চিরুনি । চুলের যত্নে সঠিক চিরুনি বাছাই করুন

চিরুনিঃ চুলের যত্নে সঠিক চিরুনি বাছাই করুন

আপনি আপনার চুলের যত্নে সঠিক চিরুনি বাছাই করছেন তো? চুলের যত্নে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চিরুনি। কিন্তু আমরা সবাই চিরুনি কেনার সময় সবাই সঠিক চিরুনি যাচাই বাছাই করি না। এক্ষেত্রে আমাদের দৈন্দদিনের ব্যবহৃত চিরুনিটিই কিন্তু হতে পারে আমাদের চুলের ক্ষতির কারণ। আজ আমরা চুলের যত্নে সঠিক চিরুনি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

চুলের যত্নে কোন ধরণের চিরুনির কী কাজ

চুলের যত্নে কোন ধরণের চিরুনির কী কাজ?

আপনি যখন চিরুনি কিনতে যান, বাজারে নানা প্রকারের চিরুনি পাবেন। চুলের ধরণ অনুযায়ী একেকটির কাজ একেক রকম। কোন চিরুনির কাজ কী সেটা না জানলে কোন চিরুনিটি আপনার জন্য সঠিক এটি আপনি জানতে পারবেন না এবং মনের অজান্তেই নিজের চুলের ক্ষতি করবেন। তাহলে চলুন জেনে নিই বাজারে পাওয়া যায় এমন কয়েকটি কম্ব এবং এগুলোর কাজ নিয়ে-

ডিট্যাঙ্গলিং ব্রাশ

ডিট্যাঙ্গলিং ব্রাশ (Detangling Brush)

দিনে একবার হলেও ভালোভাবে চুল আঁচড়ানো উচিত। আর প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য ডিট্যাঙ্গলিং ব্রাশ খুবই ভালো একটি অপশন। ডিট্যাঙ্গলিং ব্রাশ ব্যবহারের ফলে,

  • হেয়ার ফলিকলস উদ্দাপিত হয়।
  • আমাদের স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়।
  • জট বেঁধে যাওয়ায় আশঙ্কা থাকে না।
  • যাদের চুলে খুব সহজেই জট বেঁধে যায়, তাদের চুলের যত্নে এই ব্রাশ বা কম্বটি একটি লাইফ সেভার সিলেকশন।
  • এছাড়াও এই ব্রাশ চুলের কোন প্রকার ড্যামেজ করবে না এবং চুলক রাখবে হেলদি।

ওয়াইড টুথ কম্ব

ওয়াইড টুথ কম্ব (Wide Tooth Comb)

নাম না জানলেও, এই চিরুনি আমরা কম বেশি সবাই ব্যবহার করে থাকি। বিশেষ করে যাদের চুল লম্বা এবং ঘন, তাদের জন্য এটি একটি মাস্ট হ্যাভ হেয়ার কম্ব।

  • যাদের কার্লি হেয়ার, তাদের চুলকে প্রোপারলি মেইনটেন করতে এবং চুলের শেইপ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • এই চিরুনি খুব দ্রুত চুলের জট ছাড়াতে সহায়তা করে।
  • অতিরিক্ত হেয়ার ফল হওয়া থেকে চুলকে রক্ষা করে।

বাজারে সাধারণত দুই ধরণের ওয়াইড টুথ কম্ব পাওয়া যায়।

  1. কাঠের ওয়াইড টুথ কম্ব এবং
  2. প্লাস্টিকের ওয়াইড টুথ কম্ব।

তবে জানা রাখো ভালো, প্লাস্টিক ওয়াইড টুথ কম্ব সস্তা হলেও চুলের যত্নে কঠোর প্লাস্টিক ওয়াইড টুথ কম্বের অনেক বেশি সুবিধা আছে।

রেক কম্ব

রেক কম্ব (Rake comb)

রেক কম্ব দেখতে অনেকটাই ওয়াইড টুথ কম্বের মতো, তবে তুলনামুলকভাবে এই কম্ব এর দাঁতের মাঝামাঝি গ্যাপ একটু কম।

  • যাদের চুল অনেক বেশি পাতলা, তারা হেয়ার কেয়ারে ওয়াইড টুথ কম্বের পরিবর্তে রেক কম্ব সিলেক্ট করতে পারেন।
  • অতিরিক্ত চুল পড়া রোধ করে এবং
  • এই কম্ব কোন রকম ড্যামেজ ছাড়া চুলের জট কমিয়ে আনতে দারুণ সাহায্য করবে।

প্যাডেল ব্রাশ

প্যাডেল ব্রাশ (Paddle Brush)

প্যান্ডেল ব্রাশ অনেকটাই আয়তাকার বা চারকোণা হয়ে থাকে। যাদের চুল অনেক বেশি ঘন বা মাঝারি এবং লম্বা তাদের জন্য এই কম্ব বেশ ভালো একটি চয়েজ।

  • চুলকে সেট রাখার পাশাপাশি স্ট্রেইট রাখতে সাহায্য করে।
  • অনেক লম্বা সময়ের জন্য চুলকে সেট রাখে।
  • এই কম্ব ব্যবহারে স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
  • চুলের জট ছাড়াবার পাশাপাশি হেলদি রাখে।

ফাইন টুথ কম্ব

ফাইন টুথ কম্ব (Fine Tooth Comb) 

এবার আমরা জানবো ফাইন টুথ কম্ব সম্পর্কে। এই ধরণের কম্বের  দাঁত ও দাঁতগুলোর মাঝে গ্যাপ দুটোই অনেক বেশি চিকন এবং সরু।

  • যাদের চুল অনেক সিল্কি মূলত তাদের জন্য এই ধরণের কম্ব ব্যবহার করা হয়।
  • চুলের জট ছাড়ানো পরও চুলে একটা রাফ ভাব থেকে যায়। সেই রাফ ভাব কাটিয়ে চুলকে সফট এবং স্মুথ করতে সাহায্য করে।
  • যারা নিজেরাই নিজেদের হেয়ার স্টাইল করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি ক্যারি করা মাস্ট।

র‍্যাট টেইল কম্ব

র‍্যা টেইল কম্ব (Rat Tail Comb)

সাধারণত র‍্যাট টেইল কম্বে দুটি পাট হয়ে থাকে। এই দুটি পাটের কাজও কিন্তু আলাদা আলাদা।

  • উপরের পাটটি ফাইন টুথ কম্ব এর মতোই চুলের বিভিন্ন রকমের স্টাইল করতে সাহায্য করে।
  • নিচের পাটটি বিভিন্ন দিকে পাটিশন বা ডিভাইড করতে সাহায্য করে।
  • এর ফলে, এমন একটি কম্ব দিয়েই অনেক রকমের স্টাইল করা যায়।

টিজিং কম্ব

টিজিং কম্ব (Teasing Comb)

টিজিং কম্ব দেখতে অনেকটাই র‍্যাট টেইল কম্ব এর মত। টিজিং কম্বেও দুটি পাট থাকে।

  • উপরের পাটটি মূলত চুলের ফ্রিজি ভাব কমিয়ে স্টাইলিশ্লুক দেয়।
  • চুলকে পাফিনেস এবং ফ্লাফি দিতে দারুন কার্যকরী।
  • নিজের পাটটি চুলের বিভিন্ন দিকে পাটিশন বা ডিভাইড করতে সাহায্য করে।
  • চুল পাতলা হোক কিংবা লম্বা, যে কোন ধরণের চুলে হেয়ার স্টাইল করতে সাহায্য করবে।

রাউন্ড ব্রাশ (Round Brush)

রাউন্ড ব্রাশ (Round Brush)

এবার আমরা কথা বলবো রাউন্ড ব্রাশ নিয়ে। কম বেশি আমাদের সবার কাছেই এই কম্ব/ ব্রাশ থাকে।

  • ব্লো-ডাই করার জন্য এই কম্ব বেষ্ট।
  • বিভিন্ন ধরনের স্টাইলের পাশাপাশি চুলকে লম্বা সময়ের জন্য সেট রাখতে এই কম্ব ব্যবহার করা হয়।

গুলো চিরুনি ছাড়াও আরও কয়েক রকমের চিরুনি পাওয়া যায়। এর মধ্যে কয়েকটি হলো- পিন ব্রাশ, প্যাডল ব্রাশ, কুইল ব্রাশ, চওড়া- দাঁতযুক্ত চিরুনি, বোর ব্রিলস ব্রাশ ও নরমাল কম্ব।

স্ক্যাল্প ও চুলের যত্নে কাঠের চিরুনি

স্ক্যাল্প ও চুলের যত্নে কাঠের চিরুনি

চিরুনি হলো সাজগোছের অতি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। নারীর সৌন্দর্য বিন্যাসে উপযুক্ত একটি ব্রাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের ব্যবহৃত ব্রাশটি হওয়া উচিত আপনার চুলবান্ধব। তা না হলে আপনার চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে আপনার ব্যবহৃত ব্রাশটি।

তবে চুল ভালো রাখতে কাঠের চিরুনি ব্যবহার করুন। কাঠের ব্রাশ ব্যবহারের বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। জেনে নিন সেগুলো:

  • কাঠের ব্রাশ ক্যাল্পে  থাকা প্রাকৃতিক তেল ঠিকঠাক ভাবে ছড়িয়ে দিতে পারে। ফলে চুল থাকে মসৃণ ও মোলায়েম।
  • মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কাঠের ব্রাশ। এতে চুলের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
  • প্লাস্টিকের ব্রাশ দিয়ে চুল আঁচড়ানোর সময় যে তাপ উৎপন্ন হয় তা চুলের জন্য ক্ষতিকর। এতে চুল ভেঙ্গে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। তবে কাঠের চিরুনিতে কোনো ভয় নেই।
  • নিয়মিত কাঠের ব্রাশ ব্যবহার করলে খুশকি বা মৃত কোষ জমার আশংকা কমে যায়।
  • নিয়মিত কাঠের ব্রাশ ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে লুকিয়ে থাকা ময়লা বেরিয়ে আসে।

চুলের যত্নে সঠিক ব্রাশ কেন বাছাই করবেন, সেটা এতক্ষণে জেনে নিয়েছেন। আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনিও আপনার চুলের যত্নে সঠিক চিরুনি বাছাই করতে পারবেন।

কাঠের চিরুনি সম্পর্কে আরও জানতেঃ- ভিজিট করুন

Author

More Reading

Post navigation

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *