বর্তমান তারিখ:21 September, 2019

system32 ফোল্ডার কি এবং কেন এটি ডিলিট করা উচিত নয়?

কিছুদিন আগে, ফেসবুকে আমাকে একজন টেক্সট করে জিজ্ঞেস করেছিলো যে, ” ভাইয়া, আমি শুনেছি system32 ফোল্ডার একটি ভাইরাস, যেটা উইন্ডোজে আগে থেকেই থাকে। আর এটা ডিলিট করে দিলে পিসি আরও বেশি ফাস্ট হয়। এটা কি সত্যি? সত্যি হলে এটা কতোটুকু সত্যি? ”

আপনি উইন্ডোজ পিসি ইউজার হয়ে থাকলে অবশ্যই system32 টার্মটি শুনেছেন অনেকবার। এটি মুলত উইন্ডোজের সিস্টেম ফাইলসের ভেতরের একটি ফোল্ডার যেটি নিয়ে ইউজারদের মধ্যে কিছু ভুল ধারনা এবং কিছু গুজব আছে। আপনি অনেককে মজা করে বা সার্কাজম করে বলতে শুনবেন যে system32 ফোল্ডারটি একটি ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার যা উইন্ডোজে আগে থেকেই আছে এবং যা আপনার পিসিকে স্লো করে দিচ্ছে।

system32

এই ধরনের অনেক কথাই শুনে থাকবেন, যেমন- system32 ফোল্ডারটি ডিলিট করে দিলে আপনার পিসি আরও বেশি ফাস্ট হবে। কিন্তু সেটি কতোটা সত্যি? আপনি যদি কম্পিউটার এক্সপার্ট বা গীক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি হয়তো জানেন সবকিছুই। তবে যদি না জেনে থাকেন, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। কারন, আজকে এই system32 ফোল্ডার নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি।

system32 ফোল্ডার কি?

এই ফোল্ডারটি মুলত প্রত্যেকটি মডার্ন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সিস্টেম ফাইলসের ভেতরের একটি পার্ট যেটি সাধারনত C:\Windows\System32 এই অ্যাড্রেসে বা এই লোকেশনে থাকে। এই ফোল্ডারটির ভেতরে মুলত উইন্ডোজের নিজস্ব কিছু ইম্পরট্যান্ট ফাইলস থাকে, যেগুলো উইন্ডোজকে সঠিকভাবে রান করতে সাহায্য করে। এই ডিরেক্টরিটি ব্রাউজ করলে আপনি সাধারনত কিছু DLL ফাইলস এবং কিছু ট্রেডিশনাল EXE ফাইলসও খুঁজে পাবেন। এই ফোল্ডারে যে শুধুমাত্র উইন্ডোজের নিজস্ব ফাইলসগুলোই থাকে, এমনটা নয়। উইন্ডোজের নিজস্ব কিছু DLL ফাইলসের পাশাপাশি আপনি উইন্ডোজে ইন্সটল করা থার্ড পার্টি প্রোগ্রামগুলোর ব্যাবহার করা অনেক DLL ফাইলসও এর ভেতরে পাবেন যেগুলোকে উইন্ডোজ নিজে এবং থার্ড পার্টি প্রোগ্রামগুলো ফ্রিকুয়েন্টলি ব্যাবহার করছে যখনই দরকার পড়ছে।

system32

এছাড়া এই ফোল্ডারে আপনি EXE ফাইল বা প্রোগ্রামগুলো পাবেন সেগুলো উইন্ডোজের কিছু ডিফল্ট টুলস বা সিস্টেম অ্যাপস এবং প্রোগ্রামকে রেফার করে। যেমন ধরুন, আপনি যখন উইন্ডোজের ডিফল্ট টাস্ক ম্যানেজার প্রোগ্রামটি রান করেন, তখন উইন্ডোজ তার এই system32 ফোল্ডারে থাকা Taskmgr.exe প্রোগ্রামটি রান করে।উইন্ডোজের এমন বিভিন্ন ডিফল্ট প্রোগ্রামের ফাইলসগুলো এই system32 ফোল্ডারে লোকেট করা থাকে। আর শুধুমাত্র ডিফল্ট অ্যাপস নয়, এই ফোল্ডারে আরও অনেক ইম্পরট্যান্ট সিস্টেম ফাইলস লোকেট করা থাকে যেগুলো আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমকেই একরকম বাঁচিয়ে রাখার জন্য কাজ করে। যেমন- এখানে এমন কিছু সিস্টেম ফাইলসও থাকে যেগুলো উইন্ডোজ তার প্রত্যেকটি বেসিক টাস্কের জন্য প্রত্যেক সেকেন্ডেই ব্যাবহার করে।

কি হবে যদি system32 ডিলিট করার চেষ্টা করেন?

প্রথমত, আপনি সাধারন উপায়ে কখনোই system32 ফোল্ডারটি ডিলিট করতে পারবেন না। কেউ যদি কখনো আপনাকে বলে যে সে ভুল করে তার পিসি থেকে system32 ফোল্ডারটি ডিলিট করে ফেলেছে, তাহলে আপনি ১০০% শিওর থাকতে পারেন যে সে মিথ্যা বলছে। ব্যাপারটা একেবারেই এমন নয় যে আপনি system32 ফোল্ডারটির ওপরে রাইট-ক্লিক করলেন এবং ডিলিট অপশনে ক্লিক করে ফোল্ডারটি ডিলিট করে ফেললেন। উইন্ডোজ আপনাকে কখনোই এত সহজে system32 ফোল্ডার ডিলিট করবে দেবে না, যেহেতু সেখানে উইন্ডোজের সবথেকে ইম্পরট্যান্ট সিস্টেম ফাইলসগুলো থাকে। আপনি চাইলে আপনার C ড্রাইভে ঢুকে আপনার system32 ফোল্ডারটি খুঁজে বের করে ডিলিট করার চেষ্টা করতে পারেন, তবে ডিলিট ক্লিক করলে আপনি প্রত্যেকবারই নিচের উইন্ডোটি দেখতে পাবেন-

system32

দেখতেই পাচ্ছেন, এখানে system32 ফোল্ডার ডিলিট করতে হলে আপনার স্পেশাল পারমিশনের দরকার হবে। তবে আপনি উইন্ডোজের যেকোনো ফাইল এবং ফোল্ডারের ওনারশিপ বা ফুল অ্যাক্সেস নিয়ে নিতে পারেন চাইলে কিছু অ্যাডভান্সড সেটিংস অ্যাক্সেস করেই। সেটা কিভাবে করতে হয় আমি তা দেখাবোনা, কারন আমি চাইনা আপনি ফুল অ্যাক্সেস নিয়ে আপনার উইন্ডোজের সিস্টেম ফাইলস নিয়ে খুব বেশি ঘাটাঘাটি করুন। কিভাবে কোন ফাইল বা ফোল্ডারের ওনারশিপ নিতে হয় সেটা আপনি গুগলে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। তবে আপনি যদি system32 ফোল্ডারটির ফুল অ্যাক্সেস বা ওনারশিপ নিয়েও নেন, তবুও উইন্ডোজ আপনাকে এই ফোল্ডারটি ডিলিট করার থেকে আটকাবে। এক্ষেত্রে আপনাকে বলা হবে হবে যে,

system32

অর্থাৎ, system32 এর ভেতরে থাকা কোন ফাইল অথবা ফোল্ডার ইউজ করা হচ্ছে। তাই ডিলিট করা সম্ভব নয়। অবশ্যই, কারন আগেই বলেছি system32 ফোল্ডারে এমন ধরনের কিছু ইম্পরট্যান্ট ফাইলস থাকে যেগুলোকে উইন্ডোজ নিজে এবং থার্ড পার্টি প্রোগ্রামগুলো প্রায় সারাক্ষনই ব্যাবহার করছে। তাই system32 ফোল্ডারটি সারাক্ষনই in use থাকছে। কিন্তু তবুও যদি আপনি এটি ডিলিট করেন? এই অবস্থাতেও এই ফোল্ডার ডিলিট করা সম্ভব কমান্ড প্রম্পটের কিছু কমান্ডের সাহায্যে। এই কমান্ডগুলোও আপনি গুগল সার্চ করলে পাবেন। হ্যা, এই কমান্ড ব্যাবহার করে আপনি system32 ফোল্ডারের কিছু ফাইলস ডিলিট করে দিতে পারবেন। তবে এটি করলে কি হবে?

system32 ডিলিট করার পরে কি হবে?

সহজ কথায় বললে, আপনার উইন্ডোজ কাজ করা বন্ধ করে দেবে। একেবারে সাথে সাথেই বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা নয়, তবে প্রথমদিকে আপনি লক্ষ্য করবেন যে উইন্ডোজের কিছু বেসিক ডিফল্ট প্রোগ্রামও কাজ করছে না এবং যেগুলো করছে সেগুলোও ভালোভাবে ওএস এর সাথে কো-অপারেট করছে না। যেমন- আপনি লক্ষ্য করবেন যে আপনি বেসিক টুলসগুলো যেমন টাস্ক ম্যানেজার, নোটপ্যাড, উইন্ডোজ স্টোর ইত্যাদি ডিফল্ট প্রোগ্রামও ওপেন করতে পারছেন না।

ওপেন করবেনই বা কিভাবে? সেসব প্রোগ্রাম সঠিকভাবে রান করার জন্য যেসব ফাইলস এর দরকার, সেগুলোর অনেক ফাইলসই থাকে system32 ফোল্ডারে এবং সেগুলো আপনি ডিলিট করে দিয়েছেন। এছাড়া আপনি লক্ষ্য করবেন যে উইন্ডোজের কোনকিছুই আর কাজ করছে না। ফাইল এক্সপ্লোরার, রিসাইকেল বিন এসব কিছুই ওপেন হতে চাইবে না। ফাইল মিসিং, ফোর্স ক্লোজ এই প্রবলেমগুলো প্রত্যেক সেকেন্ডেই হতে থাকবে এবং অবশেষে আপনার ডিভাইসটি ব্লু স্ক্রিন ডেথের শিকার হবে। এছাড়া আপনি যদি উইন্ডোজকে রিপেয়ার করার চেষ্টাও করেন, তবুও রিপেয়ার করতে পারবেন না। কারন, রিপেয়ার করার জন্যও যেসব ফাইলসের দরকার হয়, তার সবগুলো না হলেও অনেকগুলোই আপনি system32 এর সাথে ডিলিট করে দিয়েছেন। তখন আপনার একমাত্র সল্যুশন হবে উইন্ডোজ ইন্সটলেশন ডিস্ক অথবা পেনড্রাইভের সাহায্যে উইন্ডোজ নতুন করে ক্লিন ইন্সটল করা।

এতক্ষনে নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে, system32 কোনো ভাইরাস নয় এবং এটি ডিলিট করলে আপনার পিসি ফাস্ট হওয়া তো দুরের কথা, আপনার উইন্ডোজই ক্র্যাশ করবে। তাই কেউ যদি আপনাকে কখনো বলে থাকে যে, system32 ডিলিট করলে আপনার পিসি ফাস্ট হবে, তাহলে সে শুধুমাত্র আপনাকে প্র্যাঙ্ক করেছে। তাই কখনোই এই ধরনের কোন কথা বিশ্বাস করবেন না এবং কখনোই আপনার পিসির C ড্রাইভের কোন সিস্টেম ফাইল না জেনে না বুঝে ডিলিট করবেন না।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Feature Image Credit : hanss Via Shutterstock

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *