WireBD
কিভাবে লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন?

কিভাবে লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন? — [নতুনদের জন্য নির্দেশিকা!]

হয়তো আপনি আলাদা অপারেটিং সিস্টেম থেকে লিনাক্সে সুইচ করেছেন কিংবা হয়তো লিনাক্সে সুইচ করার চিন্তা করছেন — সেক্ষেত্রে আপনি যদি নতুন ইউজার হোন অবশ্যই একটি প্রশ্ন আপনাকে সঙ্কিত করতে পারে, “লিনাক্সের জন্য কোন সফটওয়্যার গুলো প্রাপ্য রয়েছে এবং সেগুলোকে কিভাবে ইন্সটল করা যেতে পারে?” হ্যাঁ, যদি কয়েক বছর আগের কথা বলেন, লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করা সত্যিই অনেক ঝামেলার ব্যাপার ছিল, যার জন্য আমি নিজেও লিনাক্স ইউজ করতে ভয় পেতাম অনেক সময়।

কিন্তু বর্তমানে সময় পরিবর্তন হয়ে গেছে, আর আজকের দিনেও অনেকের মনে লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করা নিয়ে ভয় থাকলেও আমি বলবো বর্তমানে লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করা উইন্ডোজ কম্পিউটারের থেকেও সহজ। যদিও আপনি যদি উবুন্টু বা উবুন্টু নির্ভর ডিস্ট্র ইউজ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে কাজের সফটওয়্যার গুলো প্রি-ইন্সটল থাকা অবস্থায় পেয়ে যান, যদি তারপরেও আলাদা কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করার প্রয়োজন পরে, এই আর্টিকেল থেকে সকল সফটওয়্যার ইন্সটল পদ্ধতি গুলো শিখে নিতে পারবেন।

কোন কোন উপায়ে লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হয়, সরাসরি সেই টিউটোরিয়াল এক্সপ্লোর করার পূর্বে কিছু ব্যাপার রয়েছে যেগুলো একজন লিনাক্স ইউজার বা নতুন লিনাক্স ইউজার সম্পর্কে আপনার জানা প্রয়োজনীয়! নিচের প্যারাগ্রাফে আমি সেগুলোই প্রথমে বর্ণিত করলাম!

প্যাকেজ ম্যানেজার

নতুন লিনাক্স ইউজার’রা এটা নিয়েই বেশি মাথা খারাপ করে থাকেন, যদিও এর নাম থেকেই কাম (কাজ) বোঝা যায়। প্যাকেজ মানে এখানে সফটওয়্যার প্রোগ্রাম গুলোকে বুঝানো হয়েছে এবং ম্যানেজার মানে তো জানেনই! এটি লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোর একটি সাব-সিস্টেম বলতে পারেন, যেটা আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল থাকা সকল সফটওয়্যার গুলোর একটি ট্র্যাক রাখে, কোন সফটওয়্যার কোন লোকেশনে ইন্সটল হবে সেটা নির্ধারিত করে, ইন্সটল থাকা সফটওয়্যার গুলোর লিস্ট পেতে পারেন, ইন্সটল থাকা সফটওয়্যার গুলোর আপডেট আসলে সহজেই সেটা সিস্টেমে অ্যাপ্লাই করে নেওয়া যেতে পারে।

এখন বিরাট কনফিউশনের ব্যাপারটি তৈরি হয় এখানে, যে লিনাক্সে বহু প্যাকেজ ম্যানেজার রয়েছে কিন্তু মাত্র একটি ম্যানেজার একটি ডিস্ট্রতে ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ আলাদা আলাদা ডিস্ট্র গুলোতে আলাদা আলাদা প্যাকেজ ম্যানেজার গুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন- ডেবিয়ান এবং উবুন্টুত apt প্যাকেজ ম্যানেজার ইউজ করে; রেড হ্যাট, সেন্টওএস এবং ফেডোরা yum ইউজ করে; SUSE এবং openSUSE ডিস্ট্র zypper ইউজ করে; এবং আর্চ লিনাক্স pacman প্যাকেজ ম্যানেজার ইউজ করে।

প্রত্যেকটি প্যাকেজ ম্যানেজার আলাদা আলাদা ফাইল টাইপ ইউজ করে, ফাইল টাইপ বলতে এখানে আমি ইন্সটলার ফাইল এক্সটেনশন বুঝিয়েছি। যেমন- apt প্যাকেজ ম্যানেজার (.deb) ফাইলের সাথে কাজ করে এবং yum এবং zypper (.rpm) ফাইলের সাথে কাজ করে। apt প্যাকেজ ম্যানেজার .rpm ফাইল টাইপ ইন্সটল করতে পারে না, অপরদিকে yum এবং zypper এও .deb ফাইল কাজ করে না। উবুন্টু লোকাল .deb ফাইল ইন্সটল করার জন্য dpkg কম্যান্ড ব্যবহার করে অপরদিকে রেড হ্যাট rpm কম্যান্ড ব্যবহার করে .rpm ফাইল ইন্সটল করে।

তো বুঝতেই পাড়ছেন, মোটামুটি মাথা গুলিয়ে দেওয়ার মতো ব্যাপার! তবে এতোটাও চিন্তার কিছু নেই, কেননা বেশিরভাগ লিনাক্স ডিস্ট্র গুলোতে বর্তমানে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস যুক্ত প্যাকেজ ম্যানেজার রয়েছে। যেমন- GNOME Software, Ubuntu Software, Elementary AppCenter ইত্যাদি। এগুলোকে সহজ ভাষায় অ্যাপ স্টোর বলতে পারেন। আপনার কোন সফটওয়্যার প্রয়োজন পড়লে অ্যাপ স্টোর ওপেন করবেন সফটওয়্যারটির নাম দিয়ে সার্চ করবেন সফটওয়্যারটি পাওয়া গেলে ইন্সটল বাটনে ক্লিক করে সহজেই ইন্সটল করে ফেলবেন এবং ইউজ করতে শুরু করতে পারবেন, কোনই আলাদা ঝামেলা নেই এখানে।

তবে হ্যাঁ, সকল সফটওয়্যার হয়তো আপনার ডিস্ট্রটির অ্যাপ স্টোর থেকে পাবেন না, তখন আপনাকে ম্যানুয়াল ডাউনলোড করতে হবে এবং ইন্সটল করতে হবে অথবা কম্যান্ড লাইন ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়তে পারে। আপনাকে শুধু গুগল করে এতোটুকু দেখে নিতে হবে আপনার ডিস্ট্রটি কোন ফাইল ফরম্যাটের সফটওয়্যার প্যাকেজ সমর্থন করে। তারপরেও বাকী স্টেপ গুলো এই আর্টিকেল থেকেই পেয়ে যাবেন।

ডাউনলোড করা সফটওয়্যার ইন্সটল

কম্পিউটারে অ্যাপ স্টোর থাকা অনেক সুবিধার ব্যাপার, এতে সহজেই যেকোনো অ্যাপ খুঁজে পাওয়া এবং জিরো ঝামেলাতে সেগুলোকে ইন্সটল করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু যারা উইন্ডোজ ইউজার রয়েছেন বিশেষ করে তারা সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ইন্সটল করাতেই বেশি অভ্যস্ত। কিন্তু লিনাক্সে ব্যাপারটি একটু ট্রিকি হতে পারে। অনেক লিনাক্স ডিস্ট্রতে আপনি উইন্ডোজের মতো করেই সহজে বা তার থেকেও বেশি সহজে ডাউনলোড করা সফটওয়্যার ইন্সটল করার সুবিধা পেয়ে থাকবেন, কিন্তু অনেক ডিস্ট্র রয়েছে যেগুলোতে কম্যান্ড ব্যবহার করে ডাউনলোড করা সফটওয়্যার ইন্সটল করার প্রয়োজন পড়বে। তবে কম্যান্ড ব্যবহার করা এতোটাও মুশকিলের কিছু নয়।

প্রথমে গুগল করে আপনাকে জেনে নিতে হবে আপনার ডিস্ট্রটি কোন প্যাকেজ সাপোর্ট করে। তারপরে আপনাকে ঐ ফাইলটি ডাউনলোড করতে হবে। এখানে বুঝানোর জন্য উবুন্টুতে গুগল ক্রোম ইন্সটল করিয়ে বুঝানো হলো। প্রথমে আপনাকে গুগল ক্রোমের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটে চলে যেতে হবে এবং উবুন্টুর জন্য আপনাকে .deb ফাইলটি ডাউনলোড করতে হবে। এখানে এটাই সুবিধা যে অনেক ওয়েবসাইট আপনার লিনাক্স ডিস্ট্রটি স্বয়ংক্রিয় ডিটেক্ট করে নেবে এবং সে অনুসারে সেটআপ ফাইল ডাউনলোড করে দেবে।

সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সময় দুইটি অপশন দেখতে পাবেন, প্রথমে বলা হবে, “open with software installer” এবং দ্বিতীয়টিতে সেভ করতে বলা হবে নিরমাল ফাইল হিসেবে। যদি আপনার ডিস্ট্রটতে সফটওয়্যার ইন্সটলার অপশনটি আসে তাহলে প্যাকেজটি ইন্সটল করা পানির মতো সহজ কাজ হতে পারে, কিন্তু সকল ডিস্ট্রতে এই ফাংশন থাকে না। সেক্ষেত্রে আপনাকে ফাইলটি ম্যানুয়াল ডাউনলোড করে নিতে এবং এবং পরে কম্যান্ড লাইন ব্যবহার করে ইন্সটল করতে হবে।

চলুন প্রথমে, প্রথম অপশনটি ইউজ করে সফটওয়্যার ইন্সটল করা যাক। প্রথম অপশনটি ডিফল্টভাবে সিলেক্ট করা থাকলে উবুন্টু সফটওয়্যার ইন্সটলার ওপেন হবে এবং আপনাকে সফটওয়্যারটি ইন্সটল করার পরবর্তী অপশন গুলো প্রদান করবে। ইন্সটল অপশনে ক্লিক করলে আপনাকে আপনাকে রুট পাসওয়ার্ড প্রদান করাতে হবে এবং সফটওয়্যারটি নিজে থেকেই ইন্সটল হওয়া শুরু করে দেবে। এরপরে আপনি সফটওয়্যার মেন্যু থেকে সহজেই গুগল ক্রোম খুঁজে পাবেন এবং ব্যবহার করতে শুরু করতে পারবেন।

এখন আপনার ডিস্ট্রটিতে হয়তো গ্রাফিক্যাল ইন্সটলার মজুদ নেই, সেক্ষেত্রে সফটওয়্যারটি সাধারণভাবে হার্ড ড্রাইভে সেভ করে নিন এবং এবার কম্যান্ড লাইন ব্যবহার করে সফটওয়্যারটি ইন্সটল করতে হবে। আগেই বলেছি, কম্যান্ড লাইন ব্যবহার করে ইন্সটল করা মোটেও কঠিন কোন কাজ নয়। জাস্ট নিচের স্টেপ গুলো অনুসরণ করুণ!

  • ডেস্কটপের নিচের দিকের স্কোয়ার ডট গুলোতে ক্লিক করুণ (উবুন্টুর ক্ষেত্রে)
  • ড্যাশ ওপেন হলে, terminal টাইপ করুণ!
  • ডাউনলোড ডিরেক্টরি দেখিয়ে দেওয়ার জন্য cd ~/Downloads কম্যান্ড প্রবেশ করান টার্মিনালে
  • এবার ক্রোম ইন্সটল করাতে এই কম্যান্ড লাইন ব্যবহার করুণ sudo dpkg -i google-chrome*.deb
  • এবার আপনাকে রুট পাসওয়ার্ড প্রবেশ করাতে হবে, এবং ইন্সটল প্রসেস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে!
  • ক্রোম ইন্সটল হয়ে গেলে ড্যাশ থেকে সাধারণভাবে ওপেন করুণ এবং ব্যবহার করতে শুরু করতে পারেন।

GUI থেকে সফটওয়্যার ইন্সটল

আপনার ডিস্ট্রটিতে সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য যদি GUI থাকে তবে এই প্রসেসটি অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এখান থেকে যেকোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করতে জাস্ট আপনাকে GUI টুলটি ওপেন করতে হবে, মানে অ্যাপ স্টোরটি ওপেন করতে হবে, তারপরে সার্চ বক্স থেকে যে অ্যাপটি ইন্সটল করতে চান সেটা খুঁজে বের করতে হবে এবং সাধারণভাবে ইন্সটল বাটনে ক্লিক করলেই সফটওয়্যারটি ইন্সটল হওয়া শুরু হয়ে যাবে। যদি রুট পাসওয়ার্ড চায় সেটা প্রবেশ করাতে হবে, ব্যাস কাজ শেষ।

এছাড়াও আরো পদ্ধতি ব্যবহার করে লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করানো যেতে পারে, যেমন- Third-Party Repositories ব্যাবহার করে, বাইনারি আর্কাইভ আনপ্যাক করে, সোর্স থেকে কম্পাইল করে, অথবা আপনি চাইলে উইন্ডোজ সফটওয়্যারও ইন্সটল করতে পারেন। এই আলাদা পদ্ধতি গুলো আমি এই আর্টিকেলে লিপিবদ্ধ করলাম না, তবে আপনি এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আর্টিকেল কামনা করলে আমাকে নিচে কমেন্ট করতে পারেন।

তো বুঝতেই পারলেন আশা করছি, লিনাক্সে সফটওয়্যার ইন্সটল করা মোটেও ততোটা ঝামেলার নয় যতোটা আপনি মনে করতেন। বেশিরভাগ সফটওয়্যার আপনি অ্যাপ স্টোর থেকেই পেয়ে যাবেন, তবে হ্যাঁ অনেক সময় কম্যান্ড লাইন ব্যবহার করেও সফটওয়্যার ডাউনলোড করার প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে কম্যান্ড লাইন থেকে সফটওয়্যার ইন্সটল করা একেবারেই রকেট সায়েন্স নয়।

যদি আপনি বুঝতে না পারেন কি করবেন, ব্যাস হালকা একটু গুগলের সাহায্য নিলেও সহজেই আপনার ডিস্ট্রতে যেকোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করতে পারবেন। আর যেকোনো প্রশ্নে আমি কমেন্ট সেকশনে সর্বদা লভ্য রয়েছি!


ফিচার ইমেজ ক্রেডিটঃ By whiteMocca Via Shutterstock

তাহমিদ বোরহান

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

15 comments

  • লিনাক্স নিয়ে এরকম গুরুত্বপুরন এবং মাজাদার পোস্ট গুলো পেয়ে আপনার কাছে কৃতজ্ঞ ভাইয়া।
    ধন্যবাদ

  • Third-Party Repositories ব্যাবহার করে, বাইনারি আর্কাইভ আনপ্যাক করে, সোর্স থেকে কম্পাইল করে……….. এগুলা লিখে ফেলুন ভাই!!!! আমি লিনাক্সে পারদরশি নয়… কিন্তু জানতে চাই।

    • লিনাক্স নিয়ে তো ভাই নিয়মিতই লিখছি, আশা করা যায় দ্রুতই লিখে ফেলব 🙂

    • হ্যাঁ, ফেডোরাতে প্যাকেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে, এতে RPM Package Manager ব্যবহার করা হয়!

  • Windows 10 dual boot problem korche… HDD theke ( C drive or D drive ) shrink kore linux ubuntu 17:10 diye dhukle allocated drive dekhache but + icon nei je partition korbo…

    Please help

  • ভিন্ন স্বাদের জন্য লিনাক্স ব্যাবহার করা যেতে পারে।কিন্তু রেগুলার ইউজের জন্য লিনাক্স খুবই আনপ্রফেশনাল

    • “রেগুলার ইউজের জন্য লিনাক্স আনপ্রফেশনাল” – এই কথাটি কিন্তু মোটেও সত্য নয়, এমন কিছু নেই যেটা লিনাক্সে হয় না, এটা যেকোনো আলাদা ওএস থেকে অনেক শক্তিশালী অনেক বেশি ফাস্ট এবং হাইলি কাস্টমাইজেবল!

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!