বগুড়ার দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড জেনে নিন

বগুড়ার দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড জেনে নিন

বগুড়া জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি রাজশাহী বিভাগ-এর অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। উত্তরবঙ্গের রাজধানী ও প্রবেশদ্বার বলা হয় বগুড়াকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল এই জেলা। এই জেলায় রয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের দেখার জন্য অসংখ্য অপরূপ দর্শনীয় স্থান।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের জানাবো বগুড়ার দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড সম্পর্কে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক-

বগুড়া জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বগুড়া জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল বগুড়া জেলা। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানী ও উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বগুড়া জেলা  হচ্ছে প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্যের রাজধানী পুন্ড্রবর্ধন। পাল, মৌর্য, গুপ্ত, সেন প্রভৃতি রাজাদের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এই জেলা। বগুড়া জেলার উপজেলার সংখ্যা মোট ১২ টি। এছাড়া জেলায় ২,৬৯৫ টি গ্রাম, ১,৭৫৯ টি মৌজা রয়েছে।

১২৮১-১২৯০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লরি সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবনের ২য় পুত্র সুলতান নাসিরউদ্দীন বগরা খানের নামানুসারে বগুড়া জেলার নামকরণ করা হয়েছে। বগুড়া জেলার উত্তরে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট, উত্তর পশ্চিমে জয়পুরহাটের অংশবিশেষ, পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিমে নওগাঁ, দক্ষিণে নাটোর ও সিরাজগঞ্জের অংশবিশেষ এবং দক্ষিণ পূর্বে সিরাজগঞ্জের অবশিষ্ট অংশ অবস্থিত। এর মোট আয়তন ৬৯.৫৬ বর্গকিমি (২৬.৮৬ বর্গমাইল)।

বগুড়ার দর্শনীয় স্থান

বগুড়ার দর্শনীয় স্থান

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল বগুড়া জেলা। দেখার মতো রয়েছে নানা দর্শনীয় স্থান। করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে সুফি, লালন মারাঠি সংস্কৃতি সমৃদ্ধ বগুড়া জেলাকে বলা হয় উত্তর বঙ্গের প্রবেশদ্বার। বিখ্যাত মহাস্থানগড় পর্যটন সমৃদ্ধ এ জেলায় অবস্থিত। বগুড়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেহুলা লখিন্দের বাসর ঘর, ভাসু বিহার, গবিন্দ ভিটা, খেরুয়া মসজিদ, খোদার পাথর ভিটা, মহাস্থান জাদুঘর, জিউৎকুন্ডু, প্রেম যমুনার ঘাট, খেরুয়া মসজিদ ইত্যাদি।

বগুড়া মহাস্থানগড়

বগুড়া মহাস্থানগড়

বগুড়া ভ্রমণ করতে আসা সকলের প্রধান আকর্ষন মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় বগুড়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অনেক প্রাচীন প্রত্নতান্তিক নিদর্শনের একটি স্থান। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় এই মহাস্থানগড় অবস্থিত। প্রাচীন পুন্ড্রনগরীতে প্রায় ৪০০০ বছর পুরাতন স্থাপনা রয়েছে। গুপ্ত রাজা ও মাউর‍্যারা এই মহাথানগড়কে প্রাদেশিক রাজধানী হিসাবে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে পাল রাজা মহাস্থানগড় বা পুন্ড্রনগরকে মূল রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করেন।

দিনাজপুর, বগুড়া, রংপুর, মালদাহ, রাজশাহী অর্থাৎ বরেন্দ্র অঞ্চল পুন্ড্রদের আদি বসবাসের স্থান।ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৬৯৩ সালে বৌদ্ধ স্থাপনা পরিদর্শনের জন্যে বিখ্যাত চীনা ভ্রমনকারী ওয়ান চুন মহাস্থানগড় আসেন। তাঁর বর্ণনা মতে, তৎকালীন সময়ে ছয় মাইল আয়তনের পুন্ড্রনগরী একটি সমৃদ্ধ জনপদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা অনেকটা এথেন্স, ব্যবলিন, মিশরের কাঠামোর মত।

সমস্ত মহাস্থানগড়ে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ঐতিহাসিক স্থান। এদের মধ্যে রয়েছে খোদারাপাথার ভিটা, বৈরাগীর ভিটায় দুটি মন্দিরের অবশিষ্টাংশ, কালীদহ সাগর ও পদ্মাদেবীর বাসভবন, জিউৎকুন্ড কুপ, শীলাদেবীর ঘাট, গোবিন্দ ভিটা, মানকালির দ্বীপে ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের অবশিষ্টাংশ, তোতারাম পণ্ডিতের ধাপ এবং গোকুল মেধ, যা বেহুলার বাসর ঘর অথবা লক্ষিন্দরের মেধ নামে পরিচিত।

এছাড়া আরও যা যা দেখতে পারেন সেগুলো হলো খুল্লানার ধাপ, ইস্কান্দারের ধাপ, মাহী সওয়ার মাজার শরীফ, ভীমের জঙ্গল, জগির ভবন, অররা, তেঘর, রোজাকপুর, মাথুরা, মহাস্থানগড় জাদুঘর এবং পরশুরামের প্রাসাদ।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার গাবতলী, শ্যামলী, মহাখালী, আবদুল্লাহপুর, কল্যাণপুর থেকে বগুড়া যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। বগুড়াগামী বাস সার্ভিসের মধ্যে এস আর ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, একতা পরিবহন, শাহ ফতেহ আলী পরিবহন, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, এস এ পরিবহন উল্লেখযোগ্য। বগুড়াগামী এসি ও নন-এসি বাসের ভাড়া ৪৫০-১১০০ টাকা।

এছাড়াও আপনি ঢাকা থেকে লালমনি এবং রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে চড়ে বগুড়া যেতে পারবেন।আসনভেদে ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ৩৯৫-৯০৯ টাকা। বগুড়া শহর চেলোপাড়া সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি অথবা অটোরিকশা দিয়ে সহজেই মহাস্থানগড় যাওয়া যায়।

বগুড়া গোকুল মেধ

বগুড়া গোকুল মেধ

বগুড়া সদরের গোকুল গ্রামে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলো গোকুল মেধ। মহাস্থানগড় থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ অবস্থিত এই স্থানটি জনসাধারণের কাছে বেহুলা-লক্ষ্মিন্দরের বাসর ঘর  হিসাবেও পরিচিত। আবার অনেকে এটিকে লক্ষ্মিন্দরের মেধ নামেও আখ্যায়িত করেছেন। ১৯৩৪-১৯৩৬ সাল পর্যন্ত এন জি মজুমদার কর্তৃক চালানো খননকার্যের ফলে এখানে একটি মন্দিরের ভিত্তি উন্মোচিত হয়।

১৭২ টি কুঠুরিকে বিভিন্ন তলে মাটি দিয়ে ভরাট করে নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমহ্রাসমান করে মূল ভিত্তিকে স্তরে স্তরে উর্ধগামী কুঠুরি নির্মাণ রীতিতে সাজানো হয়েছিল। যেন এগুলিকে স্তূপের ভিত্তি বা সুউচ্চ মন্দির হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই মন্দিরে ছয়-সাত শতকের কিছু পোড়ামাটির ফলক পাওয়া যায়। এর মূল স্তূপের পশ্চিমার্ধে প্রচলিতে বাসরঘরের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোণ বিশিষ্ট একটি চৌবাচ্চার ন্যায় দেখতে একটি গোসলের স্থান।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার গাবতলী, শ্যামলী, মহাখালী, আবদুল্লাহপুর, কল্যাণপুর থেকে বগুড়া যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। বগুড়াগামী বাস সার্ভিসের মধ্যে এস আর ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, একতা পরিবহন, শাহ ফতেহ আলী পরিবহন, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, এস এ পরিবহন উল্লেখযোগ্য। বগুড়াগামী এসি ও নন-এসি বাসের ভাড়া ৪৫০-১১০০ টাকা।

এছাড়াও আপনি ঢাকা থেকে লালমনি এবং রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে চড়ে বগুড়া যেতে পারবেন।আসনভেদে ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ৩৯৫-৯০৯ টাকা। বগুড়া শহর থেকে সিএনজি অথবা অটোরিকশা দিয়ে সহজেই মহাস্থানগড় যাওয়া যায়।

বগুড়া পোড়াদহ মেলা

বগুড়া পোড়াদহ মেলা

বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার ইছামতি নদী তীরবর্তী স্থানে প্রতিবছর এক ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলার আয়োজন করা হয় যার নাম পোড়াদহ মেলা। প্রায় ৪০০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত প্রাচীন এই মেলাটি পোড়াদহ মেলা নামে পরিচিত। পোড়াদহ মেলা প্রাঙ্গণের দূরত্ব বগুড়া শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার।

শুরুতে পোড়াদহ মেলাকে সন্ন্যাসী মেলা নামে ডাকা হতো। একসময় পোড়াদহ মেলা নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়। এর কারণ পোড়াদহ নামক স্থানে মেলা আয়োজনের কারণে লোকমুখে পোড়াদহ জায়গার নাম প্রচার হতে থাকে। স্থানীয় মানুষজনেরা এই মেলাকে ‘জামাই মেলা’ ও ‘মাছের মেলা’ হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকেন। এই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাহারি সব মাছ।

এছাড়াও পোড়াদহ মেলার প্রাণজুড়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, আসবাবপত্র, কসমেটিকস ও উপহার সামগ্রী, খাবারের দোকান, বিনোদন আয়োজন। এছাড়া পোড়াদহ মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন বিভিন্ন প্রকার সবজি (কাঁচাবাজার), মসলা, মাংস সহ গৃহস্থালীতে দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র কিনতে পাওয়া যায়।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার গাবতলী, শ্যামলী, মহাখালী, আবদুল্লাহপুর, কল্যাণপুর থেকে বগুড়া যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। বগুড়াগামী বাস সার্ভিসের মধ্যে এস আর ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, একতা পরিবহন, শাহ ফতেহ আলী পরিবহন, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, এস এ পরিবহন উল্লেখযোগ্য। বগুড়াগামী এসি ও নন-এসি বাসের ভাড়া ৪৫০-১১০০ টাকা।

এছাড়াও আপনি ঢাকা থেকে লালমনি এবং রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে চড়ে বগুড়া যেতে পারবেন।আসনভেদে ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ৩৯৫-৯০৯ টাকা। বগুড়া জেলা সদরের চেলোপাড়ায় গোলাবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সায় চড়ে পোড়াদহ মেলায় যাওয়া যায়।

প্রেম যমুনার ঘাট

প্রেম যমুনার ঘাট

সারিয়াকান্দি বগুড়ার যমুনার তীরবর্তী উপজেলা। নদী-বিধৌত সারিয়াকান্দির মানুষদের সুখ-দুঃখ একটাই, তা হলো যমুনা। গ্রোয়েন বাঁধ যমুনার ভাঙন থেকে সারিয়াকান্দিকে রক্ষার্থে তৈরি করা হয়। আর এই বাঁধই হয়ে ওঠে বগুড়ার আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ, ছোট বড় ইঞ্জিন চালিত ও ইঞ্জিন ছাড়া নৌকা, স্টিমার, জেলেদের নদীতে মাঝ ধরা, স্পিড বোট দেখতে দেখতে কেটে যাবে সুন্দর কিছু মুহূর্ত। এ ঘাটের পাশেই ছোট ছোট খাবারের হোটেলগুলোতে তো রয়েছেই টাটকা মাছসহ বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু খাবার।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার গাবতলী, শ্যামলী, মহাখালী, আবদুল্লাহপুর, কল্যাণপুর থেকে বগুড়া যাওয়ার বাস পাওয়া যায়। বগুড়াগামী বাস সার্ভিসের মধ্যে এস আর ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, একতা পরিবহন, শাহ ফতেহ আলী পরিবহন, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, এস এ পরিবহন উল্লেখযোগ্য। বগুড়াগামী এসি ও নন-এসি বাসের ভাড়া ৪৫০-১১০০ টাকা।

এছাড়াও আপনি ঢাকা থেকে লালমনি এবং রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে চড়ে বগুড়া যেতে পারবেন। আসনভেদে ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ৩৯৫-৯০৯ টাকা। বগুড়ার চেলোপাড়া সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি করে সরাসরি আসতে পারবেন এই জায়গায়।

শেষ কথা

আমাদের আজকের আর্টিকেলের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বগুড়ার দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড সম্পর্কে। আজকের এই আর্টিকেল জুড়ে আমি চেষ্টা করেছি বগুড়া জেলার অপরূপ দর্শনীয় স্থান ও এর ভ্রমণ গাইড আপনাদের সামনে তুলে ধরার। আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

বগুড়া শহর সম্পর্কে আরও জানতেঃ- ভিজিট করুন

Author

More Reading

Post navigation

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বগুড়া জেলার পোস্ট কোড ও এরিয়া কোড জেনে নিন