পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড। চট্টগ্রাম জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও দর্শনীয় স্থান

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড। চট্টগ্রাম জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও দর্শনীয় স্থান

চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বলা হয়। পাহাড়, সমুদ্র, উপত্যকা, বন-বনানীর কারণে চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি। চট্টগ্রামের মতো ভৌগোলিক বৈচিত্র বাংলাদেশের আর কোন জেলার নেই।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের জানাবো চট্টগ্রাম জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানমূহ ও ভ্রমণ গাইড সম্পর্কে। চলুন তবে শুরু করা যাক-

চট্টগ্রাম জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয়

চট্টগ্রাম জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয়

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হলো চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে পড়ে। ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম জেলার উত্তরে ফেনী জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা, পূর্ব দিকে বান্দরবান, রাঙামাটি, ও খাগড়াছড়ি জেলা এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা ও বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

চট্টগ্রাম জেলার মোট আয়তন ৫,২৮২.৯২ বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। এই জেলার জনসংখ্যা প্রায় ৯১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭৬০ জন।  এই জেলার মধ্যে রয়েছে পাহাড়, নদী, সমুদ্র, অরণ্য, উপত্যকা, বন-বনানী ও দ্বীপাঞ্চল এসব বৈশিষ্ট্যের জন্যে এ জেলা সবার থেকে আলাদা। এই জেলার প্রধান নদী হচ্ছে কর্ণফুলী, হালদা ও সাঙ্গু। এই জেলার ১৫টি উপজেলা, ৩৩টি থানা, ১৫টি পৌরসভা, ১৯০টি ইউনিয়ন, ৮৯০টি মৌজা, ১২৬৭টি গ্রাম ও ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানমূহ

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানসমূহ

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বলতে গেলে এখানে বলে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশের মধ্যে সব চেয়ে দর্শনীয় স্থানপূর্ণ জেলা হচ্ছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম জেলাকে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে ডাকা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পাহাড়-সমুদ্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। স্থাপত্য সৌন্দর্যের দিক দিয়েও এই জেলা অন্য জেলার থেকে অনন্য। চট্টগ্রাম জেলাতে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যেমনঃ পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, কুমারীকুন্ড, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার ইত্যাদি। এই স্থানগুলো ভ্রমণ পিপাসুদের মন কাড়তে বাধ্য। নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানমূহ নিয়ে আলোচনা করা হলো-

  • পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
  • গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত
  • ছাগলকান্দা ঝর্ণা
  • কুমারীকুন্ড
  • জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  • চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা
  • বাঁশখালী ইকোপার্ক
  • ফয়েজ লেক
  • বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

কর্ণফুলি নদী ও সাগরের মোহনায় অবস্থিত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই সমুদ্র সৈকত। পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত অনেক জনপ্রিয় ভ্রমণ স্পট। এটি বাংলাদেশের সুন্দর এবং জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম। পতেঙ্গায় সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্তের দৃশ্য খুবই মনোরম। বিশেষ করে বিকেল বেলার সূর্যাস্ত ও সন্ধ্যার সময়টুকু দেখতে আরোও বেশি সুন্দর।

এখানে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে স্পীড-বোট। আর সমুদ্রের তীর ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে সী-বাইক আর ঘোড়া। পতেঙ্গা বিচটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর ঘাটি বিএনএস ঈসা খান পতেঙ্গার খুব কাছেই অবস্থিত। এছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক জেটি এখানে অবস্থিত। এখানে কেনাকাটার জন্য রয়েছে বার্মিজ মার্কেট এবং খাওয়া-দাওয়ার জন্য রয়েছে হরেক রকম মজাদার স্ট্রিট ফুড।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। ঢাকা থেকে আপনি সড়ক,রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী, সোহাগ, ইউনিক, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি যেকোনো পরিবহনের এসি-নন এসি বাসে চড়ে চট্টগ্রাম যাবেন। শ্রেণি ভেদে সীটগুলোর বাস ভাড়া ৯০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তারপর চট্টগ্রাম শহর থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে চড়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যেতে পারবেন। লোকাল বাসে গেলে ভাড়া একটু কম লাগবে আর যদি সিএনজিতে যান তাহলে ভাড়া ২৫০-২৮০ টাকার মত নিবে এবং যেতে ১ ঘণ্টার মত সময় লাগবে।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলায় গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত অবস্থিত। সীতাকুন্ড বাজার থেকে এই সমুদ্র সৈকত মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয়দের কাছে এই সৈকতটি ‘মুরাদ সী বিচ’ নামে পরিচিত। এই গুলিয়াখালীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার পুরো সমুদ্র পাড় ঢেকে আছে গালিচার মতো সবুজ ঘাসে।

অনিন্দ্য সুন্দর এই সী বিচ কে সাজাতে প্রকৃত কোনো কার্পণ্য করে নি। প্রকৃতি যেন নিজের হাঁতে খুব সুন্দর করে এই বিচটি সাজিয়েছে। কারণ, এর একদিকে যেমন দিগন্তজোড়া সাগর জলরাশি অন্যদিকে তেমন কেওড়া বন। যা এই সাগর সৈকতকে করেছে অনন্য। চারপাশে সবুজ ঘাস আর তারই মধ্যে ছোট ছোট নালায় পানি পূর্ণ এই দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। আপনি চাইলে জেলেদের বোটে চড়ে সমুদ্র ঘুরে আসতে পারেন।

যেভাবে যাবেন

আপনি চাইলে ঢাকা থেকে বাসে কিংবা ট্রেনে করেও সীতাকুন্ড যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যে কোন বাসেই সীতাকুন্ড যাওয়া যায়। এসি ও নন এসি বাসের ভাড়া পরবে ৪২০-১০০০ টাকার মতো। আর যদি ট্রেনে যান সেক্ষেত্রে আপনি সীতাকুন্ড মেইল ট্রেনে করে আসতে পারবেন ভাড়া নিবে জনপ্রতি ১২০ টাকা করে।

সীতাকুন্ড আসার পর সীতাকুন্ড বাস স্ট্যান্ড ব্রীজের নিচ থেকে সিএনজি কিংবা অটো নিয়ে গুলিয়াখালী বীচের বাঁধ পর্যন্ত যেতে পারবেন। জনপ্রতি অটো ভাড়া নিবে ৩০ টাকা করে। আর যদি অটো রিজার্ভ নেন তাহলে ভাড়া একটু বেশি লাগবে।

ছাগলকান্দা ঝর্ণা

ছাগলকান্দা ঝর্ণা

ছাগলকান্দা ঝর্ণা চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অসাধারণ দৃশ্যপূর্ণ করটি ঝর্ণা। ছাগলকান্দা ঝর্ণা ট্রেইলটি সকলের কাছে অপরিচিত একটি ট্রেইল। অসাধারন এই ট্রেইলে বড় কমলদহ ঝর্ণা আছে। অসাধারন কমলদহ ঝর্ণা ট্রেইলে অবস্থিত ছোট-বড় আরো ৪টি ঝর্ণার সাথে দেখা মেলে অপরূপ ছাগলকান্দা ঝর্ণার সৌন্দর্যের।

কমলদহ ঝর্ণা মূলত একটি ক্যাসকোড। ৩টি ধাপের এই ঝর্ণা পানির নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। নিচ থেকে ঝর্ণার শুধুমাত্র ১ ধাপ দেখা যায়। এই ছাগলকান্দা ঝর্ণা দেখতে হলে আপনাকে কমলদহ ঝর্ণার পাহাড়ের পিচ্ছিল পথ বেয়ে উপরে উঠতে হবে। প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটার পর দেখতে পাবেন রাস্তাটি ইংরেজি Y অক্ষরের মত ভাগ হয়ে দুইদিকে চলে গেছে। কিছু সময় হাঁটলেই কমলদহ ট্রেইলের ২য় ঝর্ণা ছাগলকান্দায় পৌঁছে যাবেন।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যে কোন বাসে ৪০০-১২০০ টাকা ভাড়ায় সীতাকুন্ডের বড় দারোগারহাট বাজারে চলে আসুন। বড় দারোগারহাট বাজার থেকে ঢাকার দিকে এগিয়ে গেলে একটা ইটখোলা পাবেন। এই ইটখোলা পার হয়ে কিছুদূর পার হলেই ঝিরি পথের দেখা পাওয়া যায়। এই ঝিরি ধরেই কমলদহ ঝর্ণার দেখা পাওয়া যাবে। কমলদহ ঝর্ণা পার হয়ে গেলেই পৌঁছে যাবেন ছাগলকান্দা ঝর্ণায়।

কুমারীকুন্ড কূপ

কুমারীকুন্ড কূপ

কুমারীকুন্ড মূলত চট্টগ্রাম জেলার পৌরাণিক অঞ্চল সীতাকুন্ডে অবস্থিত একটি কূপ। সীতাকুন্ডের পাহাড়ে খাঁজে খাঁজে লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃতির অন্যোন্য বিস্ময় ছোট বড় অসংখ্য ছড়া ও ঝর্ণা।একেকটা ছড়ায় লুকিয়ে আছে একেক বিস্ময়। তেমনি এক ছড়ায় প্রাচীন এক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায় কুমারীকুন্ড নামে পরিচিত।

আট-দশ ফুট গভীর কুমারীকুন্ড এক স্বচ্ছ নীল পানির পাথর দিয়ে বাধানো কূপ। এটাকে চৌবাচ্চাও বলা যায়। এই স্বচ্ছ নীল পানির তলদেশ থেকে গ্যাসের বুদবুদ উঠছে। চারপাশের দেয়ালগুলো ধ্বসে গেছে সেই অনেক আগেই। চারপাশে রয়েছে অদভূত সব পাথর। এটি হারিয়ে যাওয়া একটি প্রাচীন মন্দির।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যে কোন বাসেই সীতাকুন্ড যাওয়া যায়। সীতাকুন্ডের কুমিরা পৌঁছে স্থানীয়বাসীন্দাদের সাহায্য নিয়ে কুমারীকুন্ড দেখতে যেতে পারেন। আপনি চাইলে ট্রেনে চড়েও ঢাকা থেকে সীতাকুন্ড যাওয়ার চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনে আসতে পারেন।

 চট্টগ্রাম জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর

চট্টগ্রাম জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর

১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় বাদমতলী সংলগ্ন ১.২৫ একর জায়গার উপর নির্মিত হয় এই জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর। বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী- আদিবাসী ও উপজাতি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতেই এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রাম শহরের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে দুটি জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর রয়েছে। একটি রয়েছে চট্টগ্রামে আর অন্যটি রয়েছে জাপানে। এই দুটি জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘরের মধ্য চট্টগ্রামের জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর অন্যতম। জাদুঘরের ১১টি প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে যার মধ্য ২৯টি নৃগোষ্ঠীর আচার, রীতি-নীতি ও জীবন প্রবাহকে নিপুণতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী, সোহাগ, ইউনিক, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি যেকোনো পরিবহনের এসি-নন এসি বাসে চড়ে চট্টগ্রাম যাবেন। চট্টগ্রাম শহরের যেকোনো স্থান থেকে বাস, সিএনজি ও রিকশায় চড়ে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘরে যেতে পারবেন। আপনি চাইলে ট্রেনে করেও চট্টগ্রাম আসতে পারেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শহরের কোলাহল থেকে দূরে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা নৈসর্গিক প্রকৃতির মধ্য অবস্থিত। ক্যাম্পাসটি যেন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের এক তীর্থক্ষেত্র।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় যার মোট জমির পরিমাণ ১৭৫৪ একর। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি অনুষদের অধীনে ৫৪টি বিভাগে সর্বমোট ২৭৮৩৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ৮৭২ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আরোও রয়েছে আবাসিক হল, ৩.৫ লক্ষ বইয়ের সুবিশাল গ্রন্থাগার, মসজিদ, ক্যাফেটেরিয়া, জাদুঘর ইত্যাদি সহ আরোও অনেক কিছু।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যে কোন বাসে চট্টগ্রাম আসতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে বাস অথবা সিএনজিতে চড়েই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া যায়।

এছাড়াও বটতলি রেলওয়ে স্টেশন হতে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন প্রতিদিন কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে থাকে। আপনি চাইলে ওই শাটল ট্রেনে চড়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারেন।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

১৯৮৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি পাহাড়তলী ইউএসটিসি মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন ৬ একর জায়গার উপর বানর, সিংহ, হরিণ ও হনুমান এই চার প্রজাতির ১৬টি প্রাণী নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা যাত্রা শুরু করে। এই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণা করা হয়।

বর্তমানে এই চিড়িয়াখানায় ৭২ প্রজাতির সাড়ে তিন শতাধিক প্রাণী রয়েছে; যার মধ্যে ৩০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৮ প্রজাতির পাখি ও ৪ প্রজাতির সরীসৃপ। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় স্তন্যপায়ী প্রাণির মধ্যে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ভারতীয় সিংহ, এশীয় কালো ভালুক, আফ্রিকান জেব্রা, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, সাম্বার হরিণ, প্যারা হরিণ, মুখপোড়া হনুমান, উল্লুক, রেসাস বানর, উল্টো লেজি বানর, মেছো বিড়াল, বন বিড়াল, চিতা বিড়াল, গন্ধগোকুল (হিমালিয়ান), বাঘডাস, গয়াল, খরগোশ, সজারু, শিয়াল ইত্যাদি।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা করে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রতিদিন সকাল ১০:০০ ঘটিকা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে আপনি সড়ক,রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী, সোহাগ, ইউনিক, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি যেকোনো পরিবহনের এসি-নন এসি বাসে চড়ে চট্টগ্রাম যাবেন। শ্রেণি ভেদে সীটগুলোর বাস ভাড়া ৫০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

যদি ট্রেনে আসতে চান তাহলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সোনার বাংলা বা চট্টগ্রাম মেইলে করে আসতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে সিএনজি বা রিকশায় চড়ে ফয়েজ লেকের বিপরীত পাশে অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় যেতে পারবেন।

চট্টগ্রাম বাঁশখালী ইকোপার্ক

চট্টগ্রাম বাঁশখালী ইকোপার্ক

বাঁশখালী ইকোপার্ক চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে অবস্থিত। এই ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে উঁচু-নিচু পাহাড়, লেকের স্বচ্ছ পানি ও বনাঞ্চল ঘিরে। প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন ঋতু বৈচিত্রের সাথে বাঁশখালী ইকোপার্কের সৌন্দর্যও পরিবর্তিত হতে থাকে।

২০০৩ সালে জীব বৈচিত্র রক্ষা, বন্য প্রাণীর আবাস্থল উন্নয়ন, ইকো ট্যুরিজম ও চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্য প্রায় ১০০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে সরকারি উদ্যোগে বাঁশখালী ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়। এখানে  বামের ছড়া এবং ডানের ছড়া নামের ২টি সুবিশাল লেক আছে। এ দুটি লেকের উপর দিয়ে পারাপারের জন্য আছে দুটি নান্দনিক ঝুলন্ত ব্রীজ।

বাঁশখালী ইকোপার্কে লেকের ধার ঘেঁষে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড় আছে যেগুলো জঙ্গলে ঢাকা। জঙ্গলে হাতি, বানর, হনুমান, হরিণ, বনমোরগ, সজারু ইত্যাদি বিচরণ করতে দেখা যায়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা ঝর্ণাধারা আর বিকাল বেলায় সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য পর্যটকদের মোহিত করে।

যেভাবে যাবেন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে বাঁশখালী ইকোপার্কের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। প্রথমে ঢাকা থেকে যেকোন পরিবহনের বাসে চট্টগ্রামে আসতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে বাস বা সিএনজিতে বাঁশখালী যাওয়া যায়। বাঁশখালী যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

ফয়েজ লেক

ফয়েজ লেক

ফয়েজ লেক একটি মানবসৃষ্ট হ্রদ। এটি চট্টগ্রামের পাহাড়তলি রেলস্টেশনের অদূরে খুলশী এলাকায় অবস্থিত। ৩৩৬ একর জায়গা জুড়ে ফয়েজ লেকের অবস্থান। চট্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট থেকে এই লেক মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

লেকটি ১৯২৪ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির তত্ত্বাবধায়নে খনন করা হয়। এই লেকটি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল রেল কলোনিতে বসবাসকারী লোকদের কাছে পানি পৌঁছানো। তৎকালীন সময়ে লেকটি পাহাড়তলী লেক নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ প্রকৌশলির নামে লেকটির নামকরণ করা হয় ফয়েজ লেক। কারণ, ব্রিটিশ প্রকৌশলি ফয়েজ লেক এর নকশা তৈরি করেছিলেন।

এই লেকটি পাহাড়ের এক শীর্ষ থেকে আরেক শীর্ষের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ উপত্যকায় আড়াআড়িভাবে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্ট। বাঁধটি চট্টগ্রাম শহরের উত্তর দিকের পাহাড় শ্রেণী থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহের দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লেক সৃষ্টি করেছে।

পর্যটক আকর্ষণ করার জন্য বর্তমানে ফয়েজ লেকের প্রবেশদ্বারে একটি ছোট চিড়িয়াখানা স্থাপন করা হয়েছে। তবে ফয়েজ লেকের মূল আকর্ষণ নিঃসন্দেহে লেকের সৌন্দর্য ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড়। বর্তমানে হ্রদটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কনকর্ড একটি চিত্তবিনোদন পার্ক স্থাপন করেছে যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য লেকে নৌকা ভ্রমন, ল্যান্ডস্কেপিং, রেস্তোরা, ট্র্যাকিং এবং কনসার্ট এর আয়োজন করা হয়ে থাকে।

ফয়েজ লেকের প্রবেশের টিকেট মূল্য ৩০০ টাকা করে সাথে একটি আইসক্রিম ফ্রি। রাইড সহ প্রবেশ মূল্য ৩৫০ টাকা। নৌকা ভ্রমণ ১০০ টাকা। সী ওয়ার্ল্ডে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৩টি প্যাকেজ, ৪০০, ৫০০ এবং ৬০০ টাকার। প্রতিদিন সকাল ১০.৩০ মিনিট থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে আপনাকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে হবে। ঢাকা থেকে আপনি সড়ক,রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী, সোহাগ, ইউনিক, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি যেকোনো পরিবহনের এসি-নন এসি বাসে চড়ে চট্টগ্রাম যাবেন। শ্রেণি ভেদে সীটগুলোর বাস ভাড়া ৫০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে সিএনজি বা রিকশায় চড়ে সহজেই ফয়েজ লেক যেতে পারবেন। যদি ট্রেনে আসতে চান তাহলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সোনার বাংলা বা চট্টগ্রাম মেইলে করে আসতে পারেন। এছাড়াও ঢাকা থেকে আকাশপথে চট্টগ্রাম আসতে পারেন।

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

চট্টগ্রামের একটি বিখ্যাত মাজার শরীফ হচ্ছে এই বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার। বায়েজিদ বোস্তামী ছিলেন একজন পারস্যের বিখ্যাত সুফি। বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার চট্টগ্রাম সেনানিবাসের কাছে নাসিরাবাদের একটি ছোট পাহাড়ের উপরে অবস্থিত।

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার মূলত বায়েজিদ বোস্তামীকে উৎসর্গ করে নির্মিত একটি প্রতিরুপ। বায়েজিদ বোস্তামী তার সফর শেষ করে চট্টগ্রাম থেকে প্রস্থানের সময় ভক্তদের অনুরোধে কনিষ্ঠ আঙুল কেটে কয়েক ফোটা রক্ত দিয়ে মাজার গড়ে তুলবার জায়গা চিহ্নিত করে যান।

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারে রয়েছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ঠ একটি আয়তাকার মসজিদ এবং সুবিশাল দীঘি। আর সেই দীঘিতে রয়েছে বায়েজিদ বোস্তামীর বিখ্যাত কাছিম ও গজার মাছ। অনুমান করা হয়, বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারে নাকি ২০০ থেকে ৩৫০ টি কচ্ছপ রয়েছে। প্রতি বছর জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার পরিদর্শনে আসেন।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে আপনি সড়ক,রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী, সোহাগ, ইউনিক, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি যেকোনো পরিবহনের এসি-নন এসি বাসে চড়ে চট্টগ্রাম যাবেন। শ্রেণি ভেদে সীটগুলোর বাস ভাড়া ৫০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম শহরের যেকোন স্থান থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা অথবা বাসে চড়ে বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারে যাওয়া যায়। যদি ট্রেনে আসতে চান তাহলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সোনার বাংলা বা চট্টগ্রাম মেইলে করে আসতে পারেন। এছাড়াও ঢাকা থেকে আকাশপথে চট্টগ্রাম আসতে পারেন।

শেষ কথা

আশা করি আপনারা এই আর্টিকেল পড়ে চট্টগ্রাম জেলা সম্পর্কে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে জেনে অনেক উপকৃত হয়েছেন। আপনি চাইলে আপনার পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এসব দর্শনীয় স্থান থেকে। মাঝে মধ্যে ঘুরে বেড়ানো শরীর ও মনের জন্য ভালো এতে করে শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি মনও উৎফুল্ল থাকে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে আরও জানতেঃ- wikipedia.org

Author

More Reading

Post navigation

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লক্ষ্মীপুর জেলার দর্শনীয় স্থান ও ভ্রমণ গাইড । লক্ষ্মীপুর জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজার জেলার পোস্ট কোড ও এরিয়া কোড জেনে নিন

কুমিল্লা জেলার পোস্ট কোড ও এরিয়া কোড জেনে নিন