টেক চিন্তা

আজকের জনপ্রিয় কিছু প্রযুক্তি যা কয়েক দশক পর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে!

7
আজকের জনপ্রিয় কিছু প্রযুক্তি যা কয়েক দশক পর সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবে!

আজ থেকে ২০ বছর আগে খুব কম হাতে গোনা মানুষ বাসায় একটি রঙ্গিন টেলিভিশন এর কথা ভাবতে পারত, আর মোবাইল ফোন? কেউ তো কল্পনাই করতে পারত না। সময় বদলেছে বিজ্ঞান অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে- প্রযুক্তি হয়েছে আরও উন্নত। আজ থেকে ২০ বছর আগে আমাদের কাছে যা অনেক মূল্যবান বা অসাধারন প্রযুক্তি ছিল, আজ হয়ত তার একদম কোন মূল্যই নেই। আজ আমি এই আর্টিকেলে ৪ টি প্রচলিত বিজ্ঞানের আশীর্বাদে পাওয়া প্রযুক্তির কথা জানাব যা আর ১৫-২০ বছর পর একদম থাকবে না।

রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস

IMG By Steve Jhonson On Pexels.com

বিজ্ঞানের  অগ্রগতিতে আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম একটি সাফল্যময় আবিস্কার ছিল রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস। যেমন, উদাহরন হিসেবে বলতে পারি টেলিভিশন রিমোট, মিউজিক প্লেয়ার রিমোট, এসির রিমোট ইত্যাদি। রিমোট আমাদের প্রতিদিনকার নিত্য-নৈমত্তিক ব্যাপারটাকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। টেলিভিশন এর চ্যানেল পরিবর্তন করা, শব্দ কম বেশি করা থেকে শুরু করে, টেলিভিশন এর সেটিংস্‌ নিয়ন্ত্রন সবকিছুই আমরা দূর থেকে শুয়ে বসে একটি রিমোট ব্যবহার করেই সমাধা করতে অভ্যস্ত । আর এই রিমোট ছাড়া আজকাল এসব যন্ত্র চালনা করাই আমাদের নিকট অকল্পনাদায়ক হয়ে পরে ।

আপনি একটু ভেবে দেখুন  আপনার টেলিভিশন এর রিমোট নেই, আপনার টেলিভিশন আপনার থেকে ১০ হাত সামনে; এমতাবস্থায় হঠাৎ বিজ্ঞাপন বিরতি চালু হয়ে গেল; তখন কি আপনি আবার উঠে গিয়ে চ্যানেল পরিবর্তন করে দিয়ে আসবেন? হয়ত একবার দুইবার করবেন তবে বারবার এটা কখনই সম্ভব না, বিরক্তিকর। আমাদের  একটি রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস লাগবেই ; আর একই ব্যাপারটা এসি থেকে শুরু করে অন্য সকল ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস এর ক্ষেত্রেও সত্য যেসব কিছু  রিমোট কন্ট্রোল সাপোর্ট করে।

তবে আর ১৪-১৫ বছর পরে এই স্থানটি দখল করে নিবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ ভয়েস কম্মান্ড সুবিধা। আর বর্তমান সময়েও এরকম অনেক ডিভাইস রয়েছে যেগুলি ভয়েজ রিকগনিশন বুঝতে পারে; ব্যবহারকারির মুখের বুলির অপর নির্ভর করে কাজ করবে। যেমনঃ আপনি বললেন চেঞ্জ, সাথে সাথে দেখা যাবে আপনার চ্যানেলটি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। একই ভাবে সকল ইলেক্ট্রনিক্স রিমোট সাপোর্টেড  ডিভাইস গুলির জন্য একসময় আলাদা করে আর রিমোট ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে না। ভয়েজ রিকগনিশন এর পাশাপাশিও কাজ করবে হ্যান্ড-জেসচার কন্ট্রোল; যেখানে হাতের ইসারা দিয়েও এসব নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে।


বিরক্তিকর প্রসথেটিক্স

IMG By Pexels on Pixabay.com

বহু আগে দুর্ঘটনা বশত কোন মানুষ হাত বা পা হারালে তাকে সেই হারানো হাত বা পায়ের স্থানে হুক পরিয়ে দেওয়া হত ; ব্যাপারটা আপনি জলদস্যুর সাথে কল্পনা করতে পারেন।ছোটবেলা রূপকথার জল-দস্যুদের হাতে হয়ত আপনি এরকম হুক দেখেছেন, ব্যাপারটা একটু কুল ছিল বটে, হাতে একটি বাঁকানো লোহার হুক! সময় অনেক বদলে গেছে মেডিকেল সায়েন্স অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বর্তমান সময়ে কারো মারাত্মক দুর্ঘটনা জনিত কোন কারনে হাত বা পা হারালে তার দেহে কৃত্রিম হাত বা পা তথা  প্রসথেটিক্স পরিয়ে দেয়া হয়। আর এই প্রসথেটিক্সও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রযুক্তির ছোঁয়া। তবে এখন যেসব প্রসথেটিক্স প্রচলিত তা একদিক দিয়ে খুবই বিরক্তিকর এবং ক্লান্তিকর।

তবে বেশ কিছু নিত্যনতুন প্রসথেটিক্স নির্মাতা কোম্পানি এসব প্রসথেটিক্সকে এমন বিরক্তিকর, ক্লান্তিকর এবং কষ্টকর করে না তৈরি করে  আর্টিফিশিয়াল হাত পা এর ডিজাইনে অনেক অত্যাধুনিক কিছু তৈরি করছে। যখন আপনার কেবল কিছু সাধারন কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য প্রসথেটিক্স দরকার ; যেমনঃ হাঁটাচলা,হাতের সাধারন কিছু কাজ করা ; ঠিক সেখানে যদি এসব আর্টিফিশিয়াল হাত পা যদি আরও বেশি কিছু করে তবে?

যেমন একা একা চলে আপনাকে  এগিয়ে যেতে সাহায্য করা এমনকি কোনকিছু তুলতে সহায়তা করা? ব্যাপারটা  তখন এসব আর্টিফিশিয়াল হাত পা তথা প্রসথেটিক্স বাবহারকারিদের কাছে সুপার পাওয়ার এর মত লাগবে। একজন ফ্রেঞ্চ ট্যাটু আর্টিস্ট যার নাম জেসি টেনেট সে তার হাতের জন্য একটি আর্টিফিশিয়াল  প্রসথেটিক্স তৈরি করেছে; যেটি কিনা একটি হাত এর পাশাপাশি একটি  ট্যাটু  গান হিসেবে কাজ করে। আর এটা নিশ্চিৎ যে ভবিষ্যতে এখনকার মত আর এসব বোরিং তথা বিরক্তিকর  প্রসথেটিক্স থাকবে না। সেগুলো প্রতিটি ব্যবহারকারী আরও নির্দিষ্ট, স্বতন্ত্র ফাংশন প্রদান করবে।


এফ এফ রেডিও

IMG By KambooPics on Pexels.com

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও এফএম রেডিও এর জনপ্রিয়তা কম নয়। আর এই এফএম রেডিও এর সবচেয়ে বেশি ব্যবহার যতটা না হয় মুঠোফোনে তার থেকে বেশি হয় ব্যাক্তিগত যান বা হনে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এই চিত্রটা তেমন না মিললেও উন্নত বিশ্বের দেশ ; যেমনঃ ইউএস,ইউকে,ইউএই এর মত দেশে মানুষজন এফএম রোডিও সবচেয়ে বেশি তাদের প্রাইভেট গাড়িতেই ব্যবহার করে।মুঠোফোনএর মত ডিভাইসের মত গাড়িতে অনলাইন স্ট্রিমিং ব্যাপারটা অতটা সহজলভ্যএবং জনপ্রিয় নয়। যদিও স্মার্টফোন এর সাথে কানেক্ট করে প্রাইভেট কারেও এমন ব্যবস্থা করা যেত ; তবে আপাতত এফএম রেডিও ই এই ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় বিনোদন এর মাধ্যম।

তবে এফএম রেডিওতে ৩-৪ টি গানএর সাথে ১০-২০ মিনিট এর বিজ্ঞাপন বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। আর এটি এফএম রেডিও এর ওপর মানুষের মন উঠে যাওয়ার অন্যতম বড় একটি কারন। যেখানে বর্তমানে বিদ্যুতের পোল এর মত প্রতিটা জায়গায় মোবাইল টাওয়ার পৌছে গিয়েছে, সেখানে রেডিও ট্রান্সমিশন পদ্ধতর এই এফএম রেডিও প্রযুক্তি অনতিদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হওয়া তা বোঝা যায়। তখন মোবাইল ডাটা আরও সহজলভ্যহয়ে এইরকম বিনোদন এর কোন মাধ্যমও স্ট্রিমিং ভিত্তিক হয়ে যাবে।


৪ ডিজিট স্টোরেজ ডিভাইস হিসেবে মস্তিস্ক

স্মার্ট কার্ড

আমাদের অনেকের কাছে ব্যাংক ডেবিট কার্ড আছে নিশ্চয়ই; আর এই ব্যাংক ডেবিট কার্ড এর পিন মনে রাখা নিশ্চয়ই আমাদের কাছে কঠিন কোন কাজ নয় । তবে  যদি আমাদের কাছে একের অধিক ততোধিক এরকম কার্ডস থাকে তখন কি আমাদের এতোগুলো নাম্বার মনে রাখা সম্ভব হবে? নিশ্চয় ব্যপারটা তখন আমাদের কাছে মনে রাখা অনেক কঠিন হবে । একাধিক ব্যাংক এর পিন নাম্বার,অ্যাকাউন্ট নাম্বার এসব জিনিস মনে রাখা আসলেই অনেক ঝামেলা পূর্ণ একটা ব্যাপার।

এসব কার্ড এর পিনও অনেক সময় আমাদের পাল্টাতে হয় কেউ হয়ত জেনে গিয়েছে এই কারনে; আর হ্যাকারদের কাছে এই পিন চুরি করাও কোন কঠিন ব্যাপার নয়। তাই বর্তমান সময়ে এই পিন সিকিউরিটি সিস্টেম অনেক দুর্বল পর্যায়ের একটি নিরাপত্তা ব্যাবস্থা; যেখানে অর্থ সম্পর্কিত নানা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট এর নিরাপত্তা বলতে গেলে আধুনিক  প্রযুক্তির কাছে একদম তলানিতে; আর এগুলোই মুল কারন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকারদের দ্বারা বাংলাদেশ ব্যাংক এর রিজার্ভ এর অর্থ চুরি হয়ে যায়।

যেখানে পিন ভিত্তিক ডেবিট কার্ডএর ক্ষেত্রে টাকা চুরির ঘটনা এতটা সহজ। সেখানে চিপ ভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড এর ক্ষেত্রে প্রতি ট্রানজেকশনে একটি ইউনিক পিন জেনারেট হয়ে থাকে ; যার ফলে এখানে হ্যাকারদের কার্ড জাল করা বা প্রতারনামুলক  ট্রানজেকশনের ভয় থাকেনা। আর এভাবে এটা নিশ্চিত যে আগামি কয়েক দশক পর এই মস্তিস্ক দ্বারা মনে রাখা লাগে এমন পিন সিকিউরিটি বাবস্থা আর থাকবে না।


আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে। যাই হোক এই আর্টিকেল শেষে আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম দুইটি ধাধা; আর এই ধাধা এর উত্তর অবশ্যই নিচে মতামত আকারে জানাতে ভুলবেন না!

কোন জিনিসটির বাইরের দিকের অংশ খেয়ে ভেতরের অংশটি আমরা ফেলে দেই? আরেকটি হল,আপনি যে ভাষায়ই কথা বলেন না কেন, সব ভাষাতেই জবাব দিতে পারে কে?

তৌহিদুর রহমান মাহিন
কোন কিছু জেনে সেটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই সার্থকতা । আমি মোঃ তৌহিদুর রহমান মাহিন- ভালোবাসি প্রযুক্তিকে , আরও ভালোবাসি প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশি বেশি জানতে- জানাতে। নিয়মিত মানসম্মত প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে আছি টেকহাবস এর সাথে।

মাল্টিবুট ইউএসবি ড্রাইভ তৈরি করার টিউটোরিয়াল! [বিস্তারিত!]

Previous article

মৃত্যুর পরে যেভাবে আপনার গুগল অ্যাকাউন্ট ডিলিট করবেন

Next article

You may also like

7 Comments

  1. সামনের কয়েক বছরে এআই সব কিছু খেয়ে নেবে ভাই…

    1. আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স !!!

  2. Darun.

    1. 🙂 🙂

  3. Glad to see you brother.

  4. Must me mobile phones bilupto hobe. Brain phone asbe ????

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *