পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান ও অন্যান্য তথ্য

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান ও অন্যান্য তথ্য

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার পায়রায়। এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চীনের চায়না মেশিনারিজ কোম্পানি এবং বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে নির্মাণ করেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে আন্ধারমানিক নদীর তীরের ধানখালী গ্রামে ১ হাজার একর জমির উপর।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ৬শ ৬০ মেগাওয়াট এর মোট ২টি ইউনিট নির্মাণ করা হয়, যার ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ১২ হাজার টনের বেশি কয়লা পোড়ানো হয়। পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০২৩ এর মে মাস পর্যন্ত প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকেও পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ১২ হাজার টনের বেশি কয়লা পুড়িয়ে ৭০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে ২৪৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানায় আছেন বাংলাদেশ ও চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র  তৈরীতে ব্যবহার করা হয়েছে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি। যা পরিবেশ রক্ষায় কয়লাভিত্তিক প্রকল্প বা প্ল্যান্টের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনবে। বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম দেশ হিসেবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এছাড়া এশিয়ায় সপ্তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ২য় দেশ।

দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সঙ্কট দূর করবে

দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সঙ্কট দূর করবে

সরকার বলছে, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুতের বিপুল চাহিদার এক দশমাংশ পূরণ হবে। এখানকার বিদ্যুৎ দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুতের সমস্যা অনেকাংশে মিটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্প-কারখানা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ২১ লাখ।

বাংলাদেশের পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে গত বছরের ২৭শে এপ্রিল। সক্ষমতা থাকা সত্তেও এখান থেকে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র  নয় থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট। ফলে বাকী ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়।

আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা থাকলেও সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইনের অভাব থাকায় বিদ্যুতে গ্রাহকদের কাছে সেটি ঠিকমতো সরবরাহ করা যায় না। বাংলাদেশে প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও অনেক গ্রাহকই ঠিকমতো বিদ্যুৎ পান না। এজন্য সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪৩ শতাংশ ব্যবহৃত হয়, বাকি ৫৭ শতাংশ অলস বসিয়ে রেখে কেন্দ্র ভাড়া দেয়া হয়।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র  ২০২২ সালের ২১ মার্চ, সোমবার বেলা ১১ টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এটিই দেশের সর্ববৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন উপলক্ষে ১৩২০ টি পায়রা উড়ানো হয়। ২০১৬ সালে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প পরিবেশগতভাবে ছাড়পত্র পায়।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মো. হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাধারণ জ্ঞান

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সাধারণ জ্ঞান

২০১৪ সালে পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চায়না মেশিনারিজ কোম্পানি (সিএমসি) এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী এই দুই কোম্পানি যৌথভাবে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকানায় আছেন বাংলাদেশ ও চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। নিচে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর লেখা হলো-

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানির উৎস কি?
উত্তরঃ ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষমতা কত মেগাওয়াট?
উত্তরঃ ১৩২০ মেগাওয়াট

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
উত্তরঃ আন্ধারমানিক নদীর তীরে

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কবে উদ্বোধন করা হয়?
উত্তরঃ ২০২২ সালের ২১ মার্চ

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র?
উত্তরঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ কলাপাড়া, পটুয়াখালি

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট কয়টি ইউনিট?
উত্তরঃ ২ টি

প্রশ্নঃ আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ বিশ্বের কত তম দেশ?
উত্তরঃ ১৩তম

প্রশ্নঃ বাংলাদেশ আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল ক্লাবে প্রবেশ করে কত সালে?
উত্তরঃ ২০২০ সালে।

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয় কবে?
উত্তরঃ ২০২০ সালের ১৫ মে

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা কত?
উত্তরঃ ৬৬০ মেগাওয়াট

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২য় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয় কবে?
উত্তরঃ ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর

প্রশ্নঃ পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি কি?
উত্তরঃ কয়লা

প্রিয় পাঠক আশা করি আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা অনেক উপকৃত হয়েছেন। এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাধারণ জ্ঞানের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর। ভালো লাগলে এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার মাধ্যমে আমাদের সাথেই কানেকটেড থাকুন

Author

More Reading

Post navigation

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *