বর্তমান তারিখ:20 September, 2019

MU-MIMO কি? কেন আপনার ওয়্যারলেস রাউটারে এটা থাকা চাই?

MU-MIMO (যেটা দ্বারা বুঝায় multi-user, multiple input, multiple output!)

MU-MIMO কি? কেন আপনার ওয়্যারলেস রাউটারে এটা থাকা চাই?

দিন যতই যাচ্ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ইন্টারনেট ততটুকুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মুভি দেখা, গেমস খেলা, বিদেশে অবস্থানরত ফ্যামিলি মেম্বারদের সাথে ভিডিও চ্যাট কিংবা সোশাল মিডিয়াতে চেকিং সকল কিছুতেই ছড়িয়ে রয়েছে ইন্টারনেট। আর ওয়্যারলেস ইন্টারনেট বা মোবাইল কোম্পানির দেওয়া ৩জি/৪জি নেটওর্য়াকের মাধ্যমে আমরা স্মার্টফোনে আমাদের ইন্টারনেট চাহিদা পূরণ করতে পেরে নিলেও পুরো একটি বাসার সকল ডিজিটাল ডিভাইসের চাহিদা পূরণের জন্য কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের কোনো বিকল্প নেই।

আপনার বাসায় কম্পিউটারকে, আপনার ব্যক্তিগত ল্যাপটপকে, স্মার্টফোনকে, স্মার্টটিভি সহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চালানোর জন্য আপনার চাই ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। আর যেখানেই ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেট সেখানেই চলে আসে রাউটার। আর আজ আমি কথা বলবো এই ব্রডব্যান্ড রাউটারের একটি আধুনিক ফিচার কে নিয়ে যার নাম MU-MIMO। এই MU-MIMO কি এবং এটা আপনার রাউটারে ব্যবহার করা উচিত কিনা তা সবই আজকের পোষ্টে আমি সহজ ভাষায় বলতে চেষ্টা করবো। ব্রন্ডব্যান্ড রাউটারের কাজ কি?

এর সহজ উত্তর হচ্ছে আপনার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইনে Wi-Fi সার্ভিস যুক্ত করা যাতে আপনি আপনার বাসার সকল ডিজিটাল ডিভাইসে ওই একই ব্রডব্যান্ড লাইন থেকে ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারেন। কিন্তু কখনো খেয়াল করে দেখেছেন যে আপনার ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সঠিক ভাবে সঠিক মাত্রায় সকল কানেক্টেড ডিভাইসে পৌঁছাচ্ছে কিনা? এখানেই আসে MU-MIMO ফিচারটি।


MU-MIMO কি?

MIMO এর পূর্ণরূপ হচ্ছে “Multiple-Input, Multiple-Output”। একটি রাউটারে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিভক্ত হয়ে সেটা একাধিক ডিভাইসে ছড়িয়ে যাওয়ার ফিচারকেই MIMO বলা হয়। বর্তমান যুগের অধিকাংশ মর্ডান রাউটারগুলো SU-MIMO ফিচারের হয়ে থাকে। মানে এগুলো হচ্ছে “Single User, Multiple-Input, Multiple-Output” এই রাউটারগুলো দিয়ে একই সময়ে মাত্র একটি ডিভাইসয়ে স্ট্রিমিং ভাবে ইন্টারনেট গতি উপভোগ করতে পারবে।

 

ধরুণ আপনার বাসার রাউটারটি SU-MIMO ফিচারের। এখন আপনি আর আপনার ছোট ভাই দুজনই স্মার্টফোন দিয়ে নেট চালাচ্ছেন এবং দুজনই ইউটিউব দেখছেন। এখন আপনারা দুজনই যদি একই সময়ে ইউটিউব ভিডিও দেখা শুরু করেন তাহলে এই জাতীয় রাউটারের জন্য দেখবেন যে আপনাদের দুজনের মধ্যে একজনের ইউটিউব ভিডিও লোড হতে ক্ষানিকটা হালকা  সময় নিচ্ছে। সহজ ভাষায় SU-MIMO রাউটারে একই সাথে দুটি ডিভাইস ব্যবহৃত হতে থাকলে প্রথম ডিভাইসটি নেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশি “priority” পাবে।

তবে আপনার ব্রডব্যান্ড লাইনের গতি যদি বেশি হয় তাহলে খালি চোখে এই স্পিডের ব্রেকডাউন আপনি ধরতে পারবেন না। কিন্তু এই জাতীয় রাউটারে দিয়ে যখন দুটি কম্পিউটারে ইন্টারনেটে গেমস খেলতে যাবেন তখন দেখবেন যে একটি কম্পিউটারে Ping খুবই ভালো আবার অন্য কম্পিউটারে Ping এর অবস্থা খুবই খারাপ।

 

অন্যদিকে MU-MIMO হচ্ছে “Multiple User, Multiple-Input, Multiple Output”। এই ফিচারটি আপনার ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথকে আপনার সকল ডিভাইসে সমান ভাবে ভাগ করে দিতে পারবে। এই রাউটারগুলো তিনটি ভাগে বাজারে পাওয়া যায়, এগুলো হচ্ছে 2×2, 3×3 এবং 4×4 । মানে হলো কতগুলো ডিভাইসে এই রাউটারটি একই সাথে স্ট্রিমিং করতে পারবে তার ভিক্তিতেই এর বিভক্তকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই জাতীয় রাউটারে আপনি ২টি থেকে ৪টি ডিভাইসে একই ব্যান্ডউইথের ইন্টারনেট সার্ভিস উপভোগ করতে পারবেন। কোনো প্রকার ল্যাগ, প্যাকেজ লস, পিং খারাপ ইত্যাদি কোনো ঝামেলাই এই রাউটারে আপনি খুঁজে পাবেন না।

MU-MIMO ফিচারের কাজের ধরণ

MU-MIMO ফিচারের রাউটারগুলো ২০১৫ সাল থেকে বাজারে আসা শুরু করে। বর্তমানে প্রায় ৫৫০ এর বেশি ডিজিটাল পণ্য এই ফিচারের সিগন্যালকে সার্পোট করে তাই আপনার ডিজিটাল ডিভাইসটি (ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন বা অন্যকিছু) যদি ২০১৪/২০১৫ সালের পর থেকে হয়ে থাকে তাহলে কম্পাবিলিটি নিয়ে চিন্তার কারণ নেই।

SU-MIMO রাউটারে ব্যবহার করা হতো ৮০২.১১ প্রোটোকলটি। ৮০২.১১ প্রোটোকলে “first-come, first-serve” ভিক্তিতে ইন্টারনেট সার্ভিস দেওয়া হয়, তাই এই জাতীয় রাউটারে একই সাথে একাধিক ডিভাইস Wifi তে কানেক্ট হলে তাদের মধ্যে নেট ব্যান্ডউইথ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

অন্যদিকে MU-MIMO রাউটারে ব্যবহার করা হয় নতুন প্রজন্মের 802.11ac প্রোটোকল (একে Next-Gen AC বা AC Wave 2 ও বলা হয়ে থাকে)। এই  প্রোটকলে আগের মতো “আগে আসুন, আগে পান” সিস্টেমটি নেই, তাই এখানে রাউটারে কানেক্টকৃত সকল ডিভাইসেই একই সাথে একই ব্যান্ডউইথের ইন্টারনেট দেওয়া হয়।

কিভাবে বুঝবেন আপনার রাউটারটি MU-MIMO কিনা?

একদম সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনার রাউটারের এন্টিনাকে দেখেই আপনি জেনে নিতে পারবেন যে আপনার রাউটারটি MU-MIMO কিনা। আপনার রাউটারে যদি ২টি বা এর বেশি এন্টিনা থাকে তাহলে সেটা হবে MU-MIMO ফিচারের রাউটার। বাজারে ১ এন্টিনার রাউটার থেকে শুরু করে ৪ এন্টিনার রাউটার আপনি বিভিন্ন দামে পেয়ে যাবেন। ১ এন্টিনার রাউটারগুলো SU-MIMO ফিচারের এবং ২ এবং এর অধিক এন্টিনার রাউটারগুলো হচ্ছে MU-MIMO । যতগুলো এন্টিনা, ততগুলো স্ট্রিমিং ডিভাইস = এই হিসেব মনে রাখলেই আপনি সহজেই আপনার রাউটারকে চিহ্নিত করে নিতে পারবেন। এ বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বছরের শুরু দিকে বাজারে আপনি ৮ এন্টিনার রাউটারও পেয়ে যাবেন যেখানে একই সাথে ৮টি ডিভাইস স্ট্রিমিং করতে পারবেন।

আমাদের দেশে অনেকেই ভূল ধারণা নিয়ে রাউটার কিনে থাকেন। বিশেষ করে এন্টিনার সংখ্যাকে নিয়ে। অধিকাংশ মানুষই মনে করেন যে রাউটারে যত বেশি এন্টিনা থাকবে Wi-Fi সিগন্যালের এরিয়া তত বেশি হবে। এটি একটি ভূল ধারণা। ১ এন্টিনার রাউটার যতদূর পর্যন্ত Wifi সিগন্যাল দিতে পারে একটি ৪ এন্টিনার রাউটার ততদূর পর্যন্তই Wifi সিগন্যাল দিতে পারবে। ওয়াইফাই সিগন্যালের সাথে রাউটারের এন্টিনার কোনো সম্পর্ক নেই!

আপনার কি MU-MIMO রাউটার ব্যবহার করা উচিত?

স্বাভাবিক ভাবে বলতে গেলে, হ্যাঁ অবশ্যই করা উচিত। কারণ SU-MIMO প্রটোকলের রাউটারগুলো ২০১৫ সালের আগের প্রযুক্তির; মানে অলরেডি ৩ বছরের পুরোনো ওগুলো। নতুন প্রজন্মের নতুন নতুন ডিভাইসের সাথে তাল মেলানোর জন্য আপনার MU-MIMO রাউটারগুলো ব্যবহার করা উচিত। তবে আল্টিমেইটলি এই সিদ্ধান্ত আপনার ইচ্ছের উপর বর্তায়। আপনি যদি কোনো ছোটখাট দোকানে রাউটার ব্যবহার করেন যেখানে আপনার স্মার্টফোন এবং দোকানের পিসি ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস WIFI ব্যবহার করে না সেখানে SU-MIMO বা MU-MIMO যে টাইপেরই রাউটার ব্যবহার করেন না কেন আপনার কাছে কোনো পার্থক্য ধরা পড়বে না।

কিন্তু কোনো অফিসে বা গেমিং ক্যাফের কথা যদি বলি; মানে যেখানে একটি রাউটারে একাধিক কম্পিউটার এবং ডিভাইস ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেখানে MU-MIMO টাইপের রাউটারগুলোর কোনো বিকল্প নেই। আপনি কম্পিউটারে বসে ডটা খেলছেন, তখন আপনার ছোটভাই তার স্মার্টফোনে Wifi তে ঢুকে ইউটিউবিং করা শুরু করলো আর SU-MIMO রাউটারের কারণে আপনার গেমের পিং একলাফে উঠা নামা করছে! তখন কেমন লাগবে?



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock

যান্ত্রিক এই শহরে, ভিডিও গেমসের উপর নিজের সুখ খুঁজে পাই। যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে! কম্পিউটারকে আমার মতো করে আপন করে নিন দেখবেন আপনার আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হবে না।

3 Comments

  1. Salam Ratul Reply

    দারুণ এক ফিচার সম্পর্কে জানতে পারলাম। কৃতজ্ঞতা জানাই ভাই। ধন্যবাদ তাহমিদ বোরহান ভাইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *