হার্ডওয়্যার

ইন্টেল এক্স সিরিজ : ইন্টেলের তৈরি সবথেকে ফাস্ট প্রোসেসর! [বিস্তারিত ব্যাখ্যা]

12

ভাই আপনার পিসি কনফিগারেশন কি? এই প্রশ্নের জবাবে আমরা অধিকাংশই প্রোসেসর দিয়ে শুরু করি। আর আমাদের দেশে মূলত ইন্টেল ব্র্যান্ডের প্রোসেসর বেশ ভালো চলে এবং প্রায় দেশের সবর্ত্রই ইন্টেলের প্রোসেসর ব্যবহৃত হয়। আর ইন্টেলের মেজর প্রোসেসর আপগ্রেড হয়েছিল সেই ২০০৮ সালে যখন ইন্টেল তাদের কোর আই সিরিজটি বাজারে আনে। আর তখন থেকেই ইন্টেলের ফ্ল্যাগশীপ প্রোসেসর সিরিজকে আমরা বাজারে তিনটি ভাগে দেখে আসছি। এগুলো হলো Core i3, Core i5 এবং Core i7 — আজকে আলোচনা করবো ইন্টেল এক্স সিরিজ প্রোসেসরগুলো নিয়ে।

কোর আই সিরিজটি বাজারে ছাড়ার প্রায় ১০ বছর পরে গত বছর ইন্টেল তাদের নতুন ফ্ল্যাগশীপ প্রোসেসর সিরিজ Intel X-Series বাজারে আনে এবং এ বছরেই ইতিমধ্যেই ভোক্তা পর্যায়ে এই সুপার ফাস্ট প্রোসেসর বিতরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। তো আপনি এ ব্যাপারে যদি কিছু না জেনে থাকেন তাহলে আপনাকে জানানোর জন্য আজকের এই আর্টিকেল লিখতে বসা। ইন্টেল এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলো সম্পর্কে চলুন আগে একটু বেসিক তথ্যাবলি জেনে নিই-

ইন্টেলের এক্স সিরিজের প্রোসেসর পরিবারে একদমই নতুন সদস্য হচ্ছে ইনটেল কোর আই৯ (Intel Core i9)! হ্যাঁ প্রায় ১০ বছর পর ইন্টেলের নতুন একটি উচ্চগতির প্রোসেসর এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এই কোর আই ৯ প্রোসেসরটি বাজারে আপনি কোর ভিক্তিক বিভিন্ন মডেলে পাবেন। চার কোর থেকে শুরু করে বহৎ ১৮ কোর পর্যন্ত মডেল এখন বাজারে রয়েছে। আর কোরের ভিক্তিতেই এর দাম কম এবং বেশি হবে সেটা আর নতুন করে  বলার নেই। তবে বর্তমানে আপনি যদি কোর আই ৯ প্রোসেসরটির যেকোনো মডেলই ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনার দরকার হবে আলাদা সিপিই সকেট এবং নতুন মডেলের core i9 কম্পিটেবল মাদারবোর্ড।

ইন্টেল এক্স সিরিজ প্রোসেসরে আপনি চার ধরণের প্রোসেসর বিভাগ পাবেন। এগুলো হচ্ছে কোর আই ৫ এক্স, কোর আই ৭ এক্স, কোর আই ৯ এক্স এবং কোর আই ৯ এক্সট্রিম। এখানে শুধুমাত্র কোর আই ৯ এক্সট্রিম প্রোসেসরেই আপনি পাবেন ১৮টি কোরের স্বাদ। আর বর্তমানে কোর আই ৯ এক্স ১৮ কোরওয়ালা প্রোসেসরটির দাম রয়েছে ১৯৯৯ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো।

এক নজরে দেখে নিন এক্স সিরিজে ইন্টেল কি কি এনেছে:

  • ৯টি নতুন ইন্টেল “এক্স সিরিজ” এক্সট্রিম সিপিইউ
  • নতুন X299 মাদারবোর্ড প্লাটফর্ম
  • নতুন LGA 2066 সকেট (যা 2011-V3 কে রিপ্লেস করে)
  • ৬, ৮, ১০, ১২, ১৪, ১৬ এব ১৮ কোর বিশিষ্ট ৫টি নতুন আই ৯ সিপিইউ (Skylake-X)
  • ৩ টি নতুন কোর আই ৭ প্রোসেসর (৪, ৬ এবং ৮ কোর বিশিষ্ট)
  • ১ টি নতুন কোর আই ৫ প্রোসেসর ( ৪ কোর বিশিষ্ট)
  • ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত ডিডিআর ৪ র‌্যামের সার্পোট যা ৪৪০০ মেগাহার্জ পর্যন্ত স্পিড সার্পোট করবে

নতুন ইন্টেলের এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলোকে দুই ধরণের কোডনেম দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো Kaby Lake X এবং Skylake X । টেকনিক্যাল ভাষায় এই ইন্টেল এক্স-সিরিজ প্রোসেসরগুলো High End Desktop (HEDT) প্লাটফর্মের একটি অংশ। তাই এদের দাম অন্যান্য প্রোসেসরের তুলনায় বেশি এবং একই সাথে পারফরমেন্স ও বেশি। উল্লেখ্য যে বর্তমানে হাই পারফরমেন্স গেমিং এর জন্য Kaby Lake X প্রোসেসরগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অনান্য সাধারণ কাজের জন্য Skylake X সিপিইউগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই আপনার যদি বাজেট থাকে তাহলে সরসরি Kaby Lake X প্রোসেসরগুলো নিয়ে নিতে পারেন। আরেকটি কথা হচ্ছে, এই প্রথম ইন্টেল তার কোর আই এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলোতে কোনো ইন্টাগ্রেটেড গ্রাফিক্সের ব্যবস্থা রাখে নি।

২০১৬ সালের এক্স৯৯ মাদারবোর্ডের আপগ্রেড সংস্করণ হচ্ছে X299 মাদারবোর্ড। আর এক্স৯৯ মাদারবোর্ডের চিপগুলোর নাম ছিলো Broadwell-E । বর্তমানের Skylake-X প্রোসেসরগুলোকে আগের Xeon প্রোসেসরের আপগ্রেডেড সংস্করণ হিসেবে বানানো হয়েছে এবং অন্যদিকে মেইনস্ট্রিম ২০০-সিরিজের Kaby Lake প্রোসেসরগুলোর থেকে Kaby Lake-X কে আপগ্রেড করা হয়েছে।

নিচে ছবি দিয়ে ব্যাপারটি আমি আরো সহজ করে দিচ্ছি:

ইন্টেল এক্স সিরিজ

এখানে দুটি প্রোসেসরকে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। বাম দিকের টা হচ্ছে i7-7740X এবং ডান দিকের প্রোসেসরটি হচ্ছে i7-7700 । লক্ষ্য করলে দেখবেন যে আই৭ প্রোসেসরের থেকে নতুন আই ৭ এক্স প্রোসেসরটি সাইজে একটু লম্বা। আর এই কারণেই আগের মডেলের সকেট এবং মাদারবোর্ডে এই নতুন এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলো সার্পোট করবে না। আর নতুন Skylake-X এবং Kaby Lake-X সিপিইউগুলোর মডেলের নামের শেষে আপনি “X” অক্ষরটি পাবেন। মানে i7-7700K প্রোসেসর হচ্ছে ৪ কোর, ৮ থ্রেড বিশিষ্ট প্রোসেসর আর i7-7740X হচ্ছে এই নতুন এক্স সিরিজের প্রোসেসর। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

মূল্যতালিকা

এবার আসি এই নতুন এক্স সিরিজ প্রোসেসরের দাম নিয়ে। ১৮ কোর বিশিষ্ট (হ্যাঁ ১৮টা কোর!) আই৯ এর দাম হচ্ছে ১৯৯৯ মার্কিন ডলার। সবথেকে কম মূল্যে রয়েছে i5 X-Series যার দাম হচ্ছে ২৪২ মার্কিন ডলার মানে হচ্ছে এই নতুন এক্স সিরিজ প্রসেরের স্বাদ নিতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ২১ হাজার টাকার প্রোসেসরের বাজেট হাতে রাখতে হবে।

অন্যদিকে নতুন i7-7740X এর দাম রাখা হয়েছে ৩৩৯ মার্কিন ডলার যা i7-7700K প্রোসেসরে দামের একদম সমান। নিচে কোর আই এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলোর “অফিসিয়াল” মূল্যতালিকাটি আমি দিয়ে দিচ্ছি:

প্রোসেসরের নামকোর সংখ্যামূল্য
i9-7980XE18$1999 ( ১,৭০,০০০৳ )
i9-7960X16$1699 ( ১,৪৪,০০০৳ )
i9-7940X14$1399 ( ১,১৮,৬০০৳ )
i9-7920X12$1199 ( ১,০১,৬২০৳ )
i9-7900X10$999 ( ৮৪,৬০০৳ )
i7-7820X8$599 ( ৫০,৭২৫৳ )
i7-7800X6$389 ( ৩২,৯৪০৳ )
i7-7740X4$339 ( ২৮, ৭২০৳ )
i5-7640X4$242 ( ২০, ৫০০৳)

ইন্টেলের এক্স সিরিজের প্রোসেসরের সবথেকে আকর্ষণীয় প্রোসেসর হচ্ছে কোর আই ৯ এক্স। সকল এক্স সিরিজের প্রোসেসরের মতোই কোর আই ৯ এক্স এবং ৯ এক্স এক্সট্রিম প্রোসেসরগুলো ইন্টেলের 14nm process এর উপর ভিক্তি করে নির্মিত হয়েছে। কোর আই ৯ প্রোসেসরগুলো ৬,৮,১০,১২,১৪ এবং ১৮ কোরের মডেলে বাজারে রয়েছে। তবে ১৮ কোরওয়ালা প্রোসেসর কিন্তু বাজারে নতুন না। খোদ ইন্টেলই ২৪ কোর পর্যন্ত Xeons প্রোসেসর বানিয়ে থাকে। কিন্তু ১৮ কোরের Core i9-7980XE প্রোসেসরটি “ওভারক্লকিং” করা যায় বিধায়ই এটির দাম বেশি এবং পারফরমেন্সও ২৪ কোরের Xeons প্রোসেসরের থেকে বেশি।  এখানে XE বলতে “Xtreme Extreme” কোডকে ইন্টেল বুঝিয়েছে।

ওভারক্লকিং এর মাধ্যমেই ১০ কোরের i9-7900X প্রোসেসরের ফ্যাক্টরি ক্লক স্পিড ৩.৫ গিগাহার্জকে বুস্ট করে ৪.৫ গিগাহার্জ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাবে। তবে এখানে দেখার বিষয় হচ্ছে ১০ টি কোরের সবগুলোই কিন্তু 4.5GHz স্পিডে পৌঁছাবে না, শুধুমাত্র একটি সুপার বুস্টেড কোরই এই ৪.৫ গিগাহার্জ গতিতে পৌছাবে। কিন্তু এগুলো হচ্ছে খাতা কলমের হিসেব। বাস্তবে এমন একটি অ্যাপের বা গেমসের নাম বলুন যেটা একই সাথে 10 Cores with 20 Threads এর ব্যবহার করবে! আর Threads এর ব্যাপারটা হচ্ছে, সকল এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলোর কোর সংখ্যার দ্বিগুণ থ্রেডস আপনি পাবেন। শুধুমাত্র i5-7640X মডেলে ৪ কোর আর ৪ থ্রেডস পাবেন।

যারা প্রফেশনাল গ্রাফিক্সের কাজ করেন বা হাই লেভেলের স্টুডিও ভিক্তিক কাজ করেন তাদের জন্যই ইন্টেল মূলত তাদের এই সুপার ফাস্ট কোর আই ৯ এক্স প্রোসেসরটি এনেছে। এখন আপনি যদি গেমার হন বা প্রফেশনাল গেমিংয়ের জন্য প্রোসেসর খুঁজেন তাহলে বাজেট থাকলে আপনি কোর আই ৯ য়ে চলে যেতে পারেন তবে শুধুমাত্র প্রোসেসরেই লাখ খানেক টাকা খরচ করে কেউ গেম খেলবে বলে আমার মনে হয় না। আর তাই “আমজনতা”দের জন্য ইন্টেলের আল্টিমেইট গেমিং প্রোসেসর হচ্ছে Kaby Lake X প্রোসেসরগুলো। মানে i5-X এবং i7-x প্রোসেসরগুলো। কারণ যতই হাই ডেফিনেশনের গেমিং করেন না কেন, গেমস খেলার জন্য মূলত দরকার হয় একটি ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড।

তবে এই অবস্থাও পরিবর্তন হতে পারে বলা যায় না, যখন কোনো গেমের রিকোয়ারমেন্টে গ্রাফিক্স কার্ডের থেকে সিপিইউ এর গুরুত্ব বেশি দিয়ে দেবে ভিডিও গেম নির্মাতারা। আর চার কোর সিপিইউ গুলো বর্তমানে হাই ডেফিনেশন গেমিংয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি স্ট্যার্ন্ডাড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর তাই i7-7700K প্রোসেসরে আপনি ওভারক্লকিং করে 4.9GHz পযর্ন্ত গতি পেতেন আর এখন নতুন এক্স সিরিজের i7-7740X প্রোসেসরে ওভারক্লকিং করে স্পিড 5.3GHz পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। যারা এই গিগাহার্জের গতি সম্পর্কে ভালো ধরণা রয়েছে তারা নিশ্চয় এই গতির সম্পর্কে ভালো বুঝবেন। আর এই জনেই একই মডেলের ৩.৯ গিগাহার্জ প্রোসেসরের থেকে ৪.০ গিগাহার্জ প্রোসেসরের দাম এবং পারফরমেন্স বেশি হয়ে থাকে।

আর যদি প্রজন্মের কথা বলেন তাহলে এই সকল এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলো হচ্ছে সপ্তম প্রজন্মের (7th Gen) প্রোসেসর। হ্যাঁ বাজারে বর্তমানে কোর আই ৯ অষ্টম প্রজন্মের প্রোসেসর পাওয়া যাচ্ছে তবে সেটা এক্সট্রিম সিরিজের নয় বিধায় আজকের আর্টিকেলে আমি এটা দেই নি। অষ্টম প্রজন্মের প্রোসেসরগুলো নিয়ে সামনের কোনো একটি আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো।

ইন্টেল এক্স সিরিজ মাদারবোর্ডস

ইন্টেল এক্স সিরিজ

জ্বী হ্যাঁ ভাই। আপনি এক্স সিরিজের প্রোসেসর এর স্বাদ নিতে চাইলে আপনার মাস্ট থাকা চাই একটি এক্স সিরিজের মাদারবোর্ড। তা ছাড়া আপনি এই নতুন এক্স সিরিজের প্রোসেসরকে লাগাতেই পারবেন না। বর্তমানে বাজারে X299 এবং একদমই নতুন X399 সিরিজের মাদারবোর্ডগুলো চলছে। হয়তো ভবিষ্যৎতে X499, X599 সিরিজ আসতে পারে। কারণ এই এক্স সিরিজটি মাত্র গত বছর মানে ৮/৯ মাস হলো বাজারে এসেছে। এই এক্স২৯৯ সিরিজের মাদারবোর্ডগুলো ২০১৪ সাল থেকে চলে আসা এক্স৯৯ সিরিজের মাদারবোর্ডগুলোর আপগ্রেড সংষ্করণ হিসেবে বাজারে এনেছে ইন্টেল।

১০ এবং এর বেশি কোরযুক্ত i9 চিপগুলোতে থাকছে 44 PCIE Lanes ! হ্যাঁ ভাই ৪৪টি PCIE Lanes! ৬ এবং ৮ কোরযুক্ত i9 চিপে থাকছে 28 PCIE Lanes ও i7 Kaby-X ভার্সনগুলোতে থাকছে ১৬ টি লেনস। আগের এক্স৯৯ মাদারবোর্ডের মতোই এক্স২৯৯ টিতে থাকছে ৮টি DIMMs যা দিয়ে DDR4-2666 কোয়াড চ্যালেন র‌্যাম স্লট থাকছে। মানে একই সাথে ৮টি র‌্যাম স্টিক এতে বসানো যাবে। আর এই র‌্যাম স্লটে ৪৪০০ মেগাহার্জ গতির র‌্যাম লাগানো যাবে।

অন্যদিকে X399 মাদারবোর্ডগুলো বর্তমানে একদমই লেটেস্ট এবং এই সিরিজের মাদারবোর্ডগুলো এ বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবার কথা রয়েছে।

Turbo Boost 3.0 MAX!

জ্বী! Skylake-X প্রোসেসরগুলোর (i9-x) ৮, ১০, ১২, ১৪, ১৬ এবং ১৮ কোরযুক্ত মডেলে থাকছে ইন্টেলের Turbo Boost Max 3.0 । এর আগের Broadwell-E প্রোসেসরগুলোতে Turbo 3.0 “enabled” ফিচারটি ছিলো। এর মানে হচ্ছে ১০ কোরের 7900X প্রোসেসরে এই টার্বো ফিচারটির মাধ্যমে আপনি 4.5GHz থেকে 4.7GHz পর্যন্ত ক্লক স্পিড পেতে পারবেন। তবে এই টার্বো বুস্ট ম্যাক্স ৩ ফিচারটি আপনার প্রোসেসরের কোরগুলোর মধ্যথেকে উপযুক্ত কোরটিকে বেছে নেয় এবং তারপরই সেটাকে বুস্ট করে।

প্রোসেসর যুদ্ধে সবসময়ই ইন্টেল আর এএমডি একে অপরের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে। এখনো তার কোনো ব্যতিক্রম নয়। তাই এ বছরে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিলো এই এক্স সিরিজটি, কিন্তু প্রায় ২০ সপ্তাহ আগেই ইন্টেল তাদের এই এক্স সিরিজটি বাজারে ছেড়ে দেয়। নতুন এই সিরিজের প্র্রসেসরগুলো ব্যবহার করতে চাইলে আপনার চাই এক্স সিরিজের মাদারবোর্ড এবং পিসি সকেট। আর নতুন এই এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলো আগের প্রোসেসরের থেকে প্রায় ০.৫ গুণ বেশি বিদ্যুৎ টেনে নেয়। মানে আপনার আরো শক্তিশালি পাওয়ার সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন হবে।

সব কিছু মিলিয়ে সবথেকে কম মূল্যে এই এক্স সিরিজের স্বাদ নিতে হলে আপনার বাজেট রাখা লাগবে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো। ৩ লাখ টাকা দিয়ে শুধু কমপ্লিট সিপিইউ বক্স কেনার জন্য আপনাকে জানাচ্ছি শুভকামনা। আর সত্য কথা বলতে গেলে এই এক্স সিরিজটি আমাদের মতো “আমজনতার” জন্য এখনো উপযুক্ত নয়। আর বাংলাদেশের ইউজারদের কথা না হয় না-ই-বা বললাম। আপনি যদি মাদারবোর্ডে ৮টি র‌্যাম স্লটের জায়গায় ৪টি স্লটযুক্ত মডেলটি বেছে নেন তাহলে ওভারঅল ১৫০ থেকে ২০০ ডলার দাম কমতে পারে। আর মনে রাখবেন সকল এক্স সিরিজের প্রোসেসরগুলো কিন্তু ওভারক্লক করা যায়!

Image Credit : Sashkin Via ShutterStock

ফাহাদ
যান্ত্রিক এই শহরে, ভিডিও গেমসের উপর নিজের সুখ খুঁজে পাই। যার কেউ নাই তার কম্পিউটার আছে! কম্পিউটারকে আমার মতো করে আপন করে নিন দেখবেন আপনার আর কারো সাহায্যের প্রয়োজন হবে না।

লগ ফাইল : এটি কি এবং এর প্রয়োজনীয়তা কি? কিভাবে লগ ফাইল ওপেন করবেন?

Previous article

মিউজিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট : মিউজিক আইডেন্টিফিকেশন অ্যাপ কীভাবে কাজ করে?

Next article

You may also like

12 Comments

  1. যদিও পোস্ট টা অনেক আগেই দরকারি ছিল। কিনতু পরে হলেও গ্র্যান্ড ভাবে কভার করেছেন। ভালো লাগলো এবং এক্স সিরিজ নিয়ে এখন পাবলিক আরো বেটার পরিষ্কার হতে পারবে।

    1. পোষ্টটি পড়ার জন্য এবং আপনার মতামত জানানো জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    1. you are welcome

  2. Huge explanation… Nice..

    1. অতটা বড় নয় অবশ্য, তবে আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম

  3. 20K er moddhe ekta buid den vai.

    1. শুধু সিপিইউ নাকি ফুল কম্পিউটার? ‍ফুল কম্পিউটার বা সিপিইউ যা-ই নেন না কেন সেটা কি সেকেন্ড হ্যান্ড না নতুন নিবেন সেটাও জানিয়ে দিন। তবে এভাবে বললে মার্কেটে কেনার সময় দামে তফাৎ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে ৯৫% । তাই কম্পিউটার কেনার আগে কয়েকটি মার্কেট ঘুরে ঘুরে আপনার কনফিগারেশনের দামটি ভালো করে যাচাই করে নেওয়া বেটার।

  4. একটা জিনিস বুঝান।
    কোর বুঝি বাট থ্রেড কি বুঝি না।

    1. প্রসেসরে কাজ করার কমান্ডগুলোর লাইনকে থ্রেড বলে। প্রতিটি অ্যাপ্লিকেশনের নুন্যতম একটি থ্রেড থাকে। কোর হচ্ছে একটি ফিজিক্যাল হার্ডওয়্যার যেটি এই থ্রেডের উপর কাজ করে। আগেরকার দিনের প্রসেসরগুলো প্রতিটি কোরের জন্য মাত্র একটি থ্রেডের উপর কাজ করতে পারতো। বর্তমান যুগের প্রসেসরগুলোতে Hyper Threading সিস্টেম থাকায় এগুলো এখন দুটি থ্রেডের উপর কাজ করতে পারছে। আপনার প্রসেসরটি যদি 2 Cores এবং 4 Threads এই ফিচারের হয়ে থাকে তাহলে বুঝবেন যে আপনার ২টি ফিজিক্যাল কোর রয়েছে কিন্তু এরা Hyper Threading ফিচারের মাধ্যমে একই সাথে ৪টি থ্রেডে কাজ করতে পারবে। একে Simultaneous Multithreading (SMT) বলে।

  5. Vai… 40k er modde ekta pc build kore den.
    Work : Mainly Programing, and others halka game & Hd movie…. New pc

    1. ইন্টেল কোর আই ৩ প্রসেসর ( i3-8100 – অষ্টম প্রজন্ম)
      গিগাবাইট B360 ডিডিআর৪ মাদারবোর্ড (অষ্টম প্রজন্ম)
      ৮ গিগাবাইট DDR4 র্যাম
      ১ টেরাবাইট হার্ডডিক্স

      এটা হচ্ছে সিপিইউ কনফিগারেশন। এবার আপনি বাকি টাকা দিয়ে কেসিং এবং মনিটর প্লাস মাউস কিবোর্ড এবং আপনার প্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো ম্যানেজ করে নিন

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *