলো খেলার জন্য আপনাকে মধ্য বাজেটের গেমিং পিসিতে আসতে হবে। উচ্চস্তরের বাজেটে 1080P রেজুলেশনে হাই গ্রাফিক্সে গেমস উপভোগ করতে পারলেও 4K রেজুলেশনে আল্ট্রা গ্রাফিক্স সেটিংসয়ে গেমসগুলো উপভোগ করতে হলে আপনার হাই ফাই বাজেটের গেমিং পিসিতে চলে যেতে হবে।

আজকের পোষ্টে খেয়াল করলে দেখবেন যে আমি এখানে কোনো পার্টসের দাম উল্লেখ করিনি। কারণ কম্পিউটার মার্কেট সর্বদা পরিবর্তনশীল। আজকের পোষ্টে কিভাবে আপনি একটি গেমিং পিসি বিল্ড করবেন সে ব্যাপারে সহজ ভাষায় “ধারণা” দেবার চেষ্টা করেছি। দাম উল্লেখ সহ পোষ্ট করলে এখানে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা যেত, যেমন এই পোষ্টটি প্রাইসপয়েন্ট সহ ২ মাস আগে করলে দেখা যেত তখন র‌্যামের দাম কম ছিলো কিন্তু বর্তমানে স্মার্টফোনে র‌্যাম ব্যবহারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় র‌্যামের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে এনভিডিয়ার ২০০০ সিরিজ বাজারে এনাউন্স করায় আগের সিরিজের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঢাকায় একটি কম্পিউটার পার্টসের দামের তুলনায় একটু দুরবর্তী শহরগুলোতে (যেমন খুলনায়) একই পার্টসের দাম হাজার দুয়েক বেশি হতে পারে।

এছাড়াও পোষ্টটি বছর খানেক পরে পড়েও যাতে আপনারা গেমিং পিসি বিল্ড নিয়ে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন সে জন্যই আজকের পোষ্টটি করা। বাজেট অনুযায়ী স্টেপ বাই স্টেপ গেমিং পিসি বিল্ড নিয়ে বিস্তারিত পোষ্ট খুব শীঘ্রই আপনারা ওয়্যারবিডিে পাবেন। যেমন আজকের পোষ্টে শুধুমাত্র ইন্টেল প্রসেসর নিয়ে কথা বলেছি এএমডির প্রসেসর নিয়ে বলিনি, এগুলোর সবই স্টেপ বাই স্টেপ পোষ্টগুলোতে থাকবে।  আজকের পোষ্টে গেমিং পিসি বিল্ড নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে চটপট করে ফেলতে পারেন।

 

ফাহাদ
যান্ত্রিক এই শহরে, ভিডিও গেমসের উপর নিজের সুখ খুঁজে পাই। যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে! কম্পিউটারকে আমার মতো করে আপন করে নিন দেখবেন আপনার আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হবে না।

ইউটিউব অ্যালগরিদম কিভাবে কাজ করে?

Previous article

MNP: মোবাইল নাম্বার না বদলে অপারেটর পাল্টে ফেলার বিস্তারিত কাহিনী!

Next article

You may also like

4 Comments

  1. অনেক ভালো লাগলো লিখাটি। খুব কাজে দেবে। ধন্যবাদ লেখক কে!!!!

  2. Ryzen processor নিয়ে কোন মতামত দেখলাম না !

    1. সামনের পোষ্টে থাকবে।

  3. 30 হাজার টাকার গেমিং পিসি তৈরি করার নিয়ম। কোথায় পাওয়া যাবে

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *